আয়তনে দ্বিগুণ হচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন সাড়ে ২৬ থেকে বেড়ে হবে ৬০ বর্গ কিলোমিটার, ওয়ার্ড ৫২
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট সিটি করেপারেশন সম্প্রসারণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। গত সোমবার দুপুরে নিকারের বৈঠকে সিসিক সম্প্রসারণ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২৬ দশমিক ৫ বর্গ কিলোমটারের এই সিটি করপোরেশন নতুন আয়তন হবে প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমান ২৭টি ওয়ার্ড বেড়ে দাঁড়াবে ৫২টি ওয়ার্ডে। সোমবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি বৈঠকটি হয়।
এসময় গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যরা যুক্ত হন সচিবালয় থেকে। আয়তনের দিক দিয়ে দেশের অন্যতম ছোট সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ২৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরকে ২০১৪ সালে সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেয় সিসিক। নগরের বর্তমান আকারের প্রায় ছয় গুণ আয়তন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে। তবে দীর্ঘদিন আটকে ছিল এ প্রস্তাবনা। এ অবস্থায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিটি করপোরেশন সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন নগরের আয়তন বাড়ানোর প্রস্তাবে একাত্মতা পোষণ করেন। এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনাও দেন তিনি। ওই বৈঠকের পর সিটি করপোরেশন সম্প্রসারণের উদ্যোগে গতি পায়। যা গতকাল সোমবার অনুমোদন পেল।
সরকারি অনুমোদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, আমরা যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম তা অনুমোদন হয়েছে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ওয়ার্ড বিভক্ত করা হবে। এরপর গেজেট হবে। গত বছরের আগস্ট মাসে সিটি কর্পোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকার তালিকা প্রকাশ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন থেকে জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে- সিলেট সদর উপজেলার চারটি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বেশ কিছু মৌজা। তন্মধ্যে রয়েছে- সিলেট সদর উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও, মইয়ার চর (দাগ নম্বর ৭৭, ৮২, ৮৩, ৮৯, ৯০, ৯১ ছাড়া), খুরুমখলা শাহপুর, আখালিয়া, খাদিমনগর ইউনিয়নের কুমারগাঁও, খাদিমপাড়া ইউনিয়নের সাদিপুর প্রথম খন্ড, টিলাগড়, দেবপুর, কসবা কুইটুক, সুলতানপুর চক, পেশনেওয়াজ, টুলটিকর ইউনিয়নের সাদিপুর প্রথম খন্ড, টিলাগড় ও দেবপুর। দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের হবিনন্দি, মণিপুর, আলমপুর, গোটাটিকর, বরইকান্দি ইউনিয়নের পিরিজপুর, ধরাধরপুর, বরইকান্দি, গোধরাইল এবং তেতলী ইউনিয়নের ধরাধরপুর, বরইকান্দি (অবশিষ্টাংশ), বলদী (কয়েকটি দাগ) মৌজাগুলো নতুন করে সিলেট সিটির অন্তহর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়। নতুন আওতাভুক্ত অধিকাংশ এলাকা নিয়ে কারও কোনো আপত্তি না থাকায় সিটি এলাকা বর্ধিত করার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য উপস্থাপন করা হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ১৮৭৮ সালে পৌনে দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল সিলেট পৌরসভা। ২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে পরিধি বাড়ে। তখন ২৬ দশমিক ৫০ বর্গ কিলোমিটার করা হয় সিটি করপোরেশনের আয়তন। সিটি করপোরেশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর সিসিক সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা অনেক আগেই সিসিকের আয়তন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এতদিন তা আটকে ছিল। এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্যোগ নেওয়ায় তা দ্রæত বাস্তবায়ন হচ্ছে। আয়তন বাড়লে রাজস্ব, বরাদ্ধ এবং উন্নয়ন কর্মকাÐ সবই বাড়বে।
২৪ঘণ্টা/রাসেল


আপনার মতামত লিখুন