সিলেটে একদিনে করোনা শনাক্ত আরও ৮৫৩ : ১৪ জনের মৃত্যু
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে বেড়ে যাওয়া রোগীদের চাপে। বর্তমানে সিলেটে করোনা হাসপাতালগুলোতে রোগী রাখা আর জায়গা নেই, খালি নেই আইসিইউ শয্যা। এই অবস্থায় সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ৭০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে।
সেই সাথে করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে যুক্ত হয়েছে আরও ১০টি আইসিইউ। এদিকে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিলেট বিভাগে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে বিভাগে মৃত্যুবরণ করা মোট রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। একইদিনে বিভাগে নতুন করে আরও ৮৫৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। বিভাগে মোট করোনা প্রমাণিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৪১ হাজার ৩০৫ জনে। সিলেটে বিভাগে গতকাল সোমবার দৈনিক শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। যার ৪৬ দশমিক ৪১ শতাংশ সিলেট জেলায়, সুনামগঞ্জ ৩৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ ও মৌলভীবাজারে ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সিলেটে করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় আইসিইউর জন্য হাহাকার করছেন রোগীর স্বজনরা। গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে স্বজনরা নগরের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন। গত ২ সপ্তাহ ধরে সিলেটে বেড়েছে বিভাগের চার জেলা-উপজেলাগুলো খেকে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের সংখ্যা। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগী নিয়ে ছুটছেন এরকম ঘটনা ঘটছে অহরহ। কেউ কেউ আবার চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে ফিরে যাচ্ছেন বাসা-বাড়িতে। একই সাথে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ বেড়েছে সরকারি-বেসসরকারি হাসপাতালগুলোতে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার থেকে পাঁচগুণ বেশি রোগী হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন। বেশিরভাগ রোগীরই প্রয়োজন হচ্ছে আইসিইউ সেবা, যা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে। এবার ৪২ থেকে ৫২ শতাংশ করোনা রোগীর ক্ষেত্রেই প্রয়োজন পড়ছে অক্সিজেন সাপোর্ট।স্বাস্থ্য সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান- গতকাল সকাল থেকে এসব শয্যায় রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে। ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় কোভিড-১৯ সংক্রমিতদের চিকিৎসা দিয়ে আসা হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একইসাথে আগে এ হাসপাতালে করোনার জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮ তে উন্নিত করা হয়েছে। এসব শয্যা ও আইসিইউ বাড়ানোর ফলে করোনাক্রান্ত চিকিৎসায় ওসমানীর সক্ষমতা বেড়েছে।
২৪ঘণ্টা/রাসেল


আপনার মতামত লিখুন