খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘কর্মক্ষেত্রে ঈর্ষা অপেশাদার আচরণ’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
‘কর্মক্ষেত্রে ঈর্ষা অপেশাদার আচরণ’

কেবলমাত্র সরকার কতৃক অনুমতিপ্রাপ্ত সংবাদপত্র আর টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে কর্মরতরাই সাংবাদিক। তাঁরাই চরিত্রবান। আর আইপি টিভি কিংবা অনলাইন সংবাদপত্রগুলোই ভুঁইফোঁড় কথাটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত তার মানদন্ডে এখন যাবো না। তবে দেশের যেকোনো গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, যেই সংবাদ মাধ্যমেই হোক মানুষ বিব্রতবোধ করে এমন সংবাদ প্রকাশ কিংবা প্রচার থেকে বিরত থাকুন। শুধু ভিত্তিহীন, আক্রমণাত্নক, মিথ্যা সংবাদ উপস্থাপন বা পরিবেশন করে অনাকাঙ্ক্ষিত আর অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবেন না। অনৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সুতরাং একজন সংবাদকর্মী তার নিজের সংবাদ পরিবেশন করার আগে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত, সংবাদটি নীতিনৈতিকতায় কতটুকু নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। সেটি আগে নিজে যাচাই করুন, তারপর গণমাধ্যমে প্রচার করুন।

আমার সৌভাগ্যই বলা চলে, সাংবাদিকতায় তিনটি সেক্টরে (প্রিন্ট লাইন, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়া) কাজ করার খুব সামান্যতম হলেও অভিজ্ঞতা আছে। আজকাল দেখি আমার কিছু সংবাদকর্মীবন্ধু, সহযোদ্ধা-সহকর্মী নিজের চরকায় তেল না দিয়ে অনলাইন সাংবাদিকতা নিয়ে চুলকানি শুরু করেছেন। আমি মনে করি, যা ব্যাক্তিগত ঈর্ষার প্রতিফলন। নয়তো কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

তাছাড়া কিছু কিছু প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক অপেশাদার হয়েও নিজে পেশাদার সাংবাদিক দাবি করে আজকাল নিজেকে অনেক ক্ষমতাধর ভাবেন। কোন সভা-সমাবেশ, সেমিনারে অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরতদের দেখলে তাঁদের চুলকানির মাত্রা বেড়ে যায়। তাদের স্বভাব চরিত্রে এমন ভাব প্রকাশ পায় যেন, কোন বাহিনী কিংবা সরকারি উচ্চ পর্যায় থেকে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন।

আবার কেউ কেউ অনলাইন মিডিয়া নিয়ে ‘সুড়সুড়ির কনটেন্ট’ বানিয়ে নিজেদের সাধু সাজানোর চেষ্টায় মত্ত রয়েছেন। আসলেই কি তা! সম্প্রতি সে ধরণের একটি তথাকথিত সুড়সুড়ির কনটেন্ট নিয়ে চট্টগ্রামের মিডিয়া পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলতে শোনা যায়। যেখানে বলা হয়, অনলাইন সংবাদপত্র ভুঁইফোঁড় আর সেখানে কর্মরত সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ! আর দেশের সকল স্যাটেলাইট চ্যানেল বৈধ আর সুষ্ঠু সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। হাস্যকর ব্যাখ্যাটি হার মানিয়েছে অভিনেতা হিরো আলমের বানানো কনটেন্টকেও।

তবে হ্যাঁ, মানুষ হাসানো হলেও ‘সাধু সাবধান’। মূলতঃ সাংবাদিকতায় যারা সুড়সুড়ির কনটেন্ট বানিয়ে প্রচার করে তারা নিজেরা কতটুকু স্বচ্ছতা এবং নীতিনৈতিকতা ধরে রাখতে পারছেন তা চিন্তা করে দেখুন। ‘সুড়সুড়ির’ কনটেন্ট কিংবা ক্লিক-বেইট জার্নালিজমের আওতায় নিজের মনগড়া করা রিপোর্টটি পড়ছে কি-না!

অনলাইন সাংবাদিকতায় যাদের সুড়সুড়ি আছে তারা আসুন, আপনাদের অন্ধত্ব, বধিরত্ব থেকে টেনে এনে আলো এবং সম্ভাবনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। দৈনিক ‘প্রথম আলোর’ সাথে দৈনিক নামসর্বস্ব পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির সাথে নামসর্বস্ব আরেকটি বেসরকারি টেলিভিশনের তুলনা করতে পারেন না। আবার দুটি পত্রিকা কিংবা টিভি চ্যানেলই বৈধ, এবং সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত। তেমনটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও রয়েছে। যার জন্য নীতিমালা তৈরি করে সরকার ক্রমান্বয়ে অনলাইন সংবাদপত্রের অনুমোদন প্রদান করে আসছেন। কেউ অস্বীকার করতে পারবে না, দেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পাঠক দিন দিন বাড়ছে। ইন্টারঅ্যাকটিভিটির সহায়তায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খবর, ফিচার ও পাঠ্য বিষয় যখন অডিও এবং ভিডিও আকারে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে আমরা অনলাইন বা ডিজিটাল সাংবাদিকতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করি। অনলাইন সংবাদপত্র ট্র্যাডিশনাল সংবাদপত্রের মতো সংবাদের সাথে ফিচার, ছবি, অডিও, ভিডিও প্রকাশ করে এবং যে কেউ লেখা বা মতামত পাঠাতে চাইলে পাঠক সহজেই তার মতামত জানাতে পারেন। ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি বস্তুত অনলাইন সাংবাদিকতার ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল। অর্থাৎ ইন্টারনেটের ভূমিকা স্রেফ হকারের ভূমিকা মাত্র। সংবাদপত্রের জন্য যেমন হকার রয়েছে, টেলিভিশনের জন্য রয়েছে কেবল অপারেটর। তেমনি অনলাইন সংবাদপত্রের জন্য রয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার।

বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালে। দেশের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ২৪.কম। বিশিষ্ট সাংবাদিক আলমগীর হোসেন ছিলেন এর প্রধান সম্পাদক ও অন্যতম উদ্যোক্তা। আধুনিক এই যুগে পৃথিবীর যে প্রান্তেই ঘটনা ঘটুক না কেন, তা মুহূর্তের মধ্যে আমাদের নাগালে চলে আসছে। সেই খবর তখনই পাঠকের জন্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে অনলাইন পত্রিকা, আরও নির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয়, অনলাইন সাংবাদিকতা। আর সরকার যখন ধাপে ধাপে সেই ডিজিটাল বাংলাদেশে উন্নতি হচ্ছে তখনি সংবাদ মাধ্যমে ঘাপটি মারা একটি চক্র তা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের তথাকথিত চরিত্রে ফুটে উঠেছে মৌলবাদের আসল লেবাস। তারা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নমুখী কাজে বাঁধাগ্রস্থ করছে। অথচ ইন্টারনেট ও তথ্য-প্রযুক্তিতে জনগণের প্রবেশাধিকার এবং ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে।

২০১০ সাল নাগাদ শেখ হাসিনার সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহার মেনে নিজেকে ডিজিটাল সরকার ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য গনমাধ্যমের মতো অনলাইন সংবাদপত্রেরও নীতিমালা তৈরি করে অনুমোদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন।

আমার জানা মতে, বিডিনিউজ২৪.কম-এর ধারাবাহিকতায় দেশে একের পর এক এলো সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক নিউজপোর্টাল। এসেছে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, বাংলাট্রিবিউন.কম, সারাবাংলা.কম সহ অসংখ্য অনলাইন সংবাদমাধ্যম। আর দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলোর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, সমকাল, সংবাদ, চট্টগ্রাম এর প্রথম সারির দৈনিক আজাদী, দৈনিক পু্র্বকোন সব সংবাদপত্রেরই রয়েছে অনলাইন ভার্সন। এখন দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলেরও অনলাইন ভার্সন রয়েছে। এসব দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন ভার্সনের অনুমোদন কখন পেয়েছে জানেন? কিন্তু তার আগে কি তারা তাদের অনলাইনে পোর্টালে সংবাদ কিংবা ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করেননি?

সাংবাদিকতার চর্চা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই বেশি হচ্ছে। আমাদের আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। অনলাইন সংবাদমাধ্যমেই আসছে ভরসা। তবুও বলতে হয়, আমরা যে যেখানে থাকি (প্রিন্ট, ইলেক্টনিক ও অনলাইন মিডিয়া) সে সেখানকারই লোক হই, কিংবা হয়ে যাই। এসবে দোষের কিছু নেই। কিন্তু আমাদের আরেকটি স্বভাব খুব করে রয়েছে, অন্যের দোষ-ত্রুটি খুঁজতে নিজেকে ব্যস্ত রাখি। একটু কঠোর ভাষায় বলতে গেলে ছিদ্রান্বেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে যখন আমরা জ্ঞান রাখি না তখনই ওইসব প্রতিক্রিয়াশীল শব্দ প্রয়োগ করে নিজেকে খুব জাহির করার চেষ্টা করি। নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে অন্যকে হেয় করতেও দ্বিধা করি না। এতে নিজের দৈন্যই স্পষ্ট হয়। নানা কারণে সমাজে অগ্রসর বলে সমাদৃত, তারা যখন মিডিয়া সাক্ষরতার জ্ঞানহীনতায় ভোগেন, তখন হতাশা তৈরি হয়। মনে রাখতে হবে- অনলাইন সংবাদপত্রকে খাটো করে দেখা কোনো কাজের কথা নয়। এখানেও সাংবাদিকতার চর্চা চলে, সাংবাদিকতার সব নীতি-নৈতিকতা মেনেই চলে। কেবল মাধ্যমটি ভিন্ন। বর্তমান বিশ্বে অনলাইন সাংবাদিকতা সবচেয়ে স্মার্ট পেশা। তাই বলে কর্মক্ষেত্রে ঈর্ষা একটি অপেশাদার আচরণ বলে মনে করি।

ফেরদৌস শিপন
সম্পাদক, বাংলাধারা ডটকম।

Feb2

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
৬ উইকেটের জয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই সিরিজ হার ঠেকাতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিকদের। মিরপুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কোনো ভুল করলেন না মেহেদী হাসান মিরাজরা। নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৯৮ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। জবাবে ৮৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই চার হাঁকান বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসান। একই ওভারে আরও একটি চার মারেন তিনি। কিন্তু ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। নিজের খেলা প্রথম বলেই দুই রান নেন সৌম্য। এরপর দেখে-শুনে খেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিলো সৌম্যর ব্যাট। কিন্তু ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাঁকান এক দুর্দান্ত ছক্কা। একই ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন সৌম্য। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

তৃতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাকে নিয়েই দলীয় স্কোর বড় করতে থাকেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। দুজন মিলে গড়েন ১২০ রানের জুটি। তাতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এই দুই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পান। তবে জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি দুজনের কেউই।

জেইডেন লেনক্সের করা বলে কটবিহাইন্ড হওয়ার আগে ৭৬ রান করেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে খেলা ইনিংসটি ১০টি চার ও চারটি ছয়ে সাজানো। শান্ত অবশ্য আউট হননি। রিটায়ার্ট হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই বাঁহাতি ব্যাটার। ৭১ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৫০ রান করেন তিনি।

এর আগে মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেয় বাংলাদেশ। দুটি উইকেটই নেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে হেনরি নিকোলসকে ১৩ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাংলাদেশি পেসার। পরের ওভারেও প্রথম বলে তিনি উইল ইয়াংকে (৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান তিনি। পরে সৌম্য সরকার তুলে নেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেট। ৩৫ বলে ১৪ রান করেন তিনি।

৫২ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের ওপেনার নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে ফিফটি করেন কেলি। আব্বাসকে ১৯ রানে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ। উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি সেঞ্চুরির বেশ কাছে গিয়েও ব্যর্থ হন। শরিফুল ইসলাম তাকে ৮৩ রানে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান। কিউই ওপেনারের ১০২ বলের ইনিংসে ছিল ১৪ চার।

সেট ব্যাটার আউট হওয়ার পর ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন। জশ ক্লার্কসনকে আউট করেন রিশাদ হোসেন। আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ডিন ফক্সক্রফট ১৫ রান করে নাহিদের শিকার হন। ব্লেয়ার টিকনারকে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ বানান শরিফুল।

নিজের শেষ ওভারে নাহিদ পঞ্চম উইকেট তুলে নেন। জেইডেন লেনক্স খালি হাতে ফেরেন বাংলাদেশি পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট তোলার পর নিউজিল্যান্ডকে দুইশর মধ্যে আটকানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কাভারে নাথান স্মিথের কঠিন ক্যাচ নিতে না পারার প্রায়শ্চিত্ত কিছুক্ষণ পরই করেন তাওহীদ হৃদয়। তাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তিনি। ৪৮.৪ ওভারে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।