খুঁজুন
, ,

‘কর্মক্ষেত্রে ঈর্ষা অপেশাদার আচরণ’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 8 August, 2021, 9:56 pm
‘কর্মক্ষেত্রে ঈর্ষা অপেশাদার আচরণ’

কেবলমাত্র সরকার কতৃক অনুমতিপ্রাপ্ত সংবাদপত্র আর টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে কর্মরতরাই সাংবাদিক। তাঁরাই চরিত্রবান। আর আইপি টিভি কিংবা অনলাইন সংবাদপত্রগুলোই ভুঁইফোঁড় কথাটি কতটুকু যুক্তিযুক্ত তার মানদন্ডে এখন যাবো না। তবে দেশের যেকোনো গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, যেই সংবাদ মাধ্যমেই হোক মানুষ বিব্রতবোধ করে এমন সংবাদ প্রকাশ কিংবা প্রচার থেকে বিরত থাকুন। শুধু ভিত্তিহীন, আক্রমণাত্নক, মিথ্যা সংবাদ উপস্থাপন বা পরিবেশন করে অনাকাঙ্ক্ষিত আর অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবেন না। অনৈতিক সাংবাদিকতার চর্চা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সুতরাং একজন সংবাদকর্মী তার নিজের সংবাদ পরিবেশন করার আগে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত, সংবাদটি নীতিনৈতিকতায় কতটুকু নির্ভরযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। সেটি আগে নিজে যাচাই করুন, তারপর গণমাধ্যমে প্রচার করুন।

আমার সৌভাগ্যই বলা চলে, সাংবাদিকতায় তিনটি সেক্টরে (প্রিন্ট লাইন, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়া) কাজ করার খুব সামান্যতম হলেও অভিজ্ঞতা আছে। আজকাল দেখি আমার কিছু সংবাদকর্মীবন্ধু, সহযোদ্ধা-সহকর্মী নিজের চরকায় তেল না দিয়ে অনলাইন সাংবাদিকতা নিয়ে চুলকানি শুরু করেছেন। আমি মনে করি, যা ব্যাক্তিগত ঈর্ষার প্রতিফলন। নয়তো কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

তাছাড়া কিছু কিছু প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক অপেশাদার হয়েও নিজে পেশাদার সাংবাদিক দাবি করে আজকাল নিজেকে অনেক ক্ষমতাধর ভাবেন। কোন সভা-সমাবেশ, সেমিনারে অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরতদের দেখলে তাঁদের চুলকানির মাত্রা বেড়ে যায়। তাদের স্বভাব চরিত্রে এমন ভাব প্রকাশ পায় যেন, কোন বাহিনী কিংবা সরকারি উচ্চ পর্যায় থেকে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন।

আবার কেউ কেউ অনলাইন মিডিয়া নিয়ে ‘সুড়সুড়ির কনটেন্ট’ বানিয়ে নিজেদের সাধু সাজানোর চেষ্টায় মত্ত রয়েছেন। আসলেই কি তা! সম্প্রতি সে ধরণের একটি তথাকথিত সুড়সুড়ির কনটেন্ট নিয়ে চট্টগ্রামের মিডিয়া পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলতে শোনা যায়। যেখানে বলা হয়, অনলাইন সংবাদপত্র ভুঁইফোঁড় আর সেখানে কর্মরত সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ! আর দেশের সকল স্যাটেলাইট চ্যানেল বৈধ আর সুষ্ঠু সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। হাস্যকর ব্যাখ্যাটি হার মানিয়েছে অভিনেতা হিরো আলমের বানানো কনটেন্টকেও।

তবে হ্যাঁ, মানুষ হাসানো হলেও ‘সাধু সাবধান’। মূলতঃ সাংবাদিকতায় যারা সুড়সুড়ির কনটেন্ট বানিয়ে প্রচার করে তারা নিজেরা কতটুকু স্বচ্ছতা এবং নীতিনৈতিকতা ধরে রাখতে পারছেন তা চিন্তা করে দেখুন। ‘সুড়সুড়ির’ কনটেন্ট কিংবা ক্লিক-বেইট জার্নালিজমের আওতায় নিজের মনগড়া করা রিপোর্টটি পড়ছে কি-না!

অনলাইন সাংবাদিকতায় যাদের সুড়সুড়ি আছে তারা আসুন, আপনাদের অন্ধত্ব, বধিরত্ব থেকে টেনে এনে আলো এবং সম্ভাবনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। দৈনিক ‘প্রথম আলোর’ সাথে দৈনিক নামসর্বস্ব পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির সাথে নামসর্বস্ব আরেকটি বেসরকারি টেলিভিশনের তুলনা করতে পারেন না। আবার দুটি পত্রিকা কিংবা টিভি চ্যানেলই বৈধ, এবং সরকারি অনুমোদন প্রাপ্ত। তেমনটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমেও রয়েছে। যার জন্য নীতিমালা তৈরি করে সরকার ক্রমান্বয়ে অনলাইন সংবাদপত্রের অনুমোদন প্রদান করে আসছেন। কেউ অস্বীকার করতে পারবে না, দেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের পাঠক দিন দিন বাড়ছে। ইন্টারঅ্যাকটিভিটির সহায়তায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খবর, ফিচার ও পাঠ্য বিষয় যখন অডিও এবং ভিডিও আকারে প্রকাশ করা হয় তখন তাকে আমরা অনলাইন বা ডিজিটাল সাংবাদিকতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করি। অনলাইন সংবাদপত্র ট্র্যাডিশনাল সংবাদপত্রের মতো সংবাদের সাথে ফিচার, ছবি, অডিও, ভিডিও প্রকাশ করে এবং যে কেউ লেখা বা মতামত পাঠাতে চাইলে পাঠক সহজেই তার মতামত জানাতে পারেন। ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি বস্তুত অনলাইন সাংবাদিকতার ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল। অর্থাৎ ইন্টারনেটের ভূমিকা স্রেফ হকারের ভূমিকা মাত্র। সংবাদপত্রের জন্য যেমন হকার রয়েছে, টেলিভিশনের জন্য রয়েছে কেবল অপারেটর। তেমনি অনলাইন সংবাদপত্রের জন্য রয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার।

বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালে। দেশের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ২৪.কম। বিশিষ্ট সাংবাদিক আলমগীর হোসেন ছিলেন এর প্রধান সম্পাদক ও অন্যতম উদ্যোক্তা। আধুনিক এই যুগে পৃথিবীর যে প্রান্তেই ঘটনা ঘটুক না কেন, তা মুহূর্তের মধ্যে আমাদের নাগালে চলে আসছে। সেই খবর তখনই পাঠকের জন্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে অনলাইন পত্রিকা, আরও নির্দিষ্ট করে বললে বলতে হয়, অনলাইন সাংবাদিকতা। আর সরকার যখন ধাপে ধাপে সেই ডিজিটাল বাংলাদেশে উন্নতি হচ্ছে তখনি সংবাদ মাধ্যমে ঘাপটি মারা একটি চক্র তা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের তথাকথিত চরিত্রে ফুটে উঠেছে মৌলবাদের আসল লেবাস। তারা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নমুখী কাজে বাঁধাগ্রস্থ করছে। অথচ ইন্টারনেট ও তথ্য-প্রযুক্তিতে জনগণের প্রবেশাধিকার এবং ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে।

২০১০ সাল নাগাদ শেখ হাসিনার সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহার মেনে নিজেকে ডিজিটাল সরকার ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য গনমাধ্যমের মতো অনলাইন সংবাদপত্রেরও নীতিমালা তৈরি করে অনুমোদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন।

আমার জানা মতে, বিডিনিউজ২৪.কম-এর ধারাবাহিকতায় দেশে একের পর এক এলো সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক নিউজপোর্টাল। এসেছে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম, বাংলাট্রিবিউন.কম, সারাবাংলা.কম সহ অসংখ্য অনলাইন সংবাদমাধ্যম। আর দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলোর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, জনকণ্ঠ, ইত্তেফাক, সমকাল, সংবাদ, চট্টগ্রাম এর প্রথম সারির দৈনিক আজাদী, দৈনিক পু্র্বকোন সব সংবাদপত্রেরই রয়েছে অনলাইন ভার্সন। এখন দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলেরও অনলাইন ভার্সন রয়েছে। এসব দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন ভার্সনের অনুমোদন কখন পেয়েছে জানেন? কিন্তু তার আগে কি তারা তাদের অনলাইনে পোর্টালে সংবাদ কিংবা ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করেননি?

সাংবাদিকতার চর্চা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই বেশি হচ্ছে। আমাদের আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। অনলাইন সংবাদমাধ্যমেই আসছে ভরসা। তবুও বলতে হয়, আমরা যে যেখানে থাকি (প্রিন্ট, ইলেক্টনিক ও অনলাইন মিডিয়া) সে সেখানকারই লোক হই, কিংবা হয়ে যাই। এসবে দোষের কিছু নেই। কিন্তু আমাদের আরেকটি স্বভাব খুব করে রয়েছে, অন্যের দোষ-ত্রুটি খুঁজতে নিজেকে ব্যস্ত রাখি। একটু কঠোর ভাষায় বলতে গেলে ছিদ্রান্বেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে যখন আমরা জ্ঞান রাখি না তখনই ওইসব প্রতিক্রিয়াশীল শব্দ প্রয়োগ করে নিজেকে খুব জাহির করার চেষ্টা করি। নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে অন্যকে হেয় করতেও দ্বিধা করি না। এতে নিজের দৈন্যই স্পষ্ট হয়। নানা কারণে সমাজে অগ্রসর বলে সমাদৃত, তারা যখন মিডিয়া সাক্ষরতার জ্ঞানহীনতায় ভোগেন, তখন হতাশা তৈরি হয়। মনে রাখতে হবে- অনলাইন সংবাদপত্রকে খাটো করে দেখা কোনো কাজের কথা নয়। এখানেও সাংবাদিকতার চর্চা চলে, সাংবাদিকতার সব নীতি-নৈতিকতা মেনেই চলে। কেবল মাধ্যমটি ভিন্ন। বর্তমান বিশ্বে অনলাইন সাংবাদিকতা সবচেয়ে স্মার্ট পেশা। তাই বলে কর্মক্ষেত্রে ঈর্ষা একটি অপেশাদার আচরণ বলে মনে করি।

ফেরদৌস শিপন
সম্পাদক, বাংলাধারা ডটকম।

Feb2

শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 11:08 pm
শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

“একজন শিশু যদি জন্মের পর থেকেই কারখানার তপ্ত আগুনের পাশে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়, তাহলে সে স্বপ্ন দেখতেই শেখে না। আর যে শিশু নিজেই স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজকে স্বপ্ন দেখাবে কীভাবে?”

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এভাবেই শিশুশ্রমের ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক প্রভাব তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম কেবল শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন, মানবিক বিকাশ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুশ্রম বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল—”শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।”

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কৈশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, নিরাপদ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলো এই সহায়তাকে শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আজ যে শিল্পগোষ্ঠীগুলো দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পেছনে শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রম রয়েছে। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে। তিনি জানতে চান, প্রতিষ্ঠানের যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব শ্রমিকদের জীবনেও কতটা পৌঁছেছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, দাদা-দাদি বা নানা-নানির গল্প শুনে বড় হবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। পরিবার ও সমাজে সেই পরিবেশ তৈরি না করতে পারলে শিশুশ্রম নির্মূল করাও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু একটি শিশু যদি শৈশব থেকেই কারখানা, ইটভাটা বা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে সে তার জীবনের সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে জানারই সুযোগ পাবে না। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

একটি উদাহরণ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি মাছকে যদি গাছে উঠতে বলা হয়, সে কখনোই তা পারবে না।” একইভাবে একটি শিশুকে তার বয়স ও সক্ষমতার বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ঠেলে দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের অনেক মানুষ এমন একটি জীবনযাপনের মধ্যে আটকে পড়েছেন, যেখানে সুস্থ চিন্তা করার সুযোগও তারা পান না। তাদের সামনে সুস্থ সমাজের উদাহরণ তৈরি করতে না পারলে পরিবর্তনও আসবে না। তাই শিশুশ্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘জোবায়দা’ নামে এক মেধাবী শিশুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে জোবায়দার মতো আরও অসংখ্য মেধাবী শিশু রয়েছে। কিন্তু সমাজ তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারেনি। তিনি ঘোষণা দেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোবায়দার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষদেরও এ ধরনের শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামান্য মুনাফার জন্য কোনো শিশুর শৈশব, ভবিষ্যৎ ও জীবনকে কিনে নেওয়া উচিত নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার জায়গা থেকে প্রত্যেক উদ্যোক্তার উচিত যোগ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীকেই কাজে নিয়োগ দেওয়া এবং প্রতিটি শিশুকে নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করা।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো মানুষ একা ভালো থাকতে পারে না; সমাজের সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়। মানুষের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তার শক্তিতে নয়, মানবিকতা ও বিবেকে। তাই সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত না হলে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

তিনি জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকটি খাত থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাতকে শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকেও পর্যায়ক্রমে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, বিজিএমইএ পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক, প্রত্যাশী, ইপসা, ঘাসফুল, সংসপ্তক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জেএসইউএস, কারিতাস ও কিডস কালসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অংশ নেয়।

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।