খুঁজুন
সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফোনে আড়িপাতা বন্ধে হাইকোর্টে রিট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ফোনে আড়িপাতা বন্ধে হাইকোর্টে রিট

ফোনে আড়িপাতা বন্ধ ও ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনাগুলোর তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে আজ একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের ১০ আইনজীবী আজ মঙ্গলবার এই রিটটি করেছেন। বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত একটি ভার্চুয়াল হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

আড়ি পাতা প্রতিরোধ ও ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনায় কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।

রিটকারী আইনজীবীরা হলেন- এডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান, এডভোকেট রেজওয়ানা ফেরদৌস, এডভোকেট উত্তম কুমার বনিক, এডভোকেট শাহ্ নাভিলা কাশফি, এডভোকেট ফরহাদ আহমেদ সিদ্দীকী, এডভোকেট মোহাম্মদ নওয়াব আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিল, এডভোকেট জি এম মুজাহিদুর রহমান (মুন্না), এডভোকেট ইমরুল কায়েস ও এডভোকেট একরামুল কবির।

রিট আবেদনে ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সংঘটিত ২০টি আড়িপাতার ঘটনা উল্লেখ করার পাশাপাশি রিটের পক্ষে সুনির্দিষ্ট চারটি আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। যেখানে বলা হয় : ১) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০০১ এর ৩০ (চ) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের দায়িত্ব হল নাগরিকের ‘টেলিযোগযোগের একান্ত গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু এক্ষেত্রে কমিশন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

২) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘নাগরিকের গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকার। কিন্তু কমিশন সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের বিধান প্রতিপালনে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ৩) অন্তত ২০টি ঘটনা ফাঁসের তথ্য উপস্থাপন করে কমিশনকে আইনি নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন জবাব প্রদান করেনি। ৪) টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন- ২০০১ এর ৭১ ধারা অনুযায়ী আড়িপাতা দন্ডনীয় অপরাধ। যেখানে দোষী ব্যক্তি দুই বছর কারাদন্ড অথবা অনধিক ৫ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন। অথচ আজ অবধি কমিশন স্বঃপ্রণোদিত হয়ে কারও বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করেনি।

এর আগে ফোনালাপে আড়ি পাতা প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) গৃহীত পদক্ষেপ জানতে চেয়ে গত ২২ জুন ১০ আইনজীবী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশের জবাব না পেয়ে আজ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দাখিল করা হয়।

এডভোকেট শিশির মনির বলেন, সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অধিকার সংবিধান কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে উল্লেখিত মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা সংরক্ষণ অন্যতম। ২০০১ সালের ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা হয়। বিটিআরসি আইনের ৩০ (চ) ধারা অনুসারে টেলিযোগাযোগের একান্ত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, এ ধরনের ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনা অহরহ ঘটছে। অথচ দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কমিশনের দায়িত্ব হলো, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করা। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ৭১ ধারা অনুযায়ী আড়ি পাতা দন্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে দোষী ব্যক্তি দুই বছরের কারাদন্ড অথবা অনধিক পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। অথচ কমিশন স্বঃপ্রণোদিত হয়ে কারও বিরুদ্ধে মামলা করেনি।

এন-কে

 

Feb2

নগরীকে যানজটমুক্ত করতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
নগরীকে যানজটমুক্ত করতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্ভাব্য রুট ও অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)-এর প্রতিনিধি দল।

রোববার পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল শহরের গুরুত্বপূর্ণ করিডরগুলো ঘুরে দেখে সম্ভাব্য রুট ও যাত্রী চাহিদা বিশ্লেষণ করেন। দলটি কালুরঘাট, অক্সিজেন, আমিন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (ম্যাস ট্রানজিট) ও যুগ্মসচিব আবদুল লতিফ খান, ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া (সিএমএ)’ প্রকল্পের পরিচালক ও ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ম্যাস ট্রানজিট প্ল্যানার মুহাম্মদ আবদুর রকিব, সহকারী ম্যাস ট্রানজিট ইঞ্জিনিয়ার (বিআরটি) মো. ইনজামুল হক মেহেদী, চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত এবং আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণ যেন অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে—এটাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামে যানজট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে মনোরেল একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে বলে তিনি মত দেন। তিনি জানান, মনোরেল বাংলাদেশে এখনো বাস্তবায়িত না হলেও এটি তুলনামূলকভাবে কম জায়গা ও ব্যয়ে নির্মাণযোগ্য একটি আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে অক্সিজেন–চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি গেট, আগ্রাবাদ এবং পতেঙ্গা–বিমানবন্দরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ করিডরকে সম্ভাব্য রুট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এই পরিকল্পনায় মনোরেল, মেট্রোরেল, লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি), সড়ক অবকাঠামো এবং জলপথ—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, পুরো নগরের ট্রাফিক পরিস্থিতি, যাত্রী চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ পরিবহন প্রয়োজন বিশ্লেষণ করে কোন রুটে কী ধরনের গণপরিবহন সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। উচ্চ যাত্রীচাহিদাসম্পন্ন রুটে মেট্রোরেল, মাঝারি চাহিদার রুটে লাইট রেল এবং অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার রুটে মনোরেল নির্মাণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মনোরেলের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডিটিসিএ-এর প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম সফর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. মশিউর রহমান আরও বলেন, বর্তমানে ডিমান্ড অ্যানালাইসিস ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে। এই বিশ্লেষণ সম্পন্ন হওয়ার পরই কোন রুটে কোন ধরনের রেলভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যান ও সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ সময় গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের এককভাবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে বিকল্প অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, একটি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে পুরো মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের মূল চাহিদা হলো সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে, বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করবে।

আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য রুট, স্টেশন, ডিপো এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিটিসিএ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্ভাব্য স্থানসমূহ পরিদর্শন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি বিশেষ কারিগরি টিম গঠন করেছে। এই টিম সম্ভাব্যতা যাচাই, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।

‘কিডনীর মত জঠিল রোগ প্রতিরোধে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করতে চাই’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
‘কিডনীর মত জঠিল রোগ প্রতিরোধে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করতে চাই’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, কিডনী রোগীরা বড়ই অসহায়। ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ কিডনী রোগের মতো মারাত্মক জঠিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যারা কিডনী রোগে আক্রান্ত তাদেরকে সুচিকিৎসার মাধ্যমে কিভাবে বাচিঁয়ে রাখা যায় সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ইতোমধ্যে যারা কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে কিভাবে সাপোর্ট দেয়া যায়, আর যারা আক্রান্ত হয়নি তাদের জন্য কি করা যায়-সে বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিডনী রোগের মত জঠিল রোগ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করতে চাই। ভেজাল খাবার ও ভেজার ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি কিডনী রোগ প্রতিরোধে সর্বত্র জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

আজ ৭ জুন রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত কিডনী রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করেন।

ডিসি বলেন, ১৮ কোট মানুষের দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনী সমস্যায় ভূগছেন। মানুষকে সচেতন করতে না পারলে হাসপাতালে বেশি বেশি করে ডায়ালাইসিস মেশিন সংযোজন করলেও কিডনী রোগীর সমস্যা সমাধান হবে না। কিডনী সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্তকরণ ও সঠিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আগামীতে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের মানুষকে সুস্থ রাখতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। মূল

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। সেমিনারে কিডনী রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার আবু বক্কর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনী রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক (ডা.) মোঃ নুরুল হুদা, কিডনী ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক (ডা.) মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম.এ মালেক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোঃ মোরশেদ হোসেন, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’র সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নুরুল ইসলাম, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহান ইসলাম, চমেক হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সদস্য জিয়াউদ্দীন খালেদ চৌধুরী। বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্টেকহোল্ডার ও এনজিও কর্মকর্তাগণ সেমিনারে অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিডনী বিকল রোগ এক আর্থ সামাজিক আতংক। কিডনী বিকল রোগের ব্যাপকতা, রোগের চিকিৎসার সুযোগ, ব্যায়সাধ্যতা, জঠিল প্রযুক্তি নির্ভরতা এবং দক্ষ চিকিৎসা সেবা কর্মীর প্রয়োজনীয়তা এ রোগের চিকিৎসা পুনর্বাসন রোগীর বা তার পরিবারের একার পক্ষে চালিয়ে যাওয়াকে খুবই দুরহ করেছে। অনুমিত প্রায় সকলেই কিডনী বিকল রোগের ঝুকিঁতে আছেন। গোষ্টী বা সামষ্টিক সহায়তা ছাড়া কিডনী বিকলতার যথাযথ চিকিৎসা পুনর্বাসন কখনই সম্ভব নয়। ফলে রোগীগণ যাদের ডায়ালাইসিসের বা কিডনী প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় তাদেও সীমাহীন কষ্টের শিকার হতে হয়।

সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা বলেন, কিডনী রোগ প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিডনী সেবাকে অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা, কিডনী প্রতিস্থাপন সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত সার্বজনীন স্বাস্থ্য চিকিৎসা বাস্তবায়িত হলে কিডনী রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। কারণ কিডনী রোগ দীর্ঘ দিন নীরবে বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ায় এ রোগ জটিল আকার ধারণ করে।

বক্তারা আরও বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয় ব্যয় নামমাত্র। তাই রোগ নির্ণয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই ব্যায়ভার শুধু ব্যক্তি রোগীর উপর নয় অথবা রোগীর পরিবারের উপরও নয়, বরং এই চিকিৎসা সাপোর্ট দেওয়া সমগ্র জাতির জন্য, সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত দূরহ কাজ। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার অভিভাবক হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই কিডনি রোগে প্রতিকারের ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিতর্কিত নোটিশ প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবিতে এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় কর্মবিরতি শুরু করেছেন চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

এর আগে গত ৪ জুন চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, চমেকহা ২০২৫-২৬-এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি শেষে হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয় এবং দাবি বাস্তবায়নে শুক্রবার (৫ জুন) রাত পর্যন্ত আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসায় শনিবার (গতকাল) রাতে সারাদেশের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ঘোষিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে– স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত বাতিল, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর করা, বিএমডিসি আইন সংস্কার এবং বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ।

এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও রোববার সকাল ১১টার পর থেকে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

কর্মবিরতির পাশাপাশি রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় চমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলমান থাকবে এবং প্রয়োজন হলে সারাদেশে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।