খুঁজুন
, ,

শিশুদের করোনা ঝুঁকি কতটা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 12 August, 2021, 12:04 pm
শিশুদের করোনা ঝুঁকি কতটা

তরঙ্গ বা ঢেউ মহামারির একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রতিটি ঢেউ বিপুলসংখ্যক মানুষকে আক্রান্ত করে। ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে অভিহিত মহামারিটি ‘এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ ভাইরাসের কারণে একটি অস্বাভাবিক ও মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি ছিল। এমনকি সেই ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ মহামারিতেও তরঙ্গ ছিল।

১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ওই মহামারির সময় চারটি তরঙ্গ দেখা গিয়েছিল এবং তা ৫০ কোটি মানুষকে সংক্রমিত করেছিল, অর্থাৎ তৎকালীন বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংক্রমিত হয়েছিল। মৃতের সংখ্যা ২০ কোটির বেশি বলে অনুমান করা হয়। যদিও এ ধারণাটি রক্ষণশীল এবং অনেকের ধারণা মৃতের সংখ্যা আরও বেশি ছিল। এটি ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক মহামারিগুলোর একটি। তাই বর্তমানে করোনা মহামারিতেও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাইরাসের এ তরঙ্গ বা ঢেউয়ের কারণগুলোর একটি হলো ভাইরাসজনিত এবং দ্বিতীয়টি হলো মনুষ্য-সম্পর্কিত। ভাইরাসটির নিজস্ব রূপান্তর (মিউটেশন) আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আর দ্বিতীয়টি আমরা আমাদের আচরণ ও শিষ্টাচার অনুসরণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

দেশে কোভিড-১৯-এর প্রথম ঢেউয়ের পর আমরা দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে ছিলাম। দ্বিতীয় ঢেউ কমতে না কমতেই তৃতীয় তরঙ্গ হানা দিয়েছে। এ কারণে এখন কয়েকটি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে- ১. তীব্রতা ও ভয়াবহতা আরও উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং ২. শিশুরা ব্যাপকহারে সংক্রমিত হতে পারে। ইতোমধ্যেই এর আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

কোভিড-১৯-এর প্রথম তরঙ্গে প্রাথমিকভাবে প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে আক্রান্তের হার ও তীব্রতা বেশি ছিল। কিন্তু শিশুদের মাঝে আক্রান্তের হার ছিল খুবই কম। দ্বিতীয় তরঙ্গে বেশিসংখ্যক অল্প বয়সি ব্যক্তি (৩৫-৪৫ বছর) ও শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ছাড়াও গুরুতর রোগে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।

তথ্যানুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুরা প্রায় ৮.৫ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছে। তাদের বেশির ভাগ সাধারণত হালকা রোগে ভুগেছে, তবে কেউ কেউ গুরুতর অসুস্থও হয়েছে। যদিও শিশুদের মৃত্যুর হার অন্যান্য বয়সের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম ছিল। অর্থাৎ শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো সংক্রমিত হলেও গুরুতর রোগাক্রান্ত হচ্ছে না। সংক্রমিত শিশুদের খুব অল্পসংখ্যকের মাঝারি-গুরুতর রোগ হতে পারে। শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশ সংক্রমণ হালকা ছিল।

তবে মনে রাখতে হবে, সংক্রমণের সামগ্রিক সংখ্যা যদি ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পায়, তবে মাঝারি-গুরুতর রোগের সংখ্যাও শিশুদের মধ্যে বৃদ্ধি পেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ইন্দোনেশিয়ায় অধিকসংখ্যক শিশু করোনাভাইরাসে মারা গেছে, যাদের অনেকেই পাঁচ বছরের কম বয়সি, মৃত্যুর হার অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি।

কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই নয়- থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশেও বিপজ্জনক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে এবং এসব দেশে টিকা দেওয়ার হার কম হওয়ায় করোনার রেকর্ড প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। একই সঙ্গে আমরা কোভিড প্রতিরোধে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করছি না, তাই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তরঙ্গে অবশিষ্ট অপ্রতিরোধক (Unvaccinated) জনগণ সংক্রমিত হতে পারে-যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশুও আছে।

এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্নটি হলো-কীভাবে তৃতীয় তরঙ্গকে আটকানো যায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন করোনাভাইরাসের অতিরিক্ত তরঙ্গগুলো রোধ করার মূল চাবিকাঠি হলো ভাইরাসটির জন্য পরীক্ষা বাড়ানো এবং প্রয়োজনবোধে সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়ন ও অনুসরণ অব্যাহত রাখা। কারা এ ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছে তা নির্ধারণের জন্য বিস্তৃত টেস্টিং ও যোগাযোগের সন্ধান প্রয়োজন এবং সেই ব্যক্তিদের অবশ্যই ১৪ দিনের জন্য বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে।

Center for Research, Innovation, Development and Action-এর পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, বিপজ্জনক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে বাংলাদেশে ভয়াবহ তরঙ্গের আশঙ্কা বিদ্যমান। এ উচ্চ সংক্রামক করোনাভাইরাস এখনই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে করোনার তীব্রতা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

মে মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে সংক্রমণ কিছুটা কম থাকার পর ২৫ মে, ২০২১ থেকে সংক্রমণের উচ্চহার দেখা গেছে (শনাক্তের হার ১০ শতাংশের বেশি)। বাংলাদেশে ৮ মে প্রথম ডেল্টা (ভারত) ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট উচ্চ সংক্রমণশীল, আলফা (যুক্তরাজ্যের) ভ্যারিয়েন্টের থেকে ৪০ শতাংশ বেশি সংক্রামক এবং তা আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তৃতীয় তরঙ্গে শিশুদের গুরুতর রোগের আশঙ্কা আছে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তরঙ্গ ১ ও ২-এ সংগৃহীত তথ্যানুসারে, শিশুদের গুরুতর কোভিড সংক্রমণের ক্ষেত্রে আইসিইউয়ে ভর্তির প্রয়োজন কম। তবে মিউট্যান্ট স্ট্রেনগুলো কীভাবে আচরণ করবে সে সম্পর্কে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

ডেল্টা ওয়েভ COVID-19 সংক্রমণে বেশির ভাগ শিশুর গুরুতর রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইতোমধ্যেই COVID-19-এর গুরুতর অসুস্থতা শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া ও এমআইএস-সি (MIS-C) উল্লেখযোগ্য। কিছু ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ লক্ষণ সংক্রান্ত কোভিড-১৯ সংক্রমণের ২-৬ সপ্তাহ পর ‘মাল্টি-সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রোম (MIS-C), প্রতি লাখে ১২ জনের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার কারণে দেখা যেতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে এটা গুরুতর হতে পারে। এবং তীব্র অসুস্থতার জন্য ২-৬ সপ্তাহ পর কোভিড-১৯-এর কারণে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সময়মতো চিকিৎসা করা হলে বেশির ভাগের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসায় ভালো ফল মিলতে পারে। এমআইএস-সি আক্রান্ত বেশির ভাগ শিশু অন্যের মধ্যে সংক্রমণটি সঞ্চার করতে পারে না।

শিশুদের ক্ষেত্রে প্রস্তুতি ও সাবধানতা
গত ১৫ মাস থেকে COVID-19 অসুস্থতার চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকরা অনেক কিছু শিখেছেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা বেড়েছে। শিশুদের কোভিড চিকিৎসা বিষয়েও শিশু বিশেষজ্ঞরা অধিক সংবেদনশীল ও প্রশিক্ষিত হয়েছেন। ইতোমধ্যে ‘মাল্টি-সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রোম (MIS-C) আক্রান্তদের কেমন পর্যবেক্ষণ, তদারকি ও যত্ন প্রয়োজন, সে সম্পর্কে ধারণা হয়েছে।

অধিকসংখ্যক শিশু রোগীর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, বিভিন্ন প্ল্যাটফরমে অসুস্থতা ও সতর্কতার লক্ষণ সম্পর্কে পিতা-মাতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সচেতনতা জোরদার করতে হবে। উচ্চ-নির্ভরশীলতা ইউনিট (HDU) এবং নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলোসহ শিশুদের জন্য আরও কোভিড ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যবিধি শিশুর জন্য একই। পিতা-মাতার মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোওয়ার স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, গণসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য এবং শিশুদেরও এ ব্যাপারে শিক্ষা দিতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী ২ থেকে ৫ বছর বয়সের শিশুদের মাস্ক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের কোভিড উপযুক্ত আচরণ অনুসরণ করতেই হবে। মা-বাবার উচিত বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যাগুলো লক্ষ করা এবং শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা রোধে সজাগ থাকা। এছাড়াও স্ক্রিনের সময় অর্থাৎ মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপের ব্যবহার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা অবশ্য করণীয়।

স্কুল আবার চালু করার আগে শিশুদের সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইনও তৈরি করতে হবে। আমাদের প্রস্তুতি পুরোদমে থাকলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ থাকবে না। স্কুল খোলার আগে স্কুলসংশ্লিষ্ট সব প্রাপ্তবয়স্ককে (শিক্ষক, পিওন, ড্রাইভার, দারোয়ান পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং সব অভিভাবক) দ্রুততার সঙ্গে টিকা গ্রহণ করতে হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী বাচ্চাদের স্কুল খোলার জন্য সর্বাগ্রে নিরাপদ পরিবেশ প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের কোভিড-১৯ রোগে মারা যাওয়ার আশঙ্কা হাজারগুণ বেশি। তাই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বয়স্কদের গ্রুপকে প্রথমে টিকা দেওয়ার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে ১৮ বছরের উপরে সবাইকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। কিছু দেশ ইতোমধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

ইতোমধ্যে ফাইজারের টিকা ৫ বছরের উপরের শিশুদের জন্য পরীক্ষায় নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে মডার্না ভ্যাকসিন ১২ থেকে ১৭ বছরের কিশোর-কিশোরীদের দেওয়ার জন্য অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পরবর্তী যা ঘটতে পরে : ১. আরেকটা নতুন তরঙ্গের আঘাত; ২. ধীরে ধীরে জনসংখ্যার বেশির ভাগ অংশ অসম্পূর্ণ বা লক্ষণবিহীন সংক্রমণ দ্বারা প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অনাক্রম্যতা (Herd Immunity) অর্জন। ৩. সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগটি অপসৃত হতে পারে বা কম সংক্রমণ হারের সঙ্গে সমাজে বা সম্প্রদায়ে স্থানিক (Endemic) আকার ধারণ করতে পারে। তবে সবার আগে ব্যাপক হারে শিশুদের সংক্রমণের আশঙ্কাটাই বেশি। উপযুক্ত আচরণ অনুসরণের মাধ্যমে এ সংক্রমণ থামানো সম্ভব।

অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ; সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি

এন-কে

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।