খুঁজুন
, ,

বয়ঃসন্ধিকাল ও খাদ্যাভ্যাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 20 August, 2021, 3:47 pm
বয়ঃসন্ধিকাল ও খাদ্যাভ্যাস

একজন মানুষের বয়ঃসন্ধিকাল সবথেকে স্পর্শকাতর সময়। একজন মানুষের ১৩ থেকে ১৯ বছর অব্দি বয়সকে বয়ঃসন্ধিকাল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। বয়ঃসন্ধিকাল ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ছোট থেকে বড় হওয়ার এই সময়টাতে কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এই বয়সের কিশোর কিশোরীরা অনেকটাই আবেগপ্রবণ, অভিমানী। তাদের আনন্দ, দুঃখ, রাগ ও সুখের অনুভূতিগুলো তীব্র হয়।

বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের তারতম্যের কারণে আবেগের তারতম্য ঘটে থাকে, মুড সুইং বা মন মেজাজও খুব দ্রুত ওঠানামা করে। তাই এই সময়ে তাদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে তারা যেমন সুন্দর ভবিষ্যতের অধিকারী হবে তেমনি জাতিও একটি সুস্থ স্বাভাবিক মানবগোষ্ঠী পাবে।

এই অবস্থায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আন্তরিক ও কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে কিশোর কিশোরীদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। তাদেরকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে হলে সঠিক পুষ্টির বিকল্প নাই, সেইসাথে তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থের উন্নতির জন্য তাদেরকে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং সুষম খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় যেসব খাবার খেতে হবে-

*সঠিক ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য চাই সঠিক পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণঃ
এই বয়সেই প্রতিটি মানুষের সঠিক ওজন এবং উচ্চতা বাড়ার মোক্ষম সময়। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালরি নিশ্চিন্ত করতে হবে। মেয়েদের জন্য দৈনিক ১৬০০ কিলোক্যালরি থেকে ২২০০ কিলো ক্যালরি এবং ছেলেদের জন্য দৈনিক ১৮০০ কিলো ক্যালরি থেকে ২৬০০ কিলো ক্যালরি খাবার গ্রহণ করতে হবে। এই পরিমাণে ক্যালরি তাদের এনার্জি দেয়ার পাশাপাশি উচ্চতা বৃদ্ধি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

তবে এই পরিমাণে ক্যালরি অবশ্যই পুষ্টিকর সুষম খাবারের মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হবে। ইদানীং এক ধরনের ফ্যাশন হয়েছে “নো কার্বো ডায়েট” বা শর্করাকে বাতিলের খাতায় রাখা। কিন্তু এই বয়সটাই যে বেড়ে ওঠার বয়স, তাই অবশ্যই খাদ্যের ৬টি উপাদানের সমন্বয় করেই খাদ্য তালিকা সাজাতে হবে। প্রয়োজন মতও ভাত, রুটি, ডিম, মাছ, মাংশ, ডাল, বাদাম, দুধ, তাজা শাক সবজি ও ফলমূল গ্রহণ করতে হবে এবং এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

সুষম খাবার গ্রহণের পাশাপাশি অবশ্যই শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত হাঁটাহাটি, খেলাধুলা কিংবা টুকিটাকি ঘরের কাজ করা অবশ্যই জরুরী।

*রোগ প্রতিরোধে তাজা ফলমূল ও শাকসবজি গ্রহণঃ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি যুক্ত তাজা শাকসবজি ও ফলমূলের বিকল্প নাই। তাজা শাকসবজি ও ফলমূলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে সব ধরণের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কিশোর-কিশোরীরা পর্যাপ্ত শাকসবজি এবং ফলমূল খেতে চায় না ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সবুজ ও নানান রঙের শাকসবজি খেলে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন মিনারেল ফাইবার-এর পাশাপাশি ভালোমানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এগুলো বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি খেলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কম হবে। পানির চাহিদা পূরণের জন্য পানি, ফলের রসসহ বিভিন্ন খাবার খেতে হবে।

*মানসিক বিকাশে খাদ্যের প্রভাবঃ
কিশোর-কিশোরীদের এই সময়ে শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশে সরাসরি প্রভাবিত করে সঠিক খাদ্যাভ্যাস। এসময় কিশোর-কিশোরীর মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। কারণ আয়োডিনের ঘাটতিতে কিশোর-কিশোরীদের বুদ্ধিহীনতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এ ঘাটতি হলে হতে পারে গলগণ্ড, মেয়েদের সন্তান ধারণের জটিলতা। তাই আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- সামুদ্রিক মাছ সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন, খাবারে আয়োডিন যুক্ত লবনের ব্যবহার, সমুদ্রের কাছাকাছি মাটিতে জন্মানো শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে।

*পেশী বৃদ্ধিতে সঠিক পরিমাণে প্রোটিনের জাতীয় খাবার গ্রহণঃ
প্রোটিন শরীরে বেশি বৃদ্ধি ও অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সহায়তা করে, যা সাধারণত ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে দ্বিগুণ হয়। উভয়ের জন্য ১.০ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। এই বয়সেও উচ্চমানের প্রোটিন অর্থাৎ ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন এবং উদ্ভিজ প্রোটিন, দুধের প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ কিশোর-কিশোরীদের দৈনিক খাদ্য তালিকায় মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, কলিজা এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল, বাদাম, সিমের বিচি, ছোলা, মটরশুটি, মাশরুম, সয়াবিন ইত্যাদি থাকতে হবে।

*ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারঃ
কিশোর-কিশোরীদের হাড় ও দাতের সুগঠনে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজন অপরিহার্য। পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খেলে ভবিষ্যতে অস্টিওপরোসিস-এর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। এই জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার, বাদাম, কুসুমসহ ডিম, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, সবুজ রঙের পাতা জাতীয় শাক সবজি রাখতে হবে। এছাড়াও প্রাকৃতিক উৎস থেকে ভিটামিন ডি পেতে হলে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা অব্দি ১০ থেকে ১৫ মিনিট রোদে থাকতে হবে।

*সুন্দর ত্বক ও চুল পেতে হলেঃ
বয়ঃসন্ধির সময়টাতেই ছেলে মেয়ে উভয়েরই মুখে ব্রণ, একনি, কিংবা ত্বকে নানান রকমের র‍্যাশ উঠে থাকে এবং প্রোটিনের ঘাটতির কারণে চুলও পড়তে থাকে বেশি। তাই এই বয়স থেকেই সঠিক যত্ন নিলে সুন্দর ত্বক ও চুলের অধিকারী হতে পারবে। সুন্দর ত্বক ও চুল গঠনে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার গুরুত্বপূর্ণ। এই স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত খাবারগুলো হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

এইজন্য খাবারে অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিতে হবে। যা প্রতিদিনের মোট ক্যালরির ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ হতে হবে। ফ্যাটের উৎস হলও বিভিন্ন রকম বাদাম, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, অতি সিবিজি, জলপাই তেল, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি। খাবারে ভালো মানের ফ্যাটের পাশাপাশি ভিটামিন ই এবং ওমেগা ফ্যাটি এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে, যা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

*রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে খাবারের ভূমিকাঃ
১১ থেকে ১৯ বছর বয়সে কিশোর-কিশোরীদের শরীরে নানা রকমের হরমোনজনিত পরিবর্তন দেখা দেয়। যেমন- মেয়েদের পিরিয়ড হওয়া এবং ছেলেদের মুখের লোম গজানো, কণ্ঠ গম্ভীর হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

এই সময়ের সঠিক পুষ্টি না পেলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়, এ থেকে রক্ষা পেতে হলে শরীরে রক্ত তৈরীর জন্য পর্যাপ্ত আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড দরকার। তাই মেয়েদের নিয়মিত ডিম, মাংস, খেজুর, কিসমিস, আনার, সফেদাসহ বিভিন্ন রকমের ফল ও সবুজ শাক-সবজি, যেমন- কচু শাক, লাল শাক, পালং শাক, পাতা যুক্ত সবজি ও সব ধরণের ডাল এবং বীজ ও বীজ জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। নন হিম, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড যুক্ত খাবার ভালোভাবে শরীরে শোষিত হওয়ার জন্য খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি-এর উৎস হলো লেবু, আমলকী, কাঁচামরিচ, কমলালেবু ইত্যাদি যে কোনো টক ফল।

*পানি ও পানিযুক্ত খাবারঃ
কিশোর-কিশোরীদের শরীরে পর্যাপ্ত পানির চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, এই সময়ে তারা খেলাধুলা করে থাকে, পড়াশোনার চাপে থাকে এবং পানির চাহিদা অধিক পরিমাণে থাকে। এই সময় কমপক্ষে ২ থেকে ৩ লিটার পরিমাণে পানি ও পানিযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে এবং এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলের রস, দুধ ইত্যাদি তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে।

কিশোর-কিশোরীদের কিছু বিষয় মেনে চলতে হবেঃ

কোন অবস্থাতেই সকালের নাস্তা বাদ দেয়া যাবে না। খাবার না খেলে সারাদিনের পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায় না।

অতিরিক্ত পরিমাণে জাঙ্কফুড, ফাস্টফুড ইত্যাদি খাবার বাদ দিতে হবে। এই বয়সি ছেলে-মেয়েদের ঘরে তৈরি সব ধরণের খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

কোকাকোলা, ফাণ্টার পরিবর্তে প্রচুর তাজা ও নানান রঙের ফল ও ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

এই বয়সে হুজুগে পড়ে অনেকে ইউটিউব দেখে বিভিন্ন ধরণের অসাদু ডায়েট ফলো করে, যার ফলে তার পরবর্তী জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

এই বয়সে মোবাইল, কম্পিউটার বা বিভিন্ন ডিভাইসের প্রতি আসক্ত না হয়ে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলা করতে হবে।

প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এই বয়সে রাত জাগার একটা প্রবণতা দেখা যায়, এতে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই রাত জাগার বদ-অভ্যাসটি ত্যাগ করে রাতে সময় মতো ঘুমাতে হবে এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার সু-অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হবে এই বয়সেই।

লেখক- ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিষ্ট এন্ড ডায়েটিশিয়ান, উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা।

এন-কে

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।