খুঁজুন
রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বয়ঃসন্ধিকাল ও খাদ্যাভ্যাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
বয়ঃসন্ধিকাল ও খাদ্যাভ্যাস

একজন মানুষের বয়ঃসন্ধিকাল সবথেকে স্পর্শকাতর সময়। একজন মানুষের ১৩ থেকে ১৯ বছর অব্দি বয়সকে বয়ঃসন্ধিকাল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। বয়ঃসন্ধিকাল ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ছোট থেকে বড় হওয়ার এই সময়টাতে কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এই বয়সের কিশোর কিশোরীরা অনেকটাই আবেগপ্রবণ, অভিমানী। তাদের আনন্দ, দুঃখ, রাগ ও সুখের অনুভূতিগুলো তীব্র হয়।

বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের তারতম্যের কারণে আবেগের তারতম্য ঘটে থাকে, মুড সুইং বা মন মেজাজও খুব দ্রুত ওঠানামা করে। তাই এই সময়ে তাদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে তারা যেমন সুন্দর ভবিষ্যতের অধিকারী হবে তেমনি জাতিও একটি সুস্থ স্বাভাবিক মানবগোষ্ঠী পাবে।

এই অবস্থায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আন্তরিক ও কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে কিশোর কিশোরীদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। তাদেরকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে হলে সঠিক পুষ্টির বিকল্প নাই, সেইসাথে তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থের উন্নতির জন্য তাদেরকে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং সুষম খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় যেসব খাবার খেতে হবে-

*সঠিক ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য চাই সঠিক পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণঃ
এই বয়সেই প্রতিটি মানুষের সঠিক ওজন এবং উচ্চতা বাড়ার মোক্ষম সময়। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত ক্যালরি নিশ্চিন্ত করতে হবে। মেয়েদের জন্য দৈনিক ১৬০০ কিলোক্যালরি থেকে ২২০০ কিলো ক্যালরি এবং ছেলেদের জন্য দৈনিক ১৮০০ কিলো ক্যালরি থেকে ২৬০০ কিলো ক্যালরি খাবার গ্রহণ করতে হবে। এই পরিমাণে ক্যালরি তাদের এনার্জি দেয়ার পাশাপাশি উচ্চতা বৃদ্ধি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

তবে এই পরিমাণে ক্যালরি অবশ্যই পুষ্টিকর সুষম খাবারের মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হবে। ইদানীং এক ধরনের ফ্যাশন হয়েছে “নো কার্বো ডায়েট” বা শর্করাকে বাতিলের খাতায় রাখা। কিন্তু এই বয়সটাই যে বেড়ে ওঠার বয়স, তাই অবশ্যই খাদ্যের ৬টি উপাদানের সমন্বয় করেই খাদ্য তালিকা সাজাতে হবে। প্রয়োজন মতও ভাত, রুটি, ডিম, মাছ, মাংশ, ডাল, বাদাম, দুধ, তাজা শাক সবজি ও ফলমূল গ্রহণ করতে হবে এবং এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।

সুষম খাবার গ্রহণের পাশাপাশি অবশ্যই শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত হাঁটাহাটি, খেলাধুলা কিংবা টুকিটাকি ঘরের কাজ করা অবশ্যই জরুরী।

*রোগ প্রতিরোধে তাজা ফলমূল ও শাকসবজি গ্রহণঃ
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি যুক্ত তাজা শাকসবজি ও ফলমূলের বিকল্প নাই। তাজা শাকসবজি ও ফলমূলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে সব ধরণের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কিশোর-কিশোরীরা পর্যাপ্ত শাকসবজি এবং ফলমূল খেতে চায় না ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সবুজ ও নানান রঙের শাকসবজি খেলে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন মিনারেল ফাইবার-এর পাশাপাশি ভালোমানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এগুলো বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি খেলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কম হবে। পানির চাহিদা পূরণের জন্য পানি, ফলের রসসহ বিভিন্ন খাবার খেতে হবে।

*মানসিক বিকাশে খাদ্যের প্রভাবঃ
কিশোর-কিশোরীদের এই সময়ে শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশে সরাসরি প্রভাবিত করে সঠিক খাদ্যাভ্যাস। এসময় কিশোর-কিশোরীর মানসিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। কারণ আয়োডিনের ঘাটতিতে কিশোর-কিশোরীদের বুদ্ধিহীনতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এ ঘাটতি হলে হতে পারে গলগণ্ড, মেয়েদের সন্তান ধারণের জটিলতা। তাই আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- সামুদ্রিক মাছ সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন, খাবারে আয়োডিন যুক্ত লবনের ব্যবহার, সমুদ্রের কাছাকাছি মাটিতে জন্মানো শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে।

*পেশী বৃদ্ধিতে সঠিক পরিমাণে প্রোটিনের জাতীয় খাবার গ্রহণঃ
প্রোটিন শরীরে বেশি বৃদ্ধি ও অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সহায়তা করে, যা সাধারণত ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে দ্বিগুণ হয়। উভয়ের জন্য ১.০ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। এই বয়সেও উচ্চমানের প্রোটিন অর্থাৎ ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন এবং উদ্ভিজ প্রোটিন, দুধের প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ কিশোর-কিশোরীদের দৈনিক খাদ্য তালিকায় মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, কলিজা এবং বিভিন্ন ধরনের ডাল, বাদাম, সিমের বিচি, ছোলা, মটরশুটি, মাশরুম, সয়াবিন ইত্যাদি থাকতে হবে।

*ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যুক্ত খাবারঃ
কিশোর-কিশোরীদের হাড় ও দাতের সুগঠনে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজন অপরিহার্য। পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খেলে ভবিষ্যতে অস্টিওপরোসিস-এর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। এই জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার, বাদাম, কুসুমসহ ডিম, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, সবুজ রঙের পাতা জাতীয় শাক সবজি রাখতে হবে। এছাড়াও প্রাকৃতিক উৎস থেকে ভিটামিন ডি পেতে হলে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা অব্দি ১০ থেকে ১৫ মিনিট রোদে থাকতে হবে।

*সুন্দর ত্বক ও চুল পেতে হলেঃ
বয়ঃসন্ধির সময়টাতেই ছেলে মেয়ে উভয়েরই মুখে ব্রণ, একনি, কিংবা ত্বকে নানান রকমের র‍্যাশ উঠে থাকে এবং প্রোটিনের ঘাটতির কারণে চুলও পড়তে থাকে বেশি। তাই এই বয়স থেকেই সঠিক যত্ন নিলে সুন্দর ত্বক ও চুলের অধিকারী হতে পারবে। সুন্দর ত্বক ও চুল গঠনে স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবার গুরুত্বপূর্ণ। এই স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যুক্ত খাবারগুলো হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

এইজন্য খাবারে অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিতে হবে। যা প্রতিদিনের মোট ক্যালরির ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ হতে হবে। ফ্যাটের উৎস হলও বিভিন্ন রকম বাদাম, মিষ্টি কুমড়ার বীজ, সূর্যমূখীর বীজ, অতি সিবিজি, জলপাই তেল, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি। খাবারে ভালো মানের ফ্যাটের পাশাপাশি ভিটামিন ই এবং ওমেগা ফ্যাটি এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে, যা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

*রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে খাবারের ভূমিকাঃ
১১ থেকে ১৯ বছর বয়সে কিশোর-কিশোরীদের শরীরে নানা রকমের হরমোনজনিত পরিবর্তন দেখা দেয়। যেমন- মেয়েদের পিরিয়ড হওয়া এবং ছেলেদের মুখের লোম গজানো, কণ্ঠ গম্ভীর হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

এই সময়ের সঠিক পুষ্টি না পেলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়, এ থেকে রক্ষা পেতে হলে শরীরে রক্ত তৈরীর জন্য পর্যাপ্ত আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড দরকার। তাই মেয়েদের নিয়মিত ডিম, মাংস, খেজুর, কিসমিস, আনার, সফেদাসহ বিভিন্ন রকমের ফল ও সবুজ শাক-সবজি, যেমন- কচু শাক, লাল শাক, পালং শাক, পাতা যুক্ত সবজি ও সব ধরণের ডাল এবং বীজ ও বীজ জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। নন হিম, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিড যুক্ত খাবার ভালোভাবে শরীরে শোষিত হওয়ার জন্য খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি। ভিটামিন সি-এর উৎস হলো লেবু, আমলকী, কাঁচামরিচ, কমলালেবু ইত্যাদি যে কোনো টক ফল।

*পানি ও পানিযুক্ত খাবারঃ
কিশোর-কিশোরীদের শরীরে পর্যাপ্ত পানির চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে। কেননা, এই সময়ে তারা খেলাধুলা করে থাকে, পড়াশোনার চাপে থাকে এবং পানির চাহিদা অধিক পরিমাণে থাকে। এই সময় কমপক্ষে ২ থেকে ৩ লিটার পরিমাণে পানি ও পানিযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে এবং এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলের রস, দুধ ইত্যাদি তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে।

কিশোর-কিশোরীদের কিছু বিষয় মেনে চলতে হবেঃ

কোন অবস্থাতেই সকালের নাস্তা বাদ দেয়া যাবে না। খাবার না খেলে সারাদিনের পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায় না।

অতিরিক্ত পরিমাণে জাঙ্কফুড, ফাস্টফুড ইত্যাদি খাবার বাদ দিতে হবে। এই বয়সি ছেলে-মেয়েদের ঘরে তৈরি সব ধরণের খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করতে হবে।

কোকাকোলা, ফাণ্টার পরিবর্তে প্রচুর তাজা ও নানান রঙের ফল ও ফলের রস খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

এই বয়সে হুজুগে পড়ে অনেকে ইউটিউব দেখে বিভিন্ন ধরণের অসাদু ডায়েট ফলো করে, যার ফলে তার পরবর্তী জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

এই বয়সে মোবাইল, কম্পিউটার বা বিভিন্ন ডিভাইসের প্রতি আসক্ত না হয়ে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলা করতে হবে।

প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে। এই বয়সে রাত জাগার একটা প্রবণতা দেখা যায়, এতে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই রাত জাগার বদ-অভ্যাসটি ত্যাগ করে রাতে সময় মতো ঘুমাতে হবে এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার সু-অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হবে এই বয়সেই।

লেখক- ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিষ্ট এন্ড ডায়েটিশিয়ান, উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা।

এন-কে

Feb2

কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
কিলোমিটার প্রতি ৪ টাকা ৫ পয়সা ভাড়া চান বাস মালিকরা

প্রায় দেড় মাস ধরে দেশে চলছে জ্বালানি সংকট। এর মধ্যেই গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বাস-ট্রাকের জ্বালানি ‘ডিজেল’-এর মূল্য ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। এতে খরচ বেড়ে যাবে বিভিন্ন পরিবহনের। এ অবস্থায় বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা আজ রোববারের (১৯ এপ্রিল) মধ্যেই ভাড়া সমন্বয় করতে সরকারকে অনুরোধ করেছেন।

বাংলাদেশে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। যা আগের দামের তুলনায় প্রায় ৪২.৫ শতাংশ বেশি ছিল। পরে সেটি বেশ কয়েকবার সমন্বয় করা হয়। সর্বশেষ শনিবার পর্যন্ত লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা।

ওই সময় সার্বিক বিবেচনায় তৎকালীন পরিবহন নেতারা দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়ে ২ টাকা ৮০ পয়সা করার প্রস্তাব দেন। সরকার সেটি আমলে না নিয়ে দূরপাল্লার ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ২২ শতাংশ বাড়িয়ে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৬ জুন তেলের দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় করে সেটি কমিয়ে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা করা হয়।

বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের

শনিবার রাতে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহন নেতারা রোববারের মধ্যেই ভাড়া বাড়াতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা সরকারকে শুধু ডিজেলের দাম বিবেচনায় না নিয়ে সার্বিক বিষয় চিন্তা করে দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস মালিক বলেন, বাস ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জ্বালানি তেলের দামই একমাত্র বিষয় নয়। গাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক খরচ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গাড়ির নিজস্ব মূল্য, তার লাইফটাইম এক্সপেন্স, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, চাকা, ইঞ্জিন ওয়েল এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস— সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করতে হয় মালিকদের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, দেশে শুধুমাত্র তেলের দাম বাড়লেই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে, অন্য খরচগুলোর বৃদ্ধির সঙ্গে ভাড়ার সমন্বয় সাধারণত করা হয় না।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ২০২২ সালে যে চাকার জোড়া ৫০ হাজার টাকায় কেনা যেত, ২০২৬ সালে সেটির দাম বেড়ে ৭৪ থেকে ৮০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসের দামও দ্বিগুণ বা তার বেশি হয়েছে। যেমন ১০ টাকার কোনো যন্ত্রাংশ এখন ২০-২৩ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আবার যেসব যন্ত্রাংশ আগে ১২০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেগুলোর দাম বেড়ে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে সার্বিকভাবে গাড়ি পরিচালনার খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না

মো. সাইফুল আলম, মহাসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি

গাড়ির মূল্যের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে জানিয়ে এই বাস মালিক বলেন, ২০২২ সালে একটি বাসের চেসিসের দাম ছিল প্রায় ২৪ লাখ টাকা এবং বডি তৈরি করতে খরচ হতো প্রায় ১১ লাখ টাকা। বর্তমানে সেই একই চেসিসের দাম বেড়ে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা এবং বডি তৈরির খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ শুধু এই দুই খাতেই মোট খরচ বেড়েছে প্রায় ২০-২১ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদের হারও ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে, ফলে কিস্তির চাপ আরও বেড়েছে মালিকদের ওপর।

কত টাকা ভাড়া বাড়ানো যায়— এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০২২ সালে জ্বালানির দাম বাড়ার পর সরকার ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন প্রথমে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা সমন্বয় করে ২ টাকা ১২ পয়সায় স্থির করা হয়। সেই সময় মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২ টাকা ৮০ পয়সা প্রস্তাব করা হলেও তা গৃহীত হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় ভাড়ার আর কোনো সমন্বয় হয়নি, যদিও খরচ ধারাবাহিকভাবে বেড়েই গেছে। এবার অন্তত কিলোমিটার প্রতি সাড়ে ৩ টাকা না হলে আর গাড়ি চালানো যাবে না।

তবে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছেন, আমরা দায়িত্বে আসার পর ও ডলারের দাম বাড়ার পর ৩ টাকা ৭৫ পয়সার প্রস্তাব কমিটির কাছে দিয়ে রেখেছি। সেটি তেলের জন্য দেওয়া হয়নি, স্পেয়ার্স পার্সে ডলার মূল্য সমন্বয়ের জন্য দেওয়া হয়েছে। সেটিসহ তেলের দাম বাড়ার জন্য আমরা ৪ টাকা ৫ পয়সা এবার প্রস্তাব করবো। আমরা মিনিস্ট্রিতে আজকে যোগাযোগ করে ফরমাল মিটিং হোক, ইনফরমাল মিটিং হোক করবো। কারণ আমাদের আজকে এখনো পর্যন্ত বাস ভাড়া বাড়ানোর কোনো নির্দেশনা দেইনি।

সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম রোববার দুপুরে বলেন, আশা করছিলাম যে সরকার তেলের দাম যদি বৃদ্ধি করে, তবে সেই সঙ্গে গেজেটে উল্লেখ করে দেবে যে তেলের কারণে এত পয়সা করে প্রতি কিলোমিটার ইনক্লুড হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। আজ মালিকরা বেশি দামে তেল কিনছে কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে আগের রেটে। এভাবে তো মালিকরা লস দিয়ে বাস চালাবে না। আমরা অলরেডি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি যে, আজকের মধ্যে এটা নিরসন করে দিতে।

জীবন মানেই তো আর শুধু ট্রান্সপোর্ট না, আমাদের আরও অনেক খাত রয়েছে। বিআরটিএ যেহেতু তাদের কমিটি আছে, মালিকদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেই যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে যাত্রীদের সেবার দিকটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে

মো. হাদিউজ্জামান, অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, বুয়েট

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতি বছর বাজেটের আগে একটা ক্যালকুলেশন করে, কস্টিং বডি দেখে বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী জানিয়ে দিতে পারে যে এই বছরের জন্য এই ভাড়া নির্ধারণ করা হলো। এই হিসাবটা যদি ঠিকভাবে করা হয়, তাহলে সেটাই পুরো বছর চলতে পারে। এর মাঝে যদি কোনো বড় পরিবর্তন হয়, যেমন ডলারের দাম হঠাৎ বাড়ে বা কমে, তখন সেগুলোর প্রভাব নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করা যেতে পারে। না হলে সাধারণভাবে ওই নির্ধারিত ভাড়াই কার্যকর থাকতে পারে। আমরা এই প্রস্তাবটাই দিয়েছিলাম স্থায়ী সমাধানের জন্য, কিন্তু সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, তারা প্রস্তাব করেছে ঠিক আছে। প্রস্তাব করা মানেই এটা চূড়ান্ত না। বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণের কমিটি আছে। আমি বলবো, এই কমিটিতে প্রস্তাবের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। প্রতিটি খাত ধরে ধরে বিশ্লেষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রীদেরও অনেকগুলো খাতে চাপের মধ্যে পড়তে হবে। জীবন মানেই তো আর শুধু ট্রান্সপোর্ট না, আমাদের আরও অনেক খাত রয়েছে। বিআরটিএ যেহেতু তাদের কমিটি আছে, মালিকদের দাবি যদি যৌক্তিক হয় তাহলে তারা অবশ্যই সেই যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু একইসঙ্গে যাত্রীদের সেবার দিকটাও তাদের মাথায় রাখতে হবে। আমি বললাম, প্রস্তাবটা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা উচিত। আলোচনা করে সেখানে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া কতটা চাপ সৃষ্টি করবে, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে। আর যেসব খাতের সঙ্গে তেলের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই, সেসব ক্ষেত্রে তো আসলে বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বেড়ে ১৯৪০

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
১২ কেজি এলপিজির দাম ২১২ টাকা বেড়ে ১৯৪০

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

এতে গত মাসে নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা হয়েছে।

আজ রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে, গত ২ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়।

আজ বিইআরসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে এলপিজি আমদানির খরচ বেড়েছে।

এ অবস্থায় এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।

দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব

দেশে মজুত থাকা গ্যাস দিয়ে আগামী ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মোট মজুত ২৯.৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২.১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট গ্যাসের পরিমাণ ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, যদি নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হয় এবং বর্তমান হারে (দৈনিক প্রায় ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তবে এই অবশিষ্ট মজুত দিয়ে প্রায় ১২ বছর পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে।

গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে তিনি জানান, পেট্রোবাংলার কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের মহাপরিকল্পনার আওতায় মোট ৫০ ও ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে ২৬টি কূপ খনন এবং ওয়ার্কওভারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কূপগুলোর কাজও বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান আছে।

এছাড়া সাইসমিক সার্ভে সম্পর্কিত মন্ত্রী জানান, বাপেক্সের মাধ্যমে ব্লক-৭ ও ৯ এ ৩৬০০ কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক ডাটা আহরণ শেষ হয়ে ডাটা প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি বিজিএফসিএলর মাধ্যমে হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা’র ১৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক ডাটা আহরণ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বাপেক্স ও এসজিএফএল-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বিপুল পরিমাণ ৩ডি সাইসমিক জরিপ সম্পাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।