খুঁজুন
, ,

আইনগত অবস্থান থেকে দুদকের আরও কঠোর হওয়া উচিত : হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 25 August, 2021, 12:21 pm
আইনগত অবস্থান থেকে দুদকের আরও কঠোর হওয়া উচিত : হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

আইনে বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ’ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলছেন, দেশের দুর্নীতি চর্চা বন্ধ করতে আইনগত অবস্থান থেকে কমিশনের আরও কঠোর হওয়া উচিত।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রকাশিত রায়ে এ পর্যবেক্ষণ এসেছে।

দুদকের মামলায় অব্যাহতি চেয়ে এক আসামির আবেদন বাতিলের মামলায় ৭২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় গতকাল প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্ট তাঁর রায়ে বিশেষ বিধান (আইনে) থাকার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান, তদন্ত শেষ না করায় সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বা তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দুদক আইনের ৩২ ধারা ও বিধি ১৫ অনুযায়ী কমিশনের উচিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা এবং দক্ষতার সঙ্গে বিচার কাজ শেষ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তাহলেই দুর্নীতি এবং দুর্নীতি চর্চা নির্মূল হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, যদি কমিশনের কোনো কাজ, আদেশ, কার্যপ্রণালী ও নিষ্ক্রিয়তা সংশ্লিষ্ট আইনের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে এবং দেশের দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন যদি যথাযথ ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে নীরবতা অবলম্বন করে, তবে সব প্রচেষ্টাই ব্যাহত হবে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘আজকাল আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি, বড় বড় দুর্নীতির মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আত্মসাতের টাকা পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত। এর ফলে অভিযুক্তরা নিজেদের রক্ষায় সুবিধা পাচ্ছে বা সুবিধা নিচ্ছে। টাকা উদ্ধার দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ নয়। আইনেও সে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। টাকা পুনরুদ্ধারে শুধু এটুকু প্রতীয়মান হয় যে, অভিযুক্ত বা ব্যক্তি অর্থ আত্মসাৎ বা পাচার করেছেন।’

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট আরও বলেন, “আমরা লক্ষ করেছি যে, দুর্নীতি করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অনেক সরকারি দপ্তরের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। কিন্তু সে মামলাগুলোর অনুসন্ধান, তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ দুদক নেয়নি। তা ছাড়া এ ব্যাপারে কমিশনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন ওঠে, কমিশন কি আইনের ঊর্ধ্বে? নিশ্চিতভাবে এর উত্তর হচ্ছে ‘না’। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধি, ২০০৭ এ কমিশনের কার্যক্রম বিশদভাবে বর্ণনা করা আছে। ফলে দেশের দুর্নীতি চর্চা বন্ধ করতে আইনগত অবস্থান থেকে কমিশনের উচিত আরও কঠোর হওয়া। তবে, আইন এবং বিধির বাইরে গিয়ে অন্য কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়নি।’

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মমিনুর রহমান ও সহকারী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলামকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০১১ সালের ২৬ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। দুদকের রংপুরের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ওই দিনই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ৬ মে মো. জহিরুল ইসলাম মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির পর একই বছরের ১২ জুন রংপুরের বিশেষ জজ আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে তাকে অব্যাহতি দেন।

পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে একটি আবেদন (রিভিশন পিটিশন) করে। সে আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। হাইকোর্ট তার রুলে জহিরুল ইসলামকে দুর্নীতির মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চান। এরপর চূড়ান্ত শুনানির পর রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে গত ২৪ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

এন-কে

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 3:47 pm
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার।’

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের বিশেষায়িত একটি দল অংশ নেয়।

ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে দুই বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

কে এই ইমন
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট অন্তত ১৫টি মামলার আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন ইমন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 3:31 pm
হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (২৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আদেশ জারি করা হয়। এতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকার নির্ধারিত স্থানে চার বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হক।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৪৪ ধারা কার্যকর করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে। একই সময়ে বিএনপিও কর্মসূচি দেওয়ায় শহরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।

জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা, জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 2:51 pm
জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা, জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ

আপিল বিভাগে একই বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করায় দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে জরিমানার ৫ কোটি টাকা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা দিতে হবে। পরে এ অর্থ জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, একই বিষয়ে পূর্বে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেন এবং বিষয়টি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এ তথ্য গোপন রেখে জিপিএইচ ইস্পাত নিম্ন আদালতে নতুন মামলা দায়ের করে এবং পরবর্তীতে আবারও হাইকোর্টে রিট আবেদন করে নিষেধাজ্ঞা চায়।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে জানান, কোম্পানিটি চলমান আপিল, পূর্বের রিট এবং আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের বিষয়টি গোপন রেখে আদালতের কাছে আবেদন করেছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি অসৎ আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট মন্তব্য করেন, বিচারাধীন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের আচরণ আদালতের সময়ের অপচয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের শামিল। এ কারণেই আদালত জিপিএইচ ইস্পাতকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি ওই অর্থ জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ দেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে কোনো পক্ষ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে আদালত এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। হাইকোর্টের এ আদেশ বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।