খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
‘বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরাশ্রয়ী আন্দোলন নির্ভর বিএনপি দেশের বিদ্যমান স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই আশঙ্কা করেছিলাম ক্যাম্পাসগুলো উত্তপ্ত করতে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছে। পরাশ্রয়ী আন্দোলন নির্ভর বিএনপি দেশের বিদ্যমান স্থিতিশীল পরিস্থিতি নষ্ট করতে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রদায়িক দানবদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতিদানবীয় অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’

সেতুমন্ত্রী আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন।

তিনি বলেন, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ছাত্র-শিক্ষকগণ যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন ঠুনকো অজুহাতে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার নোংরা রাজনীতি করছে বিএনপি।

সাম্প্রদায়িক দানবদের সাথে নিয়ে বিএনপি অতিদানবীয় অপতৎপরতা চালাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা সরকার নয়, বিএনপিই হচ্ছে আসল দানবীয় শক্তি।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ জনমানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছে। আর বিএনপি এনে দিয়েছিলো পর নির্ভরতার শৃংখল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্প্রতি চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশ বিএনপি’র কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করতে চেয়েছে, কিন্তু তারা কোন আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে সংঘাতের মাধ্যমে পানি ঘোলা করার অপচেষ্টা করতে চেয়েছিলো। আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে বিশ্বাসী। সরকার সব সময় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর পক্ষে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে সহযোগিতা করে আসছে, ভবিষ্যতেও করবে।

তিনি বলেন, কিন্তু কর্মসূচিতে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের উপাদান যুক্ত হলে জনস্বার্থে পদক্ষেপ নিতে হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের এখন আর কোন অবজেক্টিভ শর্ত বিরাজমান নেই। বিএনপি’র সাবজেক্টিভ প্রস্তুতি কি আছে তা গত একযুগ ধরে মানুষ দেখে আসছে। শীত-গ্রীষ্ম পেরিয়ে এখন বিএনপি শরৎকালে এসে সরকার হটানোর দিবা স্বপ্ন দেখছে।

জিয়াউর রহমানের লাশ নিয়েও বিএনপি মহাসচিব কখনও কোন প্রশ্নেরই জবাব দেননা। প্রশ্ন করলে মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে সামঞ্জস্যহীন জবাব দেন-এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমানের লাশ নাকি জেনারেল এরশাদ কাঁধে বহন করেছেন। এ ধরনের উত্তর দিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করেন ফখরুল সাহেব। এরশাদ কফিন বহন করেছেন কিন্তু ভিতরে জিয়ার লাশ আছে-তাতো তিনি কখনো বলেন নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ থেকে তার লাশ রাঙ্গুনিয়া পাহাড়ে কে নিয়ে গিয়েছিলো? ফখরুল সাহেব জিয়ার লাশ নিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা করছেন।

এন-কে

Feb2

থমথমে সিটি কলেজ: ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
থমথমে সিটি কলেজ: ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসজুড়ে চরম আতঙ্ক ও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গ্রাফিতি বিকৃতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় বর্তমানে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও কড়া তল্লাশির কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষার পরিবেশ।

এই ঘটনার উত্তাপ শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, জড়িতদের শনাক্তে কাজ করার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা। তবে, এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।

থমথমে কলেজে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা, তদন্ত কমিটি গঠন

বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাটেনি আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কলেজে প্রবেশের সময় শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের কঠোর তল্লাশি এবং পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হতে পারে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাতেও টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। পুরো ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। দ্রুতই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশজুড়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের জের ধরে সারাদেশে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। ঘটনার পরদিন ২২ এপ্রিল বিকেলে চট্টগ্রামের পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ছাত্রদল। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল নগরীর নিউ মার্কেট ও স্টেশন রোড এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল ও দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আহত কর্মীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতেই চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলন করে আহত কর্মীদের অবস্থা তুলে ধরে ইসলামী ছাত্রশিবির। পরদিন বুধবার ডাকসুর ভিপি সাদিক কাইয়ুমের নেতৃত্বে শিবিরের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে পৌঁছায়। তারা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি পেশ করেন। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রাফিতি বিকৃতির প্রকৃত ঘটনা ব্যাখ্যা করতে অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারপত্র বিলি করেছে সংগঠনটি। তারা দোষী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার এবং ক্যাম্পাসে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদেও সংঘর্ষের উত্তাপ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের ঘটনাটি জাতীয় সংসদেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই সংসদে এ নিয়ে কথা বলেন জামায়াত নেতা ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টে যারা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল, তারাই সিটি কলেজে হামলা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, হামলায় এক শিবির নেতার পা প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে এবং হামলাকারীদের অনেকেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী।

পরদিন বুধবার (২২ এপ্রিল) এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন বিএনপি নেতা ও খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা। তিনি হামলার জন্য সরাসরি শিবিরকে দায়ী করে বলেন, ছাত্রদল কেবল ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখেছিল বলেই তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, যা মূলত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, যারা আমাদের ভোট দিয়েছে তারা অন্যায় দেখে বসে থাকবে না, তারা এর প্রতিবাদ করবে।

ওয়াদুদ ভুঁঞার এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বিএনপি সংসদ সদস্যের ভাষাকে ‘অসংসদীয়’ উল্লেখ করে তা রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে এভাবে হুমকির সুরে কথা বলা এবং জনগণকে উসকে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়; এটি চরম বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দেয়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে

ঘটনার মূলে ছিল গত ২০ এপ্রিল (সোমবার) ক্যাম্পাসের একটি গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক। কলেজের একটি ভবনে জুলাই বিপ্লব স্মরণে আঁকা ‘ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লিখে দেয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বাধীন একদল নেতাকর্মী। মামুন এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলকে ‘আদু ভাই’ সম্বোধন করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করে।

এই তিক্ততা থেকেই মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে দুই পক্ষ প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়ায়। পরে প্রশাসন ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্রশিবির বিক্ষোভ মিছিল বের করলে ছাত্রদল তাতে বাধা দেয়। এর ফলে দ্বিতীয় দফায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে বহিরাগতরা যুক্ত হয়ে ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এর মধ্যে পাহাড়তলী ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থী আশরাফের পায়ের গোড়ালি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষে বহিরাগতদের অংশগ্রহণ ও শনাক্তকরণ

মঙ্গলবার বিকেলে নিউমার্কেট মোড়ে সংঘটিত দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে কেবল শিক্ষার্থী নয়, উভয় পক্ষের হয়ে বিপুলসংখ্যক বহিরাগতও অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রমতে, ছাত্রদলের পক্ষে আশপাশের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের পক্ষে মাঠে নামেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষ চলাকালে অনেককেই হেলমেট পরা অবস্থায় ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে কিরিচ হাতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে; তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মির্জা ফারুক। এছাড়া লাঠি হাতে থাকা অন্য একজনকে রিয়াজউদ্দিন বাজারের তামাকুমণ্ডি লেন বণিক সমিতির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ছাদেক হোসাইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের অন্তত আটজন সক্রিয় সংঘাতকারীকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে, ঘটনার এক দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো পক্ষ থেকেই এখনও আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। এ বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশীদ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই নামগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে না, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকা থেকে টেকনাফের ভাড়া বাড়ল ৬৫ টাকা, পঞ্চগড়ের ৬০ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
ঢাকা থেকে টেকনাফের ভাড়া বাড়ল ৬৫ টাকা, পঞ্চগড়ের ৬০ টাকা

জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে দূরপাল্লার বাসভাড়া ১১ পয়সা বাড়িয়ে কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। নতুন ভাড়া অনুযায়ী ঢাকা থেকে দেশের দক্ষিণের শেষ প্রান্ত টেকনাফ পর্যন্ত নন-এসি বাসের ভাড়া বেড়েছে ৬৫ টাকা এবং উত্তর প্রান্ত পঞ্চগড়ের ভাড়া বেড়েছে ৬০ টাকা।

বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে ৪০ সিটের বাসের ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি হচ্ছে— (প্রতি কিলোমিটার ভাড়া × দূরত্ব × ৫১ সিটের বাস) / ৪০ = টাকা। রুটভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) দেওয়া দূরত্ব, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সওজের আওতাধীন ব্রিজ, টোল ও ফেরির ভাড়ার তালিকা অনুসরণ করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে মাসে তৈরি করা বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, ঢাকা (গাবতলী) থেকে পঞ্চগড়ের (রুট-৯৩) দূরত্ব ৪২৪ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১১৮০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৬০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২৪০ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে টেকনাফের (রুট-৫০) দূরত্ব ৪৬২ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১২৭০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৬৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৩৩৫ টাকা।

ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের ভাড়া যত হলো
ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে চট্টগ্রামের (রুট-৪৮) দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৬৭০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৩৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭০৪ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী) থেকে রাজশাহীর (রুট-৮২) দূরত্ব ২৪৭ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৩৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭৩৮ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে খুলনার (রুট-৯৬) দূরত্ব ২০৫ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৬৫০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৮০ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে বরিশালের (রুট-৩৫) দূরত্ব ১৭১ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৫৬৫ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ২৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৯১ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে সিলেটের (রুট-৫৭) দূরত্ব ২৫৭ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৪০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭৪০ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী) থেকে রংপুরের (রুট-৮৮) দূরত্ব ৩০৮ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৮৭০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৪১ টাকা বেড়ে হয়েছে ৯১১ টাকা।

ঢাকা (মহাখালী) থেকে ময়মনসিংহের (রুট-১৫) দূরত্ব ১১৬ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৩১৫ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ১৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৩০ টাকা।

এ ছাড়া বেশি যাত্রী চলাচলকারী ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে কক্সবাজারের (রুট-৪৯) দূরত্ব ৩৯৬ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ১০৯০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ৫৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ১১৪৭ টাকা।

ঢাকা (সায়দাবাদ) থেকে কুমিল্লার (রুট-১৮) দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ২৯০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ১৬ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩০৬ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী) থেকে বগুড়ার (রুট-৮৪) দূরত্ব ১৯১ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ৫৫০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ২৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৭৮ টাকা।

এছাড়া দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রুট দিনাজপুর থেকে টেকনাফের (অন্যান্য রুট-১৬৮) দূরত্ব ৮৪৪ কিলোমিটার। আগে এই পথে ৪০ সিটের বাসে টোলসহ আদায়যোগ্য ভাড়া ছিল ২৩৪০ টাকা। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সেই ভাড়া ১১৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ২৪৫৭ টাকা।

শান্তর সেঞ্চুরির পর মুস্তাফিজের ফাইফার, সিরিজ বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
শান্তর সেঞ্চুরির পর মুস্তাফিজের ফাইফার, সিরিজ বাংলাদেশের

নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে ঘরের মাঠের এই ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। ফলে শেষ ম্যাচটি হয়ে উঠে সিরিজ নির্ধারণী। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ব্যাটে ভর করে আড়াইশ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ব্যাটারদের পর কিউইদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররাও। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমান। এই বাঁহাতি পেসারের ফাইফারে কোনোরকমে দুইশ ছুঁয়ে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। ৫৫ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা।

চট্টগ্রামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করে নাজমুল হোসেন শান্ত। জবাবে ৪৪ ওভার ৫ বলে ২১০ রান করে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। টাইগারদের হয়ে ৩০ রানে ৫ উইকেট শিকার করে সেরা বোলার মুস্তাফিজ।

২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি নিউজিল্যান্ডের। নতুন বলে বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন এই বাঁহাতি পেসার। দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজের বাউন্স সামলাতে পারেননি হেনরি নিকোলস, টপ এজ হয়ে বল জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। ৪ রান করে নিকোলস ফেরায় ভাঙে ৮ রানের উদ্বোধনী জুটি।

আরেক ওপেনার উইল ইয়াং উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। নাহিদ রানার করা অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বলে খোঁচা দিতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ইয়াং। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৫ বলে ১৯ রান।

৫৪ রানে ২ উইকেটে হারানোর পর বড় দায়িত্ব ছিল টম ল্যাথামের কাঁধে। কিন্তু উল্টো দলের বিপদ বাড়িয়েছেন অধিনায়ক। ইনিংসের ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলটি মিডল স্টাম্পের ওপর করেছিলেন মিরাজ, সেখানে সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে বল চলে যায় শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে থাকা শরিফুলের হাতে। ১৩ বলে ৫ রান করেছেন ল্যাথাম।

৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপদে তখন হাল ধরেন নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস। বিশেষ করে ক্যালি দারুণ ব্যাটিং করছেন। ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। এই মাইলফলক ছুঁতে খেলেছেন ৬৮ বল। তবে ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৯ রান করে মুস্তাফিজের বলে আউট হয়েছেন তিনি। তাতে ভাঙে ৪৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি।

ভালো শুরু করা আব্বাসকে বোল্ড করেন শরিফুল। ৩৬ বলে ২৫ রান করেছেন তিনি। তাতে ১২৪ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই দূরে সরে যায় কিউইরা। এরপর ডিন ফক্সকর্ফট ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেননি। তার ৭৫ রানের ইনিংস কেবলই হারের ব্যবধান কমিয়েছে।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শুরুতেই সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার সাইফ হাসান। উইলিয়াম ও’উরকের বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। আউট হওয়ার আগে রানের খাতাই খুলতে পারেননি এই ডানহাতি ব্যাটার।

ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আগের ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম। ৫ বলে ১ রান করেন তিনি। ৯ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরান চেষ্টা চালান নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। কিন্তু এই জুটিটাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। ২৬ বলে ১৮ রান করে আউট হন সৌম্য।

চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। শুরুতে দেখে-শুনে ব্যাট করতে থাকলেও ক্রমেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন তারা। তাতেই বাড়তে থাকে বাংলাদেশের ইনিংস। জুটিতে দুজন মিলে তোলেন ১৬০ রান। তাতেই ভালো সংগ্রহের ভিত পেয়েছে টাইগাররা। ফিফটি পূরণের পর ৭৬ রানে থামেন লিটন।

এ দিকে ফিফটির পূরণের পর সেঞ্চুরিও তুলে নেন শান্ত। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতরানের ইনিংস। শান্তর ইনিংস থামে ১০৫ রানে। ১১৯ বলে খেলা তার এই অনবদ্য ইনিংসটি ৯টি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।

এ ছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ২২, শরিফুল ইসলাম ১, তানভীর ইসলাম শূন্য রানে আউট হন। এ ছাড়া ৩৩ রানে তাওহীদ হৃদয় ও ৩ রানে মুস্তাফিজুর রহমান অপরাজিত থাকেন।