খুঁজুন
, ,

ইয়াসমিন হত্যা: জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল প্রধান আসামি বাবলু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 2 September, 2021, 12:35 am
ইয়াসমিন হত্যা: জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল প্রধান আসামি বাবলু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃচট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গৃহবধূ ইয়াছমিন আকতার এ্যানী (২৪) হত্যায় গ্রেফতার প্রধান আসামি বাবলু দে জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

গত ২১ আগস্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বন আদালত) বেগম আঞ্জুমান আরা’র আদালতে প্রধান আসামী বাবলু দে স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানবন্দি দেন।

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তীতে বাবলু দে জানায়, ০৩ আগস্ট। দুপুর আড়াইটার দিকের ঘটনা। ২০১৫ সালে আমি বান্দরটিলা জব করতাম। তখন ইয়াছমিন আক্তার এনির সাথে আমার মাত্র পরিচয়। তখন আমাদের দুজনের মধ্যে একটা সম্পর্ক হয়। ২০১৭ সালে ডিসেম্বরে আমরা কালি মন্দিরে বিয়ে করি। তারপর আমরা একটা ভাড়া বাসা নিই।

নগরীর বাহার সিগন্যালে এক বছরের কাছাকাছি থাকি। পড়ে আমার স্ত্রী গর্ভবতী হলে গ্রামের বাড়ি চলে যায়। পরে আমাদের একটা মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। আমি সপ্তাহে বাড়ি আসা যাওয়া করি। পরে স্ত্রী তাকে শহরে নিয়ে আসতে বলে। আমি রাজী হই নাই আনতে। রাজি না হওয়ায় আমাদের মধ্যে তর্ক বিতর্ক হয়। তারপর রাগের মাথায় বউকে জোরে তাপ্পড মারি। তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন মুখে চোখে আমি পানি দেই। পরে ডাক্তার আসে, ডাক্তার এসে বলে সে মারা গেছে। আমাদের বাড়ির পাশের ফার্মেসির ডাক্তার। পরে ডাক্তার চলে যায়।’

আমি পরে আমার বন্ধু সুমনদে কে ফোন করে একটা সিএনজি আনি। বউকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে। গিয়ে অর্ধেক রাস্তা থেকে আবার বাড়িতে যাই। পরে আমি এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান মাতব্বরকে বিষয়টি জানাই। আর এ্যানির বড় বোনকে ফোনে জানাই। বলেছি এ্যানি স্ট্রোক করে মারা গেছে। তারা বলে লাশ রাখার জন্য। কিন্তু মেম্বার চেয়ারম্যান বলে লাশ পুড়িয়ে ফেলতে। পরে পুড়িয়ে ফেলি। পরে পুলিশকে মেম্বার চেয়ারম্যান খবর দেয়। আমি ইচ্ছা করে মারিনি কিভাবে হয়েছে জানি না। এটাই আমার জবানবন্দি।’

গত ৩ আগস্ট ইয়াসমিন আক্তার এ্যানীকে বোয়ালখালীর খরনদ্বীপ জৈষ্ঠপুরা বাড়ীতে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলে তার স্বামী বাবলু দে।

এনিয়ে গত ১৬ আগস্ট, চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা (নং-১২৯/২০২১) দায়র করেন। মামলায় স্বামী বাবলু দে ও এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারসহ ১৮ জনকে আসামী করা হয়। বোয়ালখালী থানার মামলা নং-২১ (৮) ২১।

বোয়ালখালী উপজেলার জৈষ্ঠপুরা গ্রামের অন্যান্য আসামিরা হলেন-চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের রতন চৌধুরী (৪৯), সাধন মহাজন (৬০), নিমাই দে (৪৫), শংকর দত্ত (৩৩), অরবিন্দ মহাজন (৫০), অরুন দাশ (৫০), দিলীপ দেব (৪৫), প্রদীপ সুত্রধর (৪০), রাম প্রসাদ (৩৮), রনি দে (৩০), অরুপ মহাজন (৪২), সমর দাশ (৫৫), রবীন্দ্র ধর (৬০), নিপুন সেন (৬০), মো. মোকারম চেয়ারম্যান, ইউসুফ প্রকাশ ড্রেজার ইউসুফ (৩৫) ও পবন দাশ (৫৫)।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘বাদী আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন বিএইচআরএফের সহায়তায় মামলা দায়ের করা হয়।’
এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রধান আসামিকে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

মামলার বাদী রোকসানা বেগম বলেন, ‘পুলিশ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পারছে না। উল্টো আসামিরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। হত্যাকারীরা বোয়ালখালীতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে আমরা আতঙ্কে দিন পার করছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, ‘পুড়িয়ে মেরেছে এটা সত্য নয়। এ রকম অদ্ভুত কথা কে বলেছে। একজন হিন্দু ছেলে মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করেছে। পরে মেয়েটি হিন্দু হয়েছে। মেয়েটি মারা গেলে ঐ ছেলে নিয়মানুসারে সৎকার করেছে।’

ওসি আরো বলেন, মামলা হওয়ার প্রধান আসামিকে ধরা হয়েছে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে এটাও সত্য নয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধরা হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটিয়া সার্কেল) তারিক রহমান এর সাথে যোগাযোগ করেও কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Feb2
Feb2

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 7:23 pm
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

এর আগে আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের লতিফ সিদ্দিকী জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সে সময় তিনি বলেন, এর আগে গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রোববার বা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় তাকে আসামি করা হয়। কয়েক মাস পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলাটি এখনো চলছে।

আজ আদালতে এই মামলায় হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ সকালে আমাকে জানানো হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমি জানি, আজ যদি আদালতে না আসতাম, তাহলে মনে করা হতো আমি আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না, সব সময় আত্মপ্রকাশ করি। সে কারণেই আজ আদালতে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা সেই তাহসিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 6:42 pm
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা সেই তাহসিন

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী আয়োজনে একটি ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। হাজারো শিশুর ভিড়ে স্কুলড্রেস পরা এক কিশোরের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া দুটি হাত আর চোখেমুখে উচ্ছ্বসিত হাসি স্পর্শ করে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। সেই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। কিন্তু ছবির হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর বেদনার গল্প।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন হারিয়েছিল তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়লেও সেদিন তারা ছিল দুটি আলাদা ভবনে। তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, আর তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে তাসনিয়াদের ভবনে।

বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন দৌড়ে যায় বড় বোনকে খুঁজতে। কারও কাছ থেকে শুনেছিল স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন। বড় বোনের জন্য ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তাহসিন। কিন্তু সেই অপেক্ষার আর অবসান হয়নি।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সেই দুর্ঘটনার পর বদলে যায় তাহসিন। এক হিলিং সেশনে সে কাগজে লিখেছিল, ‘‘আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।’’

বোনকে হারানোর পর থেকে তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেতো না।

কিন্তু গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেন দেখা মিলল অন্য এক তাহসিনের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন তার কাছাকাছি আসার মুহূর্তে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুটি। সেই নির্মল হাসি আর উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ তাহসিনের হাসির সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি মিলিয়ে নেন।

পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ছবির সেই হাসিমাখা মুখটির পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ইতিহাস। বিষয়টি জানার পর তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। পরিবারে তার নার্সারিতে পড়ুয়া আরও একটি ছোট বোন রয়েছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং বড় হয়ে কী হতে চায়, তা জানতে চান। তাহসিন জানায়, সে বড় হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। এছাড়া এমন কিছু করতে চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে এবং যার প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার শখ ফুটবল খেলা।

প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল এবং ড্রোনসেট উপহার হিসেবে তুলে দেন তাহসিনের হাতে।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত। এমন একটি সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একেবারে সারপ্রাইজ। সে বলে, স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার গল্প শোনানোর জন্য সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একেবারে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন। তাই তার মোটেও নার্ভাস লাগেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখেছে সে। সেখানে রাখা গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানায় তাহসিন। বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে সেলফিও তুলেছে সে।

মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 29 July, 2026, 3:47 pm
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার সবাই শুটার।’

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

অভিযানে যশোর জেলা পুলিশের বিশেষায়িত একটি দল অংশ নেয়।

ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে দুই বছর ধরে বেশি কিছু চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তাঁর নাম আলোচনায় আসে।

কে এই ইমন
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট অন্তত ১৫টি মামলার আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন ইমন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।