খুঁজুন
সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম আদালত ভবনে পুলিশ চেক পোস্টে বোমা হামলা রায়ে বোমা মিজানের ফাঁসির রায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রাম আদালত ভবনে পুলিশ চেক পোস্টে বোমা হামলা রায়ে বোমা মিজানের ফাঁসির রায়

চট্টগ্রাম আদালত ভবনে পুলিশ চেক পোস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলা মামলার রায়ে জেএমবির শীর্ষ নেতা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজানকে ফাঁসির রায় এবং অপর আসামী জাবেদ ইকবালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দিয়েছে আদালত।বোমা হামলার ঘটনার প্রায় ১৬ বছরের মাথায় আজ রবিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হালিমের আদালতে মামলার যায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মনোরঞ্জন দাশ বলেন, এ মামলার মোট ৫ জন আসামী ছিল। তারা হলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই এবং জেএমবির সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, জেএমবির শীর্ষ নেতা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ও জাবেদ ইকবাল। এর মধ্যে প্রথম তিনজনকে অন্য মামলায় ফাঁসি হওয়ায় তাদের নাম এ মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়। মামলার একমাত্র আটক আসামী জঙ্গি জাবেদ ইকবাল কারাগারে আটক আছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বোমা মিজান বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

জানাগেছে, ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে হাজিরা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহের আদালতে নেওয়ার পথে ত্রিশাল এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় অন্য জঙ্গিরা। এর মধ্যে একজন বোমা মিজান। এরপর বোমা মিজানকে আর গ্রেফতার করা যায়নি। অপর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামী জাবেদ ইকবালকে রায় ঘোষণাকালে আদালতে হাজির করা হয়।উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের পুলিশ চেক পোস্টের সামনে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। ঘটনাস্থলে মারা যান পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও ফুটবলার শাহাবুদ্দীন। আহত হন পুলিশ কনস্টেবল আবু রায়হান, সামসুল কবির, রফিকুল ইসলাম, আবদুল মজিদসহ ১০ জন।

আদালত সূত্রে জানা যায়,এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালী থানায় দায়েনকৃত মামলায় (মামলা নং- ৩৮(১১)২০০৫)পরের বছর ২০০৬ সালের ১৮ মে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক হ্লা চিং প্রু জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ ও বোমা তৈরির কারিগর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে অন্য একটি মামলায় বাকি তিনজন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই এবং জেএমবির সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি নামের তিন আসামির ফাঁসির আদেশ হয়। ফলে এ মামলা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলার বিচার চলছিল প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে।

২০০৮ সালে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করা যায়নি। পরে মামলাটি প্রথম অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফেরত যায়। পরে পুনঃরায় ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় ট্রাইব্যুনালে পাঠান চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ। ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের গঠন করা হলে চট্টগ্রামের জঙ্গিদের সব মামলা এই ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। একই বছর ৬ আগস্ট মামলাটি সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে রিসিভ করেন। চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ৬৭/২০১৮।মামলার একমাত্র আটক আসামী জঙ্গি জাবেদ ইকবাল কারাগারে আটক আছেন। বোমা মিজানকে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে হাজিরা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহের আদালতে নেওয়া হয়। পথে ত্রিশাল এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় অন্য জঙ্গিরা। এর মধ্যে একজন বোমা মিজান। এরপর বোমা মিজানকে আর গ্রেফতার করা যায়নি।দীর্ঘ ১৬ বছর মামলা চলার পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এবং মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ৩২ জনের সাক্ষী আদালতে হাজির করেছেন। আসামী পক্ষে আসামী জাবেদ ইকবাল নিজেই সাক্ষী দিয়েছেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আলামত জব্দের মধ্য দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে রাষ্ট্র পক্ষ সক্ষম হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি।

Feb2

বেতন বাড়লো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
বেতন বাড়লো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের (সমমর্যাদার সহ) সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং উপমন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের একান্ত সচিবদের (পিএস) বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এখন থেকে তাদের মূল বেতন হবে ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা।

আগে তারা জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ নবম গ্রেডে (২২০০০-৫৩০৬০ টাকা) নিয়োগ পেতেন। অর্থাৎ মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। সেই হিসাবে তাদের মূল বেতন এখন বাড়লো।

সম্প্রতি এ বেতন নির্ধারণ করে দিয়ে অর্থ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ৩১ মার্চ এ বিষয়ে মতামত জানতে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অর্থ বিভাগ চিঠিতে জানিয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি চাকরির বাইর থেকে অস্থায়ীভাবে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) অভিপ্রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী একান্ত সচিব এবং উপমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) অভিপ্রায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একান্ত সচিবদের মূল বেতন শর্তসাপেক্ষে ‌‘জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫’ এর নবম গ্রেডের অষ্টম ধাপে ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা নির্ধারণে মতামত প্রদান করা হলো।

শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- মূল বেতন নির্ধারিত। কোনো প্রকার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি প্রযোজ্য হবে না। বিধি মোতাবেক প্রযোজ্য অন্যান্য ভাতাদি পাবেন। কোন প্রকার পেনশন, আনুতোষিক এবং ভবিষ্য তহবিলের সুবিধাদি পাবেন না।

এই মূল বেতন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) সহকারী একান্ত সচিব ও উপমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) একান্ত সচিব পদে শুধুমাত্র সরকারি চাকরির বাইর থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলেও মতামতে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

নগরীকে যানজটমুক্ত করতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
নগরীকে যানজটমুক্ত করতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্ভাব্য রুট ও অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)-এর প্রতিনিধি দল।

রোববার পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল শহরের গুরুত্বপূর্ণ করিডরগুলো ঘুরে দেখে সম্ভাব্য রুট ও যাত্রী চাহিদা বিশ্লেষণ করেন। দলটি কালুরঘাট, অক্সিজেন, আমিন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (ম্যাস ট্রানজিট) ও যুগ্মসচিব আবদুল লতিফ খান, ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া (সিএমএ)’ প্রকল্পের পরিচালক ও ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার ও ম্যাস ট্রানজিট প্ল্যানার মুহাম্মদ আবদুর রকিব, সহকারী ম্যাস ট্রানজিট ইঞ্জিনিয়ার (বিআরটি) মো. ইনজামুল হক মেহেদী, চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত এবং আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণ যেন অল্প সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারে—এটাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামে যানজট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে মনোরেল একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে বলে তিনি মত দেন। তিনি জানান, মনোরেল বাংলাদেশে এখনো বাস্তবায়িত না হলেও এটি তুলনামূলকভাবে কম জায়গা ও ব্যয়ে নির্মাণযোগ্য একটি আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে অক্সিজেন–চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি গেট, আগ্রাবাদ এবং পতেঙ্গা–বিমানবন্দরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ করিডরকে সম্ভাব্য রুট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে ডিটিসিএ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরের সার্বিক পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এই পরিকল্পনায় মনোরেল, মেট্রোরেল, লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি), সড়ক অবকাঠামো এবং জলপথ—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, পুরো নগরের ট্রাফিক পরিস্থিতি, যাত্রী চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ পরিবহন প্রয়োজন বিশ্লেষণ করে কোন রুটে কী ধরনের গণপরিবহন সবচেয়ে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। উচ্চ যাত্রীচাহিদাসম্পন্ন রুটে মেট্রোরেল, মাঝারি চাহিদার রুটে লাইট রেল এবং অপেক্ষাকৃত কম চাহিদার রুটে মনোরেল নির্মাণের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মনোরেলের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ডিটিসিএ-এর প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম সফর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. মশিউর রহমান আরও বলেন, বর্তমানে ডিমান্ড অ্যানালাইসিস ও কারিগরি মূল্যায়নের কাজ চলছে। এই বিশ্লেষণ সম্পন্ন হওয়ার পরই কোন রুটে কোন ধরনের রেলভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যান ও সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ সময় গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের এককভাবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কঠিন। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে বিকল্প অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, একটি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে পুরো মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের মূল চাহিদা হলো সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে, বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করবে।

আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্ভাব্য রুট, স্টেশন, ডিপো এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিটিসিএ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্ভাব্য স্থানসমূহ পরিদর্শন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি বিশেষ কারিগরি টিম গঠন করেছে। এই টিম সম্ভাব্যতা যাচাই, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়।

‘কিডনীর মত জঠিল রোগ প্রতিরোধে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করতে চাই’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
‘কিডনীর মত জঠিল রোগ প্রতিরোধে দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করতে চাই’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, কিডনী রোগীরা বড়ই অসহায়। ভেজাল খাবার খেয়ে মানুষ কিডনী রোগের মতো মারাত্মক জঠিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। যারা কিডনী রোগে আক্রান্ত তাদেরকে সুচিকিৎসার মাধ্যমে কিভাবে বাচিঁয়ে রাখা যায় সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ইতোমধ্যে যারা কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে কিভাবে সাপোর্ট দেয়া যায়, আর যারা আক্রান্ত হয়নি তাদের জন্য কি করা যায়-সে বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কিডনী রোগের মত জঠিল রোগ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু করতে চাই। ভেজাল খাবার ও ভেজার ওষুধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি কিডনী রোগ প্রতিরোধে সর্বত্র জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

আজ ৭ জুন রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত কিডনী রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করেন।

ডিসি বলেন, ১৮ কোট মানুষের দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনী সমস্যায় ভূগছেন। মানুষকে সচেতন করতে না পারলে হাসপাতালে বেশি বেশি করে ডায়ালাইসিস মেশিন সংযোজন করলেও কিডনী রোগীর সমস্যা সমাধান হবে না। কিডনী সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্তকরণ ও সঠিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আগামীতে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের মানুষকে সুস্থ রাখতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ শরীফ উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। মূল

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার। সেমিনারে কিডনী রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার আবু বক্কর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনী রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক (ডা.) মোঃ নুরুল হুদা, কিডনী ফাউন্ডেশনের পরিচালক অধ্যাপক (ডা.) মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম.এ মালেক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোঃ মোরশেদ হোসেন, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম’র সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নুরুল ইসলাম, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহান ইসলাম, চমেক হাসপাতাল রোগী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সদস্য জিয়াউদ্দীন খালেদ চৌধুরী। বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্টেকহোল্ডার ও এনজিও কর্মকর্তাগণ সেমিনারে অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কিডনী বিকল রোগ এক আর্থ সামাজিক আতংক। কিডনী বিকল রোগের ব্যাপকতা, রোগের চিকিৎসার সুযোগ, ব্যায়সাধ্যতা, জঠিল প্রযুক্তি নির্ভরতা এবং দক্ষ চিকিৎসা সেবা কর্মীর প্রয়োজনীয়তা এ রোগের চিকিৎসা পুনর্বাসন রোগীর বা তার পরিবারের একার পক্ষে চালিয়ে যাওয়াকে খুবই দুরহ করেছে। অনুমিত প্রায় সকলেই কিডনী বিকল রোগের ঝুকিঁতে আছেন। গোষ্টী বা সামষ্টিক সহায়তা ছাড়া কিডনী বিকলতার যথাযথ চিকিৎসা পুনর্বাসন কখনই সম্ভব নয়। ফলে রোগীগণ যাদের ডায়ালাইসিসের বা কিডনী প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় তাদেও সীমাহীন কষ্টের শিকার হতে হয়।

সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা বলেন, কিডনী রোগ প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিডনী সেবাকে অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা, কিডনী প্রতিস্থাপন সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত সার্বজনীন স্বাস্থ্য চিকিৎসা বাস্তবায়িত হলে কিডনী রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। কারণ কিডনী রোগ দীর্ঘ দিন নীরবে বৃদ্ধি পায় এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ায় এ রোগ জটিল আকার ধারণ করে।

বক্তারা আরও বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয় ব্যয় নামমাত্র। তাই রোগ নির্ণয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই ব্যায়ভার শুধু ব্যক্তি রোগীর উপর নয় অথবা রোগীর পরিবারের উপরও নয়, বরং এই চিকিৎসা সাপোর্ট দেওয়া সমগ্র জাতির জন্য, সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত দূরহ কাজ। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার অভিভাবক হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই কিডনি রোগে প্রতিকারের ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।