খুঁজুন
বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন হবে: কাদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন হবে: কাদের

kader-1

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন করা হবে বলে জানিয়েছন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘মূল চার লেন সড়কের পাশে ছোট যানবাহনের জন্য হবে আরও দুটি সার্ভিস লেন। ফান্ডিংয়ের অভাবে আগে থেকে কাজ শুরু করা যায়নি। এবার ছয় লেন করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ফান্ড দেবে। কাজের অগ্রগতি খুব দ্রুত হবে।’

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সিলেটে সড়ক জোন অফিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে করিমন, নসিমনসহ তিন চাকার যান চলাচল বন্ধে কাজ চলছে। এ যানের আমদানির বিষয়টা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। আমদানি বন্ধ করতে একাধিক চিঠি দিয়েছি। এছাড়া নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করতে ব্যবস্থা নিতে আগে থেকেই প্রশাসনকে বলে রাখা আছে।’

ক্যাসিনোর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্যাসিনোর টাকার ভাগ যারা পেয়েছে, তারা আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য দলের অথবা পুলিশ প্রশাসনের হলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় না দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

Feb2

আমরা জনগণের বিজয়ের অপেক্ষায় আছি: জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
আমরা জনগণের বিজয়ের অপেক্ষায় আছি: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা জনগণের বিজয়ের অপেক্ষায় আছি। এ অবস্থায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের সব কর্মকর্তার উচিত হবে নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের জরুরি বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি অতীত রাজনীতির ভুক্তভোগী। আমরা জাতিকে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়বিচার সম্পন্ন এক মানবিক বাংলাদেশ উপহার দেব।

তিনি বলেন, পরপর ৪টি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সামনের নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী উৎসবের আমেজ বইছে। গণরায় প্রতিষ্ঠা হলে জাতির আনন্দ পূর্ণতা পাবে।

জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক অপপ্রচার হতে পারে। জনগণকে আহ্বান জানাব ১১ দলের কেন্দ্রীয় বক্তব্য ছাড়া অন্য কোনো বক্তব্যকে নির্দেশনা হিসেবে না নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ ভোট ডাকাতি করতে এলে আমরা জনগণকে আহ্বান জানাব প্রতিহত করার।

নিরঙ্কুশ জয়ের প্রত্যাশা, তবে সামনে ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
নিরঙ্কুশ জয়ের প্রত্যাশা, তবে সামনে ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ী হলে সামনে তার জন্য ‘বড়’ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের আমলে লুটপাট হওয়া দেশকে মেরামতের অঙ্গীকার রয়েছে তার। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা; যাতে ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন উৎখাতের পর দেশকে গ্রাস করা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটে।

তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘আমাদের দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকেন।’’ তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় এই দেশের সামনের কাজ হবে অত্যন্ত কঠিন।

ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদেরকে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শাসনামলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস হয়েছে।’’

ভোটে এগিয়ে থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে তারেক রহমানের বিএনপি। নিজ কার্যালয়ে তার প্রয়াত বাবা-মা, বাংলাদেশের সাবেক নেতা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো প্রতিকৃতি ঝুলছে। সেখানে বসে মৃদুভাষী বিএনপির এই নেতা এএফপিকে বলেছেন, তিনি নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব—একটি বড় ম্যান্ডেট।’’ বর্তমান তার দলের জোটের বাইরে কোনও জোটের প্রয়োজন দেখছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘নিজেদের সরকার গঠনের মতো আমরা পর্যাপ্ত আসন পাবো।’’

• বাবা-মায়ের চেয়েও ভালো করতে চান
শেখ হাসিনার শাসনামলে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই ৮০ বছর বয়সে মারা যান বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী তার মা বেগম খালেদা জিয়া। এরপর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

খ্যাতিমান বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘তারা ছিলেন তারা। আর আমি আমিই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তিনিও আজীবন রাজনীতিতে কাটিয়েছেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি তাদের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করব।

নির্বাচিত হলে তার সামনে থাকা শীর্ষ কাজগুলোর একটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক উৎপাদনকারী দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করা। তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে; অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘‘দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার রয়েছেন। আমাদের এই তরুণদের চাকরির জন্য ব্যবসা সৃষ্টি করতে হবে।’’ বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন।

• প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক
বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকায় পররাষ্ট্র সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমার জনগণের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থই সবার আগে। তবে বাংলাদেশ আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত ‘‘প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’’ চায়।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের দেখভালের জন্য একসময় প্রশংসিত হলেও শেখ হাসিনা এমন এক সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন; যে সরকার ভিন্নমত দমন করেছে এবং বিশেষ করে বৃহৎ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ব্যাপক লুটপাটে অভিযুক্ত।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যা দেখছি, তা হলো মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকজন মানুষকে অত্যন্ত ধনী করা হয়েছে। কিন্তু দেশের বাকি অংশ; পুরো জনগণ কিছুই পায়নি।’’

তবে আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেন তারেক রহমান। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবারের নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে।

তারেক রহমান বলেন, নিশ্চয়ই, কেউ যদি কোনও ধরনের অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত।

ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান : প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে— এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।”

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ-নির্ধারক মুহূর্তে। আর মাত্র একদিন পরই সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার সাথে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন।”

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাফল্যের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আপামর জনগণের—বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের—আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট কোনোটিই সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী। প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু দিন আসে, যার তাৎপর্য থাকে সুদূরপ্রসারী, যেদিন নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র এবং স্থায়িত্ব ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য। আগামী পরশু ঠিক তেমনই একটি দিন, যেদিন দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করব এবং পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করব।”

“ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাগ করে নেওয়াকে আমি আমার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করেছি।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল। এজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতিটি সদস্যকে। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আশাব্যঞ্জক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছি।”

‘তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া— কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয়।’

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা এ যাবৎকালের যেকোনো নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।

এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

“এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না একই সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাব— এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট। আমি সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। বিজয় যেমন গণতন্ত্রের অংশ, তেমনি পরাজয়ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য সত্য। নির্বাচনের পর সবাই মিলে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করুন।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমি বিশেষভাবে কথা বলতে চাই আমাদের তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সঙ্গে। আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে। তবু আপনারা আশা ছাড়েননি। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে। বিশেষ করে আমাদের নারীরা-মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবকটি গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নারীরাই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এ দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত। ক্ষুদ্রঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা— এই শব্দগুলোর পেছনে আছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প। আপনারা ঘরে, রাজপথে সমানভাবে সংগ্রাম করেছেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ আগলে রেখেছেন, সমাজকে টিকিয়ে রেখেছেন, অথচ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন। এই নির্বাচন আপনাদের জন্য এক নতুন সূচনা। আর আমাদের তরুণরা— যাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি এই ভোট আপনাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ।”