খুঁজুন
, ,

তর্কে নয়, মাঠে জিতুন মাহমুদউল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 25 October, 2021, 7:05 pm
তর্কে নয়, মাঠে জিতুন মাহমুদউল্লাহ

কোথায় যেন ছন্দপতন; কোনোকিছু ঠিকঠাক চলছে না তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট! অনুশীলনে, মাঠে এমনকি সংবাদ সম্মেলন কক্ষেও চেনা মুখগুলো কেমন যেন অচেনা! কোনো কথা বা সমালোচনা কিছুই হজম করতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। হাসিমুখের জায়গায় কথাবার্তায় কেমন যেন ঔদ্ধত্য ও আক্রমণাত্মক ভঙ্গি! মাহমুদউল্লাহ থেকে মুশফিক, জাতীয় দলের ক্রিকেটার প্রায় সবাই!

বেশিদূর যাওয়ার দরকার নেই। রোববার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা হারের পর মুশফিকুর রহিম শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে এসে যা বললেন, সেটাও ঠিক চেনা মুশফিকের মেজাজের সঙ্গে যায় না।

বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচটা তো জিততেই পারত বাংলাদেশ। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ভুল ক্যাপ্টেন্সি আর লিটন দাসের দুটো সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় সব সর্বনাশ। ৫ উইকেটে ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়ল টাইগাররা।

এরপর যদি তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে আর জবাবে মুশফিকের মতো একজন সাবেক অধিনায়ক যদি সমালোচকদের ‘আয়নায় নিজেদের মুখ’ দেখতে পরামর্শ দেন-তখন বিস্মিত না হয়ে উপায় আছে? তবে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে-পরের কিছু দৃশ্যপট যদি জানা থাকে তবে নিশ্চয়ই টাইম লাইনটাও মেলাতে পারবেন। গত কিছুদিন ধরেই ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তা থেকে শুরু করে আমজনতা যেমন সমালোচনায় মুখর, তেমনি ক্রিকেটাররাও বেশ সরব। ছেড়ে কথা বলছেন না! মাঝখান থেকে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে দেশের ক্রিকেট।

নিশ্চয়ই জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা গর্বের ব্যাপার। সবার সেই যোগ্যতা নেই, সৌভাগ্যও হয় না। কিন্তু তাই বলে ক্রিকেটাররা ভুল করলে, মাঠে বাজে পারফরম্যান্স হলে তা নিয়ে দুটো কথা বলা যাবে না? বাংলাদেশের মানুষদের ক্রিকেট আবেগটা তো জানাই আছে ক্রিকেটারদের। দুবাই-শারজায় এসে সেটা আরও একবার দেখলাম। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েও সাকিব-মুশফিকদের খেলা দেখবেন বলে ছুটে এসেছেন অনেকে। কেউ আবার বেতন কাটা যাবে জেনেও চলে এসেছেন মাঠে।

রক্ত-ঘামে অর্জিত দিরহাম খরচ করে খেলা দেখতে এসে সেই প্রবাসী দর্শকরা যদি দুটো কথা বলেই থাকেন, তাদেরও কি আয়নায় মুখ দেখতে বলবেন মুশফিক? এটা তো ভুললে চলবে না, কিছু জায়গায় আমরা সেই তিমিরেই দাঁড়িয়ে। সিনিয়র কয়েকজন ক্রিকেটার ছাড়া বাকিরা সুযোগের পর সুযোগ পাচ্ছেন কিন্তু ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি। অভিষেকের অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও তাদের নিয়ে আগ্রহের সীমা নেই নির্বাচকদের!

টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি বাড়াতে দেশের মাঠে ডেকে নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হারানোতে কতটা কী লাভ হয়েছে সেটা তো ওমান-আমিরাতেই দেখছি আমরা। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের আগে অনুশীলন ম্যাচের দুটিতেই হারল দল। মূল পর্বে স্কটল্যান্ডের কাছে হার। এবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আসল লড়াইয়ে অনেক ভুলের জন্ম দিয়ে পথ হারানো!

যেখানে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কিছু সিদ্ধান্তকে তো প্রশ্নবিদ্ধ করাই যায়! সাকিব আল হাসান যখন সাফল্য পাচ্ছিলেন, তখন কিনা তাকে বোলিং থেকে দূরে রাখলেন। আবার যখন নিয়ে আসলেন তখন বড্ড দেরি হয়ে গেছে। আবার নিজেও চলে আসলেন বোলিংয়ে। আফিফ হোসেনকেও যে ম্যাচের সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেন বোলিংয়ে আনলেন! সঙ্গে লিটন দাসের দুটো ক্যাচ মিস তো আছেই। যার কল্যাণেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছেড়েছে লঙ্কানরা।

ঠিক এই অবস্থাতেও কি একটু সমালোচনা করা যাবে না? কাঠগড়ায় তোলা না হোক- কেউ লিটন দাসকে নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না? যিনি ক্যারিয়ারের অর্ধযুগ পেরিয়েও সেই সম্ভাবনার কোটায় খেলে যাচ্ছেন, সুযোগ পাচ্ছেন একের পর এক ম্যাচ!

বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন বড় অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে চারপাশ। একটু সমালোচনাও সহ্য হয় না! অথচ অন্য যে কোনো দেশে এরচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তানে। আর ক্রিকেটারদের এটা তো ভুলে গেলে চলবে না তারা এখানে কেউ বিনামূল্যে চ্যারিটি ওয়ার্ক করতে আসেননি। পেশাদারি জগতে এমন আবেগী হয়ে কথা বলার সুযোগ আছে? প্রশ্ন তো উঠতেই পারে।

অবশ্য তাদের কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। কেউ তো আর ইচ্ছে করে খারাপ খেলে না। কিন্তু পারফরম্যান্সের উন্নতি করতে হবে। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরে তাদের কথার খই ফুটানোটাও বন্ধ করতে হবে। দেশের ক্রিকেটের যারা সামান্য খোঁজ রাখেন তারা জানেন ক্রিকেট কিছু জায়গায় থমকে আছে। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম কিংবা মুস্তাফিজুর রহমান ছাড়া অন্যরা কেন বিশ্বমানের হতে পারছেন না?

কেউ সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন তো যাচ্ছেনই, এগিয়ে যাওয়ার তাড়নাটাও কোথায় যেন কর্পূরের মতো উবে যায়! নিজেদের আরেক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা আছে কি না সেই প্রশ্নটাও তো ঘুরপাক খাচ্ছে! একটা বিশ্বকাপ মিশনে দল, যেখানে গোটা জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে মুশফিক-রিয়াদরা। সেই তারাই যখন সমালোচক-ভক্তদের আয়নায় মুখ দেখতে বলেন, তখনই বোঝা যায় মাঠের বাইশ গজের ক্রিকেটের চেয়ে অন্যদিকেই তাদের ফোকাস বেশি।

জাতীয় দলের হয়ে খেলে যে আনন্দ ও সুখ পান মাহমুদউল্লাহরা, মাঠের বাইরে গ্যালারির এক কোনায় অথবা বাসার টিভি সেটের সামনে বসে বাংলাদেশের জার্সি পরা সমর্থকরাও তখন একই গর্বে গর্বিত। সেই সমর্থক হয়তো মাঠে খেলার সুযোগ পান না, কিন্তু হাতে দোলানো বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে তিনিও এই দলের অংশীদার, অন্যতম দাবিদার!

মাঠের বাইরে অনেক কথাই উঠবে। কিন্তু মাঠের বাইরে সেই কথার তর্কে জিতে তো আপনি বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ফিরতে পারবেন না। বিশ্বকাপে ভাল করতে হলে ক্রিকেটারদের শুধু মাঠেই খেলতে হবে। জিততে হবে সেখানেই।

পরের ম্যাচের আগে মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকরা এখন এটা জানলেই হয়!

Feb2

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 27 June, 2026, 12:55 am
মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফর।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসময় বিএনপির সিনিয়র নেতারাও বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানান।

 

এর আগে আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও একই ফ্লাইটে এসেছেন।

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী চীনের পথে যাত্রা করেন।

২১ জুন মালয়েশিয়া পৌঁছান তারেক রহমান। এ সফরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং পরে সীমিত পরিসরে আলোচনা হয়। এতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। পরবর্তীতে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বৃহত্তর পরিসরে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন: মাহদী আমিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 2:08 pm
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন: মাহদী আমিন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন। এ কারণে আমাদের একটা বড় সুযোগ রয়েছে। একদিকে, তারা যেমন সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার, একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও চীনে রপ্তানি হয়। তবে তুলনামূলকভাবে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে হোটেল ‘দাইওইউতাই’-এ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারি কিনা, ডাইভার্সিফাই কীভাবে করতে পারি? বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে আমাদের ডিউটি ফ্রি ইমপোর্ট চীনে রয়েছে। এ থেকে আরো কীভাবে সুবিধা পাওয়া যায় তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে চীনের বিশাল বাজারে রপ্তানির সুযোগ কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, তিস্তা প্রজেক্টের বিষয়ে আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারই আলোকে এই মহাপরিকল্পনার প্ল্যানিং স্টেজ থেকে শুরু করে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রোভাইড করা, তার উপর ভিত্তি করে আমাদের প্রজেক্ট ডিজাইন করা, প্ল্যানিং, এক্সিকিউশন সব জায়গাতে ধারাবাহিকভাবে চীন সরকার যুক্ত হবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করাটা খুব প্রয়োজন। এত বড় একটি প্রজেক্টে সেই জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে চীন কাজ করতে চায় এবং টোটাল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের ড্রেনেজ সিস্টেমে যে বিশেষজ্ঞ যেখানে রয়েছেন সেটি বাংলাদেশের কাজে লাগানো সম্ভব। দুই দেশের সরকার প্রধানই এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।’

মাহদী আমিন বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় চীনের যে মেগা সাইজ মার্কেট রয়েছে তাতে অবশ্যই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রোডাক্টের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই আমরা যদি আমাদের সাপ্লাই চেইনটাকে সেভাবে উন্নত করতে পারি, চীনের যে ডমেস্টিক ডিমান্ড আছে, সেটার সাথে এলাইন করতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।’

‘চীনের মার্কেটে আমরা অনেক কিছু রপ্তানি করতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে আজ বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল পাঁচ হাজার রপ্তানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এই ধরনের ফ্রুট, ভেজিটেবল, অ্যাগ্রোভেইড প্রোডাক্ট, ফিশারিজ অনেক ক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন ডাইভার্সিফিকেশন করতে পারি।’

একই সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, হাইটেক বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে যেখানে বাংলাদেশে একদিকে যেমন চীনের বিনিয়োগ করা সম্ভব। ঠিক একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে। এজন্য জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান করার বিষয়ে কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবো যেখানে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে বেনিফিট পাওয়া যাবে। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশও রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হবে। একই সঙ্গে চীনও তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রফিট পাবে।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘চীন বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট করতে চায় এবং অবশ্যই চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রাইভেট সেক্টরে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা ডিজিটাল ইকোনমি, আইটি, অ্যাগ্রিকালচার, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’

তিনি বলেন, ‘চীনের কিছু ব্যাংক আগামীতে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে চায়। আমাদের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমটাকে আমরা যেভাবে রিকভারি করছি এবং সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। চীন মনে করছে যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।’

‘চীনেরও বেশ কিছু কোম্পানি রয়েছে, যাদের বিশ্বের উন্নত দেশে অফিস রয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও অফিস করবে। এ বিষয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। আমরা সবসময় চাই পিপলস টু পিপলস কানেক্টিভিটি যেন বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে এসেছে। যেমন এডুকেশনের ক্ষেত্রে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। আমরা এটা শুরু করতে চাচ্ছি এবং এখানে বড় ধরনের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশনে চীন সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এরই মধ্যে তারা হাসপাতাল নিয়ে কাজ করছে। চীনের বিনিয়োগকৃত হাসপাতালের সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে কথা হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা করতে চান। চীনে বাংলাদেশি রোগীদের ভিসা আরো সহজ করা, হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটি কীভাবে বাংলাদেশিদের জন্য বাড়ানো যায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন সহজে চীনা ভিসা পায় এবং স্কলারশিপ বাড়ানোর সুযোগ পায়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতায় স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 1:50 pm
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতায় স্বাক্ষর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের শেষ দিন চীনের তিন ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে নিজ নিজ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের হোটেল দিওয়াউতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই অন্যতম উপদেষ্টা বলেন, ১৭ সমঝোতার মধ্যে ১৩টি হয়েছে দুই দেশের মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি, ৩টি হয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিটার সঙ্গে। বাকি একটি সমঝোতা হয়েছে সরকার দল বিএনপি ও চীনের সরকারি দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রত্যেকটি বৈঠকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুম প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। একইসঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন ও সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান।