খুঁজুন
, ,

বিশ্বজয়ের জন্য প্রস্তুত বাবর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 10 November, 2021, 11:31 am
বিশ্বজয়ের জন্য প্রস্তুত বাবর

যে বাবর আজম মাত্র ১৫ বছর বয়সে নেটে শোয়েব আখতারের বোলিং মোকাবেলা করেছিলেন। সেই বাবরই দুবাইয়ে চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে চির প্রতিদ্বন্দ্বি ভারতকে হারিয়ে জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন। তার আগে টি-২০ ক্রিকেটে ব্যাটার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ স্থানটি দখলে নিয়েছেন।

তবে ভারতকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেয়ার পর পাকিস্তানি ক্রিকেট অধিনায়ককে ‘জহির উদ্দিন বাবর’ হিসেবে অভিহিত করতে থাকেন ধারাভাষ্যকাররা। যিনি ষোল শত শতাব্দিতে মোগল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং শাসন করেছেন ভারতবর্ষ।

পাকিস্তানের জন্য ভাল বিষয়টা হচ্ছে এত কিছুর পরই ২৭ বছর বয়সি বাবর মাটিতেই রাখছেন। আসরে গ্রুপ পর্বের ৫ ম্যাচের সবকটিতেই পাকিস্তানকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। এখন সেমি-ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২৬৪ রান সংগ্রহ করেছেন পাক অধিনায়ক। গত রোববার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বাবর। আসরে এটি ছিল তার চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন অপরাজিত ৬৮ রান।

ভারতের বিপক্ষে ওই ম্যাচে সতীর্থ ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান করেছিলেন অপরাজিত ৭৯ রান। তাদের এ ব্যাটিং নৈপুন্যে চির প্রতিদ্বন্দ্বি ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ১৩ বারের প্রচেষ্টায় প্রথম জয় এনে দিয়েছিল পাকিস্তানকে।

শুধু ভারতের বিপক্ষে নয়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫১ এবং নামিবিয়ার বিপক্ষে ৭০ রান সংগ্রহ করেছেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর। অসাধারণ এই ইনিংস তাকে ফের টি-২০ ক্রিকেটের র‌্যাকিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরিয়ে দিয়েছে। বাবর বলেন, ‘এটি অবশ্যই গর্ব করার মত মুহুর্ত। এই সফলতার মুলে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও লক্ষ্যে অবিচলতা। আমি দিনের পর দিন আরো উন্নতি করতে চাই।’

চলতি বছর এপ্রিলে ওয়ানডে ক্রিকেটে শীর্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির তিন বছরের টানা আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছিলেন বাবর আজম। দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে তিনি যথাক্রমে ১০৩, ৩২ ও ৯৪ রান করেছিলেন। সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে পাকিস্তান। শিশুকাল থেকেই আলো ছড়ানো শুরু করা বাবর ইউটিউবে আঁচড় কেটেছেন ১৩ বছর বয়সে।

২০০৭ সালে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে বল বয়ের দায়িত্ব পালনকালে দক্ষিন আফ্রিকার জেপি ডুমিনির বলে বিশাল এক ছক্কা হাকিয়ে বসেছিলেন। বলটি লং অন দিয়ে সীমানা ছাড়া করেন তিনি। তার ওই ব্যাটিংয়ের স্লো মোশন রিপ্লে দেখে প্রশংসা করেন ধারাভাষ্যকাররা। ছেলের অসাধারন মেধা প্রমানিত হবার পরও বাবরের পিতা আজম সিদ্দিকির দৃঢ় বিশ্বাস ছিল টিনএজ আজম নিজে থেকে খুব বেশী দূর এগুতে পারবে না।

বাবর বলেন, ‘আমার জন্য আশীর্বাদের বিষয় হচ্ছে, আমার বাবা আমাকে যথেষ্ট সমর্থন দিয়ে গেছেন। সত্যিকার অর্থে তিনি এখনো আমাকে ভাল না খেললে, কিংবা বাজে শট খেললে তিরস্কার করেন। অনুর্ধ-১৫ ও অনুর্ধ-১৯ পর্যায়ে দারুন সব শট খেলে সবার দৃস্টি আকর্ষন করেছেন তিনি।

পাকিস্তানের সাবেক ওপেনার মুদাস্সর নাজার ১৯৯৯ সালে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির দায়িত্বরত অবস্থায় তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। বাবর অতীতের ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘১৫ বছর বয়সে আমি যখন অনুর্ধ-১৫ ক্যাম্পে, তখন একদিন জাতীয় দলের অনুশীলনে আমাদের আমন্ত্রন জানানো হয়। আর মুদাস্সর আমাকে শোয়েবের বোলিংয়ের মোকাবেলার সুযোগ দেন।’

২০০৩ বিশ্বকাপে দ্রততম গতির বল করে ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ খেতাব লাভ করেছিলেন শোয়েব আখতার। তার বলের গতি ছিল ঘন্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার। বাবর বলেন, ‘শোয়েব অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেও আমাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই ছেলে তোমাকে বল প্রতিহত করতে হবে। আমি উপরে বল করব। দুই তিনটা ডেলিভারির পর আমি তাকে ড্রাইভ করি। তিনি কিছুটা বিরক্ত হন এবং নতুন বল দিতে বলেন। যেটি দিয়ে তিনি বাউন্সার করেন। তখন আমি হাসফাস করে আশেপাশে তাকাতে তাকি। পরে নেটের বাইরে থেকে মোদাস্সর আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান।’

অবসরে যাওয়া শোয়েব গত বছর আমার ওই ব্যাটিংয়ের কথা স্মরন করেন। তিনি বলেন, ‘তখন থেকেই সে মেধাবি ছিল। এখনো তেমনই আছে। নেটে সে আমাকে আগ্রাসী ব্যাট করেছিল।’

পাকিস্তানের টি-২০ সুপার লিগে কোচের দায়িত্ব পালন করা অস্ট্রেলিয় অল রাউন্ডার টম মুডির বিশ্বাস বাবর বড় একজন তারকা হবেন। এমনকি ছাড়িয়ে যাবেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। গত বছর তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা মনে কর কোহরি ভালো। বাবর আজমের ব্যাটিং দেখ। বাবরকে আমি প্রায় কোহলির মতই মনে করি। ব্যাটসম্যান হিসেবে কোহলি কিভাবে এমন সাবলীল ব্যাট করে আমরা সেটি নিয়ে কথা বলি। তবে যদি কোহলির খেলা দেখতে ভাল লাগে তাহলে বাবর আজমের খেলার দিকেও তাকাও। তার মধ্যেও আলাদা কিছু আছে।’

এন-কে

Feb2

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন: মাহদী আমিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 2:08 pm
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন: মাহদী আমিন

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার চীন। এ কারণে আমাদের একটা বড় সুযোগ রয়েছে। একদিকে, তারা যেমন সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার, একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও চীনে রপ্তানি হয়। তবে তুলনামূলকভাবে চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে হোটেল ‘দাইওইউতাই’-এ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারি কিনা, ডাইভার্সিফাই কীভাবে করতে পারি? বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে আমাদের ডিউটি ফ্রি ইমপোর্ট চীনে রয়েছে। এ থেকে আরো কীভাবে সুবিধা পাওয়া যায় তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগামীতে চীনের বিশাল বাজারে রপ্তানির সুযোগ কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, তিস্তা প্রজেক্টের বিষয়ে আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারই আলোকে এই মহাপরিকল্পনার প্ল্যানিং স্টেজ থেকে শুরু করে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রোভাইড করা, তার উপর ভিত্তি করে আমাদের প্রজেক্ট ডিজাইন করা, প্ল্যানিং, এক্সিকিউশন সব জায়গাতে ধারাবাহিকভাবে চীন সরকার যুক্ত হবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, ‘জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করাটা খুব প্রয়োজন। এত বড় একটি প্রজেক্টে সেই জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে চীন কাজ করতে চায় এবং টোটাল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের ড্রেনেজ সিস্টেমে যে বিশেষজ্ঞ যেখানে রয়েছেন সেটি বাংলাদেশের কাজে লাগানো সম্ভব। দুই দেশের সরকার প্রধানই এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।’

মাহদী আমিন বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় চীনের যে মেগা সাইজ মার্কেট রয়েছে তাতে অবশ্যই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রোডাক্টের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই আমরা যদি আমাদের সাপ্লাই চেইনটাকে সেভাবে উন্নত করতে পারি, চীনের যে ডমেস্টিক ডিমান্ড আছে, সেটার সাথে এলাইন করতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।’

‘চীনের মার্কেটে আমরা অনেক কিছু রপ্তানি করতে পারি। তাৎক্ষণিকভাবে আজ বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল পাঁচ হাজার রপ্তানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এই ধরনের ফ্রুট, ভেজিটেবল, অ্যাগ্রোভেইড প্রোডাক্ট, ফিশারিজ অনেক ক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন ডাইভার্সিফিকেশন করতে পারি।’

একই সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিক, হাইটেক বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে যেখানে বাংলাদেশে একদিকে যেমন চীনের বিনিয়োগ করা সম্ভব। ঠিক একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে। এজন্য জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান করার বিষয়ে কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবো যেখানে কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে বেনিফিট পাওয়া যাবে। এতে একদিকে যেমন বাংলাদেশও রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হবে। একই সঙ্গে চীনও তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রফিট পাবে।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘চীন বাংলাদেশে ইনভেস্টমেন্ট করতে চায় এবং অবশ্যই চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং প্রাইভেট সেক্টরে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা ডিজিটাল ইকোনমি, আইটি, অ্যাগ্রিকালচার, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’

তিনি বলেন, ‘চীনের কিছু ব্যাংক আগামীতে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে চায়। আমাদের ফাইনান্সিয়াল সিস্টেমটাকে আমরা যেভাবে রিকভারি করছি এবং সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। চীন মনে করছে যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।’

‘চীনেরও বেশ কিছু কোম্পানি রয়েছে, যাদের বিশ্বের উন্নত দেশে অফিস রয়েছে, সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও অফিস করবে। এ বিষয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। আমরা সবসময় চাই পিপলস টু পিপলস কানেক্টিভিটি যেন বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে এসেছে। যেমন এডুকেশনের ক্ষেত্রে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ। আমরা এটা শুরু করতে চাচ্ছি এবং এখানে বড় ধরনের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশনে চীন সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এরই মধ্যে তারা হাসপাতাল নিয়ে কাজ করছে। চীনের বিনিয়োগকৃত হাসপাতালের সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে কথা হয়েছে। চীনের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা করতে চান। চীনে বাংলাদেশি রোগীদের ভিসা আরো সহজ করা, হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটি কীভাবে বাংলাদেশিদের জন্য বাড়ানো যায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন সহজে চীনা ভিসা পায় এবং স্কলারশিপ বাড়ানোর সুযোগ পায়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতায় স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 1:50 pm
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতায় স্বাক্ষর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের শেষ দিন চীনের তিন ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাদের মধ্যে নিজ নিজ দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের হোটেল দিওয়াউতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন এসব তথ্য তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই অন্যতম উপদেষ্টা বলেন, ১৭ সমঝোতার মধ্যে ১৩টি হয়েছে দুই দেশের মিনিস্ট্রি টু মিনিস্ট্রি, ৩টি হয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিটার সঙ্গে। বাকি একটি সমঝোতা হয়েছে সরকার দল বিএনপি ও চীনের সরকারি দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রত্যেকটি বৈঠকে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুম প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনকে একক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। একইসঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি৷ প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজাউদ্দৌলা সুজন, শাহাদাত হোসেন স্বাধীন ও সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান।

সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 26 June, 2026, 12:36 pm
সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান

সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, সরকার স্বাধীন বিচার বিভাগ চাচ্ছে না। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন ভোট কমিশন চাচ্ছে না। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে না। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে জায়গাগুলার কারণে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল সে সব জায়গা আগের মতো থেকে গেল।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের আশা ছিল, এতগুলা মানুষের ত্যাগ এবং জীবনের বিনিময়ে আমরা একটা পরিবর্তন পেয়েছি, এখন বাংলাদেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে। ইতোমধ্যেই এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন এবং সংস্কার পরিষদের সংস্কারের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে জনগণের ভোট পেল…একটা ভোটের মূল্যায়ন হলো আরেকটা ভোট ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ দুইটার কোনোটাই অগুরুত্বপূর্ণ না।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দল প্রায় ৭০ ভাগ জনগণের এই মতকে অগ্রাহ্য করেছে। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই থেকে গেলাম। কোনো পরিবর্তন আসলো না। হয়তো কেউ কেউ বলবেন যে, চার মাসের সরকার…আমরা তো অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু না, ফাউন্ডেশনের ওপরে একটা দেশ এবং রাষ্ট্র চলে। আমরা সবাই জানি একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্রেজ— দিনটি কেমন যাবে সকালবেলাই তা বলে দেবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারি দল-বিরোধী দল সকলেই তো নির্বাচনের আগে বলেছে যে, আমরা গণভোট মানি। আপনারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন। ৭০ ভাগ মানুষের ভোটকে অগ্রাহ্য করা হলো কেন? আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার গণভোট বাস্তবায়নের দাবি উত্থাপন করেছি। এ নিয়ে সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা করেছি।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা এজন্য জনগণের পার্লামেন্টে বিষয়টা নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি। এটা কোনো দলের জন্য, কোনো জোটের জন্য নয়, এটা জনগণের দাবি। এই রায় দিয়েছে জনগণ।

তিনি বলেন, আমাদের সমাজে আমরা কার্যত দেখতে পাই— যাদের আমরা শিক্ষিত বলে মনে করি, উচ্চশিক্ষিত বলে মনে করি, তাদের একটা বিশাল অংশ, গুরুত্বপূর্ণ অংশ সমাজের আমানতের খেয়ানত করে চলছে। তারা বৈধতার সীমা লঙ্ঘন করে অবৈধ পথে মানুষের সম্পদ, ইজ্জত গ্রাস করে গেছে। যদি তারা সুশিক্ষিত হতেন তাহলে মানুষের ওপরে অবিচার তারা করতেন না। সমাজ এমনি এমনি চলে না। সমাজ চলার জন্য একটা সামাজিক কাঠামো লাগে। এই কাঠামোর মূল দায়িত্ব যারা পালন করেন বা শাসন ব্যবস্থা যাদের হাতে পরিচালিত হয়, তাদের আচরণের ওপর নির্ভর করে একটা সমাজ কতটুকু ভালো থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ দুইবার স্বাধীন হয়েছে। ৪৭-এ কবার ৭১-এ আরেক বার। বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কারা এখানে মানুষের প্রত্যাশার পারদ ধ্বংস করে দিল? সাধারণ জনগণ নয়, বরং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাদের ছিল, তাদের ব্যর্থতার কারণে আজও আমাদের দেশে কোনো সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মানুষের জীবনে শান্তি নেই, নিরাপত্তা নেই। যুবকদের হাতে কাজ নেই। মা-বোনদের ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা নেই। অহরহ আমরা সে ঘটনাগুলা দেখছি।

অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।