আবারো তুঙ্গে চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা
আবারও চীন-তাইওয়ান সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে। চলমান সংকট নিরসন না হতেই তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসি চ্যানেলে সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন।
স্থানীয় সময় রোববার তাইওয়ানের আকাশে চীনের ২৭টি যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করলে পাল্টা জবাবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে তাদের প্রতিহত করার দাবি করেছে তাইপে। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইওয়ান।
আবারো তাইওয়ানের আকাশসীমায় চীনের যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশ। পারমাণবিক বোমা হামলায় সক্ষম ৫টি এইচ-৬ যুদ্ধবিমানসহ মোট ২৭টি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশের পরই তৎপরতা বাড়াতে শুরু করে অঞ্চলটির বিমানবাহিনী। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান ধাওয়া দিয়ে প্রতিহত করে চীনা বিমানবহরকে। এ ঘটনায় দেশ দুটির মধ্যে ফের চরম সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় দেড়শো চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ করেছে তাইপের সীমানায়। তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসি চ্যানেলে এই মহড়া চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। যুদ্ধবিমান ছাড়াও বহরে ছিল একটি ওয়াই-২০ রিফুয়েলিং বিমান। যা এই প্রথমবারের মতো অঞ্চলটিতে চালানো মহড়ায় অংশ নিল।
যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশের বিষয়ে বেইজিং এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও চীনা গণমাধ্যম জানায়, রোববার নিজ দেশের সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে তিন দিনব্যাপী বৈঠক শেষ করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বৈঠকে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যে কোন যুদ্ধ জয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অন্যদিকে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে এই বৈঠক আর তাইওয়ানের আকাশে বিমানের অনুপ্রবেশের ঘটনায় যোগসূত্র দেখছে তাইপে।
তাইওয়ান নিজেদের সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করলেও চীন বরাবরই অঞ্চলটিকে নিজেদের অধিভুক্ত প্রদেশ হিসেবে দাবি করে এবং এই দাবিকে শক্তিশালী করতে তাইপের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রতিনিয়ত বাড়িয়েই চলেছে দেশটি। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা চীনা সামরিক উসকানির জবাবে এরইমধ্যে নিজেদের সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে তাইওয়ান।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন