খুঁজুন
, ,

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 December, 2021, 11:55 am
শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁদের সামরিক সচিবেরা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর তিন বাহিনীর প্রধানদের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি।

এর আগে আজ ভোর থেকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আসতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে পরিকল্পনা করে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২১ পালনের জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৭টা পাঁচ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকাল ৭টা ২২ মিনিটে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে থেকে সর্বস্তরের জনগণ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকাল ৮টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ৯টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

একাত্তরে ত্রিশ লাখ শহীদের মধ্যে বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁরা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সহধর্মিনী বাসন্তী গুহঠাকুরতা তাঁর একটি গ্রন্থে লিখেছেন, ‘নীল নকশার রেখা অংকন শুরু হয়েছিল একাত্তরের পয়লা মার্চের আগেই সত্তরের ১৭ ডিসেম্বর গণভোট বা তারও অনেক আগে উনসত্তরের গণআন্দোলনের সময় থেকেই, কিংবা বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের পরে। একাত্তরে তারা পরিকল্পনা করে যুদ্ধে নামে। যুদ্ধ তো নয়, কেবল নিরস্ত্র মানুষ নিধন। প্রথমে ওদের এলোপাতাড়ি মারা, তারপর শহরে, গ্রামে-গঞ্জে বেছে বেছে ধনী, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী নিধন করে নদীতে-খালে ফেলে দেওয়া।

অনেকে মনে করেন, চরম বিপর্যয় আসন্ন, পরাজয় একেবারেই সন্নিকটে- তখনই তারা সেই পরিকল্পনা কার্যকর করে। তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে হত্যা করে। তারা স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে এভাবেই অন্ধকার করার পাঁয়তারা করেছিল।’

একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে। মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় দণ্ডিত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। জামায়াতের অপর নেতা মো. কামারুজ্জামান এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম হোতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

২০১৬ সালের ১১ মে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা বাস্তবায়নকারী গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর প্রধান ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়। তবে বুদ্ধিজীবী হত্যায় সরাসরি জড়িত চৌধুরী মইনুউদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান পলাতক থাকায় তাদের বিচার এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। চৌধুরী মইনুদ্দীন যুক্তরাজ্য এবং আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছে। তাদের ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর আল-বদরের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাঁদের হত্যা করা হয়। এ দুটি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন—অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড. আবুল খায়ের, ড. মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এস এ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিনসহ আরও অনেকে।

এন-কে

Feb2
Feb2

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে নিকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 4:05 pm
তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে নিকার

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার)।

উপজেলা তিনটি হচ্ছে- চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’। একটি নতুন থানা হচ্ছে চট্টগ্রামের ‘হালদা’।

বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার ১২১তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এসব উপজেলা ও থানা অনুমোদন দেওয়া হয়।

এছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্প এলাকার নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা প্রকল্পের অংশগুলো ঢাকার অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী তিনটি নতুন উপজেলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম জেলা ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা।

চট্টগ্রামের হাটাজারি থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা থানা’।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরলো পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 3:40 pm
গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরলো পুলিশ

গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্টে ফিরলো পুলিশ। ৫ আগস্টের পরই পুলিশকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেটি আবার বদলানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বিএনপি সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পর আজ বুধবার (১ জুলাই) গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্টের নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলো পুলিশ কর্মকর্তাদের।

বুধবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে গাঢ় নীল শার্টে ও খাকি প্যান্টে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ জানান, আজকে থেকে নতুন পোশাক পরছে পুলিশ সদস্যরা। এখনো সব পুলিশ সদস্যের হাতে পৌঁছেনি নতুন পোশাক। পর্যায়ক্রমে সব সদস্যই পাবেন। যারা পেয়েছেন তারা নতুন ইউনিফর্মেই দায়িত্ব পালন করছেন।

এখানে উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। উঠে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবিও। গত বছর ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের শার্টের রং আইরন বা লোহা-ধূসর, আর প্যান্টের রং ছিল কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর করা হয়। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নতুন পোশাকে মাঠে নামে পুলিশ।

যদিও সেই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক পুলিশ সদস্য পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। পোশাকের রং নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসতেই নতুন করে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠে। গত ১৮ জুন পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে পুলিশ সদর দপ্তর।

প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রং–সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়।

নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের ওপর লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জেলা পুলিশ এবং এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‍্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। শার্টের সামনে চারটি পকেট থাকবে। সামনের অংশে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাকের বিষয়েও বিস্তারিত বলা হয়। নারী পুলিশ চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরা যাবে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজের কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত নারী পুলিশ সদস্যরাও সারা বছর পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে নারী পুলিশ সদস্য সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে মৌসুম অনুযায়ী শার্টের ধরনও নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে শার্ট হবে অর্ধহাতা। শীতকালে শার্ট হবে পূর্ণহাতা। মাথার আবরণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, সেটি অনুমোদিত গাঢ় নীল রঙের হবে।

৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে : নাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 3:25 pm
৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে : নাহিদ

সরকারের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে। তা না হলে জনগণ নিজেরাই জাদুঘর খুলে প্রবেশ করবে।

বুধবার (১ ‍জুলাই) রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার ধীরগতিতে হচ্ছে। এটা আরও দ্রুত করতে হবে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরাতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে চলবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকার এখনো কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। আশা করছি, সরকার দ্রুতই কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

এ সময় ১৪ দলীয় নেতা হাসানুল হক ইনুকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী উল্লেখ করে এই এনসিপির নেতা বলেন, ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না। আমরা আপিলের মাধ্যমে তার কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করছি।