খুঁজুন
, ,

‘পশ্চিমা দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলাচ্ছে চীন’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 27 December, 2021, 12:32 pm
‘পশ্চিমা দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলাচ্ছে চীন’

চীন বাণিজ্যিক স্বার্থকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে ‘খেলাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তাই চীনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) গ্লোবাল টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।

দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য ও বিশ্ব বাণিজ্যে দখল নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দিন দিন আরও অবনতির দিকে। চীনকে রুখতে দুই সপ্তাহ আগেই একত্রিত হয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-সেভেন। এবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরাসরি চীনকে মোকাবিলার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রুডো দাবি করেন, বাণিজ্যিক স্বার্থকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলাচ্ছে চীন। এ অবস্থায় চীনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর একের অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে তা থেকে বাণিজ্যিক স্বার্থকে কাজে লাগাচ্ছে চীন। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আর এ সুযোগে চীন বাণিজ্যিক স্বার্থকে কাজে লাগাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চীন যেন আমাদের নিয়ে খেলতে না পারে, এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।

২০১৮ সালে কানাডার পুলিশ চীনের টেলিকম জায়ান্ট কোম্পানি হুয়াওয়ের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝুকে আটক করার পর থেকে চীনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মেংকে গ্রেপ্তারের পরপরই বেইজিং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কানাডার দুই নাগরিককে আটক করে। গেল সেপ্টেম্বরে মেং মার্কিন কৌসুলিদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছালে তাকে মুক্তি দেয় কানাডা সরকার। এর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে কানাডার দুই নাগরিককেও মুক্তি দেয় বেইজিং।

মেংয়ের গ্রেপ্তারের আগেও চীনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তুলে এসেছে কানাডা। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে।

এদিকে চলতি মাসের শুরুর দিকে কানাডা জানায়, অন্য মিত্র দেশগুলোর মতো কানাডাও বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় ২০২২ সালের শীতকালীন অলিম্পিক কূটনৈতিকভাবে বয়কট করতে যাচ্ছে।

এন-কে

Feb2
Feb2

ফ্রান্সের স্বপ্ন ভেঙে ১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 15 July, 2026, 7:25 am
ফ্রান্সের স্বপ্ন ভেঙে ১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন

বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ছিল ফ্রান্স। দাপট দেখিয়ে সেমিফাইনালে তারা উঠেছিল। কিন্তু স্পেনের সামনে তারা ছিল অসহায়। উল্টো দাপট দেখাল বর্তমান ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ডালাস স্টেডিয়ামে তারা ২-০ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে উঠল। ২০১০ সালের পর প্রথমবার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে তারা।

সেমিফাইনালের আগে ৬ ম্যাচ খেলে ১৬ গোল দেওয়া ফ্রান্স এদিন শুরু থেকে অস্বস্তিতে ছিল। চলতি আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পর্যস্ত ক্লিনশিট ধরে রাখা স্পেন তাদের বক্সে ছিল অপ্রতিরোধ্য। ফ্রান্সকে বক্সের মধ্যে সুবিধা করতে দেয়নি তাদের রক্ষণভাগ ও গোলকিপার। বিশেষ করে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া দারুণ নৈপুণ্য দেখান। কিলিয়ান এমবাপে কয়েকবার হুমকি হয়ে দাঁড়ালেও তার কারণে শট নিতেই পারেননি। আর গোলকিপার উনাই সিমন ছিল অবিশ্বাস্য। তিনটি সেভ করার পাশাপাশি বক্সের বাইরে গিয়েও ফ্রান্সের আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিন।

নবম মিনিটে ওলমো ফ্রান্সের বক্সের সামনে ফ্রি কিক আদায় করেন। বায়েনা কিক নেন। কিন্তু রক্ষণদেয়ালে আঘাত করে বল। ফ্রান্স দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ১৪ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এমবাপে দ্রুত বল নিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন। তার সামনে কেবল পোরো ও গোলকিপার ছিলেন। কুবারসি ও লাপোর্তে তাদের পজিশনে থেকে এমবাপেকে রুখে দেন।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগে এগিয়ে যায় স্পেন। লামিন ইয়ামালকে ফাউল করলেন দিনিয়ে। ডিবক্সের মধ্যে স্পেন তারকাকে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি পায় লা রোজারা। তারপর মিকেল ওয়ারসাবালের কিকে এগিয়ে গেল তারা। ফ্রান্স ২৩তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে।

২০ মিনিটে স্পেন পেনাল্টি পায়। কুকুরেয়ার বক্সের মধ্যে বাড়ানো ক্রস দিনিয়ে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই লেফটব্যাক ব্যর্থ হন। তার সামনে ছিল ইয়ামাল। তাকে ফাউল করে বসেন। রেফারি দ্রুত পেনাল্টির বাঁশি বাজান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পেনাল্টি আদায় করলেন ১৯ বছর ও ১ দিনের ইয়ামাল।

ওয়ারসাবাল নেন পেনাল্টি কিক। রিয়াল সোসিয়েদাদ তারকার শট ডানকোণা দিয়ে নেন। ফরাসি কিপার মাগনিয়ঁ ঠিক দিকেই ডাইভ দিয়েছিলেন। কিন্তু বল তার নাগালে ছিল না। জালে জড়ায় বল। পিছিয়ে পড়ার পর দলের সেন্টার ব্যাক সালিবা ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে তাদের বিপদ আরও বাড়ে। ২৯তম মিনিটে খেলোয়াড় বদল করতে বাধ্য হন দিদিয়ের দেশম। ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়া মাঠে নামেন।

৩৬ মিনিটে ফ্রান্সকে আরেকবার কাঁপিয়ে দেয় স্পেন। দূরপাল্লার একটি ক্রস নিয়ন্ত্রণে নেন বায়েনা। মাইগনান তাকে রুখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড শট নিতেই অফসাইডের বাঁশি বাজে। পরের মিনিটে স্পেনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া বারকোলার ডানপায়ের বাঁকানো শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর স্পেন আরেকটি সুযোগ তৈরি করে। ওলমোর সঙ্গে ওয়ান-টু পাস করেন ইয়ামাল। তারপর ওলমোর ব্যাকহিল থেকে ইয়ামালের পাসে বল পান রুইজ। কিন্তু তার শট গোলবার ঘেঁষে যায়।

৪৩ মিনিটে ফ্রান্স চমৎকার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু এমবাপেকে বল পায়েই নিতে দেননি সিমন। স্প্যানিশ কিপার দ্রুত বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার করেন। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্পেন।

এক ঘণ্টা না যেতেই দ্বিতীয়বার ফ্রান্সের জালে বল জড়ায় স্পেন। ডালাসে সেমিফাইনালে ৫৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

দানি ওলমো কাউন্টার অ্যাটাকে প্রথম সুযোগটি নষ্ট করেন এবং ওইয়ারজাবালকে বল পাস দিয়ে গোল দেওয়ার মতো পজিশনে পাঠাতে ব্যর্থ হন। তবে বলটি শেষ পর্যন্ত পেড্রো পোরোর কাছে ফিরে আসে, যিনি ওলমোর সাথে ওয়ান-টু খেলে মাগনিয়ঁকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান। তিন মিনিট পর একক চেষ্টায় ইয়ামাল তৃতীয়বার ফ্রান্সের জালে বল ঠেলে দেন। কিন্তু গোলটি উদযাপনের আগেই বাতিল হয় লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা ওড়ালে। শেষ ডিফেন্ডার দিনিয়ের চেয়ে কয়েক মিলিমিটার এগিয়ে ছিলেন বার্সা তারকা।

৬৮ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া এমবাপের শট কুকুরেয়া ব্লক করেন। ৮০ মিনিটে আরেকটি গোলের বেশ কাছে ছিল স্পেন। ওয়ারসাবালের বদলি নামার কয়েক মিনিট পরই ফেরান তোরেসের একটি হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

শেষ ১০ মিনিটে ফ্রান্স মুহুর্মুহু আক্রমণ চালান। কিন্তু গোলকিপার সিমন ও ডিফেন্ডার কুকুরেয়ার বাধায় সফল হয়নি তারা। ৮২ মিনিটে ভুল করে বক্সের বাইরে চলে আসেন বল ক্লিয়ার করতে। ওই সময় দুয়ের কিক ফের পেছনে সরে এসে বক্সের মধ্যে ব্লক করেন স্পেন কিপার। পরের মিনিটে হার্নান্দেজকে ঠেকান তিনি। ৮৯ মিনিটে এমবাপের শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে ফ্রান্সের এই তারকার একটি শট নিজের পেনাল্টি বক্সের মধ্যে থেকে ক্লিয়ার করেন কুকুরেয়া।

আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে হবে ফাইনাল। ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবে স্পেন। অবশ্য ফ্রান্সের বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায়নি। তারা ১৮ জুলাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পরাজিত দলের সঙ্গে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজা ফরেস্টর সোহেল রানা, বন খেয়ে কোটিপতি অবৈধ টাকার গরমে বেপরোয়া আচরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 July, 2026, 10:56 pm
অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজা ফরেস্টর সোহেল রানা, বন খেয়ে কোটিপতি অবৈধ টাকার গরমে বেপরোয়া আচরণ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:: ফরেস্টার সোহেল রানার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুফল বাগান সৃজনের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ, বন বিভাগের জায়গা দখল বিক্রি, বন বিভাগের জায়গায় বসবাসরত লোকজনকে দালান নির্মাণের মৌখিক অনুমতি ও বনের মূল্যবান গাছ বিক্রি সহ নানা অভিযোগ সোহেল রানার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, ২০২০ সালে সোহেল রানার চাকরি হয় বন বিভাগে। চাকরির শুরুতে তার পোস্টিং হয় কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াইকং রেঞ্জের অধিনে শাফলাপুর বিটে।

শাফলাপুর বিটে কর্মরত থাকাকালে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১০০ হেক্টর সুফল বাগান সৃজন ও পরিচর্যার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা মেরেই সোহেল রানা বনেছে কোটিপতি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাফলাপুর বিটে কর্মরত একজন ফরেস্ট গার্ড বলেন, সোহেল রানা শাফলাপুর বিটে সুফল বাগানের টাকা মেরেছে-তো মেরেছে সাথে উজাড় করেছে বনের গাছও।

‎টাকা থাকলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করা কোন ব্যাপার না। এমন বেপরোয়া ও দাম্ভিকতাপূর্ণ আচরণ ছিলো সোহেল রানার।

পরে তার বদলি হয় একই রেঞ্জের অধিনে পানের ছড়া বিটে। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে পানের ছড়া বিটের অধিনে সৃজিত ১০০ হেক্টর বাগানের খালি স্থান পূরণ ও আগাছা পরিষ্কার করার জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থও মেরে দেয় সোহেল রানা। এছাড়া পানের ছড়া বিটের অধিনে সরকারি বনায়নের কোটি টাকার গাছ বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের অপর এক সুত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা শাফলাপুর বিট ও পানের ছড়া বিটে শতাধিক অবৈধ দখলদারদের মৌখিক ভাবে বৈধতা দিয়ে কোটি টাকা আয় করেছে।

‎সুত্র দাবি করেন, সোহেল রানা বর্তমানে কোটি টাকার মালিক। ব্যবহার করেন দেড় লক্ষাধিক টাকার আই ফোন। তার এহেন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কেউ কথা বললেই সোহেল রানার সেই দাম্ভিক আচরণ টাকা দিলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করা কোন ব্যাপার না।

সোহেল রানার বেপরোয়া অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বেশ কিছু পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে চতুর সোহেল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বদলি হয়ে আসেন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের ধুম ঘাট স্টেশনে। ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সোহেল রানার এই বদলি ও পোস্টিং বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন অফিস জুড়ে। গত দেড় মাস আগে ধুম ঘাট স্টেশনে যোগদান করে একই কর্মকান্ড শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

‎সচেতন মহল মনে করেন, এই সোহেলকে থামানো দরকার। তাঁদের প্রশ্ন সোহেলকে থামাবে কে ?

এই বিষয়ে সোহেল রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই গুলোর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই সব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

২য় পর্বে চোখ রাখুন…

জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে চসিক: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 14 July, 2026, 8:43 pm
জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে চসিক: মেয়র

নগরীতে সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীর যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে, সেসব স্থানের জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।

এজন্য নগরীর জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যা নিরূপণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার আগ্রাবাদ চৌমুহনীস্থ চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক রেকর্ড বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণ অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে পরিদর্শন করেন মেয়র।

এসময় চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানকে এই এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসনে করণীয় নির্ধারণ করে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন মেয়র।

মেয়র বলেন, গত সাত দিনের রেকর্ড বৃষ্টিতে নগরীর যেসব এলাকায় পানি জমেছে, সেসব স্থান আমরা একে একে আইডেন্টিফাই করছি। সরেজমিনে গিয়ে কোথায় কেন পানি উঠছে, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। শুধুমাত্র পানি নিষ্কাশন নয়, জলাবদ্ধতার মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা এবং আশপাশের ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে পানি জমার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি স্থানীয় বিভিন্ন খাল, নালা ও ছড়ায় বর্জ্য জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিদর্শনে দেখা গেছে আশপাশের বিভিন্ন গাড়ির শোরুম, টিভি ফ্রিজসহ বিভিন্ন পণ্যের শোরুম থেকে ব্যবহৃত ফোম শিট, ককশিট, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলে দেওয়ার কারণে ড্রেন ও নালাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের মধ্যেই বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি নিজেদের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে জেল জরিমানাসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নগরীর স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সচেতন হতে হবে।

মেয়র আরও বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ড্রেন, নালা ও খালে কোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি জানান, দেওয়ানহাট আগ্রাবাদ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নাসির খাল ছড়া এবং লালমিয়া খাল ছড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপ্রবাহগুলো দ্রুত পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাল ও ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা, সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।