খুঁজুন
, ,

সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর ১১৬-তম বার্ষিক ওরশ শরীফ মহান ১০ মাঘ কাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 January, 2022, 8:06 pm
সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর ১১৬-তম বার্ষিক ওরশ শরীফ মহান ১০ মাঘ কাল

চলরে মন ত্বরায় যায় বিলম্বের আর সময় নাই,গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী স্কুল খুলেছে,এ স্কুলের এমনি ধারা বিচার নাই জোয়ান বুড়া,সিনায় সিনায় লেখাপড়া শিক্ষা দিতেছে একতারা, দোতারা, হারমোনি, তবলার তালে তালে কনকণে শীত উপেক্ষা করে মাইজভান্ডারে আশেক-ভক্তের ঢল নেমেছে।পাক ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত অলি-এ-কামেল, মাইজভান্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্ম শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশে মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুল আজম হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর ১১৬-তম বার্ষিক ওরশ শরীফ মহান ১০ মাঘ উপলক্ষ্যে ১০দিন ব্যাপী ওরশের আনুষ্টানিকতা চলছে। করোনা ভাইরাসের জন্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভক্ত আশেকানগণ আগমন করছে।

পটভূমি:
সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ী ১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচার মানসে চট্টগ্রামে আগমন করে পটিয়া থানার কাঞ্চননগরে বসতি স্থাপন করেন। তারই বংশধর মাওলানা সৈয়দ মতিউল¬াহর সৈয়দ মতিউল¬াহর পবিত্র ঔরসে ১৮২৬ সালে, হিজরী ১২৪৪, ১২৩৩ বাংলা ১লা মাঘ, বুধবার জোহরের সময় হযরত শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উল্লা মাইজভান্ডারী (কঃ) জন্ম গ্রহন করেন। ১২৬০ হিজরিতে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে কলকাতা গমন, ১২৬৮ হিজরিতে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করেন এবং হাদিস, তাফসির, ফেকাহ ইত্যাদি শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১২৬৯ হিজরিতে যশোর জেলায় কাজী (বিচারক) পদে যোগদান করেন। ১২৭০ হিজরিতে সেই কাজী পদ থেকে পদত্যাগ করে কলকাতার মুন্সি বু-আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেস পদে যোগদান করেন। তার পীর গাউছুল আজম মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জীলানীর (রহ.) বংশধর শেখ সৈয়দ আবু শাহমা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রহ.) এর নিদের্শে ১৮৫৭ সালে নিজ গ্রাম মাইজভান্ডারে ফিরে আসেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার কামালিয়তের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐশী-প্রেম পিপাসু সাধক ও দোয়া প্রত্যাশীদের ভিড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। লোকসমাজে পরিচিতি পায় মাইজভান্ডার দরবার শরিফ হিসেবে। তিনি একমাত্র বাঙ্গালী সূফী সাধক। যিনি বাংলার জমিনে স্বতন্ত্র এক তরিকা প্রতিষ্টা করেন। যার নাম মাইজভান্ডারী তরিকা। ৭৯ বছর বয়সে ১৯০৬ ক্রিস্টাব্দে ১০ মাঘ সোমবার রাতে ইহধাম ত্যাগ করেন এ মহান সুফি সাধক। তার ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৮, ৯ ও ১০ মাঘ ৩ দিনব্যাপী ওরশ শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের লাখ-লাখ আশেক-ভক্তের সমাগম ঘটে।

গাউসুল আজম মাইজভান্ডারী ট্রাষ্ট পরিচালনাধীন প্রতিষ্টান ও অছি-এ-গাউসুল আজম মাওলানা শাহসুফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী কর্তৃক মনোনীত মোন্তাজেম, সাজ্জাদানশীন ও জিম্মাদার আওলাদসহ মাইজভান্ডারের প্রতিটি মনজিল এবছর ১ মাঘ থেকে ১০ দিন ব্যাপী মাইজভান্ডারী তরিকার মানবিক শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা, সামাজিক কর্মকান্ড, এবাদতবন্দেগী, মাইজভান্ডারী সেমা মাহফিলসহ ব্যাপক আয়োজন করেছে।গত বৃহস্পতিবার থেকে ওরশের নানান আনুষ্টানিকতা মাইজভান্ডারের প্রতিটি মনজিলে শুরু হয়েছে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে।গতকাল শুক্রবার মাইজভান্ডার শাহী মসজিদে জুমার নামাজে লাখো ভক্তের সমাগম ঘটেছে। আগামী রবিবকর সকাল ১০টায় কোরআনখানি, খতমে গাউছিয়া আদায়ের মাধ্যমে পবিত্র ওরশ শরীফের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করা হয়। সকাল ১১টায় রওজা-এ-পাকে গিলাফ চড়ানো ও গোসল শরীফ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে ১০মাঘ ওরশ উপলক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা ও থানা প্রশাসন ব্যাপক আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহিনুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সমন্বয় সভায় গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর মাজার ও মাইজভান্ডার শরীফ এলাকায় ক্লোজ-সার্কিট ক্যামরার মাধ্যমে সার্বক্ষনিক নজরদারি করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন রাখা, নাজিরহাট নতুন রাস্তার মাতায়, ফটিকছড়ি সদরে ও নানুপুর লায়লা-কবির কলেজ মাঠে যানবাহন পার্কিং, স্ব স্ব মনজিলের ব্যবস্থাপনায় লাইটিং করা, মাইজভান্ডার পুকুর আবর্জনা মুক্ত রাখা, প্রয়োজনীয় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, স্ব-স্ব মনজিলের পোষাক পরা সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, মহিলাদের চলাচলের স্থানে মহিলা সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, আযানের সময় সকল প্রকাল মাইকিং বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ঠ সময়ের পরে গরু-মহিষ হাদিয়া প্রবেশ বন্ধ রাখা, পর্যাপ্ত পরিমানে ভ্রাম্যমান স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা, গুরুত্বপূর্ণ সিধান্তের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাসহ সব সবস্থানে পুলিশি টহল জোরদারকরা, সকল প্রকার যোগাযোগের জন্য একটি তথ্য কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারীর স্থাবিষিক্ত জিম্মাদার মোন্তাজেম শাহজাদা সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার বলেন, মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউসুল আজম হযরত মওলানা শাহসুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)-এর ১১৬-তম বার্ষিক ওরশ শরীফ মহান ১০ মাঘ উপলক্ষ্যে আমরা ১০দিন ব্যাপী হযরতের মানবিক গুনাবলীর সমন্বয়ে মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছি।

Feb2
Feb2

আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 4:26 pm
আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এ রায়ের পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগারহাট এলাকায় তার অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীরা গাছ চেইনসো (গাছ কাটার ইলেকট্রনিক করাত) দিয়ে মহাসড়কের পাশের গাছ কেটে সেগুলোর গুঁড়ি সড়কের ওপর ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। পুরো গাছ কেটেও রাখা হয়েছে সড়কে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।

সড়কে অবরোধের কারণে অন্তত ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ডিউটি অফিসার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জানান, মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

আদালতের রায়ের পর আইনজীবীরা জানান, এখন চট্টগ্রাম-৪ আসনে পুনর্নির্বাচন হবে, নাকি জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, তা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।

এর আগে গত ১৫ জুন আপিল বিভাগ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

পরে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিলেও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই আসনের ফলাফল এখন পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।

টিসিজেএ প্রীতি ফুটবল: ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 3:53 pm
টিসিজেএ প্রীতি ফুটবল: ট্রাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর, রোমাঞ্চকর ট্রাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জয়লাভ করেছে ব্রাজিল। ‘টিভি ক্যামেরা জার্নালিষ্টস এসোসিয়েশন (টিসিজেএ), চট্টগ্রাম’-এর আয়োজনে এই জমকালো ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়।

​খেলা শেষে এক বর্ণাঢ্য পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

​ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিলায়েন্স ট্রেড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী তহুরা পিংকি ও রহিমা রুহী এবং মাখতুমা মোতাছিম এসোসিয়েটের স্বত্বাধিকারী মোঃ ফরিদ উদ্দিন।

​অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, এটিএন বাংলার ব্যুরো চিফ আবুল হাসনাত এবং দীপ্ত টিভির ব্যুরো চিফ লতিফা আনসারী।

​আয়োজক সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন টিভি ক্যামেরা জার্নালিষ্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম মামুন এবং সংগঠনের সাবেক সভাপতি সফিক আহমেদ সাজিবসহ স্থানীয় গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, “সাংবাদিকদের পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানসিক প্রফুল্লতা বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।”

​উল্লেখ্য, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দুটি দলে ভাগ হয়ে খেলা এ ম্যাচে, তারা চরণ টিপুর গোলে প্রথমে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এরপর ব্রাজিলের হয়ে সমতা সূচক গোল করেন অনিক বিশ্বাস। ১-১ গোলে সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দু’দল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে এনামুল হকের গোলে লিড নেয় ব্রাজিল। কিছুক্ষণ পর আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান সুমন গোস্বামী। ২-২ গোলে ড্র হওয়া খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে টাইব্রেকের সাডেন ডেথে ৪-৩ গোলে জয় পায় ব্রাজিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 30 June, 2026, 2:59 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।