খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১৭ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ২৯ পুলিশ কর্মকর্তা, কারা পেলেন সম্মাননা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 20 November, 2019, 4:06 pm
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১৭ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ২৯ পুলিশ কর্মকর্তা, কারা পেলেন সম্মাননা

২৪ ঘন্টা চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রাম রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জের ১৭ ক্যাটাগরিতে ২৯ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে তাদের কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ পুরস্কার তুলে দেন রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় হালিশহরের জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত সভায় এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা স্মারকটি তুলে দেন রেঞ্জ ডিআইজি। 

জঙ্গিবাদ অস্ত্র ও মাদক নির্মূল, ওয়ারেন্ট তামিল, মামলা দ্রুত নিস্পত্তি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের সকল পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসার, অফিসার ইনচার্জ এবং কমান্ড্যান্ট, আর.আর.এফ, চট্টগ্রামসহ পুলিশের অন্যান্য সকল ইউনিট ইনচার্জদেও নিয়ে মত বিনিময় সভায় মিলিত হন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ সূচক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে সংঘটিত অপরাধের মাত্রা তুলনামূলকভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

এতে সেপ্টেম্বর’ মাসের চেয়ে অক্টোবর’ মাসে রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, অপরাধজনক বল প্রয়োগ, নারী নির্যাতন, চুরিসহ সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের মাত্রা বৃদ্ধির হার লক্ষ্য করা যায়।

রেঞ্জ ডিআইজি, এ ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার’দের নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, সিঁধেল চুরি এবং গরু চুরির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরণের অপরাধ আরো কমিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করেন।

এছাড়া অব্যাহত পুলিশি অভিযানের মুখে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাকারবারীদের দৌরাত্ব অক্টোবর মাসে তুলনামূলকভাবে কমে আসায় সকল’কে ধন্যবাদ জানিয়ে অস্ত্র ও মাদক বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করার নির্দেশ প্রদান করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুরস্কৃত হলেন যারা : চট্টগ্রাম রেঞ্জে যারা যারা পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের মধ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রন দক্ষতা, অফিসার-ফোর্স পরিচালনা, গুরুত্বর্পূণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, নয়িমতি মামলার আসামি গ্রফেতার, পরোয়ানা তামলিসহ র্সাবকি র্কমমূল্যায়ণে রঞ্জেরে মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা শ্রষ্ঠে জলো এবং চট্টগ্রাম জলো পুলশি সুপার নুরআেলম মনিা, শ্রষ্ঠে পুলশি সুপার নির্বাচিত হন।

শ্রেষ্ঠ থানা নির্বাচিত হন সুধারাম মডেল থানা, শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. আবদুর রহিম।

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার মো. শাহাবুর আলম শ্রেষ্ঠ এস আই, নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার সাইফুল ইসলাম ও কুমিল্লা চান্দিনা থানার ঈসমাইল হোসেনকে শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত করা হয়।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন চট্টগ্রামের রাউজান থানার এস আই (নিঃ) আরাফাত বিন ইউসুফ ও নোয়াখালীর সোনাইমুরি থানার এ এস আই (নিঃ) আল আমিন।

শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী অফিসারের পুরস্কার গ্রহণ করেন খাগড়াছড়ি নাইক্ষ্যাংছড়ি থানার এসআই (নিঃ) এনামুল হক ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. সাইদুর রহমান।

অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে বান্দরবান আলীকদম থানার এসআই (নিঃ) আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার টেকনাফ মডেল থানার এসআই (নিঃ) সাব্বির আহম্মেদ ও লক্ষীপুর চন্দ্রগঞ্জ থানার এসআই(নিঃ) মো. মজিবুর রহমান পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এছাড়া নোয়াখালী জেলা বিশেষ শাখার এ এসআই (নিঃ) মো. সাদ্দাম হোসেনকে শ্রেষ্ঠ ডিএসবি ওয়াচার, নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. জাকির হোসেন ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. কামাল হোসেনকে শ্রেষ্ঠ ডিবি অফিসার নির্বাচিত করা হয়।

কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলাকে শ্রেষ্ঠ ডিবি ইউনিট, কুমিল্লা ও ফেনী ট্রাফিক ইউনিটকে শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইউনিট নির্বাচন করা হয়।
এছাড়া কুমিল্লা কোর্ট পরিদর্শক সালাউদ্দিন আল মাহমুদকে শ্রেষ্ঠ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার এসআই (নিঃ) মো. গোলাম মোস্তফা, নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই(নিঃ) মো. সাঈদ মিয়া, একই জেলার হাতিয়া থানার এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. সহিদার রহমান ও এসআই(নিঃ) নন্দন চন্দ্র সরকারকে শ্রেষ্ঠ মামলা তদন্তকারী অফিসার হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসের শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী অফিসার হিসেবে বান্দরবান লামা থানার এসআই(নিঃ) আয়াত উল্ল্যাহ পুরস্কৃত হয়।

শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশীং অফিসার হিসেবে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই(নিঃ) খালেকুজ্জামান, শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশীং মনোনীত সদস্য নির্বাচিত হন লক্ষীপুর সদর মডেল থানার কমিউনিটি পুলিশ সেলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এহ্তেশাম হায়দার বাপ্পী।

রেঞ্জ ডআিইজি খন্দকার গোলাম ফারুক শ্রষ্ঠেত্বরে স্বীকৃতস্বিরূপ চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নুরআেলম মনিাকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকটে অফ এপ্রসিয়িশেন প্রদান করনে এবং সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।
তিনি উপস্থিত সকল অফিসার-ফোর্স’কে জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Feb2
Feb2

বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 9:58 pm
বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে সেখানে বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলা করেছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁধন নিজেই।

পোস্ট দিয়ে বাঁধন লিখেছেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তার এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’

তার কথায়, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরও দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’

তিনি বলেন, ‘ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকার প্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।’

শেষে বলেন, ‘আজ আমরা আবারও দেখেছি, মানুষ যখন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:40 pm
দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

একসময় চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিল পুকুর, দিঘি, ডোবা ও জলাধার। নগর যত বেড়েছে, ততই সংকুচিত হয়েছে এসব প্রাকৃতিক জলভূমি। কোথাও উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও দোকান-গুদাম, কোথাও গড়ে উঠেছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। এতে শুধু দেশীয় মাছের আবাসস্থলই হারায়নি, বৃষ্টির পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ক্রমে দুর্বল হয়েছে। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রামের একটি শতবর্ষী ঐতিহাসিক জলাধারে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জলজ জীববৈচিত্র্য ও নগরের জলাধার সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে আনল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ঐতিহাসিক আগ্রাবাদ ডেবায় এ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আয়োজন করে মহানগর বিএনপি।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির একটি বার্তা দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে খাল খননসহ নদী-নালা দখলমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকাও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার সারাদেশে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পোনা অবমুক্তকরণ। নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য নুরুদ্দীন হোসেন নুরু, আবু মুসা ও জাফর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া, মো. জাফর, সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তৈয়ব চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সেকান্দর সুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:24 pm
স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

সমাজে মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে বিবেকের চর্চায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, অন্যের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করলেও নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকেই শুরু করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার পটিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুধীজন ও উপকারভোগীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যখন মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভয়াবহ অবক্ষয় হচ্ছে। আমরা বিবেকের চর্চা থেকে দূরে সরে এসেছি। আমাদের চিন্তাভাবনা এখন নিজের স্বার্থের চর্চাকে ঘিরে।’

মানুষ অন্যের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সময় নিজের প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন থাকলেও অন্যকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই দায়িত্ববোধ অনেক সময় দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সেবা যিনি দিচ্ছেন এবং যিনি নিচ্ছেন, দুজনই একই সমাজের অংশ। তাই অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।

‘করিম কী করল, রহিম কী করল—সেটা না ভেবে আমার কী করা উচিত, সেটি যদি আমি ভাবি, তাহলে পরিবর্তন হবে,’ বলেন তিনি।

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মমত্ববোধ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের স্বার্থের বাইরে সমাজ ও মানুষের প্রতিও মায়া ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৪০ কেজি ওজনের একটি বস্তা তুলতে কষ্ট হলেও ৬০ কেজি ওজনের নিজের সন্তানকে কোলে নিতে সেই কষ্ট অনুভূত হয় না। কারণ, সন্তানের প্রতি মায়া আছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি দপ্তরে গেলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন—এমন আস্থা এখনো পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি। শুধু সকাল ৯টায় অফিসে এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তারা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেন না উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান। তাই সমাজ ও মানুষের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। একজন কর্মকর্তা তাঁর কর্মক্ষেত্রে নতুন কী যোগ করলেন এবং তাঁর কাজে সমাজ ও দেশ কীভাবে উপকৃত হলো, সেটিও ভাবতে হবে।

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কারও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব, তা করতে হবে। সমাধান সম্ভব না হলেও সেবাপ্রত্যাশীর কথা শুনে তাঁকে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।

সরকারি প্রকল্পে অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; সেই প্রকল্প সমাজ ও মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অর্থের যেন অপচয় না হয়। প্রতিটি চালের হিসাব আমরা চাই। প্রত্যেক জায়গায় সততা ও স্বচ্ছতা দেখতে চাই।’

পদ ও দায়িত্ব স্থায়ী নয়—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় চাকরি শেষ হবে, চেয়ারও থাকবে না। তখন যেন আফসোস করতে না হয় যে দায়িত্বে থাকার সময় মানুষের জন্য আরও কিছু করা যেত।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ভালো ফল ও ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তরুণদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করার পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠছেন কি না, সমাজের জন্য কাজ করছেন কি না এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিও দেখতে হবে।

সন্তান ও আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও অনেক মা-বাবার পাশে কেউ থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে, সেটিও সমাজকে ভাবতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে হবে। শুধু ভালো হওয়ার উপদেশ না দিয়ে নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়েও সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের ধরে নিয়ে এলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি রাত ১২টায় ফিরবেন আর বলবেন, আমার সন্তান সন্ধ্যা ৬টায় ফিরবে—এটা কি হয়? আপনাকে পরিবর্তন হতে হবে, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে।’

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তোলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তাঁদের কথা শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি যথাযথ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে চেষ্টা করা হবে।

তবে দাবি আদায়ে আইন লঙ্ঘন বা সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

পটিয়াকে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে এটি বড় একটি এলাকা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু একে অন্যকে দায়ী করে সমাজের পরিবর্তন হবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

‘আমরা সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আপনি-আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে,’ বলেন জাহিদুল ইসলাম।