খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১৭ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ২৯ পুলিশ কর্মকর্তা, কারা পেলেন সম্মাননা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 20 November, 2019, 4:06 pm
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১৭ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ ২৯ পুলিশ কর্মকর্তা, কারা পেলেন সম্মাননা

২৪ ঘন্টা চট্টগ্রাম ডেস্ক : চট্টগ্রাম রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জের ১৭ ক্যাটাগরিতে ২৯ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে তাদের কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ পুরস্কার তুলে দেন রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় হালিশহরের জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত সভায় এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা স্মারকটি তুলে দেন রেঞ্জ ডিআইজি। 

জঙ্গিবাদ অস্ত্র ও মাদক নির্মূল, ওয়ারেন্ট তামিল, মামলা দ্রুত নিস্পত্তি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের সকল পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসার, অফিসার ইনচার্জ এবং কমান্ড্যান্ট, আর.আর.এফ, চট্টগ্রামসহ পুলিশের অন্যান্য সকল ইউনিট ইনচার্জদেও নিয়ে মত বিনিময় সভায় মিলিত হন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ সূচক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে সংঘটিত অপরাধের মাত্রা তুলনামূলকভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

এতে সেপ্টেম্বর’ মাসের চেয়ে অক্টোবর’ মাসে রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, অপরাধজনক বল প্রয়োগ, নারী নির্যাতন, চুরিসহ সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের মাত্রা বৃদ্ধির হার লক্ষ্য করা যায়।

রেঞ্জ ডিআইজি, এ ধরণের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার’দের নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, সিঁধেল চুরি এবং গরু চুরির প্রবণতা তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরণের অপরাধ আরো কমিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করেন।

এছাড়া অব্যাহত পুলিশি অভিযানের মুখে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাকারবারীদের দৌরাত্ব অক্টোবর মাসে তুলনামূলকভাবে কমে আসায় সকল’কে ধন্যবাদ জানিয়ে অস্ত্র ও মাদক বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করার নির্দেশ প্রদান করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

চট্টগ্রাম রেঞ্জে পুরস্কৃত হলেন যারা : চট্টগ্রাম রেঞ্জে যারা যারা পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের মধ্যে অপরাধ নিয়ন্ত্রন দক্ষতা, অফিসার-ফোর্স পরিচালনা, গুরুত্বর্পূণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, নয়িমতি মামলার আসামি গ্রফেতার, পরোয়ানা তামলিসহ র্সাবকি র্কমমূল্যায়ণে রঞ্জেরে মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা শ্রষ্ঠে জলো এবং চট্টগ্রাম জলো পুলশি সুপার নুরআেলম মনিা, শ্রষ্ঠে পুলশি সুপার নির্বাচিত হন।

শ্রেষ্ঠ থানা নির্বাচিত হন সুধারাম মডেল থানা, শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. আবদুর রহিম।

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার মো. শাহাবুর আলম শ্রেষ্ঠ এস আই, নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার সাইফুল ইসলাম ও কুমিল্লা চান্দিনা থানার ঈসমাইল হোসেনকে শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত করা হয়।

এছাড়া শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন চট্টগ্রামের রাউজান থানার এস আই (নিঃ) আরাফাত বিন ইউসুফ ও নোয়াখালীর সোনাইমুরি থানার এ এস আই (নিঃ) আল আমিন।

শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী অফিসারের পুরস্কার গ্রহণ করেন খাগড়াছড়ি নাইক্ষ্যাংছড়ি থানার এসআই (নিঃ) এনামুল হক ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. সাইদুর রহমান।

অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে বান্দরবান আলীকদম থানার এসআই (নিঃ) আমিনুল ইসলাম, কক্সবাজার টেকনাফ মডেল থানার এসআই (নিঃ) সাব্বির আহম্মেদ ও লক্ষীপুর চন্দ্রগঞ্জ থানার এসআই(নিঃ) মো. মজিবুর রহমান পুরস্কার গ্রহণ করেন।

এছাড়া নোয়াখালী জেলা বিশেষ শাখার এ এসআই (নিঃ) মো. সাদ্দাম হোসেনকে শ্রেষ্ঠ ডিএসবি ওয়াচার, নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. জাকির হোসেন ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. কামাল হোসেনকে শ্রেষ্ঠ ডিবি অফিসার নির্বাচিত করা হয়।

কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলাকে শ্রেষ্ঠ ডিবি ইউনিট, কুমিল্লা ও ফেনী ট্রাফিক ইউনিটকে শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইউনিট নির্বাচন করা হয়।
এছাড়া কুমিল্লা কোর্ট পরিদর্শক সালাউদ্দিন আল মাহমুদকে শ্রেষ্ঠ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার এসআই (নিঃ) মো. গোলাম মোস্তফা, নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই(নিঃ) মো. সাঈদ মিয়া, একই জেলার হাতিয়া থানার এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিঃ) মো. সহিদার রহমান ও এসআই(নিঃ) নন্দন চন্দ্র সরকারকে শ্রেষ্ঠ মামলা তদন্তকারী অফিসার হিসেবে পুরস্কৃত করা হয় এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসের শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী অফিসার হিসেবে বান্দরবান লামা থানার এসআই(নিঃ) আয়াত উল্ল্যাহ পুরস্কৃত হয়।

শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশীং অফিসার হিসেবে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই(নিঃ) খালেকুজ্জামান, শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশীং মনোনীত সদস্য নির্বাচিত হন লক্ষীপুর সদর মডেল থানার কমিউনিটি পুলিশ সেলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ এহ্তেশাম হায়দার বাপ্পী।

রেঞ্জ ডআিইজি খন্দকার গোলাম ফারুক শ্রষ্ঠেত্বরে স্বীকৃতস্বিরূপ চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নুরআেলম মনিাকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক ও সার্টিফিকটে অফ এপ্রসিয়িশেন প্রদান করনে এবং সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।
তিনি উপস্থিত সকল অফিসার-ফোর্স’কে জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Feb2
Feb2

মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:59 am
মোদি সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পাশে এবার বলিউড তারকারা

দিল্লির রাজপথে সহিংস রূপ নেওয়া বিক্ষোভের পরদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী।

রাজধানীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের সমর্থনে এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ‘পুলিশের ধরপাকড়ের’ প্রতিবাদে সরব হচ্ছেন ক্রমেই বেশিসংখ্যক তারকা ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব।

পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ, যিনি আগে এই বিক্ষোভ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, মঙ্গলবার তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ইনস্টাগ্রামে এই গায়ক লেখেন, ‘যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।’

‘জনগণের কণ্ঠস্বর’কে ‘ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে দিলজিৎ কর্তৃপক্ষকে ‘শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অভিযোগ শোনার’ আহ্বান জানান। কৃষক আন্দোলনের সময় কথা বলে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা পাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এই গায়ক বলেন, সে সময় তাকে অনেক ভুগতে হয়েছিল এবং ‘এবারও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলা হবে।’

অভিনেতা দম্পতি রিতেশ দেশমুখ ও জেনেলিয়া ডি’সুজাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং তাদের কথা শোনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই দম্পতি লেখেন, ‘আমরা আমাদের দেশের তরুণদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি জানাচ্ছি। তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত—উচ্চকণ্ঠে, স্পষ্টভাবে এবং ভয়হীনভাবে। তারাই আমাদের গণতন্ত্রের স্পন্দন এবং আমাদের জাতির ভবিষ্যতের প্রকৃত স্থপতি। আসুন, আমরা তাদের কথা শুনি, সমর্থন দিই এবং ক্ষমতায়ন করি। আমাদের তরুণদের শক্তি, সাহস ও স্বপ্নই সেই ভারত গড়বে, যে ভারতের স্বপ্ন আমরা দেখি।’

এর আগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা-নির্মাতা প্রকাশ রাজ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই বিক্ষোভ যে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, সে বিষয়ে জোর দেন শাবানা আজমি। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা এখানে এসেছি, সবাই একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য এসেছি। আমাদের দেশের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার চর্চা করতেই এই জমায়েত। মহাত্মা গান্ধী আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হয়, আর আমরা সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এখানে এসেছি। কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টির বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের নেই এবং আমরা এই আশাতেই দৃঢ়ভাবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের পর বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অনেক তারকা।

অভিনেতা হুমা কুরেশি বলেন, বিক্ষোভের এসব দৃশ্য তার মনে ‘দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে’। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘এমন পাশবিক বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জ’ তাকে ‘গভীরভাবে ব্যথিত করেছে’ বলে জানান তিনি।

চলচ্চিত্র রচয়িতা সুতপা সিকদার লিখেছেন, জবাবদিহি চাইতে আসা বিক্ষোভকারীদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষার্থী, যারা ‘পকেটে মাত্র ২০ টাকা’ আর ‘বুকভরা আশা’ নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, এই তরুণেরা কেউ ‘প্রভাবশালী ধনী বাবার আদুরে সন্তান’ নন এবং ‘তাদের বাঁচাতেও কেউ আসেনি’।

সারা জীবন বাসের জন্য, ট্রেনের জন্য, ভর্তির জন্য কিংবা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই করে তারা টিকে থেকেছেন, এখানেও তারা সেভাবেই মাটি কামড়ে পড়ে ছিলেন বলে উল্লেখ করেন সুতপা।

অভিনেতা ও নির্মাতা নন্দিতা দাস জানিয়েছেন, যারা বিশ্বাস করেন মানুষ যখন সমবেত হতে পারে, কথা বলতে পারে, শুনতে ও শোনাতে পারে, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়—তিনি তাদের প্রতি সংহতি জানাচ্ছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘গঠনমূলক ভিন্নমতই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ভারতের ওপর আমরা বিশ্বাস রাখি, সেই ভারতের জন্য দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা করা সবার সঙ্গেই আমি আত্মিকভাবে আছি।’

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে অভিনেতা ভূমি পেডনেকার বলেছেন, সহিংসতা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসংগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 8:31 am
ইরানে টানা ১১তম দিনে মার্কিন হামলা, একের পর এক বিস্ফোরণ

ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরও হ্রাস করার লক্ষ্যে দেশটির বিরুদ্ধে টানা একাদশতম দিনের মতো বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক অভিযানকেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, ইরানের রাজধানীজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বুশেহরের কিছু অংশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিকের আশপাশেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফার্স নিউজকে বলেন, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের নিকটবর্তী এলাকাগুলো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৪০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়। এটি শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক এলাকায় চালানো হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ইরানি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। এই মাসে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরান বারবার হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথের এ ঘোষণার পর তিনি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুব শিগগিরই এবং খুব জোরালোভাবে’ পিক্যাক্স মাউন্টেন নামের একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালালে এ অঞ্চলে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।