খুঁজুন
, ,

খোলা স্থানে ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া’ দিতে গিয়ে যে বিপদে পড়েন করণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 11 February, 2022, 12:11 pm
খোলা স্থানে ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া’ দিতে গিয়ে যে বিপদে পড়েন করণ

একবার ‘প্রকৃতির ডাকে সাড়া’ দিতে গিয়ে বিষম বিপদে পড়েছিলেন করণ জোহর। বেশ বড়সড় এক লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। সম্প্রতি ‘হুনারবাজ’-এর সেটে সেই কথাই ফাঁস করলেন পরিচালক নিজেই! যা শুনে হেসে কুটিকুটি হলেন লাস্যময়ী পরিণীতি চোপড়া।

সম্প্রতি, চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে শো-এর একটি এপিসোডের প্রমো আপলোড করা হয়েছে। সেখানেই জানা গেল সেই ঘটনা।

করণ জোহর জানান, ঘটনার সময়কাল ‘কাভি খুশি কাভি গম’ ছবির শ্যুটিংয়ের সময়। সেইসময় মিশরে শাহরুখ খান এবং কাজলকে নিয়ে ‘সূরজ হুয়া মাধ্যম’ গানের শ্যুটিং চলছে। করণের কথায়, ‘আমরা এমন একটি লোকেশনে ছিলাম, যেখানে মাইলের পর মাইলজুড়ে কেবল সাদা বালি আর নানান আকারের সাদা চুনাপাথরের টুকরো ছড়িয়েছিল। আর কিচ্ছু ছিল না, কিচ্ছু না। জনবসতির চিহ্ন পর্যন্ত ছিল না। দেখে মনে হতে পারে, পৃথিবীর শেষ প্রান্ত বুঝি এটাই। অদ্ভুত সুন্দর লোকেশন ছিল।’

অল্প থেমে ফের শুরু করেন করণ, ‘সেদিন আমার পেটটা খারাপ ছিল। সকাল থেকে বেশ কয়েকবার প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হয়েছিল। ফের বেগ পেল। এদিকে দূর দূরান্ত পর্যন্ত কোনও বাথরুম, হোটেল কিচ্ছু নেই। এতটাই বেগ এসেছিল যে, শেষমেশ উপায়ন্তর না দেখে বেশ কিছুটা দূরে চুনাপাথরের আড়ালে গিয়ে আমি আমার কাজ শুরু করে দিলাম।’

বলিউডের প্রতিথযশা এই পরিচালক বলেন, ‘ভেবেছিলাম নির্জন জায়গা, দেখার কেউ নেই। ওমা! হঠাৎ করে একটা শব্দ পেলাম। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি, হলিউড ছবির শ্যুটিং ক্রুয়ের একটি দল সেখানে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে আমাকে দেখছে। ক্যামেরাও বের করছে, আমার ওই অবস্থার ছবি তুলে রাখবে বলে। সঙ্গে সঙ্গে প্যান্ট-শার্ট ঠিক করে তাঁদের কাছে অনুরোধ জানাই যে, এরকম যেন তাঁরা না করেন। আরও বলি, যে ছবির শ্যুটিং চলছে তার পরিচালক আমি। তাই তাঁরা যেন আমার প্রতি একটু সম্মান দেখায়।’

করণের মুখে এ কথা শোনামাত্রই তাঁরা তাঁকে আশ্বস্ত করে এবং চলে যায় সেখান থেকে। আর এতে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন পরিচালক।

বক্তব্যের শেষে তাঁর সংযোজন, ‘চুনাপাথরের অপরদিকে ছিলেন বলে তাঁরা শাহরুখ এবং কাজলকে দেখতে পাননি। আজও সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে লজ্জা লাগে।’

এদিকে, বলিউড-পরিচালকের কথা শেষ হতে না হতেই গলা ফাটিয়ে হাসতে শুরু করেন লাস্যময়ী বলি অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া।

এন-কে

Feb2
Feb2

কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 13 September, 2026, 10:21 am
কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. ফেরদৌস আলম (৫), মিপতা (১৭), মাইক্রোবাসের চালক মুন্না (৪০) এবং অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস কক্সবাজারের ঈদগাহের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাইক্রোবাসটি শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে ইউটার্ন নেওয়া একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ফেরদৌস আলম ও মিপতা নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালক মুন্নাসহ আরও দুজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

কর্ণফুলী থানার পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

কোটি টাকার বালু-মাটি লুটের মহা আয়োজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 13 September, 2026, 9:37 am
কোটি টাকার বালু-মাটি লুটের মহা আয়োজন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ‘স্বেচ্ছাশ্রমে’ ডলু খাল খননের নামে কোটি কোটি টাকার বালু ও মাটি লুটের আয়োজন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। সাতকানিয়ার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ডলু খালের গারাঙ্গিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে উত্তরের নলুয়া-আমিলাইশ তিন খালের মুখ পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে এই বালু ও মাটি লুটের আয়োজন চলছে।

এদিকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কাজ পাওয়ার আড়ালেও রয়েছে কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মাহমুদুল হাসানের দিকেই উঠেছে এই অভিযোগের তির। বদলি আদেশ হওয়ার চার দিন পর গত ২৭ আগস্ট এক কলমের খোঁচায় একটি প্রতিষ্ঠানকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কার্যাদেশ দেন তিনি। এই এক কার্যাদেশেই সরকারের যেমন রাজস্ব বঞ্চিত হওয়ার ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে, তেমনি প্রভাবশালী চক্র যেন পেয়ে গেছে পুরো ডলু খালের ‘মালিকানা’। ওই প্রতিষ্ঠান এবার নিজেরাই লাখ লাখ টাকায় সেই খালের বালুমহাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এতে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে চলছে উত্তেজনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে গত ২৩ আগস্ট বদলি করে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। বদলির আদেশ হওয়ার চারদিন পর ২৭ আগস্ট তিনি ডলু খালের বিশাল এলাকা স্বেচ্ছাশ্রমে খননের জন্য ‘মেসার্স করিম অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেন। ওই প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দিলেও এর পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত কার্যাদেশে বলা হয়-সাতকানিয়া উপজেলাধীন ডলু খালের গারাঙ্গিয়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে উত্তরে ভাটির দিকে নলুয়া আমিলাইশ তিন খালের মুখ পর্যন্ত জেগে ওঠা মাটির ঢিবি-বালুর ঢিবি খননের সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চলতি বছরের ১৪ জুন গঠিত ‘স্বেচ্ছায় উপজেলা খাল খনন কমিটি’কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। উক্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। জেগে ওঠা মাটির ঢিবি-বালুর ঢিবি টোটাল স্টেশন মেশিন থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে অপসারণযোগ্য মাটির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখিত অংশের অপসারণযোগ্য মাটির পরিমাণ ১ কোটি ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৩ ঘনফুট। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই কোনো ধরনের টেন্ডার ছাড়াই করিম অ্যান্ড ব্রাদার্সকে বালু ও মাটি অপসারণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

সূত্র অভিযোগ করেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র এখন এই খালের বালু-মাটি বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিতে মারিয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও মাটি বিক্রির ধুম পড়েছে। এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসী, পাতি নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নেতা দফায় দফায় মিটিং করে বালু-মাটি বিক্রি করছেন। গারাঙ্গিয়া ব্রিজ থেকে নলুয়া-আমিলাইশ পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার খালটির প্রতি আধা কিলোমিটারে বালু ও মাটির বিক্রয় মূল্য ধরা হচ্ছে ৫০ লাখ টাকা করে।

জানা গেছে, পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে প্রবাহিত হয়ে ডলু নদী চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতির নারিশ্চা পানত্রিশা, পুটিবিলা, হাফেজপাড়া, আধুনগর ইউনিয়ন, লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া, সোনাকানিয়া, রূপকানিয়া, সাতকানিয়া সদর, পৌরসভা, রামপুর, পশ্চিম ঢেমশা, গাঠিয়াডেঙ্গা, নলুয়া, আমিলাইশ ইউনিয়ন হয়ে সাঙ্গু নদীতে পড়েছে। টঙ্কাবতী ও হাতিয়া খালসহ অনেক ছোট ছোট খাল ডলুর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ডলুর দৈর্ঘ্য ৫৩ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৪৬ মিটার।

করিম অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক আবদুল করিম বলেন, আমার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কার্যাদেশ পেয়েছে। আমরা কারও কাছে খালের মাটি ও বালু বিক্রি করছি না।

আটটি বৈধ বালুমহালও বিলীন : অপরিকল্পিতভাবে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কার্যাদেশ দেওয়ায় ৮টির মতো বৈধ বালুর মহালের অস্তিত্ব থাকবে না। বৈধ বালু মহালের মধ্যে রয়েছে সোনাকানিয়া, রূপকানিয়া, সাতকানিয়া সদর, রামপুর, পশ্চিম ঢেমশা, রোজমর পাড়া, গাঠিয়াডেঙ্গা, নলুয়া, আমিলাইশ এলাকা। এসব বালু মহাল থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেত। সরকার এসব রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হবে।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, ইউএনও অফিস আমাকে সার্ভে করে একটি রিপোর্ট দিতে বলেছিল। আমি রিপোর্ট দিয়েছি। এরপর কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। খালের উল্লেখিত অংশের অপসারণযোগ্য মাটির পরিমাণ ১ কোটি ৮৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩৭৩ ঘনফুট পেয়েছি। এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এভাবে নির্বিচারে বা অপরিকল্পিকভাবে খাল খনন করা হলে খালের দুই তির, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থাপনা, বাঁধ, ব্রিজ ও কালভার্টের নিরাপত্তা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলগত মতামত নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বেচ্ছাশ্রমের নামে খালটির বিশাল অংশ থেকে মাটি ও বালু খনন করলে এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বর্ষা মৌসুমে খালটি ভেঙে বিশাল এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া বদলির আদেশ হওয়ার পর তড়িঘড়ি করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ইউএনও এই কার্যাদেশ দিয়ে যান বলে তারা অভিযোগ করেন। জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলার সদ্য বিদায়ি নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মেনেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

৬৩ বিদেশির কারো কাছেই পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 12 September, 2026, 9:13 pm
৬৩ বিদেশির কারো কাছেই পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ

নগরের খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছে পাসপোর্ট পায়নি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও পাসপোর্টের কোনো হদিস মেলেনি।

ফলে তারা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্যও এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।

তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ পাওয়া গেছে। তবে কারও কাছে কোনো পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ার চাকরির কার্ড পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে সেখানে অনলাইনে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজ করা হচ্ছিল। এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি কিছু চক্র জড়িত রয়েছে। তবে প্রতারণার ধরন এখনো বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতারণার ধরন আমরা তদন্ত করছি। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ছয় মাস আগে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির মালিকানাধীন আটতলা ভবনটি মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানে দেশভেদে আলাদা করে বিদেশি নাগরিকদের রাখা হয়েছিল। তাদের জন্য রান্নার ব্যবস্থাও ছিল। মহসিন নামে এক ব্যক্তির কাছে অধিকাংশ বিদেশির পাসপোর্ট রয়েছে। তিনিই ভবনটি ভাড়া নিয়ে তাদের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করতেন। বর্তমানে পুলিশ তাকে খুঁজছে।

কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তাদের ধারণা, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এসব বিদেশিকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে পণ্য দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নেওয়া কিংবা হানিট্র্যাপের মতো প্রতারণায় দক্ষ হতে পারেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আব্দুর রহিম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কবে এবং কোন ভিসায় বাংলাদেশে এসেছেন, সেটি বের করা হবে। বর্তমানে মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজম তদন্ত করছে।