খুঁজুন
, ,

মারকুটে ব্যাটিংয়ের অপর নাম মুনিম শাহরিয়ার!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 17 February, 2022, 12:43 pm
মারকুটে ব্যাটিংয়ের অপর নাম মুনিম শাহরিয়ার!

বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেড়শর উপর স্ট্রাইকরেটে টুর্নামেন্টজুড়েই ব্যাট করেছেন, এমন নজির খুব কমই পাওয়া যায়। এমনকি টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের টপ ব্যাটারদের স্ট্রাইকরেট যেখানে ১২০ থেকে ১৩০-এর গণ্ডিতে, সেখানে মুনিম শাহরিয়ার এবার গোটা বিপিএলে ১৬১ দশমিক ৮১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছেন। পাঁচ ম্যাচে বল খেলেছেন ১১০টি, রান তুলেছেন ১৭৮।

ফরচুন বরিশালের ফাইনালে ওঠার পেছনে ময়মনসিংহের এই মারকুটে ব্যাটারের অবদান কম নয়। বিশেষত শেষ চার ম্যাচে তুলেছেন যথাক্রমে ২৫ বলে ৪৫, ২৮ বলে ৫১, ২৫ বলে ৩৭ এবং ৩০ বলে ৪৪। তেরটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে মুনিম শাহরিয়ার বলেন, বল পেটানোর অনুশীলন করেই বড় হয়েছেন তিনি।

মুনিমের ভাষায়, “এটা আমার বাসার বারান্দা থেকে শুরু হয়েছে। বাবা বলতো- ক্রিকেট খেল, বাবাই বেশি ক্রিকেট খেলতে নিয়ে যেতেন, একটু বড় হওয়ার পরই মাঠে যাওয়া শুরু করি। আমি শুধু চেষ্টা করতাম ছক্কা মারার।”

বাংলাদেশে যারা ক্রিকেট অনুসরণ করেন এবং খেলাটি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেন, তাদের অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন মুনিম শাহরিয়ারের খেলা দেখে।

বিপিএলের ম্যাচে ফরচুন বরিশালের হয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পেস বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ছক্কা মারা দেখে একজন লিখেছেন, “ঠিক যেন চোখে লেগে আছে শটটা”।

সেই থেকে মুনিম শাহরিয়ারের নাম এখন সর্বত্র, অনেকে তাকে মনে করছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পাওয়ার প্লে-তে যে দৈন্যদশা দেখা যায়, তার সমাধান হিসেবেই।

মুনিমকে নিয়ে টুইটারে আলোচনা করেছেন ভারতের ক্রিকেট অনুসারীদেরও কেউ কেউ।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনই মূলত তাকে মূলধারার ক্রিকেটে তুলে এনেছেন। মুনিম শাহরিয়ার এর আগেও পারফর্ম করেছেন নানা পর্যায়ে। কিন্তু এবারে তিনি নজর কেড়েছেন বিপিএল দিয়ে।

সুজন বলেন, “মুনিম ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে, এমন একটা ছেলেকেই চাচ্ছিলাম। হয়তো ফিটনেস ও ফিল্ডিং নিয়ে আরও কিছু কাজ বাকি আছে।”

চলতি বিপিএলের শুরুতে কোভিড পজিটিভ আসায় খেলতে পারেননি মুনিম, তখনও বরিশালের ওপেনিং কম্বিনেশন গুছিয়ে উঠতে পারেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের প্রায় সব ব্যাটারকেই ইনিংস শুরু করতে পাঠিয়েছে দলটি। শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন ক্রিস গেইল ও মুনিম শাহরিয়ারই।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হার্ড হিটার হিসেবে সুপরিচিত ক্রিস গেইলের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন মুনিম। ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ বেলায় দাঁড়িয়ে ক্রিস গেইল এখন আর আগের মতো বোলারদের ওপর দাপট দেখাতে পারেন না। অন্তত এই বিপিএলে তা দেখা যায়নি, দায়িত্ব নিয়ে গেইলের অভাব পূরণ করেছেন মুনিমই।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, গেইলের সঙ্গে ব্যাট করতে নেমে বিশেষ কিছু মনে হয় না। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট পেশাদারিত্বের সাথে খেলবেন- এমন একটা মনোভাব নিয়েই মাঠে নেমেছেন।

মুনিম বলেন, “যখন মাঠে নামি অনেক বিষয়ই মাথায় থাকে না, শুধু আমি আর বোলার থাকে, বলের দিকেই ফোকাসটা থাকে।”

তবে আমুদে স্বভাবের গেইলের কাছে উপভোগ করাটা শিখছেন মুনিম শাহরিয়ার। তিনি বলেন, “ওর সঙ্গে যতক্ষণ কথা হয়, বলেন খেলাটা এনজয় করার কথা।”

এর আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) আবাহনীর হয়ে খেলেছেন মুনিম। সেখানেও তিনি কোচ হিসেবে পেয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজনকে। নির্দিষ্ট রান না পেলে, পরিসংখ্যান ভালো না থাকলে বাংলাদেশে টিম ম্যানেজমেন্টের নজরে পড়া কঠিন। কিন্তু মুমিনের মতে, খালেদ মাহমুদ সুজন তাকে ‘নিজের মতো খেলার’ সুযোগ দিয়েছেন।

বর্তমানে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দলে খেলছেন তিনি। মুনিমের মতে, সাকিব আল হাসানের মতো ক্রিকেটারের সঙ্গে খেললে যে কোনও তরুণের চাপ কমে যায়।

সাকিব প্রসঙ্গে মারকুটে এই ব্যাটার বলেন, “নির্ভার একজন মানুষ। ইতিবাচক ছাড়া কোনও চিন্তা করেন না। যতটুকু যা বলার সোজাসাপ্টা সামনেই বলে দেন।”

হালে মুনিম শাহরিয়ার নামে পরিচিতি পেলেও ডাকনাম তাঁর জুম্মন। ময়মনসিংহে টেপ টেনিস ক্রিকেটে সুপরিচিত নাম ছিলেন দীর্ঘদিন। সেখান থেকে বাংলাদেশের শীর্ষ টি-টোয়েন্টি লিগে আসার পথটা মুনিম তৈরি করে নিয়েছেন নিজেই।

তিনি মনে করেন, ক্রিকেট যে খেলবেন- এটা তিনি জানতেন। তাই কেবল খেলে গেছেন নিজের মতো করেই।

এদিকে, চলতি বিপিএলের প্লে অফে খেলা নিশ্চিত হওয়ার পর সাকিব আল হাসান আলাদাভাবেই মুনিমের প্রশংসা করে বলেন, এই বিপিএলের বড় আবিষ্কার মুনিম শাহরিয়ার।

তবে অচিরেই জাতীয় দলে খেলবেন কি না, তা এখনই বলা মুশকিল। যদিও ইতোমধ্যে তারকাখ্যাতি পেয়ে গেছেন মুনিম।

সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সাথিরা জাকির জেসিও মনে করেন, যেসব ক্রিকেটার এবার আলাদা করে নজর কেড়েছেন, তাদের মধ্যে মুনিম শাহরিয়ার থাকবেন। তিনি বলেন, “মুনিমের ব্যাটিংয়ের ধরনটা বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায় না। কোনও রাখঢাক নেই।”

নিয়মিত ক্রিকেট অনুসরণ করা সুমাইয়া আফরিন। তিনি মনে করেন, “মুনিমের খেলা মাঠে দেখার আলাদা আনন্দ আছে। সে যে ক্রিকেটটা উপভোগ করেই খেলছে, সেটা ওর ব্যাটিং দেখলেই বোঝা যায়।

এন-কে

Feb2

কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 10:55 am
কঙ্গোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে কলম্বিয়া

ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয়ে প্রথম দল হিসেবে ‘কে’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল লাতিন আমেরিকার দল কলম্বিয়া। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় কলম্বিয়া। তবে প্রথমার্ধে কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ও গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত কিছু সেভের কারণে ডেডলক ভাঙতে পারেনি তারা। উল্টো অফসাইডের কারণে ম্যাচের ৮ম মিনিটে দানিয়েল মুনিয়োজের একটি গোল বাতিল হয়।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধেও যখন গোল আসছিল না, ঠিক তখনই ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন দানিয়েল মুনিয়োজ। ডান প্রান্ত থেকে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের চমৎকার এক বিল্ড-আপে রক্ষণভাগ চিরে বক্সের ভেতর মাপা ক্রস বাড়িয়েছিলেন সতীর্থ উইঙ্গার। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে পোস্টের খুব কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার। উল্লাসে ফেটে পড়ে গুয়াদালাহারার গ্যালারি।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে লুইস দিয়াজের আরও একটি দর্শনীয় গোল অফসাইডের ফাঁদে পড়ে। এরপর আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া।

এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘কে’ এর টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে কলম্বিয়া এবং তাদের শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে ড্র করা কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রইল। আর দুই নম্বরে আছে পর্তুগাল। তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে তলানিতে অবস্থান উজবেকিস্তানের।

মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:31 am
মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচে পানামাকে বিদায় করল ক্রোয়েশিয়া

হারলেই বিদায় নিতে হবে, এমন সমীকরণ সামনে রেখে টরন্টো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া ও পানামা। ২০১৮ সালের পর প্রথম ও বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পানামা বেশ কয়েকবার ক্রোটদের চ্যালেঞ্জ জানায়। শেষ পর্যন্ত বদলি নামা আন্তে বুদিমিরের একমাত্র গোল গড়ে দেয় পার্থক্য। ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে ‘এল’ গ্রুপ থেকে নকআউটের লড়াইয়ে টিকে থাকল ক্রোয়েশিয়া। আর টানা দুটি ম্যাচ হেরে বিদায় নিলো পানামা। ৮১ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়া লুকা মদ্রিচের ছিল এটি দুইশতম ম্যাচ। চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে দিনের আগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করা ঘানার বিপক্ষে শনিবার খেলবে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচটি জিতলে শীর্ষ দুই নিশ্চিত করবে তারা। পানামাকে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া আপাতত গ্রুপ ‘এল’-এর তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। তারা ইংল্যান্ড ও ঘানার চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নিজেদের শেষ দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচে দারুণ লড়াই করা পানামা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল। ম্যাচে পানামা আটটি শট তৈরি করেছিল যার মধ্যে একটি ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে ক্রোয়েশিয়া দুটি অন-টার্গেট শটসহ মোট ছয়টি শট নিয়েছিল।

প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। বিরতির নয় মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে লিড নেয়। স্তানিসিৎসের ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো ক্রসটি ব্যাক পোস্টে আলতো টোকা দিয়ে জালে জড়ান বুদিমির। এর কয়েক মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ এসেছিল। পাসালিচের ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে নেওয়া শটটি মস্কেরা রুখে দেন। অরল্যান্ডো সিটির এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ফিরতি শটটি বারের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে মারেন।

পানামাও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ক্রোট কিপার লিভাকোভিচ অত্যন্ত সতর্ক থেকে গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন। পরপর মুরিলোর আক্রমণ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি হার্ভির কাছ থেকে নেওয়া ক্লোজ-রেঞ্জ হেডার বারের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান তিনি। ৮০তম মিনিটে সমতা ফেরানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন মিডফিল্ডার হার্ভি, কিন্তু কর্নার থেকে আসা বলে তার নেওয়া শটটি জালের বাইরের পাশে আঘাত করে।

শুরু থেকে আক্রমণে যায় ক্রোয়েশিয়া। ডান দিক থেকে ইয়োসিপ স্তানিশিচের ক্রসে মদ্রিচ হেড নিলেও বল ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। অষ্টম মিনিটে কার্লোস হার্ভের দৌড়ে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে পানামা। তবে ইয়োয়েল বার্সেনাসের ক্রস নিরাপদে ক্লিয়ার করে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ।

প্রথমার্ধে লিভাকোভিচ না ঠেকালে লিড নিতো পানামাই। ২২ মিনিটে অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান মার্তিনেসের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে এগিয়ে গিয়ে শট নেন মুরিলো। তবে সহজেই বল ধরে ফেলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক। পরের মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগটি আসে পানামার সামনে। ডান দিক থেকে মুরিলোর নিখুঁত ক্রসে হেড করেন হোসে লুইস রদ্রিগেজ। তবে লিভাকোভিচ দুর্দান্ত সেভ করে বল ক্রসবারে লাগিয়ে বিপদমুক্ত করেন। সেই সুযোগ থেকে এগিয়ে যেতে না পারা পানামা আত্মবিশ্বাস ধরে রাখলেও জয় পায়নি। ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হারের পর জয়ে ফিরে নকআউটে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।

ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 24 June, 2026, 9:06 am
ঘানার সঙ্গে ড্র, ইংল্যান্ডের অবাঞ্ছিত রেকর্ড

বিশ্বকাপের এক আসরে গ্রুপ পর্বে রেকর্ড ১৩৭ গোল হওয়ার পরের ম্যাচেই গোলখরার ঘটনা ঘটল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের তৃতীয় গোলে এই রেকর্ড হয়েছিল। তবে বোস্টনে ইংল্যান্ড ও ঘানার পরের ম্যাচটি শেষ হলো গোলশূন্য ড্রতে। জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দুই দলই তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করল।

বোস্টন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের জন্য একটি হতাশাজনক সন্ধ্যা কাটল, যার শেষ হলো এক পয়েন্ট পাওয়ার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে ঘানা রক্ষণভাগের অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে তাদের কাজ বেশ ভালোভাবে শেষ করেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার টানা দুই ম্যাচে গোলপোস্ট অক্ষত রেখেছে তারা।

ইংল্যান্ড ম্যাচের শেষের দিকে এসে খেলার গতি বাড়িয়েছিল। তাদের হয়তো মনে হতে পারে যে আর পাঁচ-ছয় মিনিট সময় পেলে তারা জয়সূচক গোলের দেখা পেতে পারতো।

ম্যাচের এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে সাকার একটি জোরালো শট গোলরক্ষক আসারে চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ও’রেইলির হেড বারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে, ফিরতি বলে কেইনের নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়। গেহির একটি হেডার গোললাইনের ঠিক নিচ থেকে ক্লিয়ার করা হয়।

টমাস টুখেল ও থ্রি লায়ন ভক্তদের জন্য এটি ছিল একটি কঠিন ম্যাচ। তবে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানো ইংল্যান্ড এখনো ‘গ্রুপ এল’-এর শীর্ষেই রয়েছে এবং গ্রুপের শেষ ম্যাচে পানামাকে হারাতে পারলে তারা শীর্ষস্থান ধরে রেখেই পরের রাউন্ডে যাবে। পানামার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ঘানাও তাদের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২ এর লড়াইয়ে টিকে আছে।

ঘানার চমৎকার রক্ষণভাগের কারণে ম্যাচ গোলশূন্য থাকায় প্রথমার্ধের বিরতিতে ইংল্যান্ডকে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। প্রথমার্ধ শেষে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি, চলতি বিশ্বকাপে এই ম্যাচে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। ৮০ শতাংশ বল ইংল্যান্ডের দখলে ছিল, এমনকি প্রতিপক্ষের অর্ধে তারা ৬টি শট নিলেও তা লক্ষ্য বরাবর ছিল না। সব মিলিয়ে ১৯ শটের মধ্যে চারটি ছিল লক্ষ্যে, যার সবগুলোই দ্বিতীয়ার্ধে।

দ্বিতীয়ার্ধের মতো প্রথম অর্ধে ব্ল্যাক স্টাররাও বেশ রক্ষণাত্মক খেলেছে। চারজনের দুটি লাইনের মাঝে থমাস পার্টেকে রেখে তারা ডিফেন্স সামলেছে। যদিও রাইসের দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট পোস্টের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়।

মাদুয়েকের ক্রস থেকে হেডে বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রাইস। পরে হ্যারি কেইনের একটি শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। তবুও তারা ঘানার গোলরক্ষককে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এমনকি তারা ঘানার এই সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করে ভেতরেও ঢুকতে পারেনি।

প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের হতাশা মাঠে ক্ষোভ হিসেবে প্রকাশ পায়। নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা বেলিংহাম বল ক্লিয়ার করার সময় ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুকে ধাক্কা দিলে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরে তাদের আলাদা করা হয়।

ম্যাচ শেষে বেশ কিছু অবাঞ্ছিত রেকর্ড ইংল্যান্ডের সঙ্গী হয়েছে। বিশ্বকাপে এনিয়ে ২৩ ম্যাচ ড্র করল তারা, যার মধ্যে ১৩টি গোলশূন্য। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যে কোনো দলের জন্য দুটোই সর্বোচ্চ।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বল দখল পজেশন ছিল ৭৮.৮ শতাংশ; বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এটিই তাদের সর্বোচ্চ বল দখলের রেকর্ড। একই সাথে ফুটবলে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে গোল করতে ব্যর্থ হওয়া যেকোনো দলের মধ্যেও এটিই সর্বোচ্চ বল দখলের নজির।

এছাড়া বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে গেহির করা ১২৬টি সফল পাস এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ পাস। পুরো ম্যাচে তাকে সাতবার ফাউল করা হয়েছে; বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কোনো ডিফেন্ডার একটি ম্যাচে এত বেশি ফ্রি-কিক আদায় করতে পারেননি।