আইপিএলের বেতনের টাকা যেভাবে পান মুস্তাফিজরা
শেষ হয়েছে আইপিএলের নিলাম। কোটির অংকে, লাখের অংকে কেনাবেচা হয়েছে ক্রিকেটার। ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ নিলামের টেবিলে বসে রীতিমতো দাম হাঁকিয়ে বাগিয়ে নিয়েছে পছন্দের ক্রিকেটারটিকে। এই যে দাম হাঁকিয়ে কিনে নেওয়া হয় তারকাদের ,তাদের বেতন দেওয়া হয় কীভাবে? – তা নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা চলে ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে। জেনে নেওয়া যাক আইপিএলে কীভাবে বেতন দেওয়া হয় মুস্তাফিজদের।
২০০৮ সালে যখন প্রথমবার আয়োজন করা হয় আইপিএল, সেবার ডলারের অংকে দরদাম হয়েছিল ক্রিকেটারদের। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে ভারতীয় রুপির হিসেবে নিলাম শুরু হয়। টেবিলে বসেন ফ্র্যাঞ্চাইজির কর্তা ও দলের কোচিং স্টাফরা। মঞ্চে সঞ্চালক এক এক করে নাম ডাকেন। যাকে যার পছন্দ তার জন্য দর হাকে সেই দল। শেষে যে দল বেশি টাকা দিচ্ছে সে তুলে নিচ্ছে পছন্দের ক্রিকেটারকে। অবশ্য প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য একটা সর্বনিম্ন দাম ঠিক করে দেওয়া হয়। একে বলে বেস প্রাইস (ভিত্তিমূল্য)।
নিলামে বিক্রি হওয়ার পরে কীভাবে সেই টাকা হাতে পাবেন ক্রিকেটাররা, তার জন্য নিয়ম তৈরি করেছে আইপিএল-এর গভর্নিং কাউন্সিল। সেই নিয়ম মেনেই টাকা দিতে হয় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে।
যে নিয়মে টাকা পান ক্রিকেটাররা:
* যে দামে কেনা হবে ক্রিকেটারকে সেটিই হয় তার বেতন। অবশ্য দাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট অংকে আয় কর পরিশোধ করতে হয় সেই ক্রিকেটারকে।
* আয়কর কাটার পর যে টাকা পাচ্ছেন ক্রিকেটার সেটায় শুধু তারই অধিকার। এখানে আর কেউ কোনো ভাগ পাবেন না।
* যে দামে কেনা হয়, সেটি সেই ক্রিকেটারের এক মৌসুমের বেতন। যেমন, ২ কোটিতে মুস্তাফিজকে কিনে নেওয়ায় দিল্লির দলে মুস্তাফিজের বেতন ওই দুই কোটিই। তিন বছরের চুক্তিতে তাকে ৬ কোটি তাকা পরিশোধ করতে হবে। অবশ্য নিজের থেকে যে কয় ম্যাচ মিস করেন ক্রিকেটার তার টাকা কেটে নেওয়া হয় বেতন থেকে।
*কোনো ক্রিকেটারকে তিন বছরের চুক্তিতে কেনা হয় এবং চুক্তি শেষ হওয়ার পরে তাকে পরের মৌসুমের জন্য কোনো দল ধরে রাখতে চায়, তা হলে তার চুক্তি বাড়িয়ে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি আগের বছরের হিসেবেই টাকা পাবেন। তবে সাধারণত ফ্র্যাঞ্চাইজি ও সেই ক্রিকেটার মিলে আলোচনা করে নতুন বেতন ঠিক করে নেয়।
*যদি কোনো ক্রিকেটার গোটা মৌসুমের জন্য ফিট থাকেন তাহলে তাকে পুরো টাকাই দিতে হবে। তাকে কটা ম্যাচে খেলানো হলো সে হিসেব করা যাবে না।
*ক্রিকেটার যদি মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চোট পেয়ে পুরো মৌসুমের জন্য ছিটকে যান তাহলে তাকে কোনো টাকা দিতে হবে না। কিন্তু সেই ক্রিকেটার যদি মৌসুমের কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারেন তাহলে তাকে কেনা দামের ১০ শতাংশ ও তার খেলা ম্যাচ হিসেবে ম্যাচপিছু টাকা দিতে হবে।
*মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই যদি কোনো ক্রিকেটার তার ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করেন তবে সেই আবেদনে ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজি থাকলে সেই ক্রিকেটারকে চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকাই দিতে হবে।
*মৌসুমের মাঝপথে কোনো ক্রিকেটার চোট পেয়ে গেলে তার চিকিৎসার খরচ বইবে সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিই।
*তবে সব ফ্র্যা়ঞ্চাইজির বেতন পদ্ধতি এক নয়। সেটা নির্ভর করে সেই ফ্র্যাঞ্চাইজির আর্থিক অবস্থা বা তাদের কতটা ধনী বিনিয়োগকারী রয়েছে তার উপর। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি একসঙ্গেই পুরো টাকা দিয়ে দেয়। কোনটি বা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৫০ শতাংশ ও টুর্নামেন্ট চলাকালীন ৫০ শতাংশ টাকা দেয়। কেউবা আবার শুরুতে ১৫ শতাংশ, টুর্নামেন্ট চলাকালীন ৬৫ শতাংশ ও শেষে ২০ শতাংশ টাকা দেয়।
*আইপিএলের শুরুতে যখন ডলারে দাম ঠিক করা হয়েছিল তখনও বেতন দেওয়া হয়েছিল রুপিতেই। এক ডলারের দাম ভারতীয় মুদ্রায় ৪০ টাকা ঠিক করে দাম ধার্য করা হয়েছিলো। অর্থাৎ নিলামে যে দাম ডলারে পাওয়ার কথা তাকে ৪০ দিয়ে গুণ করে রুপিতে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে ভারতীয় রুপিতে নিলাম শুরু হয়।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন