শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ২২
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মিছিল ও শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের ২২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের সড়কের ডাকবাংলোর সামনে প্রধান সড়ক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় রায়পুর শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে বিএনপিসহ তাদের সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে চলে আসেন গাজি মার্কেটের সামনে। একই সময়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি ইসমাইল খোকনের নিজস্ব কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। এসময় বিএনপির মিছিলটি আওয়ামী লীগ নেতার কার্যালয়ের সামনে আসা মাত্রই ধাওয়া করেন কয়েকজন কর্মী। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গাজি মার্কেটে আসার সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। পরে তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ধাওয়া করে আওয়ামী লীগ। বিএনপির নেতারা গাজি মার্কেটে সভা ও নাস্তা বিতরণ করার সময় তা ভণ্ডুল করে দেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। এসময় উভয় দলের ২২ নেতা-কর্মী আহত হন। পরে আওয়ামী লীগ কর্মীরা বাসটার্মিনাল এলাকায় মিছিল নিয়ে আজাদ হোসেন নামে বিএনপির সমর্থকের চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও জিম ভবনের কাঁচের গ্লাস ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
এরপর সরকারি হাসপাতালে উভয় দলের আহত কর্মীরা চিকিৎসা নিতে গেলে বিএনপির কর্মীদের ধাওয়া করে আওয়ামী লীগের কর্মীরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজি জামমেদ কবির বাক্কি বিল্লাহ বলেন, সকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারবিরোধী নানান স্লোগান দেয়। আমরা বাধা দিলে আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে উভয় দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আমাদের ১০/১২ নেতা-কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম মিটু বলেন, সকালে শান্তিপূর্ণভাবে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে গাজি মার্কেটে চলে আসি। সভা শেষে কর্মীদের মাঝে নাস্তা বিতরণের সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আমাদের ১০/১২ জন নেতা-কর্মী মাথায় ও শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রায়পুর থানার ওসি শিপন বড়ুয়া বলেন, শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের বেফাস স্লোগান নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। তিন দফায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ফের সংঘর্ষ এড়াতে শহরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি বলে জানান ওসি।
এদিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী আসনের সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সোহরাফ উদ্দিন অভিযোগ করেন, সকাল ১০টার দিকে তার নেতৃত্বে দলের নেতা-কর্মীরা কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান। এ সময় বর্তমান এমপি নূর মোহাম্মদের সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন