খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ কেলেঙ্কারি : বরখাস্ত ডিআইজি মিজান ও বাছিরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১:৫৯ অপরাহ্ণ
ঘুষ কেলেঙ্কারি : বরখাস্ত ডিআইজি মিজান ও বাছিরের কারাদণ্ড

ঘুষ লেনদেনের মামলায় বরখাস্ত হওয়া পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে একটি ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে পৃথক দুটি ধারায় পাঁচ বছর ও তিন বছর করে মোট আট বছরের কারাদণ্ড এবং ৮০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আজ বুধবার এ রায় দেন। সবাইকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। বাছিরের দুটি ধারায় সাজা একসঙ্গে চলবে বলে তাঁকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এর আগে আজ সকালে আসামি বাছির ও মিজানকে আদালতে হাজির করা হয়।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আজ রায়ের দিন ধার্য করেন। গত ২৪ জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন শুনানি শেষে মিজান ও বাছিরের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ দুদকের করা মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। একই বছরের ৪ মার্চ দুদকের পক্ষে অভিযোগ গঠন শুনানি শেষ হয়। ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেছিলেন শেখ মো. ফানাফিল্যা। ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার পর ডিআইজি মিজানুর রহমান ও খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সরকার।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এনামুল বাছিরকে। ওই অনুসন্ধান চলমান অবস্থায় ওই বছরের ৯ জুন ডিআইজি মিজান অনুসন্ধান থেকে বাঁচতে এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে। এর পরপরই দুদকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি খন্দকার এনামুল বাছিরের বক্তব্য গ্রহণ করে এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পায়। এরপর একই বছরের ১৩ জুন পরিচালক ফানাফিল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে।

অনুসন্ধান দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ ও পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে। তাতে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি ডিআইজি মিজানুর রহমান একটি বাজারের ব্যাগে করে কিছু বইসহ ২৫ লাখ টাকা খন্দকার এনামুল বাছিরকে দেওয়ার জন্য রাজধানীর রমনা পার্কে আসেন। সেখানে কথাবার্তা শেষে একসঙ্গে বেরিয়ে শাহজাহানপুর এলাকায় যান। এরপর খন্দকার এনামুল বাছির ২৫ লাখ টাকাসহ ব্যাগটি নিয়ে তাঁর বাসার দিকে চলে যান। একইভাবে ২৫ ফেব্রুয়ারি ডিআইজি মিজান একটি শপিং ব্যাগে করে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে রমনা পার্কে যান। সেখানে আলাপ-আলোচনা শেষে দুজন শান্তিনগর এলাকায় চলে যান। শান্তিনগর থেকে এনামুল বাছির ব্যাগটি নিয়ে চলে যান। দুদকের কাছে এ ঘটনার প্রযুক্তিগত প্রমাণের পাশাপাশি চাক্ষুষ সাক্ষীও রয়েছে।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলেন, আসামি ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান (সাময়িক বরখাস্ত) এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনের নথিমূলে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। উক্ত অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর খন্দকার এনামুল বাছিরের নামে হাওলা করা হয়। তিনি ওই বছরের ২৯ অক্টোবর অনুসন্ধানভার গ্রহণ করেন। অনুসন্ধান চলমান থাকাবস্থায় ২০১৯ সালের ৯ জুন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এই মর্মে সংবাদ প্রচারিত হয়, যে ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত অনুসন্ধান সংশ্লেষে বিভিন্ন সময়ে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেছেন। এ বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের গোচরীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চপর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত তদন্ত কমিটি এনামুল বাছিরের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে খন্দকার এনামুল হক বাছির কর্তৃক ডিআইজি মিজানুর রহমানের থেকে ঘুষ লেনদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীকালে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। অনুসন্ধানের সময় প্রাথমিকভাবে সতত্য পাওয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

ডিআইজি মিজান ও এনামুল হক বাছির বিভিন্ন সময়ে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এসএমএসএর মধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান ও খন্দকার এনামুল বাছিরের সঙ্গে ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন রেকর্ড করে সংরক্ষণ করেছেন এবং পরবর্তীকালে গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

আরও জানা যায়, মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিশেষজ্ঞ মতামত, প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য, অডিও রেকর্ডে উভয়ের কথোপকথন ও পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে প্রমাণিত হয় যে, ডিআইজি মিজান অভিযোগের দায় থেকে বাঁচার জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে উৎকোচ প্রদান করে খন্দকার এনামুল বাছিরকে প্রভাবিত করেছেন।

ডিআইজি মিজানুর ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। তিনি ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে কারাগারে আছেন।

এন-কে

Feb2

চমেক হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে : ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
চমেক হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে : ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অনেক ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনায় নতুন করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি সোমবার (৮ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে চমেক হাসপাতালে রোগী ও লাশ নীতিমালায় বর্ণিত এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পূন:মূল্যায়ন বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, নতুন ভাড়ার তালিকা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, লবি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে রোগী ও স্বজনরা সহজেই ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায় নিতে হবে এবং অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ফেরত দিতে হবে।

তিনি বলেন, কেউ যদি নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেয়, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মেয়র আরও জানান, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা গন্তব্যের জন্য নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস যাচাইয়ে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া হবে।

সভায় তিনি ঘোষণা দেন, প্রবর্তক মোড় থেকে অলিখা মসজিদ পর্যন্ত এলাকাকে ‘নিরাপদ জোন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ এলাকায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স, ডাবের গাড়ি, খাবারের ভ্যান কিংবা অন্য কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান বসতে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট স্থানে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং এবং ফল ও ডাব বিক্রেতাদের জন্য পৃথক জোন নির্ধারণ করা হবে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ডাব ও তালের খোসা, প্লাস্টিক বোতল, টায়ার কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করে। তাই এসব বর্জ্য যত্রতত্র ফেলা যাবে না।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের লক্ষ্য ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা। এ জন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

মেয়র জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে সেখানে গ্রিন প্ল্যান্টেশন, ফুলের টব, গ্রাফিতি ও নান্দনিক সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে হাসপাতাল এলাকায় সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ২০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, বাথরুম ও অন্যান্য সেবার মান তদারকির জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমানে ৭৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী ও স্বজনের চাপ থাকলেও অবকাঠামো সে অনুপাতে বাড়েনি। ফলে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভা শেষে হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং, ফল বিক্রেতাদের নির্ধারিত স্থান এবং নতুন ভাড়ার তালিকা বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মেয়র।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিক, ডা. এস এম সারোয়ার আলম, ডিসি ট্রাফিক নেছার আহমেদ, চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাইফুদ্দীন সালাম মিটু, সালাউদ্দীন আলী, ডা. সামিউল করিম, বিআরটিএ প্রতিনিধি উথোয়াইনু চৌধুরী, চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ চৌধুরী সহ অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি, পুলিশ এবং বিআরটিএ’র প্রতিনিধিরা।

আমরা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি ‘বুস্ট আপ’ করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
আমরা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি ‘বুস্ট আপ’ করতে চাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের উৎসাহিত করতে বাহিনীকে আরও বেশি ‘বুস্ট আপ’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশ কতটা পরিশ্রম ও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তা তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হলে পুলিশ সদস্যরা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবেন এবং ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ আগে হয়েছে কি না, আমি জানি না।

আমরা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি ‘বুস্ট আপ’ করতে চাই, যাতে তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনটি আলোচিত ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী পুলিশ সদস্যদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ সদস্য, দৌলতদিয়ায় নৌ দুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নৌ পুলিশের তিন সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তারে অবদান রাখা তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে আজ ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে এবং অন্যরাও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন সদস্যকে বিশেষ ব্যাজও প্রদান করা হয়েছে।

বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪০ দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর সরকারগুলো কোনো ভেন্টিলেটর, মেশিন, ভ্যাকসিন দিয়ে যায়নি। এমনকি সিরিঞ্জও ছিল না। প্রাইভেট এন্টারপ্রেনারদের সহায়তায় হামের মতো বিপদগুলো মোকাবিলা করেছে সরকার।

‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এছাড়া, ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ অনুদান হিসেবে আজ এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল স্টোরে ডেঙ্গুর এক লাখ স্যালাইন আছে, আর ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে। তবে, হঠাৎ আরও স্যালাইনের প্রয়োজন পড়তে পারে।

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দেওয়ার আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সময় না দিলে তারা আদালতের সুবিধা নিতে পারে। এ জন্য আদ-দ্বীন হাসপাতালকে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তারা উত্তর দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, আইনানুগভাবে কী কী ব্যত্যয় ঘটেছে এবং কী ধরনের অপরাধ করেছে, এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ কাকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে, সেটি তাদের ব্যাপার। সরকার তার অবস্থানে ঠিক আছে। জনস্বার্থ সংরক্ষণ থেকে এক বিন্দু পিছপা হব না।

এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা আক্রান্ত হবেন, তাদের যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যকে পুনর্গঠন করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধান কর্মপন্থা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে কাজ চলছে, সেখানে স্টেকহোল্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

‘ওষুধ শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পলিসি সাপোর্টের চিন্তা করছে সরকার। দেশের মানুষকে সঠিক ওষুধ, সঠিক মূল্য কিংবা বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।