ইউক্রেনে হামলা হলেও যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র
ইউক্রেনে রাশিয়া পুরোদমে হামলা চালালেও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়াবে না বলে আবারো ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা নির্ভর করছে বলে জানায় বাইডেন প্রশাসন। এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের নেতারা ওই অঞ্চলে রুশ সেনা পাঠাতে পুতিনের কাছে অনুরোধ করেছেন বলে দাবি ক্রেমলিনের।
পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর দুই অঞ্চলের নেতারা ‘সশস্ত্র বাহিনী ও ইউক্রেনের আগ্রাসন মোকাবিলায় রাশিয়ার সাহায্য চেয়েছেন’ বলে দাবি করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। পশ্চিমাদের আগ্রাসন মোকাবিলায় রুশ সেনাদের দোনেৎস্ক ও লুহানস্কে প্রবেশে দুই নেতা আহ্বান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। লিখিতভাবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে সাহায্য চেয়েছেন বলেও জানায় রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
পেসকভের দাবি, ইউক্রেনের হুমকির কারণে সাধারণ মানুষদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ইউক্রেনকে সতর্ক করার পর সব জায়গায় আলোচিত বিষয় তবে কি যুক্তরাষ্ট্রও এ যুদ্ধে জড়াচ্ছে। পূর্ব ইউরোপে সেনা মোতায়েন কিংবা ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার পরও হোয়াইট হাউসের দাবি, কোনো অবস্থাতেই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, রাশিয়া পুরোদমে ইউক্রেনে হামলা চালালেও যুদ্ধে জড়াবে না ওয়াশিংটন।
জেন সাকি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধে না জড়ানোর বিষয়টি আগেও স্পষ্ট করা হয়েছে। আবারো বলছি আমরা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াব না। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের স্পষ্ট ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, তিনি ইউক্রেনে মার্কিন সেনা পাঠাবেন না।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে না বলা হলেও কিয়েভকে সার্বক্ষণিক বার্তা দিয়ে যাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। বিশেষ করে ইউক্রেনে হামলায় রাশিয়ার কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে তাও প্রতি মুহূর্তে জানানো হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য প্রকাশ করায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার কৌশল পরিবর্তন করেছেন বলেও দাবি করেন জেন সাকি।
জেন সাকি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই পর্যায়ের তথ্য থাকবে প্রেসিডেন্ট পুতিন এটা আশা করেননি। তিনি কখনোই ভাবেননি আমরা এই পরিমাণ তথ্য তুলে ধরতে সক্ষম হব। এ ছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট এটাও প্রত্যাশা করেননি যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এভাবে একতাবদ্ধ হবে এবং জোটবদ্ধভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।
পূর্ব ইউক্রেনকে স্বাধীন ঘোষণার পর রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান ছাড়াও ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস পাইপ লাইন নর্ড স্ট্রিম টুতেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে ইউরোপ। আপাতত প্রকল্প স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার আগ্রাসী ভূমিকার ওপর পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নির্ভর করছে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছেন রাশিয়ার ৩৫১ আইনপ্রণেতা। ইইউর ব্যাংকগুলোতে থাকা রাশিয়ার তহবিল আটকে দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন