খুঁজুন
, ,

শান্তি আলোচনায় ‘অচলাবস্থা’, ইউক্রেনে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 31 March, 2022, 10:57 am
শান্তি আলোচনায় ‘অচলাবস্থা’, ইউক্রেনে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া

রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভের উপকণ্ঠে সামরিক অভিযান কমানোর প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে বলে স্থানীয় সময় বুধবার জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া দুদেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার সাম্প্রতিক দফায় তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বুধবার বলেছে, রাশিয়া গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিয়েভের আশপাশে অল্পসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন রেখেছে। তবে, ‘সেনারা তাদের ব্যারাকে ফিরে যায়নি।’

পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি জন কিরবি বলেছেন, রুশ সেনারা ব্যারাকের দিকে ফিরে যাচ্ছে না। ‘তারা কিয়েভ ছেড়ে শহর থেকে কিছুটা দূরে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে’ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, রুশ বাহিনীর অধিকাংশই এখনও কিয়েভের আশপাশেই রয়েছে এবং বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে৷

এদিকে, বুধবার রাশিয়া বলেছে—ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কোনো লক্ষণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির সঙ্গে কথা বলার সময়ও বাহ্যত অচলাবস্থা দেখা দেয়।

ইউক্রেনীয় নেতা জেলেনস্কি বাইডেনকে আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন উল্লেখ করে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন জেলেনস্কিকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সরকারকে ৫০ কোটি ডলার সরাসরি বাজেট সহায়তা হিসেবে প্রদান করতে চায়।’

একদিকে যখন শান্তি আলোচনায় এ আহ্বান ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তখন নতুন এক গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা গেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার মাসব্যাপী আগ্রাসন নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা ভয়েস অব আমেরিকাকে নিশ্চিত করেছেন, ‘এখন পুতিন ও এমওডি (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়) মধ্যে ক্রমাগত উত্তেজনা চলছে।’

ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘তার (পুতিন) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা তাঁকে সত্য কথা জানাতে খুব ভয় পায়।’ গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, পুতিনের সহযোগীরা তাঁকে রাশিয়ার সেনাদের অগ্রগতির পাশাপাশি রাশিয়ার অর্থনীতিতে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সম্পর্কেও ভুল তথ্য দিয়েছে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দারাও বুধবার রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ভেতরের দ্বন্দ্বের আরও কিছু ইঙ্গিত দিয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারাও সতর্ক করেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বাইরেও এ যুদ্ধের সম্প্রসারণের চেষ্টা করতে পারে।

ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ডের সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ও কমান্ডার জেনারেল টড ওল্টারস বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ‘সব সময়ই একটি ঝুঁকি থাকে।’

এদিকে বুধবার রাশিয়া বলেছে, ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় এখনও অগ্রগতির লক্ষণ নেই। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ৩৬ দিনের যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনার শুরুতে ইউক্রেন তাদের দাবির একটি তালিকা উপস্থাপন করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির একজন সহযোগী বলেছেন, মঙ্গলবারের অধিবেশনে উভয় পক্ষ ইউক্রেনের জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষার নিশ্চয়তাসহ সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করেছে।

ইউক্রেনীয় আলোচকেরা প্রস্তাব দিয়েছেন—নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিনিময়ে কিয়েভ ন্যাটো বা অন্য কোনো সামরিক জোটে যোগদান না করার মতো একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করবে।

সাংবাদিকদের পেসকভ বলেছেন, মস্কো এ বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে যে, কিয়েভ দাবির একটি লিখিত বিবৃতি পেশ করেছে। তবে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো আশাব্যঞ্জক কিছু রাশিয়া দেখেনি।

এন-কে

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।