ফটিকছড়ি নির্বাচন অফিসে ভোটার হয়েছে ১১ হাজার প্রতিদিন সেবা প্রার্থীদের ভীড়
করোনার লকডাউন, স্থানীয় লকডাউন, বিধি নিষেধ সব কিছুর মাঝে থেমে নেই ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিসের কার্যক্রম।প্রবাসী ভোটার, নতুন ভোটার, ভুল সংশোধন, কোবিড ভ্যাকসিন নিবন্ধনে ম্যাচফান্ড সহ বিভিন্ন বিষয়ে সেবা গ্রহীতার ভিড় সকাল সন্ধ্যা। গত এক বছরে এখানে প্রায় ১১ হাজার মতো নতুন ভোটার হয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেমিটেন্স যোদ্ধারা নানান সীমাবদ্ধতার কারণে যথা সময়ে ভোটার হতে না পারার কারণে এবং করোনার লক ডাউনে আটকে যায় প্রচুর প্রবাসী। তারা এই সময়ে ভোটার হতে আগ্রহী। প্রতিদিন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত লোকজন নাম, জম্ম তারিখ সহ নানান প্রকার সেবা নিতে আসে। তাদের সাথে কথা বলে জানাযায় অনেক উপজেলায় নির্বাচন অফিসে আশানুরুপ সেবা পাওয়া যায় না। সেখানে ফটিকছড়ি নির্বাচন অফিস ব্যতিক্রম। ভুল সংশোধন, নতুন ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে দ্রততার সাথে।
উপজেলা নিরর্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায়,
গত এক বছরে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ১১ হাজারের মতো নতুন ভোটার করেছে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন অফিস।সংশোধনী “ক” ক্যাটাগরির প্রায় ৮ হাজার, স্থানান্তর প্রায় ৪ হাজার, ৩ হাজারের মতো হারানো কার্ড ইস্যু, ৯ হাজার সার্ভার কপি সরবরাহ সহ ৯ হাজার স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়াও প্রবাসী, মুক্তিযোদ্ধা, হজযাত্রী, প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ভ্যাক্সিন এর জন্য এনআইডি সেবা প্রদান ছিল উল্লেখযোগ্য, সীমিত জনবল দিয়ে দেয়া হয়েছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।ধর্মপুরের বাসিন্ধা প্রবাসী জাহেদুল আলম (৩৫) জানান, জীবিকার সন্ধানে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। তাই এনআইডি কার্ড তৈরী সম্ভব হয়নি। যা দ্রুত সময়ে করে দিলো ফটিকছড়ি নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবির। একই গ্রামের আলী আকবর (৬৫)জানান,দেশ বিদেশ ঘুরতে ঘুরতে অনেক দিন গেল। এখন নাকি ছেলে মেয়ের স্কুলের কাজে এনআইডি লাগবে তাই অনলাইনে আবেদন করে ছবি তুলে নিলাম। ৭/৮ দিন পর এনআইডি সম্পন্ন ম্যাসেজ পেলাম।হৃদয় হোসেন (২৫) নামক এক পৌরবাসী এক যুবক জানান, বিদেশ যেতে পাসর্পোট তৈরী করতে তাগাদা দিচ্ছে অভিভাবকরা। খবর নিয়ে জানলাম এনআইডি ছাড়া পাসপোর্ট হবেনা। তাই ছবি সব কাজ সম্পন্ন করলাম।ভূজপুরের আমেনা বেগম (২৮) জানান, আমার এনআইডিতে নাম বিভ্রাট ছিল। আবেদন করলাম। সেটা না “গ” ক্যাটাগরি পড়লো নির্বাচন অফিসার হুমায়ুন কবির একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিলো। আমার নাম ও শুদ্ধ হয়ে গেলো।
সুন্দরপুরের বর্ণা বড়য়া (৩২) জানান, বিয়ের হয়েছে ৬ বছর। স্বামীর বাড়িতে ভোটার স্থানান্তর হয়নি। তাই আবেদন নিয়ে আসলাম। ১০-১২ দিনে হয়ে গেলো।
লেলাং দমদমা গ্রামের বাসিন্ধা বিপ্লব ভান্ডারী জানান, স্বাক্ষর আর ছবি আপডেট করে নিলাম।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মসকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এখানে প্রবাসী ভোটার বেশি নিবন্ধিত হয় এবং ভুলত্রুটি সংশোধন করতে হয়। কোভিড ভ্যাকসিনের নিবন্ধনের সময় অনেক মিসফান্ড এসেছে তাদেরও সেবা দিতে হচ্ছে সীমিত কর্মচারী আর খন্ডকালীন লোকজন নিয়ে করোনা লক ডাউনের মাঝেও নাগরিক সেবা অব্যাহত রেখেছি।


আপনার মতামত লিখুন