জব্বারের বলী খেলা হবে জেলা পরিষদ চত্বরে, চলবে ৩ দিনব্যাপী মেলা
গত দুই বছর মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে হয়নি জব্বারের বলী খেলা ও বেশাখী মেলার আয়োজন। এবারও লালদীঘির মাঠের সংস্কার কাজের কারণে মেলার আয়োজন হবেনা বলে জানিয়েছিল আয়োজক কমিটি। এতে হতাশ হয়ে পড়ে নগরবাসী। অবশেষে সকল অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বসতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার আসর।
তবে এবারের বলী খেলা সেই ঐতিহ্যবাহী লালদীঘির মাঠে নয়, বরং তা বসতে যাচ্ছে জেলা পরিষদ চত্বরে। আর তা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ২৫ এপ্রিল। বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত হবে বলী খেলা। বৈশাখী মেলা চলবে ২৪, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল।
আজ ১৬ এপ্রিল, শনিবার চসিক মেয়রের বাসভবনে আয়োজক কমিটির সাথে বৈঠকের পর বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার ঘোষণা দেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ১২ বৈশাখ (২৫ এপ্রিল) আবদুল জব্বারের বলীখেলা হবে। তবে এবার লালদিঘী মাঠে নয়, খেলা হবে মাঠের সামনের খোলা রাস্তায়। একইসঙ্গে হবে মেলাও। আগে পাঁচদিন হলেও এবার মেলা হবে ৩ দিন। ২৪ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বৈশাখী মেলা।
মেয়র বলেন, কয়েকদিন আগে একটা ঘোষণা এসেছিল, এবার নাকি আবদুল জব্বারের বলীখেলা হবে না। এটা জানার পর সবার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। অনেকে মোবাইলে সেই হতাশার কথা আমাকে জানান। তারা প্রশ্ন করেছেন, কেন বলীখেলা ও মেলা হবে না। এরপর আমি বললাম- মেলা অবশ্যই হবে। সেজন্য আয়োজক কমিটির সবাইকে ডেকে কথা বললাম। বৈঠকে মেলা ও খেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১২ বৈশাখ বিকেল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত বলীখেলা হবে জেলা পরিষদ চত্বরে। আর মেলা হবে ১১, ১২ ও ১৩ বৈশাখ।
এদিকে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার ১৩১৬ সনের ১২ বৈশাখ প্রচলন করেন ‘বলীখেলা’। তখন থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১১০তম আসর নিয়মিত বসলেও করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে এই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। বলীখেলার আগের দিন থেকে শুরু করে পাঁচদিনব্যাপী মেলা বসে লালদীঘির মাঠ ও আশপাশের দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। তবে এবছর লালদীঘি মাঠটির সংস্কার কাজ চলমান থাকায় বলীখেলা ও মেলার ১১৩তম আসর স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের সংস্কৃতিপ্রেমীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে সরব হন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি উদ্যোগ নেন বলীখেলা ও মেলা আয়োজনের।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন