খুঁজুন
, ,

সরকারের সাহসের বড় উৎস প্রবাসীরা: দীপু মনি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 29 April, 2022, 11:49 am
সরকারের সাহসের বড় উৎস প্রবাসীরা: দীপু মনি

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সচলের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাহসের বড় উৎস। কঠিন সময়ে প্রমাণ পাওয়া যায় প্রবাসীরা আমাদের কতটুকু সাহস যোগায়, অর্থ দিয়ে, আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে আন্দোলনে সহযোগিতা যুগিয়ে, আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে পাশে থেকে উৎসাহ যুগিয়ে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দশ সংগঠন আয়োজিত সংবর্ধনা, ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, লবিস্ট নিয়োগ করেছে, যদিও দলগুলোর নামের আগে ইসলামী শব্দ জড়িত আছে কিন্তু কাজে ইসলামের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। যারা যুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙালীর উপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর দোসর হয়ে নিপিড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে এখনও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা কখনো ইসলামী দল হতে পারে না।” তাদের প্রতিহত করতে প্রবাসীদের শক্ত হাতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি ।

এ সময় তিনি সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ বাংলা শাখা ও বৃটিশ কারিকুলাম পরিচালিত ইংরেজি শাখার স্কুল দুইটি নিজস্ব জমিতে প্রতিষ্ঠা করতে প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানোর আশ্বাস প্রধান করেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, “প্রবাসীদের সব ধরনের সেবা দ্রুততার সাথে প্রদানের লক্ষ্যে দূতাবাস ও কনসুলেট সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের নিযুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এর উপর প্রণোদনা সহ প্রবাসীদের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।” প্রবাসীরা যে দেশে বসবাস করেন সেই দেশের আইন শৃঙ্খলা মেনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ আওয়ামী ফাউন্ডেশন জেদ্দার সভাপতি আদ্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে, দেলোয়ার সরকার ও আতাউর রহমান মাসুদ এর যৌথ সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সাবেক এমপি এডভোকেট সানজিদা খানম, ময়মনসিংহ ১১ ভালুকা সংসদীয় আসনের এমপি কাজীম উদ্দিন আহমেদ ধনু, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দার কনসাল জেনারেল নাজমুল হক, সিলেট সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ, কিশোরগঞ্জ খুলিয়ার চর উপজেলার চেয়ারম্যান ইয়াসির মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন ভূইয়া সহ জেদ্দাস্থ আওয়ামী দশ সংগঠন নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে শুরুতেই ১৫ই আগস্টের শাহাদাৎ বরণকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ আয়ু কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এন-কে

Feb2

শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 11:08 pm
শৈশব বিক্রি করে মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়: ডিসি জাহিদ

“একজন শিশু যদি জন্মের পর থেকেই কারখানার তপ্ত আগুনের পাশে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়, তাহলে সে স্বপ্ন দেখতেই শেখে না। আর যে শিশু নিজেই স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজকে স্বপ্ন দেখাবে কীভাবে?”

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এভাবেই শিশুশ্রমের ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক প্রভাব তুলে ধরেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শিশুশ্রম কেবল শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি একটি শিশুর শৈশব, স্বপ্ন, মানবিক বিকাশ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুশ্রম বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন রাষ্ট্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণমাধ্যম এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ববোধ।

সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), চট্টগ্রাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল—”শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি।”

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি বয়সের নিজস্ব সৌন্দর্য রয়েছে। শিশুর সৌন্দর্য তার শৈশবে, কৈশোরের সৌন্দর্য কৈশোরে এবং তারুণ্যের সৌন্দর্য তার উদ্দীপনায়। সেই শৈশবকে শিশুশ্রমের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে কখনোই মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন, নিরাপদ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিশুদের শ্রমে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারগুলো এই সহায়তাকে শিশুদের শিক্ষা ও শৈশব রক্ষায় কাজে লাগাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, আজ যে শিল্পগোষ্ঠীগুলো দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার পেছনে শ্রমিকদের ঘাম ও পরিশ্রম রয়েছে। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্বও মালিকদের রয়েছে। তিনি জানতে চান, প্রতিষ্ঠানের যে পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব শ্রমিকদের জীবনেও কতটা পৌঁছেছে।

দারিদ্র্যকে শিশুশ্রমের একমাত্র কারণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যাবে, দাদা-দাদি বা নানা-নানির গল্প শুনে বড় হবে এবং স্বপ্ন দেখতে শিখবে। পরিবার ও সমাজে সেই পরিবেশ তৈরি না করতে পারলে শিশুশ্রম নির্মূল করাও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আজকের শিশুদের হাতেই গড়ে উঠবে। কিন্তু একটি শিশু যদি শৈশব থেকেই কারখানা, ইটভাটা বা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশে বেড়ে ওঠে, তাহলে সে তার জীবনের সম্ভাবনাগুলো সম্পর্কে জানারই সুযোগ পাবে না। যে শিশু স্বপ্ন দেখতে শেখেনি, সে ভবিষ্যতে দেশকে নতুন স্বপ্নও দেখাতে পারবে না।

একটি উদাহরণ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি মাছকে যদি গাছে উঠতে বলা হয়, সে কখনোই তা পারবে না।” একইভাবে একটি শিশুকে তার বয়স ও সক্ষমতার বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ঠেলে দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা, সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষ—প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, সমাজের অনেক মানুষ এমন একটি জীবনযাপনের মধ্যে আটকে পড়েছেন, যেখানে সুস্থ চিন্তা করার সুযোগও তারা পান না। তাদের সামনে সুস্থ সমাজের উদাহরণ তৈরি করতে না পারলে পরিবর্তনও আসবে না। তাই শিশুশ্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘জোবায়দা’ নামে এক মেধাবী শিশুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে জোবায়দার মতো আরও অসংখ্য মেধাবী শিশু রয়েছে। কিন্তু সমাজ তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে পারেনি। তিনি ঘোষণা দেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোবায়দার পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে এবং সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষদেরও এ ধরনের শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামান্য মুনাফার জন্য কোনো শিশুর শৈশব, ভবিষ্যৎ ও জীবনকে কিনে নেওয়া উচিত নয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিকতার জায়গা থেকে প্রত্যেক উদ্যোক্তার উচিত যোগ্য ও প্রাপ্তবয়স্ক কর্মীকেই কাজে নিয়োগ দেওয়া এবং প্রতিটি শিশুকে নিজের সন্তানের মতো বিবেচনা করা।

জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো মানুষ একা ভালো থাকতে পারে না; সমাজের সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়। মানুষের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তার শক্তিতে নয়, মানবিকতা ও বিবেকে। তাই সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত না হলে শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

তিনি জানান, শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৩টি খাতের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকটি খাত থেকে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প ও ইটভাটা খাতকে শতভাগ শিশুশ্রমমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকেও পর্যায়ক্রমে শিশুশ্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, বিজিএমইএ পরিচালক এনামুল আজিজ চৌধুরী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, শিশু অধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক, প্রত্যাশী, ইপসা, ঘাসফুল, সংসপ্তক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জেএসইউএস, কারিতাস ও কিডস কালসহ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অংশ নেয়।

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।