খুঁজুন
, ,

দুবাইতে ইডিইউর শিক্ষার্থীদের স্বপ্নযাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 27 November, 2019, 3:21 pm
দুবাইতে ইডিইউর শিক্ষার্থীদের স্বপ্নযাপন

২৪ ঘন্টা ডেস্ক : স্বপ্নকে বাস্তবতায় পরিণত হতে দেখছেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউ) ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট লিডারশিপ এক্সপেরিয়েন্স (আইজিএলই) কোর্সে দুবাই-আবুধাবি যাওয়া শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন ও ওয়ার্কশপ-সেশনে অংশ নিতে তারা পার করছেন খুবই ব্যস্ত, কিন্তু একই সাথে জীবনের অন্যতম চমৎকার কিছু সময়।

গতকাল ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার দুবাইতে টিম ইডিইউ’র তৃতীয় দিন। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নতি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের ডিপ্লোমা কোর্স, স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম পরিচালনার জন্য বিখ্যাত দুবাই নলেজ পার্কে সকাল থেকেই বেশ কয়েকটি সেশনে উপস্থিত হয়েছেন তারা।

দুবাইকে জ্ঞাননির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত করতে ২০০৩ সালে চালু হয় নলেজ পার্ক। এখানে আমিরাতের অন্যতম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টেকম গ্রুপের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শাজাদী দুররানি ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং দ্য কালচারাল মিক্স অব ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট’ শীর্ষক সেশন পরিচালনা করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিবর্গের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানাশোনা এবং তাদের সঙ্গে বোঝাপোড়া বাড়ানোর নানা দিক ও কৌশল সম্পর্কে প্রায়োগিক এ কর্মশালায় শেখানো হয়।

এছাড়া ২৫ নভেম্বর সোমবার প্রাক্তন ব্যাংকার ও বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক উজায়ের হাসানের সঙ্গে লিডারশিপ ও ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে দিনব্যাপী কয়েকটি সেশনে মিলিত হয় টিম ইডিইউ। এতে গুরুত্বপূর্ণ লেকচারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের এক্টিভিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন ও চারপাশের মানুষগুলো সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন উজায়ের।

আইজিএলই কোর্সের প্রথম দিন ২৪ নভেম্বর ইডিইউর শিক্ষার্থীদের ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন এমন দুজন বাংলাদেশি, যারা আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে দুটো বড় প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। তারা হলেন আমিরাত এনবিডি’র গ্রুপ ক্রেডিট এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহিদ খন্দকার এবং বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার প্রতিষ্ঠান আইবিএম এর সফটওয়্যার ক্লায়েন্ট আর্কিটেক্ট সোহরাব সায়ীদ।

বর্তমান সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে স্ট্রাটেজিক প্ল্যানিং এবং ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন তারা। একই সাথে কিভাবে একটি হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার জগতের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে, তা নিয়েও বিশদ কথা বলেন। এ সময় তারা আমিরাতে, বিশেষত আইবিএম’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশিদের কাজের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন।

আইজিএলই কোর্সে দুজন বাংলাদেশিকে যুক্ত করার কারণ শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা নয়, একই সাথে প্রবাসী হিসেবে আমিরাতে কাজের সমস্যা-সম্ভাবনার অভিজ্ঞতা ও অর্জিত শিক্ষা সম্পর্কে জানাটাও ছিলো অন্যতম উদ্দেশ্য, বলেন ইডিইউর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান।

তিনি আরো বলেন, আইজিএলই শুধুমাত্র একটি কোর্স নয়, এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য লাইফটাইম এচিভমেন্ট। এ অভিজ্ঞতা তাদের জীবনে চলার পথে অন্যতম পাথেয় হিসেবে কাজ করবে।

শিক্ষার্থী মাইমুনা মানিতা বলেন, বিদেশের সংস্কৃতি, তাদের মানুষজনের সাথে কাজ করার ইচ্ছে বহুদিনের। ইডিইউর এই কোর্সে সেই সুযোগটা পাচ্ছি। একেবারে ভিন্ন একটি পরিবেশে নিজেদের সক্ষমতাকে আমরা নিরূপণ করতে পারছি নতুন করে।

উল্লেখ, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দুবাই এবং আমিরাতে অবস্থান করে কালচারাল হেরিটেজ সাইট, গ্লোবাল ভিলেজ, শেখ যায়েদ ইউনিভার্সিটি, ফ্রি জোন, লেবার ক্যাম্পসহ প্রতিদিনই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন ও কর্মশালায় অংশ নেবে টিম ইডিইউ।

Feb2
Feb2

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 20 September, 2026, 8:10 pm
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাতটা চল্লিশ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।

তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। ভবনের একটি রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। তারা এলে পুলিশ রুমে প্রবেশ করবে।

তবে কখন এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান ডিসি।

গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এই ঘটনার পর ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার এবং একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়।

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা: পুলিশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 20 September, 2026, 6:11 pm
আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে পিটিয়ে হত্যা: পুলিশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মূলত আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তুহিন, ফাহাদ, কামরুল এবং সিয়ামসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা সবাই হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হই যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখি এবং পর্যালোচনা করি। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে এই মৃত্যুসংবাদ প্রাপ্তির পূর্বেই আমরা হেফাজতে নিই।

তিনি আরও বলেন, একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আমাদের কাছে স্বীকার করে যে অপ্রতিমের মোবাইল আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে সে তাকে উক্ত নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। তুহিন আরও জানায়, এই ঘটনায় ফাহাদ এবং ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে তার আরেক বন্ধু কামরুল জড়িত। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তাকে হেফাজতে নিই।

আইফোন উদ্ধার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে আমরা প্রথমে আইফোনটির জন্য তিন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করি। সে মিসগাইড করেছিল, কোথাও পাওয়া যায়নি। অবশেষে তার স্বীকারোক্তি এবং তার দেখানো মতে তার বাসার ভিতরে অভিযান পরিচালনা করে তার তোশকের নিচ থেকে আইফোনটি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি যে ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের যে আইফোনটি ছিল সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তখন ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এক পর্যায়ে অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, এছাড়াও আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করতেছি। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলমান রেখেছি।

বিচার প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে। রামিসা হত্যার মামলায় যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এই মামলাটির জন্যও দ্রুত আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন রাখবো।

নিহত অপ্রতিম ও আসামি তুহিনের বয়স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, তার (অপ্রতিম) বয়স ১৩, আর আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন, তার বয়স ১৯। সে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ২০২৫ সালে ড্রপআউট হয়।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছি, মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি এবং যে আইফোনটির কারণে হত্যাকাণ্ড, সেই আইফোনটিও আমরা আসামির দেখানো মতে তার বাসা থেকে উদ্ধার করেছি। আমরা বাকি তদন্ত কাজ শেষ করে দ্রুত বিজ্ঞ আদালতে এই মামলার পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করবো।

আওয়ামী লীগের অপতৎপরতায় সরকার মোটেও শঙ্কিত নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 20 September, 2026, 6:00 pm
আওয়ামী লীগের অপতৎপরতায় সরকার মোটেও শঙ্কিত নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের চলমান কর্মসূচি ও অপতৎপরতায় জনগণ ও সরকার মোটেও শঙ্কিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে ককটেল বিস্ফোরণ ও পার্কিং করা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কড়া সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের তথাকথিত লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ অপতৎপরতা চালানো হয়েছে। ককটেলবাজির ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি হাইকোর্ট ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে। জনগণ ও সরকার এসব অপতৎপরতায় মোটেও শঙ্কিত নয় এবং দেশবাসী ইতোমধ্যে এদের বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লংমার্চ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের লংমার্চগুলো সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।

রাজনীতিতে জনমতের মাধ্যমেই সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে যেকোনো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে উদাসীনতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, বিগত আমলের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমান সরকার দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণে মনোযোগ দিয়েছে। দেশের শিল্পখাতে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে ইতোমধ্যে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুতই গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত শুক্রবারে তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদে নামাজ শেষে গোপন বৈঠকে বসলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর যাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, সেই ১১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যানুসারে তারা ইত্তেহাদুল উম্মাহ নামে একটি নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল।

যেকোনো ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রিমান্ডে আনা হয়েছে এবং আইনানুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।