চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস পালিত
আজ ২৩ মে পালিত হল আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস। সারাদেশের মত চট্টগ্রামেও বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।
হোপ ফাউন্ডেশন ফর ওম্যান এন্ড চিলড্রেন অব বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফিস্টুলা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক রেলি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শেখ ফজলে রাব্বি। আরো উপস্থিত ছিলেন হোপ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বাবুল চৌধুরী সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বিশেষজ্ঞ কয়েকজন বক্তা বলেন, প্রসবজনিত ফিস্টুলা একটি ক্ষত যেটা প্রজনন অঙ্গ মুত্রাশয় ও মলদ্বারের মধ্যে একটি গর্ত সৃষ্টি করে। এরফলে অনবরত প্রস্রাব ও পায়খানা নির্গত হয়। এটা হয় সাধারণত দুর্গম অঞ্চলের দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের। যদি কোন কারনে গর্ভবতী মায়েদের বাচ্চা প্রসবে অতিরিক্ত বিলম্ব হয় তবে সিজারিয়ান ডেলিভারির প্রয়োজন হয়। দ্রুত সিজারিয়ান ডেলিভারি করতে না পারলে বাচ্চা গর্ভাবস্থায় মারা যায় বা মারা যেতে পারে। মৃত বাচ্চা অনেকক্ষণ জরায়ুর ভেতরে থাকার ফলে প্রজনন অঙ্গের বিভিন্ন স্থানে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ও প্রসব পথের বিভিন্ন অংশ পঁচে যায়। ফলে ফিস্টুলার সৃষ্টি হয়। ফিস্টুলা শারীরিকভাবে বেদনাদায়ক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর একটি ব্যাধি। অনবরত মূত্র ও মল করার কারনে ফিস্টুলা আক্রান্ত মায়েদের শরীর সারাক্ষণ প্রচন্ড দূর্বল থাকে। প্রায় সব ক্ষেত্রে স্বামী তাদের পরিত্যাগ করে। এমনকি রোগী তার নিকটাত্মীয়ের কাছেও আশ্রয় পান না।
বক্তারা আরো বলেন, গ্রামীণ জনপদের যেখানে স্বাস্থ্য সচেতনতা কম সেখানে ফিস্টুলা সম্পর্কে ভাল ধারনা না থাকায় এটাকে একধরনের নিয়তির অভিশাপ বলা হয় এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদানের পরিবর্তে বরং দায়ী করা হয় এই অসুস্থতার জন্য। তাদেরকে সামাজিক ও পারিবারিক বোঝা মনে করেন অনেকে। একজন ফিস্টুলা রোগী যে ধরনের মানসিক বিষন্নতা,উদ্বেগ ও অশান্তি অনুভব করেন সেটা খুবই ভয়াবহ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রসবজনিত রোগ ফিস্টুলার পাশে থেকে ফিস্টুলা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন