খুঁজুন
, ,

অস্থিত্বহীন দলের সাথে মিটিং বিএনপির দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পাচ্ছেঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 June, 2022, 8:40 pm
অস্থিত্বহীন দলের সাথে মিটিং বিএনপির দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পাচ্ছেঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি যেসমস্ত দলের সাথে মিটিং করছে এসমস্ত দলের বাস্তবে কোন অস্থিত্ব নাই। অস্থিত্ববিহীন দলের সাথে মিটিং করে করে তারা একটি সংবাদ পরিবেশন করছে মাত্র। অস্থিত্বহীন দলের সাথে মিটিংয়ের মাধ্যমে বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বটাই প্রকাশ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশে পণ্যের মূল্য নিয়ে কথা বলছেন। অপরদিকে সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যবসায়িদের ফোন করে পণ্য মজুদ করো, দাম বাড়াও, দেশে পণ্যের সঙ্কট সৃষ্টি করো বলে নির্দেশনা দিচ্ছেন। তাদের ঘরানার ব্যবসায়িরাসহ অন্যান্য ব্যবসায়িরা এই বার্তা পেয়ে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী মহিলা লীগ আয়োজিত মানব বন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে এই মানব বন্ধনের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি দিলোয়ারা ইউসুফের সভাপতিত্বে ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদিকা শামীমা হারুন লুবনার সঞ্চালনায় মানব বন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সাধারন সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলার সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নানা ধরণের বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। প্রতিদিন বিএনপি বিভিন্ন দলের সাথে মিটিং করছে। তাদের সাথে মিটিংয়ে যেসমস্ত দল হাজির হয়, এসমস্ত দল যে দেশে আছে এই মিটিংয়ের পর মানুষ জানতে পারে, এধরণের একটি দল দেশে আছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন দেশে নানা ধরণের পার্টি আছে। রাতের বেলা মানুষ গুম করেন এমন একটা পার্টি, মরিচের গুড়া মারে সেটা একটা পার্টি, রাতের বেলা মলম মেখে দেয় সেটাও একটা পার্টি। সভাপতি থাকলে সেক্রেটারি নাই সেধরণের পার্টিও আছে। নানা ধরণের পার্টির সাথে বিএনপি মিটিং করছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বিএনপি নাকি ডান-বাম সবার ঐক্য প্রতিষ্ঠা করবেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ডান-বাম অতিডান অতিবাম সবারঐক্য করেছিলেন। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠার মাধ্যমে তারা নির্বাচনও করেছিলেন। ফলাফল বিএনপির ঘরে মাত্র পাঁচটি আসন। সুতরাং এইবারও সর্বোচ্চ সংখ্যক দলের সাথে মিটিং করেও গতবারের চেয়ে বেশি ভালো ফল হবে বলে জনগণ মনে করেনা।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, নির্বাচন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো। যদি তারা আবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্ঠা চালায় তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর হস্তে তাদের আমরা প্রতিহত করবো।
আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে বিএনপি জামাত তাদের দোসরদের নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসীদের সমাবেশ ঘটিয়ে অছাত্র ও ছাত্রদে বাবাদের সমাবেশ ঘটিয়ে সেখানে তারা স্লোগান দিয়েছে পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে তারা দুটো জিনিষ প্রমাণ ও স্বীকার করেছে। একটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ড জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে হয়েছে। আরেকটি কথা বলেছে তারা, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এই দেশের গণমানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের দল, আওয়ামী লীগের নেত্রাকর্মীরা রাজপথে সবসময় ছিল, রাজপথে আছে। ঢাকা-চট্টগ্রামে আমাদের আওয়ামী মহিলা লীগ ও যুব মহিলা লীগের কর্মীরা মাঠে নেমেছে। বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করার জন্য আমাদের নারী কর্মীরাই যথেষ্ট।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সমগ্র পৃথিবীতে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি। ইউরোপে এক ইউরোর তেল চার ইউরোতে বিক্রি হচ্ছে। এক ইউরোর রুটি দুই ইউরোতে বিক্রি হচ্ছে। সেখানে কোন কোন খাদ্য পণ্যের দাম দুই থেকে তিন’শ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশে সেভাবে বৃদ্ধি পায় নাই।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি যুদ্ধ ও আমদানি নির্ভর পণ্যের অজুহাত দিয়ে কিছু কিছু মজুতদারি চালসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য মজুত করছে। আমাদের সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু করেছে। প্রয়োজনে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু মামলা, জরিমানা নয় প্রয়োজনে তাদের গ্রেপ্তারও করা হবে। সুতরাং কেউ মজুতদারি ও আড়তদারি করে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির অপচেষ্ঠা চালাবেননা।

বক্তব্য রাখেন, উত্তর জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদিকা এড. বাসন্তি প্রভা পালিত, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী সৈয়দা রিফাত আকতার নিশু, রেহেনা ফেরদৌস, খালেদা আক্তার চৌধুরী, রোকসানা নাছরিন, ফাতেমা বেগম, এড. পাপড়ি সুলতানা, রেজোয়ানা শারমিন, এড. রাহেলা বেগম রেখা প্রমুখ।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:57 am
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আজ থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে। ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) থেকে ছেড়ে যাওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেবে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।

তিনি বলেন, আজ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাবে। এরপর থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব ট্রেন কক্সবাজারে চলাচল করবে।

মো. সুবক্তগীন আরও বলেন, যে স্থানে রেললাইন পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল সেখানে ব্যালাস্ট ফেলে লাইন উঁচু করা হয়েছে। ফলে ট্রেন চলাচলে আর কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ৭ জুলাই চট্টগ্রাম ও জানআলীহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন প্লাবিত হয়। রেললাইনের ওপর প্রায় দুই ফুট পানি জমে যাওয়ায় প্রথমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ট্রেনগুলোকে পেছনের স্টেশনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পরদিন, ৮ জুলাই ভোরে রেলওয়ে জানায়, ষোলশহর-জানআলীহাট সেকশনে রেললাইনের ওপর জমে থাকা পানির উচ্চতা না কমা পর্যন্ত কক্সবাজারমুখী ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে না। আটকে পড়া যাত্রীরা চাইলে চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে পারেন। আর যারা ঢাকায় ফিরতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের জন্য বিকেল ৪টায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।

এরপর থেকেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পাঁচ দিন পর আজ আবার চালু হচ্ছে এ রুটের ট্রেন চলাচল।

চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:32 am
চট্টগ্রামের বন্যা কবলিতদের পাশে ফেনীবাসী

দুই বছর আগেই স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল দেশের দক্ষিণের জেলা ফেনী। ওই সময় সেখানকার বন্যার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছিল সারা দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এবার সেই কৃতজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনগুলো একযোগে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) থেকে বন্যাদুর্গত অঞ্চলে গিয়ে ফেনীর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তরুণরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফেনীর বন্যায় দেশবাসী সহায়তা করায় সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে চট্টগ্রামের বন্যার্তদের সহযোগিতায় জেলার প্রায় সব উপজেলায় পৃথক পৃথক ত্রাণ কর্মসূচি চলছে। স্বেচ্ছাসেবকরা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। বিভিন্ন টিমে ফেনী থেকে পাঠানো হচ্ছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কুট, ওষুধ ও পানিসহ বন্যার্তদের জন্য নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

রোববার (১২ জুলাই) ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারকে আর্থিক সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— তারুণ্যের বন্ধন, পরিবর্তন, এফবিডিএ, গ্রিন ফোকাস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, লাইফ ফর হিউম্যান ফেনী, মধুই ফাউন্ডেশন, পশ্চিম সুলাখালী যুব সমাজ কল্যাণ সংঘ (প্রত্যয় ব্লাড ডোনার ক্লাব), একতা সামাজিক সংগঠন, জি.ভা. সমাজকল্যাণ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, যুবশক্তি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (মুন্সীরহাট, ফুলগাজী), ইলামিত্র যুব মহিলা সমাজকল্যাণ সংস্থা, ফেনী, নেয়ামতপুর ইয়াং স্টার স্পোর্টিং ক্লাব, রক্তকণিকা, আজগর, প্রত্যাশা ক্লাব (মুন্সীরহাট), আশার আলো ফাউন্ডেশন, রিভার ডেল্টা ডিএক্স ক্লাব ফেনী, উম্মাহ ব্লাড ডোনেশন ক্লাব, উচ্ছ্বাস (কেএমহাট, ফেনী সদর), হিউম্যানিটি ইজ লাইফ, এফডিএ, ফেনী ওয়েলফেয়ার ব্লাড ফাইটার্স, আমাদের সমাজ আমাদের পরিবার এবং পাঁচগাছিয়া ব্লাড ডোনেট ক্লাব ফেনীসহ অন্যান্য সংগঠন।

এছাড়া সাতবাড়িয়া মানবিক ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাব, ফেনী জেলা ছাত্র ফোরাম, জামেয়া, আমাদের ফেনী ব্লাড গ্রুপ, আল ইসার সোসাইটি, আল হুদা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, নাইনটিন স্কোয়াড, আমরা মোল্লা তাকিয়া পরিবার, ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনী, এইচডিএফবি ফাউন্ডেশন, দাগনভূঞা আল আমিন সংস্থাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই এই মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন।

ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকার অন্তত তিন শতাধিক মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, মোমবাতি এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের প্রতিনিধি নিশাদ আদনান বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ফেনীর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মানবিক সহায়তা ও ভালোবাসার ঋণ আমরা কখনো ভুলতে পারি না। চট্টগ্রামের মানুষ দুর্যোগের মুখে পড়েছেন। সেই দায়বদ্ধতা ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

আরেক প্রতিনিধি খন্দকার সুমন বলেন, আমরা শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, ম্যাচ, স্যালাইন এবং নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে যাচ্ছি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে এসব সহায়তা তুলে দেবেন। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন আমাদের মানবিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ওমর সিফাত নামে আরেক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকেই খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ করলেই হবে না, সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ফেনী জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবার সবসময় মানুষের পাশে ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এর আগে গতকাল শনিবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ফেনীর উদ্যোগে এবং ফেনী টার্ফ এক্সপ্রেস ও এইচডিএফবি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সংগঠনটির প্রতিনিধিরা ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সংগঠনটির প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা যায়, বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য স্যালাইন, শুকনো খাবার, মোমবাতিসহ বিভিন্ন জরুরি সামগ্রী প্যাকেজিং করা হয়েছে। এসব ত্রাণসামগ্রী প্রায় ২৫০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।

একই দিন চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের সেবায় ছাগলনাইয়া ব্লাড ডোনার্স ক্লাব একটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করে। দলটি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধপত্র সঙ্গে নিয়ে দুর্গত এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যাদুর্গত প্রায় ২২০টি পরিবারের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০ জন রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মেডিকেল টিমের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এ কার্যক্রমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন সহযোগিতা করেছে। প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবারসহ জরুরি কিছু জিনিস নিয়ে আমরা বন্যা কবলিত এলাকায় যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে তিনদিন পানিবন্দি থাকার পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 11:10 am
বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মানবিক দায়িত্বে আনসার-ভিডিপি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতিতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গত মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান এই তথ‍্য জানান।

তিনি বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখেও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জানমাল রক্ষায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন দুর্যোগপ্রবণ জেলায় সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর, পানিবন্দী মানুষের উদ্ধার, গৃহপালিত পশু রক্ষা, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা বিতরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

আশিকুজ্জামান জানান, কক্সবাজারের উখিয়া, সদর, পেকুয়া, চকরিয়া ও মহেশখালী এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছ ও পাহাড়ধসের মাটি অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতেও তারা সহযোগিতা করছেন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা আরও জানান,এই সমন্বিত তৎপরতা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করছে না, বরং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।