খুঁজুন
, ,

গ্যাসের দাম বাড়ল ২২.৭৮%, দুই চুলায় দিতে হবে ১০৮০ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 5 June, 2022, 9:52 pm
গ্যাসের দাম বাড়ল ২২.৭৮%, দুই চুলায় দিতে হবে ১০৮০ টাকা

দ্রব্যমূল্য নিয়ে পেরেশানিতে থাকা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসার খরচ আরও বাড়িয়ে এবার বাড়ল গ্যাসের দাম।

পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের পাইকারি দাম ৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১১ টাকা ৯১ পয়সা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।

খুচরা পর্যায়ে সেই মূল্য সমন্বয় করে যানবাহনে ব্যবহারের সিএনজি বাদে সব পর্যায়েই গ্যাসের জন্য খরচ বাড়বে।

রান্নার গ্যাসের জন্য দুই চুলার (ডাবল বার্নার) মাসিক বিল ৯৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ১০৮০ টাকা। এক চুলার মাসিক বিল ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা করা হয়েছে।

আর আর প্রিপেইড মিটারে প্রতি ইউনিটের খরচ ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮ টাকা। সার্ভার সিস্টেম আপডেটে করার মাধ্যমে এ মাসেই নতুন দাম কার্যকর হয়ে যাবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ০২ পয়সা করা হয়েছে। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৬ টাকা। আর সার কারখানার জন্য ৪ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে।

শিল্প কারখানায় আগে গ্যাসের মূল্য ছিল প্রতি ঘনমিটার ১০ টাকা ৭০ পয়সা। এখন বৃহৎ শিল্পকে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা, মাঝারি শিল্পকে ১১ টাকা ৭৮ পয়সা এবং ক্ষুদ্র শিল্পকে ১০ টাকা ৭৮ পয়সা করে দিতে হবে।

বাণিজ্যিক গ্রাহকদের (হোটেল, রেস্তোরাঁ) ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের দাম ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৬ টাকা ৬৪ পয়সা। তবে সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের দাম আগের মতই প্রতি ঘনমিটার ৪৩ টাকা থাকছে।

রোববার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু ফারুক পাইপলাইনের গ্যাসের পাইকারি মূল্য ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

পাশাপাশি পাইকারি মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়ে গণপরিবহনের সিএনজি ছাড়া সব স্তরেই মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়।

খুচরায় কতটা প্রভাব পড়ল?

খুরচা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সার কারখানার গ্যাসের দাম। এই স্তরে গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৬০ শতাংশ।

মূল্যবৃদ্ধির দিক থেকে এর পরেই রয়েছে গৃহস্থালির প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকদের খরচের মূল্যবৃদ্ধি। এই স্তরে দাম বেড়েছে ৪২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এত দিন বিদ্যুৎকেন্দ্র (সরকারি, আইপিপি ও রেন্টাল) যে দামে গ্যাস কিনত, এখন তার চেয়ে ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি দিতে হবে। আবার ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ফারুক বলেন, “সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখন থেকে কোনো উৎপাদন পর্যায়ে সরকার আর ভুর্তুকি দেবে না। ভর্তুকি যা দেওয়া প্রয়োজন তা কৃষক পর্যায়ে দেওয়া হবে। সে কারণেই আগের মত সারকারখানাগুলোতে ভর্তুকিতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না।”

নতুন মূল্য হারে শিল্পের গ্রাহকদের বৃহৎ, মাঝারি এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প- এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বৃহৎ শিল্পের জন্য গ্যাসের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ, মাঝারি শিল্পে ১০ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র শিল্পে শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ।

চা বাগানের জন্য সরবরাহ করা গ্যাসের দামও সাড়ে ১১ শতাংশ বাড়িয়ে ১১ টাকা ৯৩ পয়সা করা হয়েছে। আর বাণিজ্যিক বা হোটেল রেস্তোরাঁয় গ্যাসের খরচ বাড়ছে ১৬ শতাংশ।

এই ছয় স্তরের বাইরে সিএনজি স্টেশনের গ্যাসের দাম আগের মতই প্রতি ঘনমিটার ৪৩ টাকা রাখা হয়েছে, যা একমাত্র স্বস্তির খবর।

এ বিষয়ে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের পক্ষ থেকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ক্ষেত্রে দাম না বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের যুক্তি ছিল, এই খাতে দাম ইতোমধ্যে বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া দাম বাড়ালে গণপরিবহনে এর প্রভাবের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।”

গ্যাসে মূল্য এর আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৯ সালের ১ জুলাই। তিন বছরের মাথায় তা আবার বাড়ানো হলো।

পেট্রোবাংলার পাশাপাশি ছয়টি বিতরণ সংস্থাও মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিল গত জানুয়ারি মাসে। ওই প্রস্তাবের ওপর গত ২১ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত গণশুনানি হয়। ৭ এপ্রিল পর্যন্ত অংশীজনদের লিখিত মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

কেন দাম বাড়ানো হল?

বিইআরসির সচিব খলিলুর রহমান খান বলেন, “এনার্জি খাত সংশ্লিষ্ট জাতীয় ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে ভোক্তার স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। শুনানি ও শুনানি পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।”

বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ফারুক বলেন, এলএনজি আমদানির ব্যয় মেটাতে পেট্রোবাংলার জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে ৩৩০০ কোটি টাকা, বিতরণ সংস্থাগুলোর করপরবর্তী মুনাফা থেকে ১৭ শতাংশ হিসাবে ২৫০০ কোটি টাকা এবং সরকারি ভর্তুকি হিসেবে ৬০০০ কোটি টাকাসহ মোট ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা দিতে হয়।

“এটা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিদ্যমান ভারিত গড় মূল্যহার প্রতি ঘনমিটার ৯ দশমিক ৭০ টাকা থেকে ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৯১ টাকা করা হয়েছে।”

বিইআরসির কারিগরি কমিটি ক্যাপটিভ পাওয়ারের ক্ষেত্রে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা দাম নির্ধারণের কথা বললেও চূড়ান্ত ঘোষণায় তা কেন ১৬ টাকা করা হল, সেই প্রশ্নে রাখেন বাংলাদেশ টেক্সাটইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন।

উত্তরে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি কমিশন গঠিত টিম। তারা স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দিতে পারে। কিন্তু কমিশনের সিদ্ধান্তে সব সময় তার প্রতিফলন ঘটে না।

মহামারীর প্রভাব কাটতে না কাটতেই রাশিয়া ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। অন্য অনেক দেশের মত বাংলাদেশকেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এ পরিস্থিতিতে জনজীবনে যেন বিরূপ কোনো প্রভাব না পড়ে তা কমিশন ‘গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ’ করেছে। তাছাড়া এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএও দাম কিছুটা বাড়ানোর পক্ষে ছিল।

“তবে তারা বলেছে, এমন কিছু যেন করা না হয়, যাতে রপ্তানি খাত ও শিল্পের ওপর বড় রকমের আঘাত আসে। আমরাও সব মানুষের স্বার্থ চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইউটিলিটিগুলোর অর্থিক অবস্থা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও পর্যালোচনা করা হয়েছে।”

কমিশনের সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, “কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে কিছু কিছু জেনুইন খরচ অন্তর্ভুক্ত করেনি। যেমন এলসি কমিশন, অ্যাডভান্সড ইনকাম ট্যাক্স। কমিশন সব বিষয় বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করেছে। সে কারণে তাদের ইভালুয়েশনের চেয়ে আমাদের খরচ একটু বেড়েছে।”

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।