খুঁজুন
রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাবে ৮ লাখ ২০ হাজার শিশু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০২২, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাবে ৮ লাখ ২০ হাজার শিশু

সারাদেশের ন্যায় আগামী রোববার (১২ জুন) থেকে বুধবার (১৫ জুন) পর্যন্ত চট্টগ্রামেও অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে ৪ দিনব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২২। ঐ সময়ে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চট্টগ্রাম জেলার ১৫ উপজেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৮ লাখ ২০ হাজার ৩৭৫ জন শিশুকে একটি করে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তন্মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী ৯১ হাজার ৮৬২ জন শিশু খাবে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ২৮ হাজার ৫১৩ জন শিশু খাবে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ)। ২০২১ সালের ১১-১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী ৯০ হাজার ১৯০ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল নির্ধারণ করা হলে এর অর্জিত হার ছিল ৯৮ শতাংশ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ৪ হাজার ৮’শ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল নির্ধারণ করা হলে এর অর্জিত হার ছিল ৯৮ শতাংশ।

এ উপলক্ষে জেলা পর্যায়ের সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালা আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বিকেল ৩টায় নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত হয়।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্টিত কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি, এমওডিসি ডা. মোঃ নুরুল হায়দার চৌধুরী ও ডিএসএমও (যক্ষা) ডা. প্রমিতি কর্মকার।

সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী এ ক্যাম্পেইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা বর্তমান সময়ে খুবই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপুষ্টি দূরীকরণ সম্ভব হবে। সামাজিক ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে মাস্ক পরিধানসহ হাত ধোয়ার বিধি মেনে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। কোন শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে যাতে বাদ না যায় সে দিকে সবাইকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। এছাড়া শিশুর বয়স ৬ মাসপূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমত ঘরে তৈরি পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াতে হবে।

তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হার হ্রাসসহ সকল ধরণের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটাামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্র্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার থেতে দিতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলার প্রত্যেক উপজেলায় ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিতব্য সকল জাতীয় কর্মসূচীসমূহ শতভাগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ ব্যাপাওে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তাগণকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, মসজিদ-মন্দির-উপাসনালয়, হাটবাজার, বাস স্ট্যান্ড ও নৌ-ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণস্থানেও মাইকিং করে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। এ কর্মসূচী সফল করতে সরকারী প্রতিষ্টান, জনপ্রতিনিধি, আনসার-ভিডিপি ও এনজিও সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারী কর্মকর্তা, মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকবে।

জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, এবার চট্টগ্রাম জেলার ১৫ উপজেলার ২’শ ইউনিয়নের ৬’শ ওয়ার্ড, ১৫টি স্থায়ী কেন্দ্র, ১৫টি ভ্রাম্যমান কেন্দ্র ও ৪ হাজার ৮’শ কেন্দ্র, বিমান বন্দর ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে ১২-১৫ জুন তারিখে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৩৯ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১৩৬ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ৫৪০ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ৬৮৬ জন পঃ পঃ সহকারী, ১৫৩ জন পঃ পঃ পরিদর্শক, ৯ হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক, ১৫ জন স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, ৫০৯ জন সিএইচসিপি ও ৮২ জন স্যাকমো জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের দায়িত্বে নিয়োজিত ধাকবে।

Feb2

সুইজারল্যান্ডে ইরানের প্রতিনিধি দল, যাচ্ছেন ভ্যান্স-শাহবাজ-মুনিরও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
সুইজারল্যান্ডে ইরানের প্রতিনিধি দল, যাচ্ছেন ভ্যান্স-শাহবাজ-মুনিরও

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে ওয়াশিংটন ছেড়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। একই আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসীম মুনির।

রোববার (২১ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে দেশটির প্রতিনিধি দলটি এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছে।

ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) যাতে সব পক্ষ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করে, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনা নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে এই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরানি প্রতিপক্ষের সঙ্গে অন্তত এক বা দুইদিন জোরালো আলোচনা হতে পারে। লেবাননে যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং চুক্তিটি কার্যকর করতে করণীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইরানের পরমাণু অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা নসাৎ করার দিকেও ওয়াশিংটন মনোনিবেশ করবে। তবে ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি এর আওতাভুক্ত নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে নির্ধারিত ৬০ দিনের মেয়াদে উভয় পক্ষ ঠিক কী অর্জন করতে চায়, তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরার প্রথম সুযোগ এটি।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসীম মুনির বুর্গেনস্টকের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন। এই আলোচনায় কাতারও অংশ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়নে পাকিস্তান তার সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

চট্টগ্রামে তিন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে তিনটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিভিন্ন অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা এবং নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে এ জরিমানা করা হয়।

শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম মহানগরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার আদেশ দেন।

অভিযানে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্ত প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থের উপস্থিতি, চানাচুর, চিড়া ও বুট উৎপাদনে পোড়াতেল ব্যবহার, প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যপণ্যের মোড়কীকরণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করা, বিভ্রান্তিকর তথ্য সংযোজন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ম্যাংগো ফ্রুট পাল্প সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ এবং খাদ্য কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বিভিন্ন পোকামাকড়ের অবাধ বিচরণ, নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, বর্জ্য পদার্থ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার, খাদ্য স্পর্শক হিসেবে খোলা কাগজ ও খবরের কাগজ ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে মোড়কীকরণ না করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অপরদিকে ময়মনসিংহ অ্যাগ্রোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে আবুল খায়ের ফুড অ্যান্ড বেভারেজকে ১৬ লাখ টাকা, মধুবন সুইটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৫ লাখ টাকা এবং ময়মনসিংহ অ্যাগ্রোকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইকুয়েডরকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ইকুয়েডরকে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হার। বিশ্বকাপের অভিষেক মঞ্চে এমন এক হতাশাজনক শুরুর পর খুব কম মানুষই কুরাসাওয়ের কাছ থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই সবাইকে চমকে দিল ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি। দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফল তুলে নিয়েছে কুরাসাও।

রোববার (২১ জুন) কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ইকুয়েডরের। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। এর প্রধান কারণ ছিলেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম। পুরো ম্যাচজুড়ে অসাধারণ দৃঢ়তা ও মনোযোগ ধরে রেখে ইকুয়েডরের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন তিনি।

ম্যাচে মোট ১৫টি সেভ করেছেন রুম, যা বিশ্বকাপের মঞ্চে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সেরা গোলকিপিং প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও বারবার তাদের হতাশ করেছেন এই গোলরক্ষক। দূরপাল্লার শট, বক্সের ভেতরের সুযোগ কিংবা হেড সব ধরনের প্রচেষ্টাই ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৫টি সেভ করে সেই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন রুম।

ম্যাচের আগে কাগজে-কলমে পরিষ্কার ফেভারিট ছিল ইকুয়েডর। বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা, খেলোয়াড়দের মান এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সবদিক থেকেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। কিন্তু মাঠে নিজেদের পরিকল্পনা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করে কুরাসাও। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং গোলরক্ষকের অনবদ্য নৈপুণ্যে ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেয় তারা।

প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে সাত গোল হজম করা দলটির জন্য এই ফল শুধু একটি পয়েন্ট নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও বড় উপলক্ষ। বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রথমবারের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পয়েন্ট অর্জন কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে।

অন্যদিকে, ইকুয়েডরের জন্য এটি হতাশার ফল। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারিয়েছে তারা। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েও গোল করতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দলটিকে।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, তাদের কাছে এই ড্রয়ের মূল্য কতটা। জয়ের সমান আনন্দ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ক্যারিবীয় দেশটি। আর সেই আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন গোলরক্ষক এলয় রুম, যার বীরত্বেই বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও।