খুঁজুন
রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবেঃ ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুন, ২০২২, ১০:০০ অপরাহ্ণ
প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবেঃ ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন, কুমিল্লাতে ইবিএম এর নামে আরেকটি ভোট ডাকাতির মহড়া চলছে। সেখানে একজন সাংসদ এলাকায় অবস্থান করে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্গন করেছেন। অথচ এই নিশিরাতের সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, কুমিল্লা এই সাংসদ তার এলাকা থেকে বের হওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি । আজকে যদি কুমিল্লা এই সাংসদ তার এলাকা থেকে বের হওয়া মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি হয় তাহলে আমাদের নেত্রীর চিকিৎসা উনার মৌলিক অধিকার, উনাকে কেন সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে ? তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী , সাবেক রাষ্টপতি এবং একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সহধর্মীনি হওয়া সত্বেও তাকে কেন সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা ? কারণ এই স্বৈরাচারী, অগণতান্ত্রিক সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করছে , সাংবিধানিক অধিকার করছে। তাই যারা আজকে মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করে, সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করে তাদের ক্ষমতায় থাকার যোগ্যতা আছে কিনা ? যদি যোগ্যতা না থাকে তাদেরকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

তিনি আরোও বলেন ,আজকে যারা পদ্মা সেতুর উন্নয়নের কাহিনী শুনায়, তাদের বলি পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত জার্মানির সেই বিশেষ হাইড্রোলিক হ্যামারটি যেন সেতুর পাশে একটি জাদুঘর তৈরি করে সেইখানে সংরক্ষণ করে, যাতে মানুয গিয়ে দেখতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়টি যেন পদ্মা সেতুর পাশে করা হয়, প্রধানমন্ত্রী যেন সারাক্ষণ পদ্মাসেতুর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারেন। যোগাযোগ মন্ত্রাণালয়টি যেন পদ্মা সেতুর পাড়ে নিয়ে আসা হয়, যাতে ওবায়দুল কাদের সাহেব প্রতিদিন পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পারেন।

তিনি আরোও বলেন, এই সরকারের মাথা থেকে পা পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তাই আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান বলেছেন, ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ আন্দোলন শুধুমাত্র বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, জনগণের বাংলাদেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন। যে বাংলাদেশ আমরা লাখো শহীদের রক্ত ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জন করেছি তা এই মাফিয়া সরকারের কবল থেকে মুক্ত করতে হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, সর্বপ্রথম উনার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং মুক্তির আন্দোলনে , গুম, গুপ্ত হত্যা, নির্যাতন ও মামলা-হামলা উপেক্ষা করে এই স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের উদ্বেলিত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

১৫ জুন (বুধবার) বিকেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ ও মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান বলেন, এই অবৈধ সরকারের কাছে আমরা কোন দাবি রাখতে চাইনা। এই সরকারের পতন হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে। এই সরকারের পতন হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ সারাদেশের মানুষ সুচিকিৎসা পাবে। এই সরকারের পতন হলে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পাবে, ভোটাধিকার ফিরে পাবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণ চায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমান এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুন:রুদ্ধার হোক। তাই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে প্রস্তুত নিতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, এই আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো জনসমর্থন নাই। রাজনৈতিকভাবে তারা সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা জামানত হারাবে। তাই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। আমরা তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দিবোনা। আমাদের নেত্রী মুক্ত হলে গণতন্ত্র পুন:রুদ্ধার হবে, দেশের জনগণ মুক্তি পাবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুকিচিৎসা বাস্তবায়নে ও মুক্তির জন্য জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীর যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলুর সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম দিপু, হারুন আল রশিদ, মামুনুর রহমান, মঈনুদ্দিন রাশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া, এম. আবু বক্কর রাজু, গোলাম সরোয়ার, আনোয়ার হোসেন এরশাদ, সহ- সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই, সাজ্জাদ হোসেন, দিদার হোসেন, আব্দুল মান্নান আলমগীর, শাহাদাত হোসেন সোহাগ, জাকির হোসেন, এমদাদুল হক স্বপন, নিজাম উদ্দিন বুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক খান, সম্পাদক মন্ডলী লুৎফর রহমান জুয়েল, নুর আলম, কামরুল হাসান, সহ-সম্পাদক রাশেদ পাটোয়ারী, মো. পারভেজ, হালিশহর থানা আহবায়ক আনোয়ার কাফি মুন্না, পাচঁলাইশ থানা আহবায়ক শফিউল আলম শফি, পতেঙ্গা থানা আহবায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন, বায়েজিদ থানা আহবায়ক আলতাফ হোসেন, চান্দগাঁও থানা আহবায়ক সাজিদ হাসান রনি, কোতোয়ালি থানা আহবায়ক এন মোহাম্মদ রিমন, বাকলিয়া থানা আহবায়ক মোঃ দুলাল মিয়া, বন্দর থানা আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন রাজু, ডবলমুরিং থানা আহবায়ক আকতার হোসেন, কোতোয়ালি থানা সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান সোনামানিক, চান্দগাঁও থানা সদস্য সচিব মো. শহীদুজ্জামান, পাচঁলাইশ থানা সদস্য সচিব মহিউদ্দিন রুবেল, ডবলমুরিং থানা সদস্য সচিব নোমান সিকদার সোহাগ, আকবর শাহ থানা সদস্য সচিব তৌসিফ আহমেদ, পাহাড়তলী সদস্য সচিব ইসকান্দর হোসেন, হালিশহর থানা সদস্য সচিব মো. মুরাদ, বাকলিয়া সদস্য সচিব শামীম আহমেদ, থানা সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবু সালেহ আবিদ, মোঃ পারভেজ, যুগ্ম এমদাদুল হক, কিং মোতালেব, আইনুল ইসলাম জুয়েল, মো. জামশেদ, মো. আলী, দেলোয়ার হোসেন খোকা, ইসহাক জয়, আব্দুল আজিজ, মো. হারুন, শফিকুল ইসলাম বাঁচা, মো.আমিন, মো. ইকবাল, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

Feb2

মনোরেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত করা হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
মনোরেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত করা হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে চট্টগ্রাম মহানগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থা ও মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নিয়ে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন রেস্ট হাউজে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে বৈঠক করেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর ৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সভায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করলে আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মেয়র বলেন, এ প্রকল্পটির বাস্তবায়নের বিষয়ে আমি ইতিমধ্যে সড়ক ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পটির প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডিও সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহল অত্যন্ত আগ্রহী আছে। যদি আমরা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই শেষ করতে পারি, তাহলে আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটির মূল কাজ করা সম্ভব হবে। আর তাহলে বাংলাদেশের প্রথম মনোরেল চালু হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। সভায় চট্টগ্রাম নগরীর ট্রাফিক জ্যাম নিরসন, বর্তমান গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মনোরেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ মশিউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (ম্যাস ট্রানজিট) ও যুগ্মসচিব আবদুল লতিফ খান, ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া-সিএমএ প্রকল্প পরিচালক ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ার মীর মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার, সিএমএ প্রকল্প এবং ম্যাস ট্রানজিট প্ল্যানার মুহাম্মদ আবদুর রকিব এবং সহকারী ম্যাস ট্রানজিট ইঞ্জিনিয়ার (বিআরটি) মোঃ ইনজামুল হক মেহেদী।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ শাফকাত আমিন, আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রধান প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরী প্রকল্পের বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

এসময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দরনগরী, বাণিজ্যিক রাজধানী এবং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যানজট এ নগরীর উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন কর্মঘণ্টার অপচয়, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং জনভোগান্তির কারণে নগরবাসীকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ বাস্তবতায় আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি বলেন, “মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। নগরবাসী দ্রুত, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে সড়কের ওপর চাপ কমে যাবে এবং যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। আমরা চাই পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট মহানগরীতে রূপান্তর করতে।”

মেয়র আরও বলেন, “চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় মনোরেল একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। আমরা আশা করছি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে আগামী বছরের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের উন্নয়ন শুধু এই নগরীর উন্নয়ন নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। মনোরেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে যানজটমুক্ত, গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ডিটিসিএর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “চট্টগ্রামের পরিবহন খাতের উন্নয়নে আপনাদের কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবো, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও উন্নত নগরী উপহার দেবে।”

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ মশিউর রহমান জানান, ৫ জুন থেকে ৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ডিটিসিএর ৫ সদস্যের এই টিম চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সরেজমিন পরিদর্শন করছেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে সভা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে প্রকল্পের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবেন।

সভায় গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট, আধুনিক ও টেকসই নগরে রূপান্তরের অংশ হিসেবে মনোরেল প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, পাহাড়-সমুদ্রবেষ্টিত অবস্থান, সীমিত সড়ক অবকাঠামো এবং ঘনবসতিপূর্ণ নগর বিন্যাস বিবেচনায় এখানে মেট্রোরেলের তুলনায় মনোরেল অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও ব্যয়-সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। মনোরেল নির্মাণে তুলনামূলকভাবে কম জায়গার প্রয়োজন হয় এবং বিদ্যমান সড়ক ব্যবস্থার ওপর কম প্রভাব পড়ে।”

তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত হয়। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী যানজট নগরীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করছে। মনোরেল চালু হলে নগরবাসী দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা পাবে, একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।”

আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিশ্বের অনেক উন্নত শহরে মনোরেল সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি একটি পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। চট্টগ্রামেও দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আমরা আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে।”

মাটি ও পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মাটি ও পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর

মাটির গুণগত মান বজায় এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য এক নয়। যে এলাকায় যে ধরনের মাটি ও পরিবেশ রয়েছে, সে অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করে লাগাতে হবে। এতে গাছের বেঁচে থাকার হার বাড়বে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ঋতুচক্রেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন। আগে জুন মাস এলেই নিয়মিত বৃষ্টিপাত হতো, কিন্তু এখন সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের পেছনে বনাঞ্চল ও গাছপালা কমে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার। এই বৃক্ষরোপণ কীভাবে হবে তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জন্য সরকার যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১৪ জুন কক্সবাজারের দুলহাজরায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক লুৎফুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক, প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী ও ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সেলের সদস্য জামাইল বশীর জেবি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিশোধ এবং ইতিহাস গড়ারও লড়াই। বাংলাদেশের সামনে বিরল কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর এবারও শিরোপা জিতলে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন হবেন লাল-সবুজের মেয়েরা। স্বাগতিক ভারতের লক্ষ্য হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

ফাইনালে ওঠার পথে দুদলের যাত্রা ছিল ভিন্ন। গ্রুপপর্বে ভারত বাংলাদেশের অপরাজেয় পথচলায় ধাক্কা দেয় ৩-০ গোলের জয়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ছন্নছাড়া দেখালেও সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পিটার বাটলারের দল। অন্যদিকে ভারত ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। কোচ পিটার বাটলার শুরু থেকেই বলে আসছেন, ভারতের বিপক্ষে তার দল ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামবে। গ্রুপপর্বের পরাজয়কে তিনি দেখছেন শিক্ষার অংশ হিসাবে। তার বিশ্বাস, ভারতের আক্রমণাত্মক ফুটবল বাংলাদেশের জন্য পালটা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেই কৌশল রপ্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। বাংলাদেশের ফুটবলাররাও জানেন, ফাইনাল একেবারেই আলাদা ম্যাচ। গ্রুপপর্বের ফল এখানে কোনো মূল্য বহন করে না। বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য আগেও দেখিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতও সতর্ক। কোচ ক্রিসপিন চেত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, ফাইনালে দুদলের সম্ভাবনাই সমান। ভুটানের বিপক্ষে জয় পেলেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। ভারতেরও লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দুদলের তারকা ফুটবলাররা। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। ভারতের আশা থাকবে সানফিদা নংরুম, মালাভিকা এবং গোলরক্ষক পন্থোই চানুকে নিয়ে।

একদিকে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের আকাক্সক্ষা। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে গোয়ার ফাইনাল আজ রূপ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণে। অপেক্ষা শেষ বাঁশির। কার হাতে উঠবে সাফের সোনালি ট্রফি। কার মাথায় শোভা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট।