খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“পরাধীনতার বিরুদ্ধে নজরুলের কবিতা বিশ্বেসেরা রাজনীতিবিদদের রাজনীতির সংগ্রামের চেয়েও শক্তিমান ছিলো”

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
“পরাধীনতার বিরুদ্ধে নজরুলের কবিতা বিশ্বেসেরা রাজনীতিবিদদের রাজনীতির সংগ্রামের চেয়েও শক্তিমান ছিলো”

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চট্টগ্রাম আগমন স্মরণে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র (সিএইচআরসি) এর আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের নীচতলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের অডিটোরিয়ামে নজরুল সাহিত্য আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাহিত্য আলোচনা, সেমিনার ও কবিতা পাঠের আসরে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি, ইতিহাসবেত্তা সোহেল মো. ফখরুদ-দীনের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নজরুল গবেষক কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, কবি ও প্রাবন্ধিক মাওলানা জহুরুল আনোয়ার, কবি কুতুবউদ্দিন বখতেয়ার, লেখক ও গবেষক আবদুর রহিম, সাংবাদিক ও সংগঠক মির্জা ইমতিয়াজ শাওন, লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়া, কবি ও গবেষক নাজমুল হক শামীম, নজরুল গবেষক কবি ওসমান জাহাঙ্গীর, কবি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন আজিজ চন্দনাইশী, সিএইচআরসির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুস কুতুবী, কবি ফরিদ মিল্লাত, লেখক এসএম ওসমান, কবি অভিলাষ মাহমুদ, মোহাম্মদ ওসমান গনি, সুমন বড়ুয়া, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, কবি আলমগীর হোসাইন, কবি ফারজানা আফরোজ, কবি বিলকিস সুলতানা, সংগীত শিল্পী ও প্রধান শিক্ষক মখলেছুর রহমান মুকুল, শাহিদা আক্তার, মুনিরুছ সাদেক,কবি দেলোয়ার হোসেন মানিক, কবি আবদুল হালিম প্রমুখ।

নজরুল সাহিত্য আলোচনায় বক্তারা বলেছেন,
কবি নজরুল ইসলাম বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম মানবতাবাদী অসাম্প্রদায়িক গণমানুষের কবি। কী ছিল না নজরুল সাহিত্যে ? মানবপ্রেম, শোষকের বিরুদ্ধে কথা বলা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি, মুসলিম রেনেসাঁ স্ফুরণে, মুসলিম ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়কে কবিতা এবং গানের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা, তুর্কিবীর কামাল পাশা থেকে শুরু করে পারস্যের ওমর খৈয়াম, হাফিজ এমনকি পারস্যের নূরজাহানকে গানের মাধ্যমে উপস্থাপন, দামামার বাজনার সাথে শির উঁচু করে নিশান নিয়ে ভাঙা কেল্লায় নিশান উড্ডয়ন, পরাধীনতার নাগপাশ থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য যে নবীন তরুণ নওজোয়ানকে ‘চল চল’ বাঁধভাঙা ধ্বনি তুলে সম্মুখ সমরে ঝাঁপিয়ে পড়ার অদম্য মনোবল জোগানো, জেলখানায় বসে শিকল বাজিয়ে শিকল ভাঙার গান গেয়ে পরাধীন জাতিকে উদ্বুদ্ধ করার মোহমন্ত্র, প্রেমিকার মনোরঞ্জনে যে কবি তারার ফুলে এনে প্রিয়ার খোঁপায় গুঁজে দিয়েছেন, সেই কবিরই অগ্নিঝরা কলমে ‘বল বীর চির উন্নত মম শির’ ধ্বনির মাতম তাণ্ডবে বিশ্বের কোটি কোটি নির্যাতিত নিগৃহীত মানুষ অত্যাচারীর বিরুদ্ধে এক হয়ে রুখে দাঁড়ায় এমনকি একটি জাতির বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব— ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’— এ সঙ্গীতের মাধ্যমে গোটা জাতি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উৎসবের আঞ্জামে ব্যস্ত হয়ে ওঠে তিনি ই তো আমাদের প্রিয়কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আমাদের বাংলাদেশের জাতীয় কবি।

সভায় বক্তারা আরো বলেছেন, নজরুলের কবিতার গাঁথুনিতে ভিন্ন ভাষাভাষীর শব্দের অপূর্ব মূর্ছনায় শতাব্দীর বাঁক বদলকারী নতুন প্যাটার্নের কবিতা যখন কালবৈশাখী ঝড়ের মতো একটি এক্সপ্রেস ট্রেন হয়ে যায় সে কবিই তো বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম কবি প্রতিভা। পরাধীনতার বিরুদ্ধে নজরুলের কবিতা বিশ্বসেরা রাজনীতিবিদদের রাজনীতির সংগ্রামের চেয়েও শক্তিশালী ছিলেন তাঁর লেখনি। সম্ভবত সে সময়ের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা সারা পৃথিবীতে রচিত কবিতার মধ্যে সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী কবিতা। বিদ্রোহী কবিতার মতো এত আলোড়ন সৃষ্টিকারী কবিতা তখন রচিত হয়েছিল কি না আমাদের জানা নেই। সভায় বক্তারা চট্টগ্রামে কবি নজরুল ইসলামের আগমনের স্মৃতি গুলো সংরক্ষণ করার দাবী জানান।

Feb2

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে।

বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

সুপার সাব মোসাম্মাৎ সাগরিকার গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ২-১ গোলে হারিয়েছে নেপালকে।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দু’বার এই নেপালকে হারিয়েই হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন। এবার চ্যাম্পিয়নশিপের হ্যাটট্রিক করার মিশন বাংলাদেশের সামনে।

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সাগরিকার চমৎকার বোঝাপড়ায় লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান দিক দিয়ে ঢুকে শামসুন্নাহার বল ফেলেন গোলমুখে। কোনো ভুল করেননি সাগরিকা। নেপালের এক ডিফেন্ডার তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও পারেনি। বল ঠেলে দেন জালে। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। বাকি কয়েক মিনিট ওই লিড ধরে রেখে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা উঠে যায় ফাইনালে। এই নিয়ে বাংলাদেশ টানা তিনবার উঠলো সাফের ফাইনালে।

২৩ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তারপর সমতায় ফেরে ইনজুরি সময়ে প্রথম মিনিটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে করা গোলে স্বস্তি ফিরেছে লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েদের ডাগআউটে। ডানপ্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার নেওয়া অসাধারণ কর্নার কিকটি হাতে লাগিয়েছিলেন নেপালের গোলরক্ষক। তবে থামাতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাত হয়ে বল চলে যায় জালে।

দিপা শাহীর কর্নার হাতে লাগিয়েও ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি মিলি আক্তার। বল চয়ে যায় একটু ফাঁকায় দাড়ানো গিতা রানার কাছে। তিনি সুযোগ বুঝে বলটি পাঠিয়ে দেন জালে। ম্যাচের প্রথম লিড নিয়েছিল নেপাল।

৩৬ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে প্রীতি রানীর নেওয়া শট গোলরক্ষক মিলি আক্তারের হাতে লেগে ক্রসবার হয়ে ফিরে আসলে বাংলাদেশ বেঁচে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম অর্ধ।

কোচ পিটার বাটলার ৪০ মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন। সুরভী আকন্দ প্রীতির জায়গায় শামসুন্নাহার জুনিয়র ও উমেহলা মারমার জায়গায় তহুরা খাতুনকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ। শেষ দিকে আনিকাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান সাগরিকা। সেই সাগরিকাই বাংলাদেশকে ভাসান ফাইনালে ওঠার আনন্দে।

নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে গত দুটি সাফের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের লড়াইও জিতলো বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নও টিকে থাকলো।

৪৭ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের ভুলে শট নিয়েছিলেন রেখা পাউদেল। তবে তার শট পোস্টে লেগে ফিরলে আবার বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৭৮ মিনিটে বদলি সাগরিকার শট অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন নেপালের গোলরক্ষক আনজিলা।

এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারলো নেপাল। তবে ভুটানের রেফারি ৬ মিনিটের ইনজুরি সময়ের খেলা চালিয়েছেন ১৩ মিনিটের মতো।

বাংলাদেশ একাদশ

মিলি আক্তার, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার, কোহাতি কিসকু, মমিতা খাতুন (মনিকা চাকমা, ৪৬ মিনিট), মারিয়া মান্দা (অধিনায়ক), আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী (সাগরিকা), উমেহলা মারমা (তহুরা খাতুন, ৪০ মিনিট), সুরভী আকন্দ প্রীতি (শামসুন্নাহার জুনিয়র, ৪০ মিনিট), সুরভী আক্তার আরফিন ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনের ষষ্ঠ তলায় কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি।

নতুন মূল্য গত ১ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।

তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুতের দাম গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।