খুঁজুন
শনিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সাপে কাটা রুগি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
মিরসরাইয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সাপে কাটা রুগি

মিরসরাই প্রতিনিধিঃ মিরসরাইয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি নামকা ওয়াস্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেখানে যথা উপযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই।

সাড়ে ৪লাখ মানুষের জন্য নেই একটি আইসিইউ বেড, নেই সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা ব্যাবস্থা। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলেই সাপে কাটায় মানুষ মারা যায় বিনা চিকিৎসায়। সাপে কাটায় বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে আক্রান্ত হলেও এর চিকাৎসা রাখা হয়েছে শহরে। সাপে কাটা মানুষ চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক ভাবে উপজেলা হাসপাতালের সরণাপন্ন হয়। উপজেলা হাসপাতালে সাপে কাটা রুগির উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যাবস্থা না থাকায় প্রেরণ করা হয় জেলা হাসপাতালে। এতে মাঝখানে চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ সময় ক্ষেপন হয় আর মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে ভুক্তভোগি রুগি। একপ্রকার বলতে গেলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে বাধ্য হচ্ছে মিরসরাইয়ের সাপে কাটা রুগিদের।

চলতি মাসের গত ১৫ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় উপজেলার ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর গ্রামের নতুন বাড়িতে সাপের কামড়ে সুফিয়া বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। নিহত সুফিয়া ওই বাড়ির মৃত ফিরোজ মিয়ার স্ত্রী। সুফিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রিপন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর মা ঘরের পাশে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে যান। এসময় ডান পায়ের নিচে বিষাক্ত সাপ কামড় দিলে বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যান।

২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ৪নং ধুম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মোম্বার আজিজুল হক (৫০) সাপের কামড়ে মারা যান। বাড়ির পুকুর পাড়ে তাকে সাপটি ছোবল মারে। পরে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে সাপে কাটার চিকিৎসা না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের ৬ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে। সে মিরসরাই পৌরসভার নাজির পাড়া গ্রামের প্রবাসী আবদুল মতিনের এক মাত্র পুত্র। বাড়ির শিশুদের সাথে খেলাধূলা করার একপর্যায়ে একটি বিষাক্ত সর্প তাকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারন হিসেবে জানা যায় সাপে কাটার পরবর্তী উপযুক্ত চিকিৎসায় বিলম্ব।

এছাড়া একই বছর মিরসরাই উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়নে বিষাক্ত সাপের কামড়ে মনোয়ারা বেগম (৩৬) নামক এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের কাশেম মোল্লা বাড়ির মরহুম আবু জাফরের স্ত্রী। মনোয়ারা বেগমকেও প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টা নাগাদ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এভাবে প্রতিবছর একের পর এক সাপে কাটা রুগি বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা উপজেলার সাড়ে ৪লাখ মানুষের জন্য একটি আইসিইউর ব্যাবস্থা করে স্থানিয় ভাবে সাপে কাটা চিকিৎসা সুব্যাবস্থায় উদাসীনতা দেখিয়ে আসছেন। অথচ তারা লক্ষ লক্ষ টাকা অবচয় করছেন বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খাতে।

মিরসরাই মাতৃকা হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার জামশেদ আলাম জানান, দেশের উপজেলা পর্যায়ে সাপেকাটা রুগির চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ছিল উপজেলা পর্যায়ে এর চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কারন জেলার চাইতে উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রুগির সংখ্যা বেশি। সাপে কাটা রুগির চিকিৎসায় জটিলতা কিছুই দেখি না। একজন এনেসথেশিয়া, একজন মেডিসিনের ডাক্তর আর প্রশিক্ষিত দক্ষ দুই চার জন নার্স থাকলেই সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা দেয়া সম্বব। অতিতে সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা জটিলতা থাকলেও বর্তমানে সেটা নেই।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মিনহাজুর রহমান বলেন, উপযুক্ত ব্যাবস্থাপনার অভাবে আমরা উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা করতে পারিনা। সাপে কাটা রুগিকে আমরা যে এন্টিভেনাম ইনজেকশন পুশ করি সেটি প্রয়োগ করার পর রুগির শরিরে এলার্জী সহ নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পাতে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরবর্তী যে ব্যাবস্থাপনা সেটি আমাদের নেই তাই আমরা সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা দিতে পারিনা।

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…