খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সাপে কাটা রুগি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০২২, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
মিরসরাইয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় সাপে কাটা রুগি

মিরসরাই প্রতিনিধিঃ মিরসরাইয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি নামকা ওয়াস্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও সেখানে যথা উপযুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই।

সাড়ে ৪লাখ মানুষের জন্য নেই একটি আইসিইউ বেড, নেই সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা ব্যাবস্থা। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম আসলেই সাপে কাটায় মানুষ মারা যায় বিনা চিকিৎসায়। সাপে কাটায় বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে আক্রান্ত হলেও এর চিকাৎসা রাখা হয়েছে শহরে। সাপে কাটা মানুষ চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক ভাবে উপজেলা হাসপাতালের সরণাপন্ন হয়। উপজেলা হাসপাতালে সাপে কাটা রুগির উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যাবস্থা না থাকায় প্রেরণ করা হয় জেলা হাসপাতালে। এতে মাঝখানে চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ সময় ক্ষেপন হয় আর মৃত্যু কোলে ঢলে পড়ে ভুক্তভোগি রুগি। একপ্রকার বলতে গেলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে বাধ্য হচ্ছে মিরসরাইয়ের সাপে কাটা রুগিদের।

চলতি মাসের গত ১৫ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় উপজেলার ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর গ্রামের নতুন বাড়িতে সাপের কামড়ে সুফিয়া বেগম (৫০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। নিহত সুফিয়া ওই বাড়ির মৃত ফিরোজ মিয়ার স্ত্রী। সুফিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রিপন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর মা ঘরের পাশে টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে যান। এসময় ডান পায়ের নিচে বিষাক্ত সাপ কামড় দিলে বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যান।

২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ৪নং ধুম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক মোম্বার আজিজুল হক (৫০) সাপের কামড়ে মারা যান। বাড়ির পুকুর পাড়ে তাকে সাপটি ছোবল মারে। পরে বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে সাপে কাটার চিকিৎসা না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন আব্দুল্লাহ আল নোমান নামের ৬ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে। সে মিরসরাই পৌরসভার নাজির পাড়া গ্রামের প্রবাসী আবদুল মতিনের এক মাত্র পুত্র। বাড়ির শিশুদের সাথে খেলাধূলা করার একপর্যায়ে একটি বিষাক্ত সর্প তাকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারন হিসেবে জানা যায় সাপে কাটার পরবর্তী উপযুক্ত চিকিৎসায় বিলম্ব।

এছাড়া একই বছর মিরসরাই উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়নে বিষাক্ত সাপের কামড়ে মনোয়ারা বেগম (৩৬) নামক এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের কাশেম মোল্লা বাড়ির মরহুম আবু জাফরের স্ত্রী। মনোয়ারা বেগমকেও প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টা নাগাদ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এভাবে প্রতিবছর একের পর এক সাপে কাটা রুগি বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা উপজেলার সাড়ে ৪লাখ মানুষের জন্য একটি আইসিইউর ব্যাবস্থা করে স্থানিয় ভাবে সাপে কাটা চিকিৎসা সুব্যাবস্থায় উদাসীনতা দেখিয়ে আসছেন। অথচ তারা লক্ষ লক্ষ টাকা অবচয় করছেন বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় খাতে।

মিরসরাই মাতৃকা হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার জামশেদ আলাম জানান, দেশের উপজেলা পর্যায়ে সাপেকাটা রুগির চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ছিল উপজেলা পর্যায়ে এর চিকিৎসা নিশ্চিত করা। কারন জেলার চাইতে উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রুগির সংখ্যা বেশি। সাপে কাটা রুগির চিকিৎসায় জটিলতা কিছুই দেখি না। একজন এনেসথেশিয়া, একজন মেডিসিনের ডাক্তর আর প্রশিক্ষিত দক্ষ দুই চার জন নার্স থাকলেই সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা দেয়া সম্বব। অতিতে সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা জটিলতা থাকলেও বর্তমানে সেটা নেই।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মিনহাজুর রহমান বলেন, উপযুক্ত ব্যাবস্থাপনার অভাবে আমরা উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা করতে পারিনা। সাপে কাটা রুগিকে আমরা যে এন্টিভেনাম ইনজেকশন পুশ করি সেটি প্রয়োগ করার পর রুগির শরিরে এলার্জী সহ নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পাতে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পরবর্তী যে ব্যাবস্থাপনা সেটি আমাদের নেই তাই আমরা সাপে কাটা রুগির চিকিৎসা দিতে পারিনা।

Feb2

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।