খুঁজুন
, ,

ওরা ১৫ জন প্রশিক্ষিত ছিনতাইকারী : পুলিশকে দেখালো ৩০ সেকেন্ডে ছিনতাইয়ের কৌশল!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 2 December, 2019, 6:21 pm
ওরা ১৫ জন প্রশিক্ষিত ছিনতাইকারী : পুলিশকে দেখালো ৩০ সেকেন্ডে ছিনতাইয়ের কৌশল!

রাজীব সেন প্রিন্স : ওরা ১৫ জন, অধিকাংশই পথশিশু তবে এরা সবাই সংঘবদ্ধ প্রশিক্ষিত ছিনতাইকারী। ১৫ সদস্যের সংঘবদ্ধ এ ছিনতাইকারী গ্রুপের মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক চুরি ও ছিনতাই মামলা।

মূলত হাত খরচের টাকা ও যাদের বয়স কম তাদের মাঝে পড়ালেখার আগ্রহ সৃষ্টি করে পড়াশুনার খরচ বাবদ সামান্য কিছু অর্থ প্রদান করে এদেরকে মোবাইল ছিনতাই কাজে উৎসাহ প্রদান করছে নগরীর চট্টগ্রাম রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ভাসমান কয়েকজন মোবাইল বিক্রেতা।

রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলস্টেশনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ এ ছিনতাইকারী চক্রটির ১৫ সদস্যকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১২টি চোরাই মোবাইল সেট ও ৪টি ছোড়া উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ছিনতাইকারী গ্রুপটির হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এমন অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি শেয়ার করেছে। এমন কয়েকটি ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে ছিনতাইকারী চক্রটির গ্রুপ লিডার রাব্বি আল আহম্মদ (২০)সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ গ্রুপের গ্রেফতার অপর সদস্যরা হলেন, মো. মামুন (২৯), মো. সোহাগ (২৬), জয় বড়ুয়া প্রকাশ আব্দুল (১৮), মো. আজিম প্রকাশ আজম (২২), দেলোয়ার হোসেন প্রকাশ দেলু (৩৭), মো. মামুন (১৮), মো. আল আমিন শেখ (২১), মো. রুবেল (৩০), মো. বশির (২৫), মো. মিন্টু (৩০), মো. শাহাদাত হোসেন বাবু (২৮), জয়নাল আবেদীন (১৯), মো. জহির (২৮) ও লেদু প্রকাশ আলাউদ্দিন প্রকাশ হাসান (৩০)।

গ্রেফতারের পর সোমবার সকালে নগরীর মোমিন রোডে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা ছিনতাইকাজে প্রশিক্ষিত। যাত্রীবাহি বাসে উঠে যাত্রীর গা ঘেঁষে দাড়িয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যেই তার পকেট থেকে মোবাইল হাওয়া করে দেওয়ার মতো যাদুকরী কৌশল এরা রপ্ত করেছে। তাছাড়া কোন নারী পথচারীকে একা পেলে মুহুর্ত্বের মধ্যে ওই নারীর আশে পাশে জটলা পাঁকিয়ে এক মিনিটের মধ্যেই তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে মোবাইল ছিনতাই চম্পট দিতেও এরা বেশ পারদর্শী।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান মোবাইল ছিনতাইয়ের শিকার ব্যাক্তিদের উদ্দ্যেশে বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস না দিয়ে মোবাইল চুরির অভিযোগে সরাসরি থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করলে মোবাইলটি উদ্ধারে এবং ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে সহজ হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফসহ অভিযান পরিচালনাকারী টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারীরা দেখালেন কি কি পন্থায় তারা মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ছিনতাই করে থাকেন।

চলন্ত বাস বা মার্কেটে কৃত্রিম ভিড় তৈরি করে পকেট থেকে মোবাইল সরিয়ে নেয়া, ছোঁ মেরে মোবাইল বা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া এবং ছোঁরার ভয় দেখিয়ে খুব কম সময়ে ছিনতাইয়ের কয়েকটি কৌশল তারা উপস্তিত পুলিশ কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মী দেখান।

গ্রেফতার ছিনতাইকারী চক্রটির কয়েকজন সদস্যের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরাতন রেলস্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, কাইয়ুম, বদি ও বদির বোন লাকি, আব্দুল জলিল এবং আব্দুস শুক্কুরের মতো আরো বেশ কয়েকজন ভাসমান মোবাইল বিক্রেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এসব ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করে থাকে।

তারা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ৪-৫ জন করে গ্রুপ ভিত্তিক ভাগ হয়ে যাত্রী ও সাধারণ পথচারীকে টার্গেট করে তাদের শিকারে পরিণত করে। পরে ছিনতাইকৃত মোবাইলগুলো তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা ভাসমান মোবাইল বিক্রেতাদের হাতে তুলে দেন। বিনিময়ে তারা সামান্য ৩ থেকে ৫শ টাকা হাত খরচ হিসেবে তুলে দেন। তাছাড়া যারা খুব অল্প বয়সী তাদেরকে পড়াশুনার জন্য কিছু টাকা দেন ছিনতাইয়ের নির্দেশদাতারা।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, রবিবার রাতে গ্রেফতার ছিনতাইকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ৩-৪ গ্রুপে ভাগ হয়ে চুরি-ছিনতাই কাজে জড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেকটা গ্রুপের টার্গেট থাকে দিনে অন্তত একটি করে মোবাইল ছিনতাই্ করা। সে টার্গেট নিয়ে তারা জনাকীর্ণ স্থান ও জনগণের ভিড় যে এলাকায় বেশি সেই স্থানকেই তারা বেঁচে নেন।

বিশেষ করে এই নগরীর ইপিজেড, কাস্টমস, বন্দর, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, জিইসি মোড় ২নং গেইট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, আন্দরকিল্লা, টেরিবাজার, নিউমার্কেট ও নতুন রেল স্টেশনসহ নগরের জনহুল স্থানগুলোতে সুযোগ বুঝে মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে ১-২ মিনিটের মধ্যেই তারা পথচারী ও যাত্রীর মোবাইল ছিনতাই করে সটকে পড়েন।

ওসি বলেন, রেলস্টেশনের আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠা ভাসমান মোবাইল দোকানদারদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে তারা ছিনতাইকাজে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকটি মোবাইল চুরির ঘটনার সূত্র ধরে রবিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাব্বি আল আহম্মদের বিরুদ্ধে ৫টি, মামুনের বিরুদ্ধে তিনটি, সোহাগের বিরুদ্ধে দুইটি, জয় বড়ুয়ার বিরুদ্ধে চারটি, আজিমের বিরুদ্ধে ১০টি, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আটটি, আল আমিনের বিরুদ্ধে একটি ও বশিরের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা রয়েছে।

তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে এ ছিনতাইকারী চক্রের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাসহ সকলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Feb2
Feb2

সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 11:05 am
সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ (​শুক্রবার) সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

​সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 9:45 pm
জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নের এক বিশেষ সভা অদ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় চট্টগ্রামস্থ একটি রেস্টুরেন্ট’র হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তানভীর মল্লিকের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেকেএ এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ সেলিম।

সভায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নাল কমিটি গঠনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামের বিশেষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ শাহেদ-কে চট্টগ্রাম রিজিয়নের নতুন চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়।

বরণ অনুষ্ঠানে জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ-কে জেকেএ-এর টাই পরিয়ে দেন এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস ব্যাজ পরিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল, পিআরইউর সদস্য সচিব ইমরান এমি, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সেলিম উদ্দিন রাসেল, জাফর আহমেদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, আতিকুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, রাশেদুল কলিম, শাবাব ইয়াজদানী, মঞ্জুর আলম মঞ্জুসহ কারাতের খেলোয়াড় বৃন্দ।

সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 7:47 pm
জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা’ এবং ‘চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গায় পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এতে অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের বিধান বহাল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।