চমেকে লাশ ফেলে পালানো এক ব্যক্তি গ্রেফতার
নগরীর বাকলিয়া এলাকা থেকে নুরুল ইসলাম নাহিদ (৪০) নামের এক ব্যক্তির লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় এব ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। উক্ত ঘটনার কারণ ও নিহতের মৃত্যুর কারণে নিশ্চিত করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম শওকত। তাকে বাকলিয়া এলাকার তার ভাঙারির দোকান থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ রিপোর্ট তৈরির সময় তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু হয় নাহিদের। নিহত নাহিদ হানিফ পরিবহনের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের সুপার ভাইজার ছিলেন। পরিবহন শ্রমিকের আড়ালে সে ট্রান্সফরমার চুরি সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলো।
মৃত নরুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঝলসে যাওয়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড চেক করে দেখা যায়, গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত তার সঙ্গে শওকত নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর প্রায় ৫০ বারের মতো কথা হয়। তাদের সর্বশেষ লোকেশনও ছিল রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটার হাজারীখীল। মোবাইল কলের সূত্র ধরে শওকত নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ওসমান নামের একজন নৌকার মাঝি ছিল।
তিনি আরো বলেন, হাজারীখিল গ্রামে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয় নাহিদ। এছাড়া ট্রান্সফরমারের মধ্যে এক ধরণের তেল থাকে। বিদ্যুৎ চালু থাকলে ট্রান্সফরমারের তেলগুলো উত্তপ্ত হয়। চুরি করে ট্রান্সফরমার নামাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হলে ট্রান্সফরমারের তেল নাহিদের গায়ে পড়ে সে ঝলসে যায়। যে কারণে চুরি করা ট্রান্সফরমার ফেলেই তারা আহত নাহিদকে নৌকা করে নতুন ব্রিজ এলাকায় নিয়ে আসে।
নাহিদকে নৌকা করে কর্ণফুলী নতুন ব্রিজ এলাকায় আনার পর নৌকার মাঝি ওসমান তার স্ত্রীকে খবর দেয়। এরপর ওসমান ও শওকত মিলে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে মুমূর্ষু অবস্থায় নাহিদকে তুলে হাসপাতালে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে চান্দগাঁও এলাকা থেকে নাহিদের স্ত্রী আনোয়ারাকে সিএনজিতে তুলে নেয়। এসময় আনোয়ারা নৌকার মাঝি ওসমানকে চিনে ফেলে। যে কারণে নতুন চান্দগাঁও থানার সামনে অটোরিকশা থেকে নেমে যায় ওসমান ও শওকত। এরপর আনোয়ারা তার স্বামী নাহিদকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ওসি আরো বলেন, আটক শওকত ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মূলত নৌকার মাঝি ওসমান থেকে সে চোরাই মালামাল কিনতো। এখন ওসমানকেও গ্রেফতারের অভিযান চলছে। একইসঙ্গে ট্রান্সফরমার চোরাই সিন্ডিকেটের প্রত্যেক সদস্যকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক জুয়েল দাশ বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সরফভাটা হাজারীখীল গ্রামের বাসিন্দারা অফিসে এসে জানান বুধবার রাত তিনটার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তির কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়েছেন তারা। পরে গ্রামের লোকজন বের হয়ে দেখেন পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে ২টি খোলা ট্রান্সফরমার পড়ে আছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি খুঁটির উপরে একটি ট্রান্সফরমার ভাঙা অবস্থায় আছে। নীচে দুটি ট্রান্সফরমার খোলা অবস্থায় পাই। ট্রান্সফরমারের পাশে মানুষের চুল পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, চোরের দল ট্রান্সফরমার চুরি করে। দুটি নামানোর পর তৃতীয়টি নামাতে গিয়ে তাদের কেউ বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়। এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন