খুঁজুন
, ,

ভূমিহীনদের কাছে আজ ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 21 July, 2022, 11:27 am
ভূমিহীনদের কাছে আজ ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের কাছে আরও ২৬ হাজার ২২৯টি ঘর হস্তান্তর করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ভার্চুয়ালি এ গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের কাছে ঘরের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আরও জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি পাঁচ জেলার পাঁচটি স্থানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন।

স্থানগুলো হচ্ছে—লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলাধীন চরকলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্প, বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলাধীন গৌরম্ভা আশ্রয়ণ প্রকল্প, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলাধীন চর ভেড়ামারা আশ্রয়ণ প্রকল্প, পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর উপজেলাধীন মহানপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলাধীন জাঙ্গালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প।

আহমদ কায়কাউস জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঞ্চগড় ও মাগুরার সবগুলো উপজেলাসহ ৫২টি উপজেলাকে গৃহহীন ও ভূমিহীন উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আশ্রয়ণ-২’ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে দেশব্যাপী মোট ৬৭ হাজার ৮০০টি ঘর দেওয়া হচ্ছে। এ ৬৭ হাজার ৮০০ ঘরের মধ্যে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি আট হাজার ৬৬৭টি ঘর নির্মাণাধীন।

প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২০২২ পর্যন্ত এক লাখ ৮৫ হাজার ১২৯টি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি, ৬৩ হাজার ৯৯৯ গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার তাদের মাথার ওপর ছাদ পায়। আর, গত বছরের ২০ জুন আশ্রয়ণ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৩ হাজার ৩৩০টি পরিবার ঘর পায়

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে সরকার ঘরগুলোকে অধিকতর টেকসই ও জলবায়ু সহিষ্ণু করে গড়ে তুলতে ঘরগুলোর নকশা পরিবর্তন করে। এতে ঘরগুলোর নির্মাণ খরচ বেড়ে যায়। আর, এজন্যই এখন গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষরা দুই শতাংশ জমির ওপর আরও উন্নতমানের টিন-শেডের আধা-পাকা ঘর পাবে।

ঘরগুলোকে অধিকতর টেকসই করে গড়ে তোলায় প্রতিটি ঘরের নির্মাণব্যয় এক লাখ ৯১ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দুই লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হয়।

সরকার ঘরগুলোকে অধিকতর টেকসই করে নির্মাণ করতে মজবুদ কড়ি কাঠ, পাথরের সর্দল ও রিইনফোর্স কংক্রিট কলাম (আরসিসি) পিলার ব্যবহার করা হয়েছে।

আহমদ কায়কাউস জানান, ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত ঘরের নির্মাণের জন্য প্রায় চার হাজার ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় চর অঞ্চলের জন্য এক হাজার ২৪২টির মতো বিশেষভাবে নকশা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় কিংবা বন্যার মতো যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষভাবে স্থানান্তরযোগ্য করে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে—যাতে করে বাড়িগুলো অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আবাসনের জন্য সরকার খাস জমি ছাড়াও ১৯১ দশমিক ৭৯ একর জমি ক্রয় করেছে। বিশ্বের এটা একমাত্র দৃষ্টান্ত যে, কোনো দেশের সরকার এ ধরনের কাজে জমি ক্রয় করেছে। জমি ক্রয়ের জন্য ১৩৪ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

ক্রয় করা জমিতে যে ঘরগুলো নির্মিত হয়েছে, সেখানে মোট আট হাজার ৪৬২টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা হবে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সরকার এ প্রকল্পের জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার ৫১২ দশমিক ০৪ একর জমি উদ্ধার করে।

সরকারের উদ্ধার করা এ খাস জমির বাজার মূল্য দুই হাজার ৯৬৭ দশমিক ০৯ কোটি টাকা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ থেকে মোট পাঁচ লাখ ৯ হাজার ৩৭০টি পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসিত পরিবারগুলোকে তিন মাসের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সরকারের নীতি অনুযায়ী—এ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক, বিধবা ও অসমর্থ মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ, গোরস্থান, পুকুর ও রাস্তাঘাটও তৈরি করা হচ্ছে।

প্রকল্প এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হয়েছে। গৃহহীনদের কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্যও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত আশ্রয়ণ প্রকল্পটির একটি অনন্য বৈশিষ্ট হচ্ছে—জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)’র আবাসনের সঙ্গে এর একটি বিশেষ যোগাযোগ আছে।

বিভিন্ন টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে পথে কেবলমাত্র এ গৃহ নির্মাণ প্রকল্পটিই হতে পারে প্রধান পদচিহ্ন।

অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে এ আবাসন প্রকল্প ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রেখেছে।

এন-কে

Feb2
Feb2

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 11:04 pm
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, দালালচক্র ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং সেবাগ্রহীতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সারাদেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ।

তিনি জানান, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার এবং আটজন আনসার সদস্য। তারা ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্র, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, ঔষধ চক্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল কর্মস্থলে কোনো সদস্য অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বাহিনীর নিয়োগ ও মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আধুনিক সফ্‌টওয়্যারভিত্তিক যাচাই-বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে যোগ্য সদস্য নির্বাচন এবং বাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্যদের সততা ও দক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মলদোভাসহ বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমবে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মো. রফিকুল ইসলাম, মো. আব্দুল মজিদ এবং মো. রাশেদুজ্জামানসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 10:16 pm
ঢাকা ঘিরে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথের অগ্রগতি কতটা হলো, জানলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক ও নৌপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হলো, তা নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সড়ক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর যানজট নিরসন কীভাবে হবে, তা বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাজধানীর ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা অবহিত করা হয়েছে।

ঢাকার এই বৃত্তাকার সড়কের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারিঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তগোলা, ফতুল্লা, চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। আরেকটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেইট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যাবে। সবমিলিয়ে প্রায় প্রায় ৮৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশের নির্মাণকাজ চলছে। বৈঠকে জানানো হয় এই পথে ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃত্তাকার এই সড়ক নির্মাণ হলে রাজধানীর ভেতরের সড়ক ব্যবহার না করেই এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়া যাবে। সিলেট, মাওয়া ও চট্টগ্রামের যাত্রীরা ঢাকা না ঢুকেও গন্তব্যে যেতে পারবেন। এতে শহরে যানবাহনের চাপ কমবে এবং একই সঙ্গে যানজটও কমে আসবে।

একইভাবে ঢাকা শহরে ঘিরে ১১০ কিলোমিটারের নদী পথ রয়েছে তার চালু করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে এবং রাজধানীর বৃত্তকার নদী পথে মানুষজন এক গন্তব্যে থেকে অন্য গন্তবে যেতে পারবে অনায়াসে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, এই বিষয়গুলো বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞরা এর কারিগরি দিক উপস্থাপন করেন। নদী পথ ব্যবহার করলে পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকবে, জ্বালানি সাশ্র্রয়ী হবে, সময়ও কম লাগবে বলে বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বলেছেন। কারণ নদী পথের যানবাহনগুলো হবে বিদ্যুৎচালিত।

বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, সড়ক পরিবহন সচিব জিয়াউল হক, নৌপরিবহন সচিব মো. জাকারিয়া, রেল পথ সচিব ফাহমিদুল ইসলাম, বিআইডাব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী জহিরুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খান মাহমুদ আমানত ও অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

‘বাবাকে বাঁচান’, ‘পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে’, ‘ওষুধ কেনার টাকাও নেই’— মানবিক ডিসির গণশুনানিতে অসহায় মানুষের আর্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 7:18 pm
‘বাবাকে বাঁচান’, ‘পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে’, ‘ওষুধ কেনার টাকাও নেই’— মানবিক ডিসির গণশুনানিতে অসহায় মানুষের আর্তি

কারও বাবার ক্যান্সারের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কেউ নিজেই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালাতে পারছেন না। বার্ধক্য, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, দারিদ্র্য কিংবা উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম—এমন নানা সংকটের কথা উঠে এসেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতে।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগর থেকে আসা একাধিক সেবাপ্রত্যাশীর আবেদন ও অভিযোগ শুনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একই সঙ্গে অনলাইনে অংশ নেওয়া পাঁচজন প্রবাসী বাংলাদেশির অভিযোগও শোনেন তিনি।

গণশুনানি শেষে চরম আর্থিক সংকটে থাকা নয়জনকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া চারজন দুস্থ নারীকে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার গুঁড়াসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে রাঙ্গুনিয়ার জাফর আহমদ চিকিৎসা ও জীবিকা নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা চান। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পূর্ব মাদারবাড়ীর পিংকি হিজড়া জানান, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর অর্থাভাবে তাঁর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে নিতে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাঁশখালীর মর্জিয়া বেগম বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। অন্যদিকে স্বামী-সন্তানহীন হাসিনা বেগম মানুষের বাসায় কাজ করে জীবনযাপন করলেও শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা চালানোর সামর্থ্য হারিয়েছেন।

লোহাগাড়ার এক গণমাধ্যমকর্মী তাঁর ক্যান্সার আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার জন্য সহায়তা চান। একইভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ফ্রন্ট ডেস্কে কর্মরত রিতা দাশ বাবার হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা ও কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষমতার কথা তুলে ধরেন।

পাহাড়তলীর আনোয়ারা বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়লেও অর্থাভাবে অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী সেলিম ভূঁইয়া তাঁর আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বাবা ও দিনমজুর বড় ভাইয়ের সীমিত আয়ের কারণে তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে তিনি এককালীন শিক্ষাবৃত্তি সহায়তা চান।

অন্যদিকে অনলাইন গণশুনানিতে কাতার, দুবাই ও ওমানে অবস্থানরত প্রবাসীরা পৈতৃক সম্পত্তি দখল, জাল দলিল তৈরি, পারিবারিক হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়ার দুই বাসিন্দাও জমি দখলের অভিযোগ করেন।

সব অভিযোগ শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

গণশুনানি শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “একটি আবেদনপত্রের পেছনে থাকে একটি পরিবারের কষ্ট, একজন রোগীর চিকিৎসা কিংবা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। সরকারি নীতিমালার আওতায় থেকে প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব।”

তিনি বলেন, “জনগণ শেষ আশ্রয় হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন। তাই প্রতিটি আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে শুনে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হয়।”