বোরকা পরা যাত্রী বেশে ছুরিকাঘাত : চাচা-চাচাতো ভাইয়ের দিকে অভিযোগের তীর
চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলায় ছুরিকা ঘাতের চার দিন পর মৃত্যুবরণ করেন সাইমুন (২০) নামের এক যুবক। ২৭ জুলাই (বুধবার) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন তিনি।
নিহত সাইমুন উপজেলার ১৫ নং ছদাহা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ফজুর পাড়া এলাকার সিরাজুল হকের ছেলে এবং পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক। এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিহত সাইমুনের চাচা ফরমান ও তার ২ সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, গত ২২ জুলাই (শুক্রবার) সাতকানিয়াস্থ কেরানীহাট স্টেশন থেকে যাত্রী বেশে দুজন মানুষ সাইমুনের রিক্সায় উঠে। তারা সাইমুনকে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাহিলিয়ার টেক নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে উপর্যুপরি চুরিকাঘাত করে।
পরবর্তী স্থানীয় লোকেরা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। তৎপরবর্তী উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন আবস্থায় চার দিন পর সাইমুন মৃত্যু বরণ করেন।
স্থানীয় ও নিকটাত্মীয় সুত্রে জানা যায়, সাইমুনের পরিবার ও তার চাচা ফরমানের পরিবারের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ নিয়ে ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার ঝামেলা হয় এবং ফরমানের পরিবারের পক্ষ থেকে সাইমুনের পিতা সিরাজুল হককে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে সাইমুনের মৃত্যুর ঘটনায় চাচা ফরমান ও তার পরিবারকে দায়ী করছেন স্থানীয় ও নিকটাত্মীয়রা।
ছুরিকাঘাতের বিষয়ে গত ২৬ জুলাই (মঙ্গলবার) সাইমুনের পিতা সিরাজুল হক বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় একটি এজহার দায়ের করেন। যেখানে সাইমুনের চাচা ফরমান ও তার ২ সন্তান উমর ফারুক এবং আরমান সহ অজ্ঞাত ৬/৭ জনকে আসামি করা হয়।
এজহারে জমি সংক্রান্ত ঝামেলার কথা উল্লেখ করে সিরাজুল হক বলেন, ইতোপূর্বে তারা আমার উপর হামলা করছিল। আমি কয়েকদিন আহত আবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম।
তাতেও তারা ক্ষান্ত না হয়ে আমার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার হুমকি দিয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে গত ২২ জুলাই তারা আমার বড় ছেলের উপর হামলা করে তার পায়ের রগ, হাতের রগ কেটে দেয় এবং পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আগে ফরমানের কাছে জমি দখল বেশী ছিল। কিন্তু বিচারের মাধ্যমে সিরাজুল হককে তাদের কিছু জমি ছেড়ে দিতে হয়েছিল।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিন ফরমানের ছেলে ফারুক চায়ের দোকানে জনসম্মুখে ও আমার উপস্থিতিতে সাইমুনকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। আমি বকা দিয়ে তাকে ঐ স্থান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
তিনি আরো বলে, ঘটনার আগের দিন তারা সবাই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। ঘটনার একদিন পরে তারা বাড়িতে পুনরায় এসে হাস মুরগী যা ছিল সব বিক্রি করে দিয়ে আবার চলে যায়। অদ্যাবধি তাদের কেউ বাড়িতে আসেনি। এতে বুঝা যায় এ ঘটনাটি পরিকল্পিত একটি হত্যাকান্ড।
তবে এবিষয়ে অভিযুক্তদের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনে কল দিয়ে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমান বলেন, ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গতকাল লোহাগাড়া থানায় একটি এজহার দায়ের হয়েছে এবং মামলা রেকর্ড হয়েছে। আজকে উক্ত ঘটনার ভিকটিম মারা গেছে।
আমরা এ বিষয়ে অবগত হয়েছি। আদালতে আমরা প্রেয়ার দিয়েছি হত্যা মামলার ধারা সংযুক্ত করতে। আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং শীঘ্রই তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন