খুঁজুন
, ,

মিরসরাইয়ে নকশায় সড়ক থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 31 July, 2022, 7:15 pm
মিরসরাইয়ে নকশায় সড়ক থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র

চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়ন, মায়ানী ইউনিয়ন এবং হাইতকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মসজিদিয়া এলাকার রাম মন্ডল সড়কটি সংস্কারের অভাবে প্রায় বিলীন হতে চলেছে। মানুষের চলাচলের জন্য নকশায় সড়কটি উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। সড়কে সংস্কার কিংবা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখনও। মোটরবাইক সতর্কের সহিত চলাচলের পরও পড়ছে দুর্ঘটনায়। মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়ন, মায়ানী ইউনিয়ন এবং হাইতকান্দি ইউনিয়নের হাজারও বাসিন্দদেরকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ সড়ককে ঘিরে রয়েছে স্থানীয় মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয়, কাজিরহাট মাদরাসা, পূর্ব মায়ানী মাদরাসা, কাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াত। তবে সড়কের বেহাল দশায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে প্রতিনিয়ত বিঘœ ঘটছে শিক্ষার্থীদের।

ভয়ংকর হয়ে আছে সড়কটি। যার চার তৃতীয়াংশ খালে বিলীন, যেটুকু আছে তাতে চলাচল করতে পারে না কোন যানবাহন, মানুষ চলাচলেও থাকতে হয় সতর্ক। বড় যানতো চলতে পারেই না, দু’একটা মোটরসাইকেল চলাচলের চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সময় ঘটে থাকে দুর্ঘটনা।

অপরদিকে অনুসন্ধানে মিলেছে আরও ভয়ংকর চিত্র এবং তথ্য, হাজারও বাসিন্দারা জীবন-যাপন করছেন শঙ্কা নিয়ে। মায়েদের ডেলিভারীসহ অন্যান্য প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্সের দরকার হলেও তা ভেস্তে যাবে। কেননা অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করে মাটি উত্তোলনের কারণেই নকশায় উল্লেখিত সড়কটি আজ যান চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

অগ্নিকান্ড, ডেলভারিসহ ইত্যাদি প্রয়োজনে কোনো এ্যাম্বুলেন্স/ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, বিবাহ অনুষ্ঠানের গাড়ি এবং বিদ্যুতের গাড়ি পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগি হয়ে রয়েছে। গত দু’এক বছর আগে কে-বা কারা সড়ক ঘেঁষে খাল থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়, এরপর সড়কের চার তৃতীয়াংশ খালে ধসে পড়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী জনগণকে। এখন দেখতে মনে হয় এখানে কোন সড়কই ছিলো না।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহলের কালো হাতের থাবার শিকার এ সড়কটি। অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করে মাটি উত্তোলনের ফলে সড়কটি আজ প্রায় নদীর গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু এ সড়ক নিয়ে জন প্রতিনিধিদের কোনো মাথাব্যথা নেই বললে চলে!

তবে সড়কের বেহাল দশার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল হাসান জানান, এ সড়ক দিয়ে তিন ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত। সড়কের পাশে যে খাল আছে সেটি কোনো প্রভাবশালী মহল নাহ্ মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ড গভীর খননের কারণে ধসে গেছে। যার কারণে এখন সড়ক দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়েগেছে। এবিষয়ে চেয়ারম্যান অবগত আছেন।

মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাজ হোসেন জানান, রাস্তাটি পড়ে যাওয়ায় সাইকেল নিয়েও যেতে পারি না, তাই প্রতিদিন হেঁটেই স্কুলে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে অনেক সময় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া এলাকার রামমন্ডল সড়কের এমন দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই! বার বার ইউপি চেয়ারম্যানের দরজায় ধর্না ধরেও সুফল পায়নি।

কাজিরহাট মাদরাসার মুহ্তামিম মাওলানা রিদওয়ান জানান, আমার মাদরাসায় প্রায় পাঁচ ‘শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে অধিকাংশের চলাফেরা। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল দশায় অনেক কষ্ট পেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুনু পবিত্র হজ্জের জন্য সুদূর সৌদি আরব থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মিরসরাই উপজেলার এলজিইডি অফিসার রনী সাহা জানান, আমি মিরসরাই নিয়োগের পূর্বেই সড়কটির এ অবস্থা হয়েছে। সড়কটি সম্পর্কে অনেকে জানিয়েছেন। সড়কের পাশে খালটি গভীর ভাবে খননের কারণে মূলত এঅবস্থা হয়েছে। আমি উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সড়কটি কিভাবে সংস্কার করা যায় এ বিষয়ে কথা বলব।

তবে সড়কের পাশের খালটি কে পুনরায় খনন করেছে জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু সেসময় আমি ছিলাম না, তাই সঠিক বলতে পারবো না। তবে সম্ভবত পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটি খনন করেছে। কাগজপত্র দেখলে সঠিক বলতে পারবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান বলেন, এ সড়কটি সম্ভবত আমি আগেও পরিদর্শন করেছিলাম। আমার জানামতে সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ড করেছে, যার ফলে তারা সড়কের কাগজপত্র উপজেলা এলজিইডি অফিসে ট্রান্সফার করেনি। তাই এলজিইডি তাদের অর্থায়নে পুনরায় সংস্কার করতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু স্থানীয় চেয়ারম্যান দেশের বাইরে আছেন ওনি আসলে এই সাপ্তাহে সড়কটা সারেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করবো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব।

জে-আর

Feb2

৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 2:50 pm
৫ ব্যাংকের মুনাফা কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতের ওপর থেকে হেয়ারকাট বা মুনাফা কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন আমানতকারীরা।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে শত শত ভুক্তভোগী এতে অংশ নেন।

আমানতকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে তারা নিজেদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে না পেরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

বিক্ষোভের সময় আমানতকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হেয়ারকাট মানি না, মানব না, এক দফা, এক দাবি, হেয়ারকাট বাতিল করবি, এবং আমানত কি নিরাপদ? আপনার কষ্টের টাকা কার পকেটে? সরকার কেন চুপ? প্রশাসন কেন চুপ? এমন নানা স্লোগান দিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমানতকারীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন, যার একটিতে হেয়ারকাট পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের গত দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়ার এবং তার পরিবর্তে মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একে আমানতকারীরা ‘হেয়ারকাট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এটি চুক্তিভঙ্গ এবং অমানবিক।

সমাবেশ থেকে আমানতকারীরা পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বিতর্কিত হেয়ারকাট নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়া। পাঁচটি ব্যাংকের স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত চালু করা। তারল্য সংকট নিরসনে সরকারকে বিশেষ সহায়তা প্রদান করা। মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ করা এবং একতরফাভাবে ঘোষিত হ্রাসকৃত মুনাফার হার প্রত্যাহার করে পূর্বের চুক্তিভিত্তিক হার বহাল রাখা।

আন্দোলনরত আমানতকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, একীভূতকরণের নামে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর অধীনে এখন পাঁচটি ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসংগত। আমানতকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই হার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় তিন কোটি সদস্য মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

বিক্ষোভ শেষে বেলা ১২টার দিকে আমানতকারীরা একটি মিছিল নিয়ে কোতোয়ালি মোড় হয়ে নিউ মার্কেট মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন।

আমানতকারীদের প্রতিনিধি দলের একজন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক কষ্ট করেছি। যতদিন পর্যন্ত এই হেয়ারকাট বাতিল না হবে, ততদিন আমরা আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বিক্ষোভকারীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছেন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 1:06 pm
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন। সোমবার (২৯ জুন) সকালে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়েস হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রাখেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 29 June, 2026, 12:56 pm
যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে সরকার

দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানির সংকট নিরসনে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেকোনো মূল্যে ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, তিস্তা অববাহিকার অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকা নদীটির পানি প্রবাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে তীব্র নদীভাঙনের ফলে এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতিবছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের এই দীর্ঘদিনের হাহাকার ও দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতেই সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এর আগে, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।