মিরসরাইয়ে নকশায় সড়ক থাকলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র
চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়ন, মায়ানী ইউনিয়ন এবং হাইতকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মসজিদিয়া এলাকার রাম মন্ডল সড়কটি সংস্কারের অভাবে প্রায় বিলীন হতে চলেছে। মানুষের চলাচলের জন্য নকশায় সড়কটি উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। সড়কে সংস্কার কিংবা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখনও। মোটরবাইক সতর্কের সহিত চলাচলের পরও পড়ছে দুর্ঘটনায়। মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়ন, মায়ানী ইউনিয়ন এবং হাইতকান্দি ইউনিয়নের হাজারও বাসিন্দদেরকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এ সড়ককে ঘিরে রয়েছে স্থানীয় মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয়, কাজিরহাট মাদরাসা, পূর্ব মায়ানী মাদরাসা, কাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াত। তবে সড়কের বেহাল দশায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে প্রতিনিয়ত বিঘœ ঘটছে শিক্ষার্থীদের।
ভয়ংকর হয়ে আছে সড়কটি। যার চার তৃতীয়াংশ খালে বিলীন, যেটুকু আছে তাতে চলাচল করতে পারে না কোন যানবাহন, মানুষ চলাচলেও থাকতে হয় সতর্ক। বড় যানতো চলতে পারেই না, দু’একটা মোটরসাইকেল চলাচলের চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সময় ঘটে থাকে দুর্ঘটনা।
অপরদিকে অনুসন্ধানে মিলেছে আরও ভয়ংকর চিত্র এবং তথ্য, হাজারও বাসিন্দারা জীবন-যাপন করছেন শঙ্কা নিয়ে। মায়েদের ডেলিভারীসহ অন্যান্য প্রয়োজনে এ্যাম্বুলেন্সের দরকার হলেও তা ভেস্তে যাবে। কেননা অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করে মাটি উত্তোলনের কারণেই নকশায় উল্লেখিত সড়কটি আজ যান চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
অগ্নিকান্ড, ডেলভারিসহ ইত্যাদি প্রয়োজনে কোনো এ্যাম্বুলেন্স/ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, বিবাহ অনুষ্ঠানের গাড়ি এবং বিদ্যুতের গাড়ি পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগি হয়ে রয়েছে। গত দু’এক বছর আগে কে-বা কারা সড়ক ঘেঁষে খাল থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়, এরপর সড়কের চার তৃতীয়াংশ খালে ধসে পড়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী জনগণকে। এখন দেখতে মনে হয় এখানে কোন সড়কই ছিলো না।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহলের কালো হাতের থাবার শিকার এ সড়কটি। অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করে মাটি উত্তোলনের ফলে সড়কটি আজ প্রায় নদীর গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু এ সড়ক নিয়ে জন প্রতিনিধিদের কোনো মাথাব্যথা নেই বললে চলে!
তবে সড়কের বেহাল দশার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল হাসান জানান, এ সড়ক দিয়ে তিন ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত। সড়কের পাশে যে খাল আছে সেটি কোনো প্রভাবশালী মহল নাহ্ মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ড গভীর খননের কারণে ধসে গেছে। যার কারণে এখন সড়ক দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়েগেছে। এবিষয়ে চেয়ারম্যান অবগত আছেন।
মাজেদা হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাজ হোসেন জানান, রাস্তাটি পড়ে যাওয়ায় সাইকেল নিয়েও যেতে পারি না, তাই প্রতিদিন হেঁটেই স্কুলে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে অনেক সময় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া এলাকার রামমন্ডল সড়কের এমন দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ নেই! বার বার ইউপি চেয়ারম্যানের দরজায় ধর্না ধরেও সুফল পায়নি।
কাজিরহাট মাদরাসার মুহ্তামিম মাওলানা রিদওয়ান জানান, আমার মাদরাসায় প্রায় পাঁচ ‘শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এ সড়ক দিয়ে অধিকাংশের চলাফেরা। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল দশায় অনেক কষ্ট পেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুনু পবিত্র হজ্জের জন্য সুদূর সৌদি আরব থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মিরসরাই উপজেলার এলজিইডি অফিসার রনী সাহা জানান, আমি মিরসরাই নিয়োগের পূর্বেই সড়কটির এ অবস্থা হয়েছে। সড়কটি সম্পর্কে অনেকে জানিয়েছেন। সড়কের পাশে খালটি গভীর ভাবে খননের কারণে মূলত এঅবস্থা হয়েছে। আমি উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে সড়কটি কিভাবে সংস্কার করা যায় এ বিষয়ে কথা বলব।
তবে সড়কের পাশের খালটি কে পুনরায় খনন করেছে জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু সেসময় আমি ছিলাম না, তাই সঠিক বলতে পারবো না। তবে সম্ভবত পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটি খনন করেছে। কাগজপত্র দেখলে সঠিক বলতে পারবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিনহাজুর রহমান বলেন, এ সড়কটি সম্ভবত আমি আগেও পরিদর্শন করেছিলাম। আমার জানামতে সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ড করেছে, যার ফলে তারা সড়কের কাগজপত্র উপজেলা এলজিইডি অফিসে ট্রান্সফার করেনি। তাই এলজিইডি তাদের অর্থায়নে পুনরায় সংস্কার করতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু স্থানীয় চেয়ারম্যান দেশের বাইরে আছেন ওনি আসলে এই সাপ্তাহে সড়কটা সারেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করবো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিব।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন