স্বাগতিক হয়েই প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা
১৯৭৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক হয়েই প্রথম ট্রফির স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে রাজনৈতিকভাবে অবৈধ হস্তক্ষেপের নানা অভিযোগ ওঠে লাতিন আমেরিকার ফুটবল পাওয়ার হাউজ দেশটির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় ম্যারাডোনার মতো ফুটবলারকে দলে না রাখায় সমালোচিত হন কোচ সিজার লুইস।
১৯৩০ সালের বিশ্বকাপ থেকেই আয়োজক হওয়ার অন্যতম দাবিদার ছিল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচন না করায় ১৯৩৮ সালের তৃতীয় আসরে অংশগ্রহণই করেনি তারা। অবশেষে ৪৮ বছর পর, ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপের ১১তম আসরে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আয়োজকের দায়িত্ব পায় আর্জেন্টিনা। স্বাগতিক হয়েই প্রথম শিরোপার স্বাদ পেয়েছিল লাতিন আমেরিকার ফুটবল পাওয়ার হাউস দেশটি।
তবে আর্জেন্টিনার প্রথম ট্রফি জয়ের গায়ে লেগে রইলো কয়েকটি কলঙ্কের দাগ। কিডন্যাপের হুমকির কারণে বিশ্বকাপ খেলতে যাননি নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুইফ। এই বিশ্বকাপেই রাজনৈতিকভাবে অবৈধ হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার কারণে অনেক অবৈধ সুবিধা নিয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।
১৯৭৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই বিতর্কের জন্ম দেয় আর্জেন্টিনা। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রতিটি ম্যাচের সূচি ঠিক করে তারা। এর সুবিধা নিয়ে প্রথম পর্ব পার হয় কেম্পেসের দল। এ কারণে পরের বিশ্বকাপ থেকেই এ নিয়ম পরিবর্তন করে দেয় ফিফা ।
এই বিশ্বকাপে আরও একটি অভিযোগের পালে বেশ বাতাস লেগেছিল। পেরুর গোলরক্ষক রোমান কুইরোগার জন্ম আর্জেন্টিনায়। বিষয়টি নিয়ে পেরু ফুটবল কর্তৃপক্ষকে আর্জেন্টাইনরা ৫০ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পরে অবশ্য এ অভিযোগ ধোপে টেকেনি।
১৯৭৮ বিশ্বকাপেই প্রথম টাইব্রেকার চালু করা হয়। তবে এ নিয়মের প্রয়োগ ঘটে ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে, সেমিফাইনালে ফ্রান্স-পশ্চিম জার্মানি ম্যাচে।
বিশ্বব্যাপী সেবারই প্রথম রঙিন টিভিতে খেলা দেখানো শুরু হয়। উরুগুয়ে-ফ্রান্স ম্যাচে ফ্রান্সের জার্সি সাদা কালো হওয়ায় টিভি সম্প্রচারে অসুবিধা হয়। এ কারণে ফ্রান্স খেলে অ্যাটলেটিকো কিম্বারলির ক্লাব মার ডেল প্লাটার সবুজের ওপর সাদা স্ট্রিপ দেয়া জার্সি পরে। বিশ্বকাপে নিজ দেশের জার্সি না পরে খেলার এটাই একমাত্র ঘটনা।
এই বিশ্বকাপে ১৭ বছরের দিয়েগো ম্যারাডোনাকে দলে না রাখায় বেশ সমালোাচিত হন কোচ সিজার লুইসও। কোচের যুক্তি ছিল, আন্তর্জাতিক ম্যাচ সামলে নেয়ার মতো বয়স হয়নি ম্যারাডোনার।
এন-কে


আপনার মতামত লিখুন