লোহাগাড়ার পদুয়া উচ্চবিদ্যালয়ে কমিটি গঠনে গড়িমসি
চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এ.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যথাযথ পরিচালনা কমিটির নিয়ম থাকলেও অদৃশ্যভাবে এডহক কমিটি করে পরিচালনা করা হচ্ছে। তাতে ক্ষোভ বিরাজ করছে অভিভাবকদের মাঝে। নানা প্রতিক্রিয়া সচেতন মহলে। তারা মনে করে স্বেচ্ছাচারিতা, বিভিন্ন অনিয়ম নিসরণ করা না হলে নানান জটে এ ঐহিত্যবাহি বিদ্যালয়ের সুনামে ধস নামতে পারে। তাই সংশ্লিষ্টদের নজরদারি জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অবসর গ্রহণ করেন। এরপর বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। করোনা দুর্যোগকালীন বিদ্যালয়ের নিয়মিত পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২০ সালের ৭ আগস্ট প্রথমবার এডহক কমিটি গঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে ২০২১ সালের ৭ ফেব্রæয়ারি দ্বিতীয়বার, একই সনের ৭ সেপ্টেম্বর তৃতীয়বার ও ২০২২ সালের ১৬ মার্চ চতুর্থবার এডহক কমিটি গঠন করা হয়।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সকল বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। কিন্তু যথেষ্ট সময় থাকার পরও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভোটার তালিকা প্রণয়নে গড়িমসি ও নির্দিষ্ট সময়ে তফসিল ঘোষণা না করে প্রায় পনের (১৫) দিন আগে তফসিল ঘোষণা করেন। কিন্তু এটা বিধি সম্মত না হওয়ায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড তা বাতিল করে দেন। এরপর পুনরায় চতুর্থবার এডহক কমিটি গঠন করেন।
বর্তমান এডহক কমিটির মেয়াদ চলতি সনের ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হবে বলে গড়িমসি করে পুনরায় এডহক কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি না থাকায় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যহত হচ্ছে বলে অভিভাবক ও সচেতন মহল এমন দাবী করেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ২ হাজার ২’শ শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে।
এ বিষয়ে গত ২৩ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম এর চেয়ারম্যান বরাবর সহ বিভিন্ন দপ্তরে স্থানীয় নুরুল আমিনসহ ১০ জন অভিভাবক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ করা হয় এবং সদয় অবগতির জন্য লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুসলেহ উদ্দীন জানান, আমার যতটুকু সীমাবদ্ধতা আছে তার ভিতর আমি উপজেলা সংশ্লিষ্ট দপ্তর বরাবওে চিঠি দিয়েছি। এর বাইরে কিছু আমার করার নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, পদুয়া এ.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটি গঠনের বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। যথাযথ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন