খুঁজুন
রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ আগস্ট, ২০২২, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
আফগানিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

এশিয়া কাপের ১৫তম আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মঙ্গলবার নামছে বাংলাদেশ। আফগানদের বিপক্ষে জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করতে চায় টাইগাররা।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। ম্যাচটি সরসারি দেখাবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) টি-স্পোটর্স ও নাগরিক টেলিভিশন।

এ ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিজের তৃতীয় মেয়াদ শুরু করবেন সাকিব। আর বাংলাদেশের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হিসেবে শততম ম্যাচ খেলতে নামবেন সাকিব। তার আগে দেশের হয়ে শততম ম্যাচ খেলেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম।

নিজের মাইলফলক স্পর্শ করার ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করবেন সাকিব। অধিনায়ক হিসেবে অনুপ্রাণিত হবার মত যথেষ্ট পরিসংখ্যান রয়েছে সাকিবের। ইতিমধ্যেই টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর মালিক তিনি। তার ঝুলিতে আছে ১২১টি উইকেট। আর ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাকিব। তার রান ২০১০।

দেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান আছে সাবেক অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। ২০৭০ রান তার। মাহমুদুল্লাহকে টপকাতে ৬১ রান দরকার সাকিবের।

ইতোমধ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করেছে আফগানিস্তান। জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বড় বিষয় ছিল শ্রীলংকার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করেছে খেলেছে আফগানিস্তান। লংকানদের বিপক্ষে আফগানদের এমন জয় বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা।

তবে, আফগানিস্তানের এমন জয়ে মোটেও বিচলিত নয় বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বে পারফর্ম করে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে বদ্ধপরিকর টাইগাররা।

আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল চিত্র ফুটে উঠেছে অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজের মুখে, “কে ভালো দল তা মাঠেই প্রমাণিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সব বিভাগে সবাই যখন ভালো খেলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা ম্যাচ জিতি। নিজেকে প্রমাণের জন্য দলের সবাই ভালো অবস্থায় আছে। তাই আমরা ভালো ফলের ব্যাপারে আশাবাদী।”

বাংলাদেশের অনুশীলন ম্যাচ এবং প্রশিক্ষনে প্রমাণ মিলেছে, অতীতের চেয়ে বেশি ছক্কা মারার উপর বেশি মনোযোগ দিয়েছে তারা। এমনকি বড় ছক্কা মারতে সক্ষম এমনটাও জানিয়েছেন দলের ব্যাটাররা। আক্রমণাত্মক ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে না পারাই এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের হারের প্রধান কারণ বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

মিরাজ বলেন, “প্রথম ম্যাচ সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জয় দিয়ে শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী। আমাদের প্রতিপক্ষ কে, সেটা নিয়ে না ভেবে আমরা শুধুমাত্র আমাদের খেলায় মনোযোগ দিচ্ছি।”

অন্যদিকে আফগান ব্যাটারদের কাছে ছক্কা হাঁকানো মোটেই সমস্যা নয়। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী শ্রীলংকার বিপক্ষে আফগান ব্যাটারদের ছক্কা মারার দক্ষতা আরও বেশি ফুটে উঠেছে। যে কারণে সহজেই ম্যাচ জিতে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের রেকর্ডও বেশ ভালো। নয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছে আফগানিস্তান, তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।

এ বছর বাংলাদেশের মাটিতে দুটি ম্যাচ খেলেছে দু’দল। দু’দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে। বাংলাদেশ যে কয়টি জিতেছে সেটি ছিলো ধীরগতির উইকেটে। তাই শারজাহ উইকেট যদি ধীরগতির হয়, তবে আফগান বিগ হিটারদের চেয়ে সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। আর এটিই আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে।

টুর্নামেন্টের আগে ইনজুরির কারণে লিটন দাস-হাসান মাহমুদ এবং নুরুল হাসান সোহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু খেলোয়াড়কে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে লিটনকে হারানোয় বাংলাদেশের ওপেনিং স্লটে গুরুতর শূন্যতা তৈরি করেছে।
ইতোমধ্যেই টিম ম্যানেজমেন্ট ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে ওপেনার হিসেবে এনামুল হক বিজয় এবং নাইম শেখকে খেলাবে। যদিও দু’জনকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য দুর্দান্ত ব্যাটার হিসেবে বলা হয় না। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট স্পষ্ট করেছে, কীভাবে খেলতে হবে সে ব্যাপারে দু’জনকে নির্দিষ্ট ভূমিকা দেয়া হয়েছে।

তবে এশিয়া কাপ সাকিবের অধিনায়কত্বে ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ। আর এই ফরম্যাটে নতুনভাবে টি-টোয়েন্টি যুগের সূচনা করতে আগ্রহী সাকিব।

বাংলাদেশ দল
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক) আনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, শেখ মাহেদি, মোহাম্মদ সাইফুউদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ, সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, এবাদত হোসেন, পারভেজ ইমন, নাঈম শেখ এবং তাসকিন আহমেদ।

আফগানিস্তান দল
মোহাম্মদ নবি (অধিনায়ক), নাজিবুল্লাহ জাদরান, আফসার জাজাই, আসমতউল্লাহ ওমরজাই, ফরিদ আহমদ, রহমানুল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), ফজলহক ফারুকী, হাসমতউল্লাহ শাহিদি, হযরতউল্লাহ জাজাই, ইবরাহিম জাদরান, করিম জানাত, মুজিব উর রহমান, নাভিন উল হক, নূর আহমদ, রশিদ খান ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি।

এন-কে

Feb2

দাপট দেখাল তুরস্ক, জিতল অস্ট্রেলিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
দাপট দেখাল তুরস্ক, জিতল অস্ট্রেলিয়া

বল দখল থেকে আক্রমণ– সবদিক থেকেই অনেকটা একপেশে দাপট ছিল ২৪ বছর পর ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে ফেরা তুরস্কের। কিন্তু ফিনিশিং ব্যর্থতায় তাদের গোলটাই পাওয়া হয়নি। অন্যদিকে, কাউন্টার অ্যাটাকে ক্যারিশমা দেখিয়ে ২-০ গোলে ম্যাচটি জিতে নিলো অস্ট্রেলিয়া।

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ৭২ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তুরস্কের। আর গোলের লক্ষ্যে নেয় ৮টি শট। বিপরীতে স্রেফ ২ শট নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান সকারুজরা কেমন চাপে ছিল তা বোঝাই যায়। কিন্তু ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফের গোলে সেসব পরিসংখ্যানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

অবশ্য তুরস্কের আক্রমণ ঠেকানোর মূল ভূমিকায় ছিলেন ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানো অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। তিনি আটটি সেভ করেন। এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার টানা ষষ্ঠ এবং সব মিলিয়ে সপ্তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। বিপরীতে, ২০০২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর তুরস্ক টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। এবার প্লে-অফে কসোভোকে হারিয়ে তারা ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ২৭তম মিনিটে গোলের সূচনা করেন ইরানকুন্ডা। তিনজন ডিফেন্ডারের চাপের মাঝেও নিচু শটে তিনি বল জালে পাঠান। গোল উদযাপনের সময় ইরানকুন্ডা কর্নার ফ্ল্যাগে ঘুষি মেরে অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল কিংবদন্তি টিম কাহিলকে শ্রদ্ধা জানান। ২০ বছর বয়সী এই ওয়াটফোর্ড ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে গোল করা অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়।

কয়েক মিনিট পর তুরস্কের আবদুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন বিচ। কোচ টনি পপোভিচের চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে অভিজ্ঞ ম্যাথিউ রায়ানের পরিবর্তে বিচ অস্ট্রেলিয়ার গোলপোস্টের দায়িত্ব পান। তুরস্কের ২১ বছর বয়সী জুভেন্তাস খেলোয়াড় কেনান ইলদিজ শুরুর একাদশে ছিলেন না। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামানো হয় তাকে।

ম্যাচের ৫৭তম মিনিটে তুরস্ক একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক পায়। রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিভাবান ২১ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আরদা গুলারের নেওয়া সেই শটও রুখে দেন বিচ। মজার বিষয়, তুরস্ক সর্বশেষ যখন বিশ্বকাপে খেলেছিল, তখন গুলারের জন্মই হয়নি। এদিকে, ৭৫তম মিনিটে ইসমাইল ইউকসেকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফ।

কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে এরপর গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া ও ডেনমার্ককে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল তারা। সেখানে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া।

আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বসতঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে আনোয়ারার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি গ্রামে এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুসন্তান। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন– ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিশুসন্তান পিয়াস বড়ুয়াকে (৫) উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারে সুদের টাকাসহ অভ্যন্তরীণ ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরেই গতকাল রাত ১১টার দিকে বসতঘরে ঢুকে মা, মেয়ে ও শিশুর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া (৩৫)। তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।

চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। এর মধ্যে এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়ার সঙ্গে আমাদের আর্থিক লেনদেন ছিল। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রের খোঁজে বাড়িতে এসে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সময় আমি শহরে ছিলাম। রাতে বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোন পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ হয়ে গেছে।’

আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন।

রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। ২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের পর থেকে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনে তাগিদ দিয়ে আসছে। যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ভূমিকা রাখছেন তাদেরসহ সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উত্সাহিত করাই বিশ্ব রক্তদান দিবসের উদ্দেশ্য।

১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোনো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তি, যার শরীরের ওজন ৪৫ কেজির ওপরে, তারা চার মাস পরপর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে রক্ত দিতে হলে কিছু রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের জন্য রক্তদাতার শরীরে কমপক্ষে পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের অনুপস্থিতি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। এ রোগগুলো হলো হেপাটাইটিস ‘বি’, হেপাটাইটিস ‘সি’, এইচআইভি বা এইডসের ভাইরাস, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস। রোগের স্ক্রিনিং করার পর এসব রোগ থেকে মুক্ত থাকলেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে দেওয়া যাবে। অবশ্য একই সঙ্গে রোগীর এবং রক্তদাতার রক্তের গ্রুপিং ও ক্রসম্যাচিং করাটাও জরুরি। এছাড়া রক্তদাতা শারীরিকভাবে রক্তদানে উপযুক্ত কি না, তা জানার জন্য তার শরীরের ওজন, তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ, রক্তস্বল্পতার উপস্থিতি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হয়।

রক্ত মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরে পূর্ণমাত্রায় রক্ত থাকলে মানবদেহ থাকবে সজীব ও সক্রিয়। আর রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দিলেই শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে, প্রাণশক্তিতে ভাটা পড়ে। বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, রক্তদানে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি মারাত্মক রোগের আশঙ্কা হ্রাস পায়। নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা থেকে নতুন কণিকা তৈরি হয়, ফলে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে। এতে যে কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ রক্তক্ষরণ হলেও শরীর খুব সহজেই তা পূরণ করতে পারে। রক্তদানের সময় রক্তে নানা জীবাণুর উপস্থিতি আছে কি না তার জন্য পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। ফলে রক্তদাতা জানতে পারেন, তিনি কোনো সংক্রামক রোগে ভুগছেন কি না। অনেক সময় রক্তদাতার শরীরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। যাদের রক্তে আয়রন জমার প্রবণতা আছে, রক্তদান তাদের জন্য ভালো।