সাতকানিয়ায় ফেসবুকে পোস্টের কারণে চেয়ারম্যানের হুমকি
চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে হুমকির অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৪নং কাঞ্চনা ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলীর বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত ২৯ সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপস ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপস এ শুনা যায়, চেয়ারম্যান রমজান আলী এক যুবককে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হাত কেটে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। ওই যুবকের নাম মো. আলমগীর হোসেন। সে কাঞ্চনা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জাফর চৌধুরী বাড়ির মৃত কবির আহমদের ছেলে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে আলমগীরের বাবা মা মারা গেলেও মৃত্যু সনদ নেওয়া হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি ভোটার হতে পিতা মাতার মৃত্যু সনদ দরকার হলে ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন আলমগীর।
১ মাসেও কাগজ হাতে না পাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তানভীর নামে চেয়ারম্যানের এক সহকারী তার কাছ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় নেই। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যোগাযোগ করলে উল্টো বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেছে বলে জানায় আলমগীর।
পরবর্তী ২০ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে আলমগীর। পোস্টে সে লিখে, ‘সাতকানিয়ার কাঞ্চনায় ভোটার হতে হয়রানির শিকার হচ্ছি, যা অসহ্যকর। মানুষকে কষ্ট দিয়ে তারা কি মজা পায় আল্লাহ জানে।’ পরদিন ২১ আগস্ট রাতে মোবাইলে ফোন দিয়ে আলমগীরকে হুমকি দেয় চেয়ারম্যান রমজান আলী। হুমকি পাওয়ার পর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ৩১ আগস্ট আদালতে সাধারণ ডায়েরি করে আলমগীর।
হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে আলমগীর বলেন, টাকা পয়সা দেওয়ার পরেও যথাসময়ে কাগজপত্র পাইনি। কয়েকবার যোগাযোগের পরেও কোন সমাধান না পেয়ে হয়রানির শিকার হয়ে একটা ফেসবুকে পোস্ট করি। এ পোস্টকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে হুমকি দিয়েছে। বলছে হাত কেটে ফেলবে।
আলমগীর আরো বলেন, ২০১৩ সালে চেয়ারম্যান তার বাহিনী দিয়ে আমাকে একবার মেরেছিল। তাই এখন আমি ভয়ে আছি। যেকোন সময় আমি হামলার শিকার হতে পারি। এইবার তিনি আমায় সরাসরি ফোন দিয়ে হুমকি দিয়েছে। আমারতো মনে হচ্ছে আমায় মেরে ফেলবে। আমি প্রশাসনের নিকটা নিরাপত্তা চাচ্ছি।
তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান রমজান আলী বলেন, সে পরিষদ এবং দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট শেয়ার করেছে। এজন্য তাকে বকা দিয়েছি, হুমকি নয়। আর সে বিভিন্ন মামলার আসামী। তাই সে ইউনিয়ন পরিষদে আসেনা। আমরাতো মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে বসে আছি। তার কাগজপত্র সঠিক থাকলে আমরাতো তাকে সেবা দিতে বাধ্য।
এক প্রশ্নের জবাবে রমজান আলী বলেন, সে আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা করুক অসুবিধা নেই। কিন্তু দলের বিরুদ্ধে নেত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বললে সেটা মেনে নেওয়া যায়না। তাছাড়া আমি তার সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতা বা তাকে আক্রমণ করার প্রশ্নই আসেনা। সে বয়সে আমার ছোট ছেলের ছোট। সে বেয়াদবি করছে তাই তাকে বকা দিয়েছি। নাগরিক হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেবা পাওয়া তার অধিকার। তবে সঠিক কাগজপত্র দাখিল পূর্বক আমরা তাকে সেবা দিব।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু তালেব মন্ডল বলেন, কোন জনপ্রতিনিধি কাউকে হয়রানি করলে বা কাগজপত্র না দিলে সেটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ দপ্তর দেখবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোন ভূমিকা নেই। যথাযথ কাগজপত্র দাখিল করলে নির্বাচন কমিশন যাচাই বাছাই পূর্বক তাকে কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে কোন ধরণের হয়রানি কাম্য নয়। কাঞ্চনার চেয়ারম্যান অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তিনি উপযুক্ত প্রমাণ দিলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জে-আর


আপনার মতামত লিখুন