খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংকটে কৃষক অনাবৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে আমনের ফলন বিপর্যয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
সংকটে কৃষক অনাবৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে আমনের ফলন বিপর্যয়

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির অভাবে চট্টগ্রামে আমনের ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মরে যাচ্ছে আমন ধানের চারা। আগের মৌসুমের তুলনায় ১ হাজার ৬’শ ৫৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষ কম হয়েছে। ইতোমধ্যেই গত মৌসুমের তুলনায় এ বছর মাত্র ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। কৃত্তিম উপায়ে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকের খরচ বেড়েছে তিনগুন। এ ছাড়া কমেছে আমন চাষের পরিমাণও। এতে করে চট্টগ্রাম বিভাবে খাদ্য সংকটে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

অনাবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কৃষকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। ধান চাষে এবার বর্ষায় অনাবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরির সময় থেকেই নানা সংকটে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। একইসঙ্গে ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সংকটকে ঘনীভূত করেছে। এর বাইরে রয়েছে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি।

এসব কারণে চলতি মৌসুমে আমন আবাদের পাশাপাশি উৎপাদনও কমে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। খরচ বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ। একইসঙ্গে কমেছে আমনের আবাদ।

ফটিকছড়ির চাষী সোলাইমান আকাশ জানান, প্রাকৃতিক সমস্যার কারণে এ বছর জমি থেকে ফসল তোলা প্রায় অনিশ্চিত। পাওয়ার টিলার বাবদ প্রতি কানিতে আড়াই হাজার টাকা, আগামসহ আনুসাংগিক ব্যয় প্রতি ৪০ শতকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আওতাধীন পাঁচ জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, ল²ীপুর ও নোয়াখালী জেলায় গত মৌসুমে আমন আবাদ হয়েছিল মোট পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৮’শ ২০ হেক্টর জমিতে ।

এরমধ্যে লাখ ৮৮ হাজার ২’শ ২৯ উফশী জাতের, স্থানীয় ৭৩ হাজার এবং ১১ হাজার ৫’শ ১৬ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের আমন ধান আবাদ করা হয়েছিল। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় তিন জাতের আমনের আবাদ হয়েছিল এক লাখ ৮২ হাজার ৬’শ ৭১ হেক্টর।

তার আগের বছর এ জেলায় আমন আবাদ হয়েছিল এক লাখ ৮৫ হাজার ৩’শ ১৯ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে শুধু চট্টগ্রাম জেলায় আমনের আবাদ কমেছিল ২ হাজার ৬’শ ৪৮ হেক্টর জমিতে।

চট্টগ্রাম জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামে জোয়ারের চাপ থাকায় আমন আবাদে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। বর্তমানে আমন চারা রোপণের শেষ সময় চলছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে গেল ৩১ আগস্টের মধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ করার কথা। শুধু রোপণ নয়, ধানের চারা বেড়ে ওঠার সময় চলতি সেপ্টেম্বর নাগাদও জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকতে হবে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় পর্যাপ্ত পানি নেই জমিতে।

আমনের বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময় জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে এবার কাক্সিক্ষত বৃষ্টির দেখা মিলেনি। সেচ পাম্প দিয়ে বীজতলা তৈরির কাজে এখন বড় বাঁধা লোডশেডিং। বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষি-শ্রমিকরাও বাড়তি মজুরি দাবি করে।

দেশের ‘শস্যভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিল, বোয়ালখালীর বগাচরা ও মইঘ্যার বিলে আমন আবাদ কম হয়েছে। এরমধ্যে বগাচরার ৩’শ একর জমির মধ্যে আমনের চাষ হয়েছে মাত্র ৫০ একর জমিতে।

একইভাবে মইঘ্যার বিলে ১’শ একর জমির মধ্যে ৫০ একর জমিতে চাষ হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে দৈনিক আট-নয়শ’ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক মিলছে না।

জে-আর

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।