খুঁজুন
শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংকটে কৃষক অনাবৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে আমনের ফলন বিপর্যয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
সংকটে কৃষক অনাবৃষ্টির ফলে চট্টগ্রাম বিভাগে আমনের ফলন বিপর্যয়

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির অভাবে চট্টগ্রামে আমনের ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মরে যাচ্ছে আমন ধানের চারা। আগের মৌসুমের তুলনায় ১ হাজার ৬’শ ৫৩ হেক্টর জমিতে আমন চাষ কম হয়েছে। ইতোমধ্যেই গত মৌসুমের তুলনায় এ বছর মাত্র ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। কৃত্তিম উপায়ে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকের খরচ বেড়েছে তিনগুন। এ ছাড়া কমেছে আমন চাষের পরিমাণও। এতে করে চট্টগ্রাম বিভাবে খাদ্য সংকটে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

অনাবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কৃষকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। ধান চাষে এবার বর্ষায় অনাবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরির সময় থেকেই নানা সংকটে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। একইসঙ্গে ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা সংকটকে ঘনীভূত করেছে। এর বাইরে রয়েছে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি।

এসব কারণে চলতি মৌসুমে আমন আবাদের পাশাপাশি উৎপাদনও কমে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। খরচ বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ। একইসঙ্গে কমেছে আমনের আবাদ।

ফটিকছড়ির চাষী সোলাইমান আকাশ জানান, প্রাকৃতিক সমস্যার কারণে এ বছর জমি থেকে ফসল তোলা প্রায় অনিশ্চিত। পাওয়ার টিলার বাবদ প্রতি কানিতে আড়াই হাজার টাকা, আগামসহ আনুসাংগিক ব্যয় প্রতি ৪০ শতকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আওতাধীন পাঁচ জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, ল²ীপুর ও নোয়াখালী জেলায় গত মৌসুমে আমন আবাদ হয়েছিল মোট পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৮’শ ২০ হেক্টর জমিতে ।

এরমধ্যে লাখ ৮৮ হাজার ২’শ ২৯ উফশী জাতের, স্থানীয় ৭৩ হাজার এবং ১১ হাজার ৫’শ ১৬ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের আমন ধান আবাদ করা হয়েছিল। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় তিন জাতের আমনের আবাদ হয়েছিল এক লাখ ৮২ হাজার ৬’শ ৭১ হেক্টর।

তার আগের বছর এ জেলায় আমন আবাদ হয়েছিল এক লাখ ৮৫ হাজার ৩’শ ১৯ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে শুধু চট্টগ্রাম জেলায় আমনের আবাদ কমেছিল ২ হাজার ৬’শ ৪৮ হেক্টর জমিতে।

চট্টগ্রাম জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই ৭৫ শতাংশ জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামে জোয়ারের চাপ থাকায় আমন আবাদে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। বর্তমানে আমন চারা রোপণের শেষ সময় চলছে।

কৃষি বিভাগের হিসাবে গেল ৩১ আগস্টের মধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ করার কথা। শুধু রোপণ নয়, ধানের চারা বেড়ে ওঠার সময় চলতি সেপ্টেম্বর নাগাদও জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকতে হবে। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় পর্যাপ্ত পানি নেই জমিতে।

আমনের বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময় জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে এবার কাক্সিক্ষত বৃষ্টির দেখা মিলেনি। সেচ পাম্প দিয়ে বীজতলা তৈরির কাজে এখন বড় বাঁধা লোডশেডিং। বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষি-শ্রমিকরাও বাড়তি মজুরি দাবি করে।

দেশের ‘শস্যভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিল, বোয়ালখালীর বগাচরা ও মইঘ্যার বিলে আমন আবাদ কম হয়েছে। এরমধ্যে বগাচরার ৩’শ একর জমির মধ্যে আমনের চাষ হয়েছে মাত্র ৫০ একর জমিতে।

একইভাবে মইঘ্যার বিলে ১’শ একর জমির মধ্যে ৫০ একর জমিতে চাষ হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে দৈনিক আট-নয়শ’ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক মিলছে না।

জে-আর

Feb2

হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
হাইতিকে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল

মরক্কোর বিপক্ষে কষ্টার্জিত ড্রয়ের পর তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছিল ব্রাজিল। আজ ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির বিপক্ষে সেই সমালোচকদের মুখ যেন বন্ধ করে দিলো সেলেসাওরা। ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি সুযোগ নষ্ট এবং অফসাইডে গোল বাতিলের কারণে ব্যবধান বাড়েনি। হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেল তারা।

দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে সবার উপরে ব্রাজিল। স্কটল্যাান্ডকে আগের ম্যাচে ১-০ গোলে হারানোর পর মরক্কো (+১) শীর্ষে উঠলেও ব্রাজিলের জয়ে নেমে গেছে দুই নম্বরে। হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা স্কটিশরা ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, শেষ ম্যাচে তারা খেলবে আনচেলত্তির দলের বিপক্ষে।

রেফারির ম্যাচের শেষ বাঁশি। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের ব্রাজিল সমর্থকদের উল্লাস। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম জয়। এতে স্বস্তি মিললেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হিসাব নিকাশে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সুযোগ নেই।

ব্রাজিল প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আরও কয়েকটি গোলের প্রত্যাশা ছিল ব্রাজিল সমর্থকদের। এই অর্ধে ব্রাজিলের একটি গোল বাতিল হলেও হাইতি যথেষ্ট দাপট দেখিয়েছে। ব্রাজিলের গোলরক্ষক কমপক্ষে ২-৩ টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। একটি গোললাইন সেভও হয়েছে।

হাইতি ব্রাজিলের তুলনায় সব সূচকে পিছিয়ে। এরপরও হাইতির খেলা আজ প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের ডিফেন্স একাধিকবার ভাঙন ধরাতে পেরেছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলটি। যা ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তির জন্য অত্যন্ত ভাবনার। টানা দুই ম্যাচ হেরে হাইতি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের পথে এরপরও ব্রাজিলের বিপক্ষে খানিকটা লড়াকু পারফরম্যান্স হাইতির বড় প্রাপ্তি।

ব্রাজিল হাইতির জালে পাঁচ বার বল পাঠালেও বৈধ গোলের সংখ্যা তিনটি। দুই অর্ধে একটি করে গোল বাতিল হয় ব্রাজিলের। আরেকটি আক্রমণ পোস্টে লেগে ফেরত আসে। ২৩ মিনিটে ব্রাজিলের হয়ে গোলের সুচনা করেন কুনহা। গুইমারেসের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। ফিরতি বলে কুনহা গোল করেন। ১৩ মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কুনহার উদ্দেশ্যে বাড়ান নিখুঁত এক পাস। গোল করতে ভুল হয়নি।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে গোলদাতা ভিনিসিয়ুস নিজেই। পাকেতা হাইতি রক্ষণভাগের মাথার ওপর দিয়ে তার উদ্দেশ্যে বল বাড়ান। দ্রুতগতিতে বক্সে প্রবেশ করে প্লেসিংয়ে গোল করেন।

বিশ্বকাপের ‘দ্রুততম’ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারালো মরক্কো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৭:১২ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপের ‘দ্রুততম’ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারালো মরক্কো

ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল মরক্কো। তবে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১–০ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। মাত্র ৭১ সেকেন্ডেই করা ইসমায়েল সাইবারির গোলই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আফ্রিকার দেশটি।

ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে যায় মরক্কো। ম্যাচের ৭১ সেকেন্ডের মাথায় ডান দিক থেকে বাড়ানো বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জালে জড়ান ইসমায়েল সাইবারি। যা এই টুর্নামেন্টের দ্রুততম গোল।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে দ্রুততম গোল করেছিল চেক প্রজাতন্ত্রের সাদিলেক। ম্যাচের ৬ মিনিটে গোল করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, সাইবারি এটি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় গোল। ব্রাজিলের বিপক্ষে গোলের দেখা পেয়েছিলেন এই স্ট্রাইকার।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে স্কটল্যান্ড। বিশেষ করে শেষ দিকে আক্রমণের চাপ বাড়ায় দলটি। এক পর্যায়ে দুটি পেনাল্টির আবেদনও জানায় স্কটিশরা, কিন্তু কোনোটিই আমলে নেননি রেফারি।

শেষ পর্যন্ত সমতায় ফেরার মতো গোল আর পায়নি স্কটল্যান্ড। ফলে মূল্যবান তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’তে স্কটল্যান্ডকে টপকে ওপরে উঠে গেলো মরক্কো।

টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬:৫২ পূর্বাহ্ণ
টানা দুই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠল যুক্তরাষ্ট্র

ইনজুরিতে আক্রান্ত তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচকে ছাড়াই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশটি নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই জিতেছে। আজ (শনিবার) অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে মার্কিনীরা পা রেখেছে রাউন্ড অব থার্টি টু–তে।।

এর আগে ১৯৯৪ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেবার তারা গ্রুপপর্বে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠে। তবে ওই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকে। এবারই প্রথম আসরের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে যুক্তরাষ্ট্র নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল।

ম্যাচের মাত্র ১১ মিনিটেই অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্গেসের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। বাঁ দিক দিয়ে দারুণ এক দৌড়ে আক্রমণে ওঠেন ফোলারিন বালোগুন। গত ম্যাচে জোড়া গোল করা এই স্ট্রাইকার সতীর্থ রিকার্ডো পেপি’র উদ্দেশে বল বাড়ালে, তার আগেই সামনে থাকা সকারুজ ডিফেন্ডারে গায়ে লেগে তাদের জালৈ জড়ায়।

এরপর ৪৩ মিনিটে ২১ বছর বয়সী অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের যুক্তরাষ্ট্রের স্কোরলাইন ২-০ করেছেন। সেট-পিস থেকে আসা আক্রমণে সার্জিনো ডেস্টের ডিফ্লেক্টেড শট হেড করে জালে পাঠান ফ্রিম্যান। ভিডিও রিভিউয়ের পর গোলটি নিশ্চিত করা হয়। যা বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল।

এর আগে বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতেই সবার আগে নকআউট পর্বে উঠেছে। এবার সেই দলে আরেক আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দিলো।