খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৭১ কনটেইনার রাসায়নিক পণ্যের ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
২৭১ কনটেইনার রাসায়নিক পণ্যের ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর

২৭১ কনটেইনার বিপজ্জনক রাসায়নিক পন্যেও ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের বিভিন্ন শেডে পড়ে আছে কন্টেইনার ভর্তি বিপদ জনক এসব রাসায়নিক পন্য। এর আগে বন্দর শেডে আগুনের পর তড়িঘড়ি কওে কিছু রাসায়নিক পন্য নিলামে বিক্রি এবং কিছু সরিয়ে নেয়া হলেও রয়ে গেছে আরো ২৭১ কন্টেইনার রাসায়নিক পণ্য।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ধ্বংসযোগ্য কনটেইনার রয়েছে। এরমধ্যে ২৭১টি কনটেইনারে রাসায়নিক পণ্য রয়েছে।

যার মধ্যে রয়েছে সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ফর্মালডিহাইডের মত ঝুঁঁকিপূর্ণ রাসায়নিক পণ্য এক শেডের নিচে। এভাবে একসঙ্গে নানা ধরনের রাসায়নিক পণ্য থাকাটা বন্দরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে বিস্ফোরক পরিদপ্তর।

জরাজীর্ণ জারে খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা এসব রাসায়নিক পণ্যের গায়ে নেই মেয়াদোর্ত্তীর্ণের তারিখও। যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি রাসায়নিক পণ্যগুলো ঝুঁঁকিপূর্ণ নয়। তবে আগামী সোমবার বিপজ্জনক পণ্য ধ্বংস নিয়ে একটা বৈঠক করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা কিভাবে নিরাপদে পণ্যগুলো ধ্বংস করবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান বলেন, আমরা ৫৪ টি নরমাল রাসায়নিক পণ্য নিয়ে কাজ করি। সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ফর্মালডিহাইড নামের রাসায়নিক পণ্যগুলো নিয়ে আমরা কাজ করি না। তবে যেহেতু রাসায়নিক এ পণ্যগুলো খোলা জারে আছে, তাই এটি অবশ্যই ঝুঁঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শেডের ভেতরে সালফিউরিক এসিড পরে আছে। এখন সেখানে কেউ গেলে তার চামড়া পুড়ে যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, বন্দরের ‘জে’ গোলার ভেতর চার ধরনের ঝুঁঁকিপূর্ণ এসিড পণ্য রয়েছে। এরমধ্যে ৫৫টি জারে ২ হাজার ১০১ কেজি সালফিউরিক এসিড রয়েছে। পাশাপাশি ফসফরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড ও হাইড্রো এসিড মিলে মোট ১৩৮ কেজি পণ্য রয়েছে। একই শেডে আট কেজি পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ১শ লিটার ফর্সালডিহাইড রয়েছে।

তাছাড়া বন্দরের ‘আই’ শেডে ১০ কোটা ফ্যানল, ‘কে’ শেডে ৫০ কেজি এসিটিক এসিড, ‘এম’ শেডে ১ হাজার ৯৯৫ কেজি ফসফরিক এসিড, ‘সি/৭’ শেডে ৩২ কেজি ওয়াশিং কেমিক্যাল, ‘সি-২’ শেডে ৩৭৮ কেজি ডায়েসিড এইচপি ও ‘পি’ শেডে ২৭০ কেজি হাইড্রোক্লোরিক এসিড রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, বন্দরের শেডে থাকা রাসায়নিক পণ্যগুলো দ্রæত বন্দর থেকে সরানোর বিষয়ে আমাদের চিন্তা রয়েছে। কাস্টমস প্রতি মাসে নিলামের আয়োজন করছে। সেখানে কিছু পণ্য বিক্রি হয়। যেগুলো একেবারেই বিক্রি হয়না সেগুলো ধ্বংস করা হয়। ইতোমধ্যে ২৭১ কনটেইনার বিপজ্জনক পণ্য ধ্বংসের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে রাসায়নিক পণ্য যাতে বন্দর ইয়ার্ডে না নেমে জেটিতে ভেড়া জাহাজ থেকে সরাসরি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-লরিতে করে আমদানি কারকের কারখানায় নেয়া যায় তার উদ্যোগও আমরা নিচ্ছি। এতে করে বন্দর আরো সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকবে।

গত ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক বিষয় নিয়ে বন্দর ভবনে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস না হওয়া দীর্ঘদিনের পুরনো পণ্য সরাতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে আহŸায়ক (সার্বিক) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনারকে সদস্য সচিব করা হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার ওমর মবিন বলেন, বন্দরের বিভিন্ন শেডে পরে থাকা রাসায়নিকসহ অন্যান্য পণ্যগুলো আমরা প্রথমে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করি। বিক্রি না হলে তা ধ্বংস করে ফেলা হয়।

জে-আর/এ-জে

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।