একসঙ্গে দুই পদে চাকরি : ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
একই সঙ্গে সরকারি দুটি পদে চাকুরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কানু কুমার নাথ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। দুদকের মামলার আসামী কানু কুমার নাথ বর্তমানে হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব। তিনি একই সঙ্গে ছিলেন ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ বনানী ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
গত ১১ সেপ্টেম্বর (রোববার) দুদকের সহকারী পরিচালক নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়- ২ এ মামলা দায়ের করেন। দন্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলাটি করা হয়।
তথ্য গোপন করে একসঙ্গে দুটি সরকারি পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় সরকারি কোষাগার থেকে তিনি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার ২’শ ৩৯ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কানু কুমার নাথ ১৯৯১ সালে হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউপির সচিব হিসেবে যোগদান করেন। পরে ১৯৯৪ সালের ৮ মে আগের চাকরির তথ্য গোপন করে ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ বনানী ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
১৯৯৫ সালের ১ জুন তিনি এমপিওভুক্ত প্রভাষক হন। পরে ২০০২ সালে তিনি একই কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। ২০২১ সালে কানু কুমারের একই সঙ্গে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিষয়টি প্রকাশ পেলে অধিকতর তদন্তের জন্য কলেজের মধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পায় কমিটি। ২০২১ সালের ১৩ ফেব্রæয়ারি কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখা যায়, কানু কুমার নাথ ১৯৯৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কলেজের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৫০ লাখ ৫৭ হাজার ২’শ ৩৯ টাকা উত্তোলন করেছেন। অন্যদিকে ইউপি সচিবের বেতন বাবদ উত্তোলন করেছেন প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সরকারি তহবিল থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটিও কানু কুমারের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের সত্যতা পান।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বলা হয় যে, কানু কুমারের এ ধরণের কাজ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১ এর বিধি ৩৩ এর উপবিধি ১(গ) ও ২(চ) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জে-আর/জে-এম


আপনার মতামত লিখুন