খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগের চার কোটি টাকা জলে : ১২ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
আগের চার কোটি টাকা জলে : ১২ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

চট্টগ্রাম নগরীর জাতিসংঘ পার্কে আধুনিকায়নে আগের চার কোটি টাকা জলে গেলেও নতুন করে নেয়া হয়েছে প্রায় পৌনে ১২ কোটি টাকার প্রকল্প। পার্কটিতে ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ জন্য পূর্বের চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি সুইমিংপুল ও একটি জিমনেশিয়াম ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। গত ৪ জুলাই গণপূর্তের জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান উন্নয়ন’ নামে এ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ আগামী ২০২৪ সালের জুনে শেষ হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে গণপূর্তের চিঠি পাওয়ার পর সিটি করপোরেশন সুইমিংপুল-জিমনেশিয়াম অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ পার্কে গণপূর্ত অধিদপ্তর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ জন্য সুইমিংপুল ও জিমনেশিয়াম ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এগুলো অপসারণের জন্য চলতি মাসেই নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ঠিকাদার নিয়োগের এক মাসের মধ্যে স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হবে।

প্রকল্পের বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীকে গতমাসের শুরু দিকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন। এখন চট্টগ্রামের গণপূর্ত অধিদপ্তর দরপত্র আহŸান করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে পার্কে থাকা দুটি সুইমিংপুল ও একটি জিমনেশিয়াম অপসারণ প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মেয়রকে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী রাহুল গুহ বলেন, জাতিসংঘ পার্কের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। পার্কের বিদ্যমান স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে ফেলতে সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্যবহার উপযোগী ও আধুনিক সবুজ উদ্যান স্থাপনের জন্য সুপারিশ করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন।

প্রকল্পের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় ২ দশমিক ২৭ একর জায়গার ওপর জাতিসংঘ পার্কের অবস্থান। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় উদ্যানটি বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে উদ্যান ৩ থেকে ৪ ফুট পানির নিচে ডুবে থাকে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে গণপূর্তের মালিকানা দ্ব›েদ্ব উদ্যোগটি স্থবির হয়ে পড়ে। পরে অবশ্য তা নিষ্পত্তি হয়।নতুন প্রকল্পের আওতায় সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশ ফটক, অফিস, দোকান, টিকিট কাউন্টার ও শৌচাগার নির্মাণ করা হবে। হাঁটার জন্য থাকবে আলাদা পথ। বসার জন্য থাকবে আসন। থাকবে ঝরনা। এ ছাড়া উদ্যানে আসা শিশুদের জন্য খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, জিমনেশিয়াম-সুইমিংপুল পরিকল্পিত ও মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হয়নি।

জাতিসংঘ উদ্যানের দুটি অংশ। একটি অংশে রয়েছে জিমনেশিয়াম ও সুইমিংপুল। জিমনেশিয়াম-সুইমিং পুল সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মূল ফটকে সব সময় তালা ঝোলানো থাকে। ভেতরে প্রবেশের সুযোগ নেই। সুইমিংপুল দুটি ময়লা পানিতে ভর্তি।

উদ্যানের আরেকটি অংশের এক পাশে বৃষ্টির পানি জমে আছে। বসার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। মাটির স্তুপ ফেলা হয়েছে। এর মধ্যেই বিকেলে লোকজন ঘুরতে আসে।

এদিকে সুইমিংপুল-জিমনেশিয়াম পরিকল্পিত ও মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হয়নি গণপূর্ত অধিদপ্তরের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র মনজুর আলম। তিনি বলেন, তাঁর সময়ে প্রকৌশলীদের পরামর্শ নিয়েই পরিকল্পিতভাবে সুইমিংপুল-জিমনেশিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।

জিমনেশিয়াম ভবনটি সাত হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। তবে জিমনেশিয়ামের ভেতরে শরীরচর্চার কোনো সরঞ্জাম নেই।

২০১৫ সালের জুন মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনাগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। একই বছরের জুলাইয়ে সিটির নতুন মেয়রের দায়িত্ব নেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। মেয়র বদলের পর পার্কটির সুইমিংপুল-জিমনেশিয়াম কোনো কাজে লাগানো হয়নি। ২০১৬ সালে পার্কের মালিকানা নিয়ে গণপূর্তের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের বিরোধ দেখা দেয়।

জে-আর/জে-এম

Feb2

চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের এসপি হলেন রমনার ডিসি মাসুদ আলম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নানা কারণে আলোচনায় আসেন এবং কর্মদক্ষতার জন্য সুনাম অর্জন করেন।

বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যমুনা, সচিবালয়, হাইকোর্ট ও টিএসসি এলাকায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে হওয়া আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

রমনা বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগদানের আগে মাসুদ আলম পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৬) ঝিনাইদহ ক্যাম্পেও কর্মরত ছিলেন।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে এবং অনেক মানুষ মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। তিনি উল্লেখ করেন, মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষকে নিজ পকেট থেকে দিতে হয়। ফলে অসুস্থতা এখনো দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

ঢাকা-১৭ এলাকার মানুষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, কড়াইল, ভাষানটেক, সাততলার মানুষ এই শহরকে সচল রাখে। পোশাকশিল্প, নির্মাণ… সবখানে তাদের শ্রম। অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। আমাদের লক্ষ্য এসব এলাকার মানুষ যাতে আর চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।

তিনি আরও বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের বড় একটি অংশ প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তারা অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না কারণ অসুস্থতা মানেই আয় বন্ধ।

ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা সবাইকে অবহিত করবেন এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের খোঁজ-খবর নেন এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ডা. জুবাইদা রহমান আশা প্রকাশ করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সারাদেশে ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা: চিফ প্রসিকিউটর

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মতিঝিলের শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সারাদেশে অন্তত ৫৮ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।’

মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের বক্তব্য এবং সকল হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর। হেফাজতে ইসলামের যে প্রোগ্রামটা তারা আগে থেকেই প্রতিবাদ করে জানিয়ে আসছিলেন এবং তারা ঢাকায় এসে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল- সেই প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল, কোনোভাবে তাদের সেখানে অবস্থান নিলে মোকাবিলা করতে হবে। তা না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল- এটিকে তিনি সিস্টেমেটিক, ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক এবং টার্গেটেড কিলিং হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রত্যেক নিহতের পরিবারের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন এবং যেসব হেফাজতে ইসলামের সদস্য নিহত হয়েছেন, প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অতএব প্রত্যেক নিহত হওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন।