কাঠগড়ায় গুটি কয়েক!
চট্টগ্রামে ২’শ পাহাড়ের অধিকাংশই সাবাড়
চট্টগ্রামে ২’শ পাহাড়ের অধিকাংশই সাবাড়। ফাইল ছবি।
চট্টগ্রামের শহর এবং গ্রামে ২’শ টি পাহাড়ের অধিকাংশই সাবাড় হয়েছে গত দুই যুগে। প্রভাবশালী চক্র বেশীর ভাগ পাহাড় গিলে সাবাড় করলেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে গুটি কয়েককে। ২’শ টি পাহড়ের মধ্যে ৬০ শতাংশ পাহাড় বিলুপ্তির বিপরীতে গত ৮ বছরে পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলার সংখ্যা মাত্র ৪৩ টি। জরিমানা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকার কিছুটা বেশি। পরিবেশবিদরা বলছেন, পাহাড় কাটায় পরিবেশের যে পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তাতে এ ধরনের জরিমানা কেবল নামমাত্রই। এতে শাস্তির পরিবর্তে নামমাত্র জরিমানা পরিশোধ করে পাহাড় কাটায় দ্বিগুণ উৎসাহ পাচ্ছে ভূমিদস্যুরা।
গত দুই যুগে চট্টগ্রাম শহরে ৬০ শতাংশ এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪০ শতাংশ পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে প্রভাবশালী পাহাড় খেকো সিন্ডিকেট। ৪০ বছর আগেও চট্টগ্রামে পাহাড় ছিলো প্রায় ২’শ টিরও অধিক।
পরিবেশবিদরা বলছেন,পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধা’র কাজ দেওয়া হয়েছে। পাহাড় রক্ষণাবেক্ষণের সুস্পষ্ট কোন দায়িত্ব তাদের ঘাড়ে পড়েনি। পরিবেশ আইনের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাচ্ছে পাহাড়খেকোরা। ফলে পাহাড় খেকোদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই।
পাহাড় ব্যবস্থাপনা আর পরিবেশ আইনের দুর্বলতার সুযোগে পাহাড় খেকোরা সতর্কতা, নোটিশ আর জরিমানার পাঠ চুকিয়ে পাহাড়ের বুক চিরে করেছেন আবাসিক এলাকা নতুবা বহুতল ভবন। এভাবে পাহাড় গিলে সাবাড় করলেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে গুটিকয়েককে।
পরিবশে অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পাহাড় কাটার দায়ে পরিবেশ আদালত ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে গত আট বছরে মামলা হয়েছে মাত্র ৪৩টি। তারমধ্যে গত দুই বছরেই মামলার পরিমাণ বেশি। ২০২১ সালে ১০টি এবং চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৭টি মামলা করা হয়েছে পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ অনুমোদনের বাইরে প্রায় ৪ গুণের বেশি পাহাড় কাটার কারণে ২০২০ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৫’শ ৫৩ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। যদিও বিষয়টি এখন গড়িয়েছে আদালতে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে হতাশার ব্যক্ত করে পরিবেশবিদ ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, এখন পরিবেশ অধিদপ্তরে যারা আছেন তাঁরা হয় এই তাড়নার সাথে সম্পৃক্ত নয় অথবা তাঁরা নির্লিপ্ত। যার কারণে আজকে যে পাহাড় আছে কালকে তা নেই।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের উপ-পরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক বলেন, ‘আইনে বলা আছে যদি কেউ পাহাড় কাটে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন রক্ষণাবেক্ষণ করবে জমির মালিক। পরিবেশ অধিদপ্তর তো জমির মালিক না।
তবে আমাদের উপর আইন প্রয়োগ করার বিধান বলা আছে। আর কোথাও পাহাড় কাটার খবর পেলে অবশ্যই অ্যাকশন নিতে হবে। আমরা তাই করি। কিন্তু আমাদের আইনে পরিবেশ অধিদপ্তর পাহাড় সংরক্ষণ করবে এ ধরনের কোনো কথা বলা হয়নি।
জে-আর/জে-এম


আপনার মতামত লিখুন